>

>

জামায়াতে ইসলামীর যেসব নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল

জামায়াতে ইসলামীর যেসব নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

TruthBangla

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কিন্তু এই গৌরবের পেছনে রয়েছে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের করুণ ইতিহাস। এই নৃশংসতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহায়তা করেছিল এদেশীয় দোসর জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের অঙ্গসংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ (যা পরে ছাত্রশিবিরে রূপান্তরিত হয়), আলবদর ও আলশামস।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন বিচারের সময় ঘনিয়ে আসে, তখন জনরোষ এবং আইনি বিচার থেকে বাঁচতে শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তৎকালীন তথ্যমতে, প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। নিচে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন নেতার পালিয়ে যাওয়া এবং তাদের পরবর্তী পরিণতির বিস্তারিত তুলে ধরা হলো, যারা একাত্তরের গণহত্যার দায় কাঁধে নিয়ে পালিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সুকৌশলে দেশে ফিরে পুনর্বাসিত হয়েছিলেন।

গোলাম আযম - যুদ্ধাপরাধের মাস্টারমাইন্ড

গোলাম আযম নামটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঘৃনিত নাম। গোলাম আযম একাত্তরের নিষ্ঠুরতা এবং সুসংগঠিত অপরাধের একটি প্রতীক। তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর এই আমীরকে বিবেচনা করা হয় একাত্তরের 'মাস্টারমাইন্ড' হিসেবে। কেন তাকে মাস্টারমাইন্ড বলা হয়, তার উত্তর লুকিয়ে আছে তার সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক এবং সামরিক তৎপরতায়।

শান্তি কমিটি ও গণহত্যার নীলনকশা: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ যখন 'অপারেশন সার্চলাইট' শুরু হয়, তখন থেকেই গোলাম আযম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হন। তার নির্দেশেই গঠিত হয় 'শান্তি কমিটি' (Peace Committee)। নাম শান্তি কমিটি হলেও, এর মূল কাজ ছিল মুক্তিকামী মানুষদের তালিকা তৈরি করা এবং পাকিস্তানি বাহিনীকে পথ দেখিয়ে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিতে সাহায্য করা।

গোলাম আযমের মূল ভূমিকা ছিল রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়া। তিনি বিশ্বজুড়ে প্রচার করেছিলেন যে, বাংলাদেশে কোনো গণহত্যা হচ্ছে না, বরং ভারতের প্ররোচনায় কিছু দুষ্কৃতকারী গোলযোগ সৃষ্টি করছে। তার সেই প্রচারণা ছিল গণহত্যার এক ভয়ানক নীলনকশা, যা পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংস হতে আরও উৎসাহিত করেছিল।

সুকৌশলে পলায়ন: ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে যখন যৌথ বাহিনীর অগ্রযাত্রা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে, তখন গোলাম আযম বুঝতে পারেন তার পরাজয় নিশ্চিত। ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, নভেম্বরের শেষভাগে তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে দেশ ত্যাগ করে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। স্বাধীন বাংলাদেশে তার বিচার হওয়ার যে প্রবল সম্ভাবনা ছিল, তা এড়াতেই ছিল তার এই পলায়ন।

স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার এই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতা বিবেচনা করে তার নাগরিকত্ব বাতিল করে। তিনি হয়ে পড়েন রাষ্ট্রহীন একজন ব্যক্তি।

১৯৭৫-পরবর্তী পুনর্বাসন: ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ আমূল বদলে যায়। সামরিক শাসন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে গোলাম আযম বাংলাদেশে ফিরে আসার সুযোগ পান। তবে তিনি কোনো বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে আসেননি। তিনি পাকিস্তানি পাসপোর্টে 'ট্যুরিস্ট ভিসা' নিয়ে সদর্পে বাংলাদেশে পা রাখেন।

ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি আর দেশ ছাড়েননি। বরং তৎকালীন সরকারের পরোক্ষ সমর্থনে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করে জামায়াতে ইসলামীকে পুনরায় সংগঠিত করতে শুরু করেন। এটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়, যেখানে একজন নাগরিকত্বহীন যুদ্ধাপরাধী দেশের অভ্যন্তরে রাজনীতি পরিচালনার সুযোগ পান।

গোলাম আযমের নাগরিকত্ব নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জামায়াতের সমর্থন নিয়ে রাজনীতিতে তার প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৪ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পান। এই রায়ের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হন। যা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণআদালতের আন্দোলনের মুখে এক চরম ধৃষ্টতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

