Editor's Pick
পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচতে প্রায় এক কোটি বাঙালি সীমান্ত পার হয়ে প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ভারত সরকার কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীর সংখ্যা ছিল অবিশ্বাস্য ৯৮,৯৯,৩০৫ জন। এই সংখ্যা ইতিহাসের বৃহত্তম মানবপ্রবাহগুলোর অন্যতম।
পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচতে প্রায় এক কোটি বাঙালি সীমান্ত পার হয়ে প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ভারত সরকার কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীর সংখ্যা ছিল অবিশ্বাস্য ৯৮,৯৯,৩০৫ জন। এই সংখ্যা ইতিহাসের বৃহত্তম মানবপ্রবাহগুলোর অন্যতম।
পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচতে প্রায় এক কোটি বাঙালি সীমান্ত পার হয়ে প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ভারত সরকার কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীর সংখ্যা ছিল অবিশ্বাস্য ৯৮,৯৯,৩০৫ জন। এই সংখ্যা ইতিহাসের বৃহত্তম মানবপ্রবাহগুলোর অন্যতম।
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালটি নিয়ে দুটি বিপরীতমুখী বয়ান পাওয়া যায়। একদল একে দেখেন ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচারের’ কাল হিসেবে, আর অন্যদল একে দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে রাষ্ট্র গড়ার মহাবীরত্বগাথা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা এই সময়কালকে কেবল ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচার’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসবিদরা দেখেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি জাতিকে টেনে তোলার প্রাণপণ লড়াই।
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালটি নিয়ে দুটি বিপরীতমুখী বয়ান পাওয়া যায়। একদল একে দেখেন ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচারের’ কাল হিসেবে, আর অন্যদল একে দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে রাষ্ট্র গড়ার মহাবীরত্বগাথা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা এই সময়কালকে কেবল ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচার’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসবিদরা দেখেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি জাতিকে টেনে তোলার প্রাণপণ লড়াই।
ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালটি নিয়ে দুটি বিপরীতমুখী বয়ান পাওয়া যায়। একদল একে দেখেন ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচারের’ কাল হিসেবে, আর অন্যদল একে দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে রাষ্ট্র গড়ার মহাবীরত্বগাথা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা এই সময়কালকে কেবল ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচার’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসবিদরা দেখেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি জাতিকে টেনে তোলার প্রাণপণ লড়াই।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাজাকারদের পরিচয় কেবলই দেশ ও জাতির বিশ্বাসঘাতক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। আমাদের জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম যখন এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন এই দেশদ্রোহী শক্তি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রধানতম দোসর হিসেবে কাজ করে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্মম অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাজাকারদের পরিচয় কেবলই দেশ ও জাতির বিশ্বাসঘাতক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। আমাদের জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম যখন এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন এই দেশদ্রোহী শক্তি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রধানতম দোসর হিসেবে কাজ করে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্মম অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে রাজাকারদের পরিচয় কেবলই দেশ ও জাতির বিশ্বাসঘাতক এবং মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। আমাদের জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম যখন এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন এই দেশদ্রোহী শক্তি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রধানতম দোসর হিসেবে কাজ করে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্মম অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।
একদল ক্ষমতালোভী, ধর্ম ব্যবসায়ী এবং আদর্শিক অন্ধত্বে ভোগা দেশদ্রোহী, যারা হাত মিলিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে। এই সহযোগী সংগঠনগুলো শুধু মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সরাসরি গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং চরম মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হয়েছিল। এদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মকে রুখে দেওয়া।
একদল ক্ষমতালোভী, ধর্ম ব্যবসায়ী এবং আদর্শিক অন্ধত্বে ভোগা দেশদ্রোহী, যারা হাত মিলিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে। এই সহযোগী সংগঠনগুলো শুধু মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সরাসরি গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং চরম মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হয়েছিল। এদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মকে রুখে দেওয়া।
একদল ক্ষমতালোভী, ধর্ম ব্যবসায়ী এবং আদর্শিক অন্ধত্বে ভোগা দেশদ্রোহী, যারা হাত মিলিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে। এই সহযোগী সংগঠনগুলো শুধু মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সরাসরি গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট এবং চরম মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হয়েছিল। এদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মকে রুখে দেওয়া।
Latest posts
ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।
গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।
একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।
ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জনপদ গোপালগঞ্জ। এই জনপদ কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর পলিবিধৌত এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছিলেন বাঙালির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এই মাটি ভিজেছে বীর সন্তানদের রক্তে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের ত্যাগ, লড়াই এবং বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।
১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।
একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।
বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালটি ছিল পুনর্গঠনের পাশাপাশি চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার। এই অস্থিরতার কেন্দ্রে ছিল নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাসদ' এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন বিতর্ক উসকে দেয় বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন? কেন জাসদ সেই সময় এত সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল? আর ১৫ আগস্টের পর হঠাৎ কেন তারা স্তিমিত হয়ে গেল?
