>

>

বঙ্গবন্ধু কি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন? বাংলাদেশের স্বাধীনতা চান নি?

বঙ্গবন্ধু কি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন? বাংলাদেশের স্বাধীনতা চান নি?

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

TruthBangla

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

সত্তরের নির্বাচন - শেখ মুজিবের প্রধানমন্ত্রিত্বের দাবি

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল অখণ্ড পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম এবং শেষ সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফল ছিল পূর্ব পাকিস্তানের শোষিত মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের মোট আসন ছিল ৩১৩টি (৩০০টি সাধারণ এবং ১৩টি সংরক্ষিত মহিলা আসন)। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫৭টি আসন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৬০টি আসনেই জয়লাভ করে। সংরক্ষিত নারী আসনসহ আওয়ামী লীগের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬৪-তে (পরবর্তীতে ১৬৭)।

অর্থাৎ, কোনো জোট ছাড়াই বঙ্গবন্ধু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী, তাঁর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে এই বিজয় ছিল এক অশনি সংকেত।

অনেকে মনে করেন মুজিব কেবল পূর্ব পাকিস্তানের নেতা ছিলেন। কিন্তু ইতিহাস বলছে, পশ্চিম পাকিস্তানের প্রগতিশীল জনগণের একটি অংশও মুজিবের ছয় দফার মধ্যে মুক্তির স্বাদ খুঁজে পেয়েছিল। যদিও সরাসরি আসন সংখ্যায় তা প্রতিফলিত হয়নি, কিন্তু সাংবিধানিকভাবে তিনি ছিলেন সমগ্র পাকিস্তানের অবিসংবাদিত নেতা।

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন জাগে: বাংলাদেশের জনগণ কি চায়নি মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোক?

বাংলার মানুষ যখন ভোট দিয়েছিল, তারা জানত যে এই ভোটের মাধ্যমেই তাদের নেতা করাচির মসনদে বসবেন। এটি কোনো গোপন ষড়যন্ত্র ছিল না। বরং বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাকিস্তানের শাসনভার নিতে চেয়েছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া কি কোনো অপরাধ? জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে দেশের শীর্ষ পদে আসীন হওয়া তো গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বঙ্গবন্ধু কোনো চোরাপথে বা সামরিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন ব্যালটের মাধ্যমে অর্জিত শক্তি দিয়ে বাংলার মানুষের অধিকার আদায় করতে।

ভুট্টো ও সামরিক জান্তার ষড়যন্ত্র বনাম মুজিবের নৈতিক অবস্থান

১৯৭০ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী, ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা ছিল তাঁর হাতে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী, বিশেষ করে জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং সামরিক প্রধান ইয়াহিয়া খান, কোনোভাবেই একজন বাঙালির হাতে পাকিস্তানের শাসনভার ছেড়ে দিতে রাজি ছিলেন না।

ভুট্টো বুঝতে পেরেছিলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে তিনি কোনোদিনই ক্ষমতা পাবেন না। তাই তিনি এক অদ্ভুত এবং অগণতান্ত্রিক প্রস্তাব নিয়ে হাজির হলেন। তাঁর কুখ্যাত উক্তি "ইধার হাম, উধার তুম" (এখানে আমরা, ওখানে তোমরা) ছিল মূলত পাকিস্তানকে কার্যত দুই ভাগে ভাগ করার প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। তিনি প্রস্তাব করলেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন আর পূর্ব পাকিস্তানে শেখ মুজিব।

গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এটি একটি বিরল এবং হাস্যকর দাবি ছিল। একটি দেশে দুটি সরকার বা দুই অংশে দুইজন প্রধানমন্ত্রী থাকার কোনো বিধান সংবিধানে ছিল না। এটি ছিল মূলত ক্ষমতার ভাগাভাগির এক নোংরা খেলা, যেখানে জনগণের রায়ের কোনো মূল্য ছিল না।

বঙ্গবন্ধু কি অনৈতিকভাবে ক্ষমতা চেয়েছিলেন?