যুদ্ধাপরাধের বিচার: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১০ সালে যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়, তখন গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি ক্যাটাগরিতে মোট ৬১টি অভিযোগ আনা হয়। ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। তার বয়স এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড (যা কার্যত ৯০ বছরের কারাদণ্ড) প্রদান করা হয়।

অবশেষে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন প্রিজন সেল) কারাবন্দি অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে একটি কলঙ্কিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও, তার কৃতকর্মের ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশ।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ

গোলাম আযম যদি যুদ্ধের মস্তিষ্ক হয়ে থাকেন, তবে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ছিলেন সেই যুদ্ধের ধারালো অস্ত্র। একাত্তরে আলবদর বাহিনীর মাধ্যমে তিনি যে নৃশংসতা চালিয়েছিলেন, তা বিশ্ব ইতিহাসের বিরলতম নিষ্ঠুরতার একটি।

আলবদর বাহিনী ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড: আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ছিলেন একাত্তরে জামায়াতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন 'ইসলামী ছাত্রসংঘ' এর সভাপতি এবং ঢাকা শহর আলবদর বাহিনীর প্রধান। আলবদর বাহিনীকে বলা হতো পাকিস্তানি বাহিনীর 'ডেথ স্কোয়াড'। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং সাহিত্যিকদের হত্যা করে নবজাতক রাষ্ট্রটিকে মেধা শূন্য করে দেওয়া।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে, যখন পাকিস্তান বুঝতে পেরেছিল যে তারা হেরে যাচ্ছে, তখন মুজাহিদের নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের তাদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। মিরপুর ও রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তার সরাসরি তদারকিতে ছিলেন এই মুজাহিদ।

পলায়ন ও প্রবাস জীবন: ১৬ই ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করছিল, তার ঠিক আগমুহূর্তে মুজাহিদ আত্মগোপন করেন। তিনি সুকৌশলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে তিনি সেখান থেকে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে জামায়াতের পক্ষে তহবিল সংগ্রহের কাজ করেন।

বাংলাদেশে ফেরা: ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূলে আসার পর মুজাহিদ বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ফিরে এসে তিনি প্রথমে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনকে শক্তিশালী করেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি দ্রুত দলের ভেতর প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন এবং এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের পদ অলংকৃত করেন। ২০০১-২০০৬ সালের চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যা ছিল শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য এক চরম অবমাননাকর বিষয়।

চূড়ান্ত বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হলে মুজাহিদকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ অসংখ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। উচ্চ আদালতেও সেই রায় বহাল থাকে।

"মুজাহিদ ছিলেন সেই ঘাতক, যার হাতে লেগে ছিল এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের রক্ত।" এই ভাষ্য ছিল সে সময়ের প্রসিকিউশন টিমের।

অবশেষে ২০১৫ সালের ২২শে নভেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। এর মাধ্যমে ১৬ই ডিসেম্বরের ঠিক আগে যে হত্যার উৎসব তিনি শুরু করেছিলেন, তার চূড়ান্ত বিচারিক সমাপ্তি ঘটে।

মতিউর রহমান নিজামী

একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্লু-প্রিন্ট প্রণয়নকারী হিসেবে যার নাম ইতিহাসের পাতায় কালো অক্ষরে লেখা রয়েছে, তিনি হলেন মতিউর রহমান নিজামী। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং ছিলেন ঘাতক বাহিনী 'আলবদর' এর প্রধান কাণ্ডারি।

আলবদর বাহিনীর গঠন: ১৯৭১ সালে মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ছাত্র সংগঠন 'ইসলামী ছাত্র সংঘ' এর কেন্দ্রীয় সভাপতি। পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করতে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দমনে তিনি ছাত্র সংঘের কর্মীদের নিয়ে গঠন করেন কুখ্যাত 'আলবদর' বাহিনী। এই বাহিনীটি ছিল মূলত একটি 'কিলিং স্কোয়াড'। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে যখন পাকিস্তানের পরাজয় নিশ্চিত, তখন বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের হত্যার যে নীলনকশা করা হয়, তার নেতৃত্বে ছিলেন নিজামী।

