বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জাসদ-সর্বহারা তান্ডব কোথায় হারিয়ে গেলো?
একদিকে বঙ্গবন্ধু যখন ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ গড়ার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে তখন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার লাভ করছে। এই অস্থিরতার প্রধান কারিগর হিসেবে আঙুল তোলা হয় তৎকালীন জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) এবং সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টির দিকে। কিন্তু রহস্যের আসল জায়গাটি হলো বঙ্গবন্ধু থাকা অবস্থায় যারা দেশকে নরক বানিয়ে তুলেছিল, তাঁর মৃত্যুর পর তারা হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেল? কেন তারা আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারল না?

TruthBangla
Jan 20, 2026
ইতিহাসের নেপথ্য নায়ক ও খলনায়ক ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ বাংলাদেশের ইতিহাসের এই সাড়ে তিন বছর ছিল যেন এক অগ্নিগর্ভ সময়। একদিকে বঙ্গবন্ধু যখন ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ গড়ার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে তখন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার লাভ করছে। এই অস্থিরতার প্রধান কারিগর হিসেবে আঙুল তোলা হয় তৎকালীন জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) এবং সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টির দিকে। কিন্তু রহস্যের আসল জায়গাটি হলো বঙ্গবন্ধু থাকা অবস্থায় যারা দেশকে নরক বানিয়ে তুলেছিল, তাঁর মৃত্যুর পর তারা হঠাৎ কোথায় হারিয়ে গেল? কেন তারা আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারল না?
১৯৭২-৭৫ জাসদ ও সর্বহারা পার্টির তাণ্ডবের স্বরূপ
বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগার থেকে ফিরে আসলেন, তখন তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মোহে আবিষ্ট হয়ে জাসদ গঠন করে। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই ছাত্রলীগের একটি বড় অংশ ভেঙে গিয়ে ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল’ বা জাসদ গঠন করে। তাদের স্লোগান ছিল 'বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র'। কিন্তু সেই সময়ে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে, যেখানে মানুষের ঘরে খাবার নেই, সেখানে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে অস্থিরতা সৃষ্টি করা কতটা যৌক্তিক ছিল?
গণবাহিনীর সশস্ত্র উত্থান
জাসদ কেবল একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে থাকেনি, তারা গঠন করে ‘গণবাহিনী’ নামক একটি সশস্ত্র শাখা। তাদের লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা।
থানা ও ব্যাংক লুট: স্বাধীনতার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল পুনর্গঠন পর্যায়ে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গণবাহিনী একের পর এক থানা আক্রমণ করে আধুনিক অস্ত্র লুট করতে শুরু করে।
অর্থনৈতিক নাশকতায় আঘাত: তারা পাটের গুদামে আগুন দিয়ে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে পঙ্গু করে দেয়। রেললাইন উপড়ে ফেলা এবং বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনে বোমা হামলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে।
সিরাজ শিকদার ও ‘শ্রেণীশত্রু খতমের’ রাজনীতি
অন্যদিকে, চীনপন্থী কমিউনিস্ট নেতা সিরাজ শিকদার শুরু করেন তথাকথিত ‘সর্বহারা পার্টি’র নামে সশস্ত্র লড়াই। তাঁর দর্শন ছিল ভয়ঙ্কর।
সিরাজ শিকদারের অনুসারীরা গ্রামের জোতদার বা অবস্থাপন্ন কৃষক যাঁদের তাঁরা ‘শ্রেণীশত্রু’ মনে করতেন তাঁদের জবাই করা শুরু করে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের আক্রমণের শিকার কেবল জোতদাররা ছিলেন না, বরং অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরাও এই তথাকথিত বিপ্লবের বলি হন।
যাঁরা আজ বঙ্গবন্ধুকে স্বৈরাচার বলেন, তাঁরা কি জানেন সেই সাড়ে তিন বছরে আওয়ামী লীগের কতজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে জীবন দিতে হয়েছিল?
হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী হত্যা: নথিপত্র অনুযায়ী, সেই সময় প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়।
সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা: তৎকালীন সময়ে অন্তত ৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) আততায়ীর হাতে নিহত হন। ঈদের নামাজ পড়তে গিয়েও জনপ্রতিনিধিদের ব্রাশফায়ারে প্রাণ দিতে হয়েছে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যখন এভাবে হত্যা করা হয়, তখন রাষ্ট্রপ্রধানের সামনে কঠোর হওয়া ছাড়া আর কী পথ খোলা থাকে?
জাতীয় রক্ষীবাহিনী - মিথ বনাম বাস্তবতা
বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তোলা হয় 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' গঠন নিয়ে। বলা হয়, জাসদ ও সর্বহারা পার্টিকে দমন করতেই এই বাহিনী তৈরি। কিন্তু এর পেছনের প্রেক্ষাপটটি তলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কেন তৈরি হয়েছিল রক্ষীবাহিনী?
১. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার: মুক্তিযুদ্ধের পর সারা দেশে অসংখ্য অবৈধ অস্ত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে সামাজিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে একটি বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন ছিল।
২. সেনাবাহিনীর পুনর্গঠন: সে সময় সেনাবাহিনী ছিল ক্ষুদ্র এবং মাত্র পুনর্গঠন পর্যায়ে। অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা এবং চোরাচালান রোধে পুলিশের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী কাঠামোর অভাব অনুভব করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।
৩. জাসদের হুমকি মোকাবিলা: জাসদ যখন জনসভায় দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল এবং দেশের ভেতরে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছিল, তখন রাষ্ট্র রক্ষায় বঙ্গবন্ধু এই বাহিনী গঠন করতে বাধ্য হন।
রক্ষীবাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের অতি-উৎসাহী কর্মকাণ্ড বা ব্যক্তিগত বিচ্যুতিকে বড় করে দেখিয়ে পুরো বাহিনীকে ‘দানব’ হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সত্য হলো, সেই চরম অরাজক পরিস্থিতিতে রক্ষীবাহিনী না থাকলে দেশ আরও আগেই গৃহযুদ্ধের দিকে চলে যেত।
অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভাঙার ষড়যন্ত্র
বঙ্গবন্ধু যখন বিদেশের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সাহায্য আনছেন, তখন দেশের ভেতরে কিছু গোষ্ঠী ব্যস্ত ছিল সেই সম্পদ নষ্ট করতে। সরকার যখন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়াচ্ছে, তখন কিছু অতি-বামপন্থী গোষ্ঠী সেই গুদামে হামলা চালিয়ে খাদ্য লুট করে নিত।
জাসদ ও সর্বহারা পার্টির এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের (বিশেষ করে মার্কিন সিআইএ এবং পাকিস্তানের আইএসআই) জন্য পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল। তারা প্রমাণ করতে চেয়েছিল যে, বাংলাদেশ একটি 'বাস্কেট কেস' বা অকার্যকর রাষ্ট্র।
কেন বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জাসদ ও সর্বহারা পার্টি 'ঠান্ডা' হয়ে গেল?
জাসদ ও সর্বহারা পার্টির কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট বঙ্গবন্ধুর শাসনকে অস্থিতিশীল করা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে অকেজো প্রমাণ করা। কারণ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পরপরই তাদের সেই বৈপ্লবিক তেজ কর্পূরের মতো উড়ে গেল কেন? বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জাসদের তথাকথিত বৈপ্লবিক রাজনীতি কেন আর এগোলো না? এ নিয়ে কেউ কখনো প্রশ্ন তুলে? কারণ এর পেছনে লুকিয়ে আছে বড় রাজনৈতিক স্বার্থ।
ক) জাসদের শীর্ষ নেতৃত্বের উচ্চাভিলাষ ও সেনাশাসক যোগসূত্র
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জাসদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের লক্ষ্য সমাজতন্ত্র ছিল না, বরং ক্ষমতার পালাবদল ঘটানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডির পর জাসদ নেতাদের মধ্যে কোনো শোক বা প্রতিবাদের চিহ্ন দেখা যায়নি। বরং খুনি খন্দকার মোশতাকের সাথে তাদের অনেকের গোপন আঁতাত ছিল বলে অনেক ঐতিহাসিক প্রমাণ করেছেন বিভিন্ন সময়ে। পরবর্তীকালে ৭ই নভেম্বরের তথাকথিত 'সিপাহী-জনতা বিপ্লব'-এর মূল কারিগর ছিলেন জাসদ নেতা কর্নেল তাহের।
জাসদ যে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তা মূলত ব্যবহৃত হয়েছিল জিয়াউর রহমানের মতো সেনাশাসকদের গদি শক্ত করার সিঁড়ি হিসেবে। এ জন্যই বিএনপি জামাত জোটকে সবসময় জাসদ ও সর্বহারা পার্টির ডাকু সিরাজের জন্য কুমিরের কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।
কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে জাসদের গণবাহিনী যখন ঢাকা সেনানিবাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে, তখন তারা ভেবেছিল ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে। কিন্তু সুচতুর সামরিক আমলাতন্ত্র জাসদকে ব্যবহার করে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। জাসদের এই উচ্চাভিলাষী রাজনীতিই তাদের পতনের মূল কারণ।
খ) লক্ষ্য পূরণ ও 'অ্যাসাইনমেন্ট' তত্ত্ব
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, জাসদ এবং চরমপন্থী দলগুলোর কাজই ছিল বঙ্গবন্ধুকে বিতর্কিত করা এবং দেশে এমন একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাতে বিদেশি শক্তি ও সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায়।
যখন ১৫ আগস্টের বুলেটে বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তখন এই অদৃশ্য চক্রের প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুহীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যখন ভূলুণ্ঠিত হচ্ছিল, তখন জাসদের আর 'তাণ্ডব' করার প্রয়োজন পড়েনি। কারণ যে বিশাল বটবৃক্ষকে উপড়াতে তারা মাঠে নেমেছিল, সেই গাছটিই তখন নেই। তাদের পেছনের মাস্টারমাইন্ডরা তখন তাদের 'শান্ত' থাকার নির্দেশ দেয়।
গ) নেতৃত্বের বিভাজন ও আদর্শিক দেউলিয়াত্ব
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জাসদ কয়েক টুকরো হয়ে যায়। আদর্শের বুলি উড়ানো এই দলটির মধ্যে শুরু হয় তীব্র কোন্দল এবং বিভাজন। তাদের অনেক জাঁদরেল নেতা জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। কেউবা সরাসরি সামরিক শাসনের সহযোগী হন। যারা রাজপথে স্লোগান দিতেন "শোষিত মানুষের রাজ কায়েম করো", তারা তখন সামরিক শাসনের পদলেহী হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। যারা রাজপথে বিপ্লবের কথা বলতেন, তারা ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা, তখন জাসদ নেতাদের সামরিক শাসনের সহযোগী হওয়ার দৃশ্য দেখে সাধারণ কর্মী ও সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়ে। ফলে দলটির রাজনীতি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে একসময় গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে।
কেন এই প্রশ্ন কেউ তোলে না?