বিপক্ষ গোষ্ঠী প্রায়ই অপপ্রচার চালায় যে, বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। কিন্তু ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণ বলে সম্পূর্ণ উল্টো কথা। বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বা রায়ের মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াই করছিলেন।

বঙ্গবন্ধু জানতেন, তিনি যদি কোনো আপস করেন, তবে তা হবে বাঙালির সাথে বেঈমানি। তাঁর শক্তির উৎস ছিল জনগণ। তিনি চেয়েছিলেন সংসদের ভেতরে বসে ছয় দফার ভিত্তিতে একটি সংবিধান রচনা করতে।

ছয় দফা কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল? ছয় দফা ছিল বাঙালির বাঁচার দাবি। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ যেন এই অঞ্চলেই থাকে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের শোষণ বন্ধ হয়। ভুট্টো জানতেন, ছয় দফা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর সেই ভয় থেকেই শুরু হয় ষড়যন্ত্র।

বঙ্গবন্ধু কোনো অনৈতিক দাবি করেননি। তিনি চেয়েছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে সরকার গঠন করতে, যা যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অনৈতিক ছিলেন তারা, যারা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকার করে টালবাহানা শুরু করেছিল।

পশ্চিম পাকিস্তানের ভয় - কেন ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি?

১৯৭০ সালের নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসনে জয়লাভ করল, তখন কাগজে-কলমে শেখ মুজিবুর রহমানই ছিলেন পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক জান্তা এবং জুলফিকার আলী ভুট্টোর মতো চতুর রাজনীতিবিদদের কাছে এটি ছিল এক দুঃস্বপ্ন। তাদের এই বিরোধিতার পেছনে কেবল ব্যক্তিগত ক্ষমতা লিপ্সা ছিল না, বরং ছিল দীর্ঘদিনের শোষণ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক।

পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে কখনোই একজন জাতীয় নেতা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেনি। তাদের চোখে তিনি ছিলেন একজন "বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা", যিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আড়ালে পাকিস্তানকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে চান। তারা ভয় পেয়েছিল যে, মুজিব ক্ষমতায় বসলে গত ২৩ বছরের শোষণ ও বঞ্চনার হিসাব দিতে হবে। ক্ষমতা হস্তান্তর না করার পেছনে মূলত তিনটি স্তম্ভ কাজ করেছিল: অর্থনৈতিক ভীতি, সামরিক আধিপত্য হারানো এবং রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা।

পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) ছিল পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস। সোনালি আঁশ পাটের রপ্তানি আয় দিয়ে গড়ে উঠেছিল করাচি আর ইসলামাবাদের বিলাসবহুল অট্টালিকা।

সম্পদ পাচার বন্ধ: পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বুঝতে পেরেছিল, মুজিব ক্ষমতায় আসা মানেই পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিমে সম্পদ পাচার চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়া।

দুই অর্থনীতি: বঙ্গবন্ধু দীর্ঘকাল ধরে ‘দুই অর্থনীতি’র কথা বলে আসছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের রাজস্ব এখানেই ব্যয় হবে। এটি ছিল পাঞ্জাবি এলিট শ্রেণির স্বার্থের মূলে কুঠারাঘাত।

সামরিক আধিপত্য ও প্রতিরক্ষা বাজেটে কাটছাঁট

পাকিস্তানের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি ছিল তাদের বিশাল সেনাবাহিনী। বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় হতো সামরিক খাতে, যার সুবিধাভোগী ছিল মূলত পশ্চিম পাকিস্তানিরা।

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার একটি অন্যতম দাবি ছিল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বাদে সব বিষয় প্রদেশের হাতে থাকবে এবং পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আলাদা আধা-সামরিক বাহিনী (প্যারা-মিলিটারি ফোর্সেস) গঠন করতে হবে। সামরিক জান্তারা ভয় পেয়েছিল যে, একজন বাঙালি প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁট করবেন এবং সেনাবাহিনীতে বাঙালিদের অনুপাত বৃদ্ধি করবেন। এটি ছিল সামরিক জেনারেলদের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

ছয় দফা ছিল পাঞ্জাবি এলিটদের কাছে অসহনীয়?

বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ১৯৬৬-এর ছয় দফা ছিল বাঙালির ‘মুক্তির সনদ’। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের কাছে এটি ছিল ‘বিচ্ছিন্নতার ব্লু-প্রিন্ট’। জুলফিকার আলী ভুট্টো একে পাকিস্তানের মৃত্যু পরোয়ানা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

ছয় দফা বাস্তবায়ন করলে পাকিস্তান একটি শক্তিশালী ফেডারেশনের পরিবর্তে অত্যন্ত ঢিলেঢালা একটি ‘কনফেডারেশনে’ পরিণত হতো। যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কর আরোপের কোনো ক্ষমতা থাকত না। পাঞ্জাবি আমলা ও রাজনীতিবিদদের কাছে একটি কেন্দ্রীয় শাসনবিহীন পাকিস্তান ছিল অকল্পনীয়। তারা বুঝতে পেরেছিল, গণতান্ত্রিক উপায়ে মুজিবকে ঠেকানো অসম্ভব, তাই তারা অস্ত্রের ভাষা বেছে নিয়েছিল।

মুজিবের ক্ষমা ও আদর্শিক লড়াইয়ের সীমাবদ্ধতা

১৯৭১-এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলো। ১৯৭২-এর ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যখন বীরের বেশে স্বদেশে ফিরলেন, তখন তাঁর সামনে ছিল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক ভঙ্গুর রাষ্ট্র। বাংলার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু এক অনন্য নাম তাঁর বিশাল হৃদয়ের জন্য। কিন্তু রাজনীতির নির্মম দাবার চালে এই ‘বিশাল হৃদয়’ অনেক সময় নেতিবাচক ফলাফল বয়ে এনেছে।

বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন গণতন্ত্রে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে। তিনি চেয়েছিলেন শত্রু-মিত্র সবাইকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে। এই লক্ষ্য থেকেই তিনি যুদ্ধাপরাধী এবং বিরোধিতাকারীদের জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা’ (General Amnesty) ঘোষণা করেছিলেন।

আপনার পর্যবেক্ষণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মুজিব রক্তারক্তি বা প্রতিশোধের রাজনীতি পছন্দ করতেন না। তিনি চেয়েছিলেন একটি ক্ষতবিক্ষত জাতিকে একত্রিত করতে। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং পরাজিত শক্তি যে আড়ালে থেকে বড় ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র করতে পারে, সেটি হয়তো তিনি তাঁর সরল মন দিয়ে উপলব্ধি করতে পারেননি।

একজন নেতার ‘সাদাসিধা’ বা ‘সরলতা’ ব্যক্তিগত গুণ হতে পারে, কিন্তু একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রে যেখানে প্রতিবিপ্লবের (Counter-revolution) ঝুঁকি থাকে, সেখানে এই গুণটিই অনেক সময় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়। পরাজিত পাকিস্তানি পক্ষ এবং তাদের এদেশীয় দোসররা মুজিবের এই ক্ষমাকে তাঁর মহত্ত্ব হিসেবে না দেখে বরং তাদের শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছিল।

শয়তানের সাথে কি ফেরেশতা হয়ে লড়াই করা যায়?