পরাজয়ের মুহূর্তে পলায়ন: ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তার ঠিক আগেই সুকৌশলে দেশ ছেড়ে পলায়ন করেন মতিউর রহমান নিজামী। তিনি জানতেন, স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধারা তাকে আস্ত রাখবে না। তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে প্রথমে ভারত হয়ে বা সরাসরি আকাশপথে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছর তিনি পাকিস্তানে অবস্থান করেন। সেখানে বসেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে একটি 'বিচ্ছিন্নতাবাদী রাষ্ট্র' হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন।

রাজনৈতিক পুনর্বাসন: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ১৯৭৮ সালে তৎকালীন শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিকূল থেকে অনুকূলে আসতে শুরু করে। এই সুযোগে নিজামী দেশে ফিরে আসেন।

দেশে ফিরে তিনি পুনরায় জামায়াতে ইসলামীর হাল ধরেন। সবচেয়ে লজ্জাজনক অধ্যায় রচিত হয় ২০০১ সালে, যখন তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কৃষি ও পরে শিল্প মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। যে পতাকার বিরোধিতা তিনি একাত্তরে করেছিলেন, সেই লাল-সবুজ পতাকাবাহী গাড়ি নিয়ে তিনি সচিবালয়ে যেতেন যা ছিল ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের সাথে এক চরম বিদ্রূপ।

বিচার ও শেষ পরিণতি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে নিজামীর বিচার শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণের মতো ১৬টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয় যে, তিনি কেবল আলবদর প্রধানই ছিলেন না, বরং হত্যাকাণ্ডের সরাসরি উস্কানিদাতাও ছিলেন।

২০১৬ সালের ১১ মে দিবাগত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে এবং জাতি কিছুটা হলেও দায়মুক্ত হয়।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

পিরোজপুরের সাধারণ এক মানুষ থেকে 'আল্লামা' উপাধি ধারণ করা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন ছিল চরম বিতর্কিত। একাত্তরে তার ভূমিকা ছিল নৃশংস এবং স্বাধীন বাংলাদেশে তার উত্থান ছিল ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করার এক সুনিপুণ কৌশল।

পিরোজপুরের বিভীষিকা: একাত্তরে সাঈদী পরিচিত ছিলেন 'দেইল্লা' নামে। তিনি পিরোজপুরে কুখ্যাত 'জহুরুল হক বাহিনী'র অন্যতম সদস্য ছিলেন। পাকিস্তানি সেনাদের পথ দেখিয়ে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, হিন্দুদের ঘরবাড়ি দখল করা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার মতো জঘন্য কাজে তিনি লিপ্ত ছিলেন। পাড়েরহাট বন্দরে লুণ্ঠন ও ধর্ষণের সাথে তার সম্পৃক্ততা ছিল সরাসরি। ট্রাইব্যুনালের সাক্ষীদের বয়ানে উঠে এসেছিল কীভাবে তিনি সাধারণ মানুষের চাল-ডাল লুট করে ব্যবসা করতেন।

আত্মগোপন ও মধ্যপ্রাচ্যে পলায়ন: দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সাঈদী দীর্ঘ সময় পিরোজপুরের দুর্গম এলাকায় আত্মগোপন করে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি ছদ্মবেশে দেশ ত্যাগ করে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমান। ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি মূলত নিজেকে একজন খাঁটি ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন মহলের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন।

ধর্মীয় ছদ্মবেশে প্রত্যাবর্তন: ১৯৭৮-৭৯ সালের দিকে সাঈদী বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ফিরে এসে তিনি এক নতুন কৌশল অবলম্বন করেন। তার কণ্ঠস্বর এবং কথা বলার ধরন ছিল আকর্ষণীয়। তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে 'ওয়াজ মাহফিল' শুরু করেন। এই মাহফিলগুলোকে তিনি ব্যবহার করতেন নিজের যুদ্ধাপরাধী ইমেজ মুছে ফেলার হাতিয়ার হিসেবে। ধীরে ধীরে তিনি বিপুল সংখ্যক অন্ধ অনুসারী তৈরি করতে সক্ষম হন, যারা তার একাত্তরের অপকর্ম সম্পর্কে জানত না বা জেনেও ধর্মীয় আবেগের কারণে তা এড়িয়ে যেত।

বিচার ও আমৃত্যু কারাদণ্ড: ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে পিরোজপুরে হত্যা, ধর্ষণ ও ধর্মান্তরের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। এই রায়কে কেন্দ্র করে তার সমর্থকরা সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতা চালায়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত তার সাজা কমিয়ে 'আমৃত্যু কারাদণ্ড' প্রদান করে। কারাবন্দী অবস্থায় ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (BSMMU) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আব্বাস আলী খান