বঙ্গবন্ধু শাসনের সমালোচনাকারীরা সবসময় রক্ষীবাহিনী বা বাকশালের কথা বলেন, কিন্তু তারা সুকৌশলে নিচের প্রশ্নগুলো সুকৌশলে এড়িয়ে যান:
ক) বিদেশি মদদ ও অর্থের উৎস: জাসদ ও সর্বহারা পার্টির সেই বিশাল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র এবং বিপুল অর্থায়ন আসছিল কোত্থেকে? একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এত শক্তিশালী হলো কীভাবে? তথ্য প্রমাণ বলে, পাকিস্তানপন্থী এবং চীনপন্থী গোষ্ঠীগুলো তখন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব দুর্বল করতে এই দলগুলোকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করত।
খ) হত্যাকাণ্ডের সুবিধাভোগী: বঙ্গবন্ধুর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের সাথে জাসদ নেতাদের সখ্যতা কেন ছিল? যদি তারা সত্যিই বিপ্লবী হতো, তবে খুনি মোশতাক বা সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা না করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগে ব্যস্ত ছিল।
গ) স্বৈরাচারী শাসনের সময় কেন তারা নিস্তব্ধ: বঙ্গবন্ধুর আমলে যারা সামান্য কারণেও হরতাল, ধর্মঘট আর ব্যাংক লুট করত, তারা জিয়া বা এরশাদের দীর্ঘ ১৬ বছরের সামরিক স্বৈরাচারের সময় কেন এমন 'ঠান্ডা' ছিল? কেন তখন তাদের সেই তথাকথিত সমাজতন্ত্রের প্রেম জাগেনি? এই নিরবতাই প্রমাণ করে যে, তাদের আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল কেবল বঙ্গবন্ধুকে ধ্বংস করা, নতুন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল রাখা, দেশ গঠন নয়।
আধুনিক রাজনৈতিক প্রেক্ষিত ও মূল্যায়ন
আজকের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যদি আমরা দেখি, জাসদের সেই চরমপন্থী রাজনীতি মূলত বাংলাদেশের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। বঙ্গবন্ধু কোনো ফেরেশতা ছিলেন না, কিন্তু তিনি ছিলেন এই রাষ্ট্রের রক্ষাকবচ। সেই রক্ষাকবচ ভাঙার জন্য জাসদ ও সর্বহারা পার্টিকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
বর্তমান তথ্য বলছে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী আন্তর্জাতিক চক্রান্তের চূড়ান্ত ফল। আর জাসদের তণ্ডব ছিল সেই চক্রান্ত সফল করার জন্য মাঠ পর্যায়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। যখন প্রধান বাধা (বঙ্গবন্ধু) অপসারিত হলো, তখন ঘুঁটিগুলোকেও সরিয়ে নেওয়া হলো।
ইতিহাসের অমোঘ বিচার
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যারা কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে রাজনীতি করে না, বরং কেবল প্রতিহিংসা বা কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে, তারা কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। জাসদ আজ ছোট ছোট উপদলে বিভক্ত হয়ে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে, আর সিরাজ শিকদারের রাজনীতি কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ।
কিন্তু বঙ্গবন্ধু আজও প্রাসঙ্গিক। তাঁর শাসনামলের সেই অস্থিরতা তাঁর ব্যর্থতা ছিল না, বরং তা ছিল একটি পরিকল্পিত অন্তর্ঘাত। আমাদের উচিত সেই সময়কার নথিপত্র ঘেঁটে এই তণ্ডবকারীদের আসল পরিচয় নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা।
Explore Topics
Featured Posts
About
TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.