রাজনীতি এবং যুদ্ধ সবসময় নৈতিকতার ফ্রেমে চলে না। মাও সে তুং-এর একটি বিখ্যাত উক্তি আছে “Power flows from the barrel of a gun” (ক্ষমতা বন্দুকের নল থেকে আসে)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন কঠোর বিপ্লবী নেতা যুদ্ধের পরপরই রাজাকার, আলবদর এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করে তাদের সমূলে উৎপাটন করতেন। কিন্তু মুজিব ছিলেন আপাদমস্তক একজন গণতন্ত্রকামী।

যদি মুজিবের জায়গায় কোনো কট্টর বিপ্লবী নেতা থাকতেন, তবে হয়তো স্বাধীনতার পরপরই একটি বিশদ ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালানো হতো। কিন্তু মুজিব ছিলেন ভিন্ন ধাতুতে গড়া। তিনি বিশ্বাস করতেন:

"আমার মানুষকে আমি ক্ষমা করলে তারা শুধরে যাবে।"

কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা আদর্শিক শত্রুরা সবসময় অনুতপ্ত হয় না। বরং তারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। বঙ্গবন্ধু যাদের ক্ষমা করেছিলেন, তাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫-এর প্রেক্ষাপট তৈরিতে নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছিল। শয়তানের সাথে লড়াই করতে গেলে যে মাঝেমধ্যে কঠোর হতে হয়, তা বঙ্গবন্ধুর সরল রাজনৈতিক দর্শনে হয়তো অনুপস্থিত ছিল।

ক্ষমার পরিণাম - ইতিহাসের এক নির্মম শিক্ষা

বঙ্গবন্ধুর ক্ষমা করার মানসিকতা তাঁকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। পাটের গুদামে আগুন দেওয়া, থানা লুট এবং কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ তৈরির মাধ্যমে সরকারকে অজনপ্রিয় করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তার পেছনে ছিল সেই অশুভ শক্তি যাদের তিনি ক্ষমা করেছিলেন।

তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, বাঙালি তাঁকে মারবে না। তাঁর এই অগাধ বিশ্বাসই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি, আবার সেই সঙ্গে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্টের সেই কালো রাতে তিনি যখন খুনিদের সামনে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠেছিলেন, তখনও হয়তো তিনি ভাবেননি যে তাঁর নিজের দেশের মানুষই তাঁর বুকে গুলি চালাবে।

বিপ্লব বনাম সাদাসিধা নেতৃত্ব

বঙ্গবন্ধুকে কি বিপ্লবের জন্য অযোগ্য বলা যায়? হয়তো যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি অস্ত্র হাতে লড়াই করার চেয়ে তিনি ছিলেন বিশাল জনগোষ্ঠীর অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি ছিলেন একজন জননেতা, কোনো গেরিলা কমান্ডার নন।

বঙ্গবন্ধুর চরিত্রের প্রধান তিনটি বৈশিষ্ট্য ছিল:
১. অতিরিক্ত সরলতা: তিনি বিশ্বাস করতেন না যে কোনো বাঙালি তাঁকে মারতে পারে।
২. আবেগী নেতৃত্ব: শাসনের চেয়ে তিনি মানুষকে ভালোবাসতেন বেশি।
৩. অটল বিশ্বাস: তিনি বন্ধুদের এবং এমনকি ছদ্মবেশী শত্রুদেরও অন্ধভাবে বিশ্বাস করতেন।

এই বৈশিষ্ট্যগুলো একজন মহৎ মানুষের পরিচয় হতে পারে, কিন্তু একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন এবং প্রতিবিপ্লব দমনের জন্য এগুলো অনেক সময় দুর্বলতা হিসেবে কাজ করে। যে বিশ্বাস নিয়ে তিনি স্বাধীনতা এনেছিলেন, সেই বিশ্বাসই তাঁকে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডির দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

মুজিবের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন গণতান্ত্রিক অধিকারের জায়গা থেকে। এটি কোনো অপরাধ ছিল না, বরং ছিল শোষিত বাঙালির আইনি বিজয়। তিনি যদি সেই পদে বসতে পারতেন, তবে হয়তো দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। হয়তো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ছাড়াই আমরা আমাদের অধিকার বুঝে পেতাম।