আব্বাস আলী খান ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার নামে দখলদার বাহিনীর অন্যতম দোসর।

আব্বাস আলী খান ১৯১৪ সালে জয়পুরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের একজন নিবেদিতপ্রাণ সদস্য। একাত্তরের যুদ্ধের সময় তিনি জামায়াতের সক্রিয় নেতা হিসেবে কাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, যুদ্ধের শেষ দিকে গঠিত ড. এ এম মালিকের মন্ত্রিসভায় তিনি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করা এবং মুক্তিকামী বাঙালির ওপর দমন-নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত।

পাকিস্তানে পলায়ন ও প্রত্যাবর্তন: দেশ স্বাধীনের পর যখন আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর বিচার শুরু হওয়ার উপক্রম হয়, তখন আব্বাস আলী খান গ্রেপ্তার হন। তবে ১৯৭৩ সালে সাধারণ ক্ষমার অধীনে তিনি মুক্তি পান। এরপর তিনি পাকিস্তানে চলে যান বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলে উল্লেখ আছে। তবে ১৯৭৫-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৯ সালে যখন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে পুনরায় রাজনীতি শুরু করে, তখন তিনি দলটির অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। অধ্যাপক গোলাম আযম নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে এই নেতার মৃত্যু হয়, কিন্তু তার একাত্তরের ভূমিকা আজও ইতিহাসের কালো পাতায় লিপিবদ্ধ আছে।

চৌধুরী মুঈনউদ্দিন

একাত্তরের ১৪ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে শোকাবহ দিন। এই দিনটিকে সামনে রেখে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার যে তালিকা তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম কারিগর ছিলেন চৌধুরী মুঈনউদ্দিন।

আলবদর বাহিনীর 'অপারেশন ইন-চার্জ': চৌধুরী মুঈনউদ্দিন ছিলেন আলবদর বাহিনীর 'অপারেশন ইন-চার্জ'। তার প্রধান কাজ ছিল বুদ্ধিজীবীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের হত্যার নীল নকশা প্রণয়ন করা। ১৮ জন স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবীকে হত্যার যে তালিকা তৈরি হয়েছিল, তাতে তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী এবং শহীদুল্লাহ কায়সারের মতো বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে তার নাম বারবার সাক্ষ্য-প্রমাণে উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যে পলায়ন: দেশ স্বাধীনের ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি পাকিস্তান হয়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি ছদ্মনামে বা সরাসরি নিজের পরিচয় লুকিয়ে মুসলিম কমিউনিটির একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি লন্ডনভিত্তিক চ্যারিটি সংস্থা 'মুসলিম এইড' এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে তার অনুপস্থিতিতেই (In Absentia) ফাঁসির আদেশ দেয়।

চৌধুরী মুঈনউদ্দিন এখনো লন্ডনে বসবাস করছেন। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য সরকার তাকে হস্তান্তরের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এর প্রধান কারণ হিসেবে ব্রিটিশ আইন ব্যবস্থার মৃত্যুদণ্ডবিরোধী অবস্থানকে দায়ী করা হয়। ২০২৪ সালে তিনি ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলাও করেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। তার বিচার কার্যকর না হওয়া শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের জন্য আজও এক গভীর আক্ষেপের বিষয়।

আশরাফুজ্জামান খান

চৌধুরী মুঈনউদ্দিনের সহযোগী এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার আরেক অন্যতম নায়ক ছিলেন আশরাফুজ্জামান খান।

আদালতে সাক্ষীদের বয়ান অনুযায়ী, আশরাফুজ্জামান খান একাত্তরে বুদ্ধিজীবীদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন। তিনি আলবদর বাহিনীর একজন মাঠ পর্যায়ের নেতা ছিলেন এবং জল্লাদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, তিনি নিজের হাতে অন্তত সাতজন শিক্ষককে হত্যা করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে পলায়ন ও অবস্থান: দেশ স্বাধীনের পর তিনিও পালিয়ে যান এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বসবাস করছেন। সেখানে তিনি ইসলামি সার্কেলে পরিচিত মুখ এবং 'ইসলামিক সার্কেল অব নর্থ আমেরিকা' (ICNA)-এর সাথে যুক্ত ছিলেন। ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে তিনি আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়নি, যদিও প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘ সময় ধরে এর প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

