বংশপরম্পরায় বা চায়ের আড্ডায় বাঙালি পরিবারের মাঝে মাঝে এমন কিছু বিতর্ক তৈরি হয়, যা আপাতদৃষ্টে সরল মনে হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকে একটি জাতির ইতিহাস, রাজনীতি এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাতিজা এবং ৬০ বছরের চাচার মধ্যকার কথপোকথনটি কেবল একটি পারিবারিক যুক্তিতর্ক নয়; এটি মূলত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইতিহাসের খণ্ডিত ধারণার একটি জীবন্ত প্রতিফলন।
২৫ মার্চ, ১৯৭১। বাঙালির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় কালরাত। সেই রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক এক নৃশংস নিধনযজ্ঞের মাধ্যমে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। এই যজ্ঞের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালির জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র। সেই রাতে হানাদার বাহিনী কেবল সাধারণ মানুষকেই হত্যা করেনি, তারা বেছে বেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আমাদের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের ওপর চালিয়েছিল বর্বরোচিত আক্রমণ।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ। পুরো বাংলাদেশ যখন এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে দাঁড়িয়ে, তখন চট্টগ্রামের পাহাড় ঘেরা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে রচিত হচ্ছিল ইতিহাসের এক পৈশাচিক ট্র্যাজেডি। সেদিন রাতে অপারেশন সার্চলাইটের অংশ হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনী তাদেরই সহকর্মী, নিরস্ত্র এবং ঘুমন্ত বাঙালি সেনাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সমরাস্ত্রের গর্জনে কেঁপে উঠেছিল চট্টগ্রামের আকাশ, আর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ইবিআরসির পবিত্র মাটি।
দায়িত্ব কাকে বলে? ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের ঈদের দিনে রৌমারী সীমান্তে এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধার। হাতে রাইফেল ও গামছা কাঁধে অচেনা এই তরুণ মুক্তিযোদ্ধা দাঁড়িয়ে আছেন সতর্ক পাহারায়। আমাদের জাতীয় জীবনে যে ঈদটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। একাত্তরের ঈদের দিনটি এসেছিলো ভীষণ অচেনা রূপে। চিরায়ত আনন্দ উচ্ছ্বাসের বদলে ঈদের দিনটি ছিল উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগের। রণাঙ্গনে এই দিনটি ছিল লড়াইয়ের।
৭ই মার্চের ভাষণ কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়; এটি একটি জাতির জন্মসনদ, একটি নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর মুক্তির মহাকাব্য। ১৯৭১ সালের সেই পড়ন্ত বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে বজ্রকণ্ঠ ঘোষণা করেছিলেন, তা আজ ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য ঐতিহ্য।
ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।
বংশপরম্পরায় বা চায়ের আড্ডায় বাঙালি পরিবারের মাঝে মাঝে এমন কিছু বিতর্ক তৈরি হয়, যা আপাতদৃষ্টে সরল মনে হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকে একটি জাতির ইতিহাস, রাজনীতি এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাতিজা এবং ৬০ বছরের চাচার মধ্যকার কথপোকথনটি কেবল একটি পারিবারিক যুক্তিতর্ক নয়; এটি মূলত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইতিহাসের খণ্ডিত ধারণার একটি জীবন্ত প্রতিফলন।
২৫ মার্চ, ১৯৭১। বাঙালির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় কালরাত। সেই রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক এক নৃশংস নিধনযজ্ঞের মাধ্যমে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। এই যজ্ঞের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালির জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র। সেই রাতে হানাদার বাহিনী কেবল সাধারণ মানুষকেই হত্যা করেনি, তারা বেছে বেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আমাদের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের ওপর চালিয়েছিল বর্বরোচিত আক্রমণ।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ। পুরো বাংলাদেশ যখন এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে দাঁড়িয়ে, তখন চট্টগ্রামের পাহাড় ঘেরা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে রচিত হচ্ছিল ইতিহাসের এক পৈশাচিক ট্র্যাজেডি। সেদিন রাতে অপারেশন সার্চলাইটের অংশ হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনী তাদেরই সহকর্মী, নিরস্ত্র এবং ঘুমন্ত বাঙালি সেনাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সমরাস্ত্রের গর্জনে কেঁপে উঠেছিল চট্টগ্রামের আকাশ, আর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ইবিআরসির পবিত্র মাটি।
দায়িত্ব কাকে বলে? ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের ঈদের দিনে রৌমারী সীমান্তে এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধার। হাতে রাইফেল ও গামছা কাঁধে অচেনা এই তরুণ মুক্তিযোদ্ধা দাঁড়িয়ে আছেন সতর্ক পাহারায়। আমাদের জাতীয় জীবনে যে ঈদটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। একাত্তরের ঈদের দিনটি এসেছিলো ভীষণ অচেনা রূপে। চিরায়ত আনন্দ উচ্ছ্বাসের বদলে ঈদের দিনটি ছিল উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগের। রণাঙ্গনে এই দিনটি ছিল লড়াইয়ের।