তবে দিনশেষে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন ট্রাজিক হিরো। তাঁর সরলতা, ক্ষমাশীলতা এবং মানুষের প্রতি অগাধ বিশ্বাস তাঁকে ইতিহাসের উচ্চতায় যেমন বসিয়েছে, তেমনি এই গুণগুলোই তাঁকে বাস্তব রাজনীতির কুটিল চাল থেকে রক্ষা করতে পারেনি। তিনি বুঝতে পারেননি যে, "শয়তানদের সাথে ফেরেশতা হয়ে লড়াই করা সম্ভব নয়।"

বিজয়ের ফল ধরে রাখার জন্য যে কঠোরতার প্রয়োজন ছিল, মুজিবের কোমল হৃদয় তা দিতে পারেনি। আর এখানেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গৌরব এবং একই সাথে সবচেয়ে বড় বিয়োগান্তক অধ্যায়।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Jan 4, 2026

/

Post by

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালটি নিয়ে দুটি বিপরীতমুখী বয়ান পাওয়া যায়। একদল একে দেখেন ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচারের’ কাল হিসেবে, আর অন্যদল একে দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে রাষ্ট্র গড়ার মহাবীরত্বগাথা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা এই সময়কালকে কেবল ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচার’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসবিদরা দেখেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি জাতিকে টেনে তোলার প্রাণপণ লড়াই।

Jan 2, 2026

/

Post by

শ্রাবণের সেই কালরাত ও স্তব্ধ বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। বাংলার আকাশে সেদিন সূর্য উঠেছিল এক বিভীষিকাময় বার্তা নিয়ে। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটি, যা ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু, তা তখন নিথর, নিস্তব্ধ এবং রক্তে রঞ্জিত। জাতির গাদ্দার বিশ্বাসঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সপরিবারে তাঁকে হত্যার মাধ্যমে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা হয়। কিন্তু রাজনীতির এই মহানায়কের পার্থিব শরীরের শেষ গন্তব্য কোথায় হবে? ঘাতকরা চেয়েছিল তাঁকে লোকচক্ষুর অন্তরালে কোথাও ফেলে দিতে, কিন্তু বিধাতার লিখন ছিল তাঁর জন্মভূমি সবুজ ঘাসে ঘেরা নিভৃত পল্লী টুঙ্গীপাড়ায়।

Dec 26, 2025

/

Post by

বিংশ শতাব্দীর বাংলা ইসলামী সাংবাদিকতার ইতিহাসে 'মাসিক মদীনা' একটি অবিস্মরণীয় নাম। আর এই পত্রিকার নেপথ্যের কারিগর ছিলেন কিংবদন্তি সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটি ছিল অত্যন্ত গভীর এবং ব্যক্তিগত। মাওলানা মুহিউদ্দীন খানের জীবনভিত্তিক উপন্যাস 'কিংবদন্তির কথা বলছি' বইতে বর্ণিত একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সম্পর্কের টান এবং আদর্শিক ভিন্নতার ঊর্ধ্বে মানুষ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর মহানুভবতা ও পিতৃভক্তির কথা।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Jan 4, 2026

/

Post by

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালটি নিয়ে দুটি বিপরীতমুখী বয়ান পাওয়া যায়। একদল একে দেখেন ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচারের’ কাল হিসেবে, আর অন্যদল একে দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে রাষ্ট্র গড়ার মহাবীরত্বগাথা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা এই সময়কালকে কেবল ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচার’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসবিদরা দেখেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি জাতিকে টেনে তোলার প্রাণপণ লড়াই।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Jan 4, 2026

/

Post by

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালটি নিয়ে দুটি বিপরীতমুখী বয়ান পাওয়া যায়। একদল একে দেখেন ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচারের’ কাল হিসেবে, আর অন্যদল একে দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে রাষ্ট্র গড়ার মহাবীরত্বগাথা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা এই সময়কালকে কেবল ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচার’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসবিদরা দেখেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি জাতিকে টেনে তোলার প্রাণপণ লড়াই।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.