ঘসিয়াতুল হক মজনু

ঘসিয়াতুল হক মজনু নামটি অনেকের কাছে অপরিচিত মনে হতে পারে, কিন্তু একাত্তরের আলবদর বাহিনীর কার্যক্রমে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয় এক সদস্য।

পাকিস্তানে পলায়ন ও দেশে ফেরা: স্বাধীনতার পর অনেক যুদ্ধাপরাধীর মতো তিনিও পাকিস্তানে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি ১৯৮০ সাল পর্যন্ত অবস্থান করেন। এরপর জিয়াউর রহমানের আমলে যখন ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ তৈরি হয়, তখন তিনি জামায়াতের রাজনীতির ওপর ভর করে কৌশলে দেশে ফিরে আসেন।

জামায়াতে অবস্থান ও পুনর্বাসন: বাংলাদেশে ফিরে আসার পর তিনি জামায়াতে ইসলামীর সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যারা একাত্তরের অপরাধ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, মজনু তাদের মধ্যে অন্যতম। তার মতো অনেক ব্যক্তিই স্বাধীনতার পর ছদ্মনামে বা আড়ালে থেকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পাকাপোক্ত করেছিলেন, যা আমাদের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সরাসরি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত না হলেও, তিনি ছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের প্রধান আইনি পরামর্শক।

ট্রাইব্যুনাল ও প্রস্থান: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যখন শীর্ষ জামায়াত নেতাদের বিচার শুরু করে, তখন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন বিবাদী পক্ষের প্রধান আইনজীবী। তার আইনি দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মহলে যোগাযোগ জামায়াতের জন্য বড় ভরসা ছিল। তবে ২০১৩ সালে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন তিনি অনেকটা রহস্যজনকভাবেই দেশত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে চলে যান। অনেকে মনে করেন, আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখেই তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।

জামায়াত থেকে পদত্যাগ: ২০১৯ সালে তিনি জামায়াতে ইসলামী থেকে পদত্যাগ করে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, জামায়াত একাত্তরের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি লন্ডনে অবস্থানকালে আম জনতা (AB) পার্টির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তবে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ৪ মে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু জামায়াতের রাজনীতির এক বড় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটায়।

একনজরে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত ঘাতকদের তালিকা

নাম

একাত্তরে প্রধান ভূমিকা

পলায়ন ও পুনর্বাসন

বিচার ও শেষ পরিণতি

গোলাম আযম

শান্তি কমিটির প্রতিষ্ঠাতা; যুদ্ধের 'মাস্টারমাইন্ড' ও রাজনৈতিক বৈধতা দানকারী।

১৯৭১-এর নভেম্বরে পাকিস্তানে পলায়ন। ১৯৭৮-এ পাকিস্তানি পাসপোর্টে পর্যটক হিসেবে প্রত্যাবর্তন।

২০১৩ সালে ৯০ বছরের কারাদণ্ড; ২০১৪ সালে কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যু।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ

ঢাকা শহর আলবদর প্রধান; বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সরাসরি তদারককারী।

স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানে পলায়ন; ১৯৮০-তে ফিরে এসে ২০০১-এ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন।

২০১৩ সালে মৃত্যুদণ্ড; ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর ফাঁসি কার্যকর।

মতিউর রহমান নিজামী

আলবদর বাহিনীর কেন্দ্রীয় প্রধান; বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্লু-প্রিন্ট প্রণয়নকারী।

১৯৭১-এর ডিসেম্বরে পাকিস্তানে পলায়ন। ১৯৭৮-এ দেশে ফিরে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন।

২০১৬ সালের ১১ মে বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ফাঁসি কার্যকর।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

পিরোজপুরের 'জহুরুল হক বাহিনী'র সদস্য; লুণ্ঠন ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরে অভিযুক্ত।

যুদ্ধের পর আত্মগোপন ও সৌদি আরব পাড়ি। ১৯৭৮-৭৯ সালে ফিরে 'ওয়াজ' এর মাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়া।

আমৃত্যু কারাদণ্ড; ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু।

আব্বাস আলী খান

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ড. মালিক মন্ত্রিসভার শিক্ষামন্ত্রী।

১৯৭৩ সালে সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পেয়ে পাকিস্তানে পলায়ন। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে ফিরে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর।

বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পূর্বেই ১৯৯৯ সালে মৃত্যু।

চৌধুরী মুঈনউদ্দিন

আলবদর বাহিনীর 'অপারেশন ইন-চার্জ'; ১৮ জন বুদ্ধিজীবী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী।