সবার চোখেমুখে এক অদ্ভুত আবেগ। কারণ, আজ ঘরে ফিরছেন সেই মানুষটি, যিনি দশকের পর দশক ধরে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক আর মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পূর্ণতা পাওয়ার পথে মওলানা ভাসানীর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল এক বিশাল মাইলফলক।
"আমার মা যদি আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে চাইতেন, তবে তিনি এখনো ক্ষমতায় থাকতেন" - আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাতকারে সজিব ওয়াজেদ জয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের উত্তাল দিনগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমীমাংসিত অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এক গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও দেশত্যাগ এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় যে মন্তব্য করেছেন, তা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্ব রাজনীতি ও ইতিহাসের বোদ্ধাদের।
দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী দাবি করে আসছে যে, মেজর জলিল ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের "প্রথম রাজবন্দী"। তাদের দাবি অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের সম্পদ ও অস্ত্র লুটের প্রতিবাদ করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের নির্মোহ দলিলে এই দাবির সত্যতা কতটুকু? এটি কি নিছক একটি রাজনৈতিক বয়ান, নাকি এর পেছনে কোনো অকাট্য দালিলিক প্রমাণ আছে? সেদিন আসলে কী ঘটেছিল।
বাংলাদেশের ইতিহাসের অগ্নিপুরুষ এক কালজয়ী নাম খালেদ মোশাররফ। বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকতে গিয়ে যে কজন মানুষের রক্ত কালির চেয়েও বেশি গাঢ় হয়ে ঝরেছে, তাঁদের মধ্যে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম) অন্যতম। ১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে যখন পুরো দেশ পাকিস্তানি হানাদারদের বুলেটের শব্দে প্রকম্পিত, তখন কিছু মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খালেদ মোশাররফ।
বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের সময়কালটি বাংলাদেশের ইতিহাসে যেমন পুনর্গঠনের মহাকাব্য, তেমনি এটি এক গভীর বিতর্কেরও ক্ষেত্র। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে নিহতের সংখ্যা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে গত ৫০ বছর ধরে নানামুখী প্রচারণা চালানো হয়েছে। কেউ বলেন নিহতের সংখ্যা হাজার হাজার, কেউ বলেন রক্ষীবাহিনীই লক্ষাধিক মানুষ মেরেছে। কিন্তু আবেগের কুয়াশা সরিয়ে যদি আমরা দালিলিক প্রমাণের দিকে তাকাই, তবে প্রকৃত সত্য কী?
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর পরবর্তী দুই সপ্তাহ অর্থাৎ ১৫ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়কাল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার ও ষড়যন্ত্রমূলক অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর পরবর্তী ১৫ দিনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো, গণমাধ্যম এবং সামরিক নেতৃত্বে আমূল ও নেতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল। এই ১৫ দিনে কীভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে উল্টে দেওয়া হয়েছিল, কীভাবে ঘাতক ও তাদের দোসররা ক্ষমতার মসনদে জেঁকে বসেছিল এবং কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে ফেলার নীল নকশা শুরু হয়েছিল, তা আজও আমাদের শিহরিত করে।
একদিকে বঙ্গবন্ধু যখন ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ গড়ার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে তখন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার লাভ করছে। এই অস্থিরতার প্রধান কারিগর হিসেবে আঙুল তোলা হয় তৎকালীন জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) এবং সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টির দিকে। কিন্তু রহস্যের আসল জায়গাটি হলো বঙ্গবন্ধু থাকা অবস্থায় যারা দেশকে নরক বানিয়ে তুলেছিল, তাঁর মৃত্যুর পর তারা হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেল? কেন তারা আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারল না?
১৫ আগস্টের বিশ্বাসঘাতকতার অগ্রভাগে ছিল আইএসআই এর পালিত কর্নেল ফারুক, কর্নেল রশিদ ও মেজর বজলুল হুদাদের মতো খুনিরা। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তারা 'ফ্রীডম পার্টি' নামক এক রাজনৈতিক মোড়কে আবির্ভূত হয়েছিল। আজ ২০২৪-২৫ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যখন আমরা সেই একই স্লোগান, একই রণকৌশল এবং একই ধরনের বয়ান শুনতে পাই, তখন প্রশ্ন জাগে - ফ্রীডম পার্টি কি আসলেই হারিয়ে গেছে, নাকি নতুন কোনো নামে, নতুন কোনো অবয়বে তারা আবার ফিরে এসেছে?
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একদল তরুণ নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছিল। তাদের মধ্যে শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন অন্যতম। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচিত ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ এর মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। হাদির মৃত্যু কি নিছক কোনো অপরাধ, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো সুগভীর ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা সূক্ষ্ম পরিকল্পনা? সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এই বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। নিহতের বড় ভাই ওমর বিন হাদিকে কূটনৈতিক পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি কি শোকাতুর পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া, নাকি কোনো সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা?
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের সেই বাড়িটি তখন নিস্তব্ধতায় ঘেরা। হঠাৎ বুলেটের শব্দে প্রকম্পিত হলো আকাশ-বাতাস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত এই অধ্যায়ে যারা সরাসরি ট্রিগার চেপেছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম নিঠুর ও নৃশংস ব্যক্তিটি ছিল রিসালদার মোসলেহ উদ্দীন। কেবল বঙ্গবন্ধু হত্যা নয়, জেলহত্যার মতো বর্বরোচিত ঘটনার সাথেও এই খুনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও তার পলায়ন জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে এক রহস্যময় গল্প।
ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।
গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।
একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।
ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।
গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।
একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।
ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জনপদ গোপালগঞ্জ। এই জনপদ কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর পলিবিধৌত এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছিলেন বাঙালির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এই মাটি ভিজেছে বীর সন্তানদের রক্তে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের ত্যাগ, লড়াই এবং বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।
১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।
একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।
বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।




