যুদ্ধের পর যুক্তরাজ্যে পলায়ন ও সেখানে মুসলিম কমিউনিটি নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা।

২০১৩ সালে অনুপস্থিতিতে (In Absentia) মৃত্যুদণ্ড; বর্তমানে লন্ডনে পলাতক।

আশরাফুজ্জামান খান

আলবদর বাহিনীর জল্লাদ; সাতজন শিক্ষককে নিজ হাতে হত্যার অভিযোগ।

যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে পলায়ন; সেখানে 'ICNA'-র সাথে যুক্ত হওয়া।

২০১৩ সালে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড; বর্তমানে নিউইয়র্কে পলাতক।

ঘসিয়াতুল হক মজনু

আলবদর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য।

১৯৮০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে অবস্থান। পরে জিয়ার শাসনামলে দেশে ফিরে জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত।

সরাসরি বিচারিক তথ্য না থাকলেও জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক

যুদ্ধাপরাধীদের প্রধান আইনি পরামর্শক ও জামায়াতের শীর্ষ নেতা।

২০১৩ সালে বিচার চলাকালীন যুক্তরাজ্যে প্রস্থান। ২০১৯ সালে জামায়াত থেকে পদত্যাগ।

২০২৪-এ দেশে প্রত্যাবর্তন; ২০২৫ সালের ৪ মে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু।

কেন এই পলায়ন এবং ফিরে আসা?

একাত্তরের পর 'দালাল আইন (The Bangladesh Collaborators Order, 1972)' এর মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডির পর সেই বিচার বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৭৫ পরবর্তী শাসনামলে 'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এই চিহ্নিত ঘাতকদের দেশে ফেরার এবং রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

"ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যারা একাত্তরে পালিয়ে গিয়েও পার পেতে চেয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তাদের অধিকাংশই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে এবং ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"

১৯৭১ সালের সেই ৬৭২ জন পলাতক যুদ্ধাপরাধীর তালিকা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিচার পেতে হলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও সত্যের জয় অনিবার্য। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ এই নেতাদের পলায়ন ও পরবর্তী পুনর্বাসন বাংলাদেশের রাজনীতির এক অন্ধকার অধ্যায়। তবে বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো এই ইতিহাস সঠিকভাবে জানা এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সর্বদা আপসহীন থাকা।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 24, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালটি ছিল পুনর্গঠনের পাশাপাশি চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার। এই অস্থিরতার কেন্দ্রে ছিল নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাসদ' এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন বিতর্ক উসকে দেয় বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন? কেন জাসদ সেই সময় এত সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল? আর ১৫ আগস্টের পর হঠাৎ কেন তারা স্তিমিত হয়ে গেল?

Jan 22, 2026

/

Post by

সবার চোখেমুখে এক অদ্ভুত আবেগ। কারণ, আজ ঘরে ফিরছেন সেই মানুষটি, যিনি দশকের পর দশক ধরে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক আর মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পূর্ণতা পাওয়ার পথে মওলানা ভাসানীর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল এক বিশাল মাইলফলক।

Jan 22, 2026

/

Post by

"আমার মা যদি আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে চাইতেন, তবে তিনি এখনো ক্ষমতায় থাকতেন" - আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাতকারে সজিব ওয়াজেদ জয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের উত্তাল দিনগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমীমাংসিত অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এক গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও দেশত্যাগ এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় যে মন্তব্য করেছেন, তা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্ব রাজনীতি ও ইতিহাসের বোদ্ধাদের।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 24, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালটি ছিল পুনর্গঠনের পাশাপাশি চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার। এই অস্থিরতার কেন্দ্রে ছিল নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাসদ' এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন বিতর্ক উসকে দেয় বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন? কেন জাসদ সেই সময় এত সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল? আর ১৫ আগস্টের পর হঠাৎ কেন তারা স্তিমিত হয়ে গেল?

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 24, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালটি ছিল পুনর্গঠনের পাশাপাশি চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার। এই অস্থিরতার কেন্দ্রে ছিল নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাসদ' এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন বিতর্ক উসকে দেয় বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন? কেন জাসদ সেই সময় এত সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল? আর ১৫ আগস্টের পর হঠাৎ কেন তারা স্তিমিত হয়ে গেল?

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.