আমার মা যদি আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে চাইতেন, তবে তিনি এখনো ক্ষমতায় থাকতেন
"আমার মা যদি আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে চাইতেন, তবে তিনি এখনো ক্ষমতায় থাকতেন" - আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাতকারে সজিব ওয়াজেদ জয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের উত্তাল দিনগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমীমাংসিত অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এক গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও দেশত্যাগ এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় যে মন্তব্য করেছেন, তা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্ব রাজনীতি ও ইতিহাসের বোদ্ধাদের।

TruthBangla
Jan 22, 2026
"আমার মা যদি আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে চাইতেন, তবে তিনি এখনো ক্ষমতায় থাকতেন" - আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাতকারে সজিব ওয়াজেদ জয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের উত্তাল দিনগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমীমাংসিত অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এক গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও দেশত্যাগ এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় যে মন্তব্য করেছেন, তা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বিশ্ব রাজনীতি ও ইতিহাসের বোদ্ধাদের। প্রশ্ন উঠেছে শেখ হাসিনা কি সত্যিই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে পারতেন? তিনি কি ক্ষমতার চেয়ে জনগণের জীবনকে বড় করে দেখেছিলেন?
আল জাজিরাকে দেয়া সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাক্ষাৎকার
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরদা উন্মোচন করেন। তাঁর সেই বক্তব্যের মূল সুর ছিল ‘মায়ের প্রতি ন্যায়বিচার’ এবং ‘বাস্তবতার নিরিখে রাজনৈতিক ভুল স্বীকার’।
জয়ের এই একটি বাক্য বিশ্ব গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা যদি আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের পূর্ণ স্বাধীনতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিতেন, তবে হয়তো ক্ষমতাচ্যুত হতে হতো না। কিন্তু শেখ হাসিনা তা চাননি। জয়ের ভাষায়:
“আমার মা যদি আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে চাইতেন, তবে তিনি এখনো ক্ষমতায় থাকতেন। তিনি রক্তপাত এড়াতেই দেশ ছেড়েছেন।”
সাক্ষাৎকারে জয় অত্যন্ত সততার সাথে স্বীকার করেন যে, ২০২৪-এর আন্দোলনটি আওয়ামী লীগ সরকার সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি। তিনি মনে করেন, সরকারের উচিত ছিল শুরুতেই সরাসরি শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসা। এই রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যে আন্দোলনকে একটি অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তা আজ স্পষ্ট।
‘শেখ হাসিনা যুগ’ এর অবসান?
অনেকেই মনে করেন শেখ হাসিনাকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। কিন্তু জয়ের দেওয়া তথ্য এক নতুন দিক নির্দেশ করে। তিনি জানান, শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের মেয়াদের পরেই রাজনীতি থেকে স্থায়ীভাবে অবসরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। অর্থাৎ, ‘শেখ হাসিনা যুগ’ এর অবসান ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ৫ আগস্টের ঘটনা কেবল সেই বিদায়কে ত্বরান্বিত করেছে এবং এক নাটকীয় রূপ দিয়েছে।
খোমেনি, স্ট্যালিন ও মুসোলিনি বনাম শেখ হাসিনা
ইতিহাস অত্যন্ত নির্মম এক বিচারক। কোনো শাসক যখন ক্ষমতার মসনদে বসেন, তখন তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ যেমন সমকালীন সমাজকে প্রভাবিত করে, তেমনি তা ভবিষ্যতের জন্য এক একটি উদাহরণ হয়ে থাকে। বিশেষ করে যখন কোনো দীর্ঘস্থায়ী শাসনের অবসান ঘটে, তখন সেই শাসকের তুলনা চলে আসে বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী ও বিতর্কিত শাসকদের সঙ্গে। সোভিয়েত ইউনিয়নের লৌহমানব জোসেফ স্ট্যালিন, ইতালির ফ্যাসিস্ট নায়ক বেনিতো মুসোলিনি কিংবা ইরানের আধ্যাত্মিক বিপ্লবের জনক আয়াতুল্লাহ খোমেনি তাঁদের প্রত্যেকেরই শাসনের নিজস্ব ধরন ছিল।
ইতিহাস যখন কোনো শাসককে বিচার করে, তখন তার সমসাময়িক বা পূর্ববর্তী শাসকদের কর্মকাণ্ডের সাথে তুলনা করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ইতিহাসের এই রক্তক্ষয়ী শাসকদের তুলনায় শেখ হাসিনাকে আমরা কোথায় বসাব? তিনি কি সত্যিই দোর্দণ্ড প্রতাপশালী স্বৈরশাসক ছিলেন, নাকি পরিস্থিতি তাঁকে এক ভিন্ন পথে পরিচালিত করেছিল? শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে বুঝতে হলে আমাদের বিশ্বের কুখ্যাত কিছু স্বৈরশাসকের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে।
রক্তখেকো আয়াতুল্লাহ খোমেনির শাসনামল
১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। রেজা শাহ পাহলভির পতনের পর ক্ষমতায় আসেন আয়াতুল্লাহ খোমেনি। খোমেনির শাসনকাল ছিল ধর্মতাত্ত্বিক কর্তৃত্ববাদের এক চরম উদাহরণ।
ইরানি বিপ্লবের পর খোমেনির শাসনামলে অফিসিয়াল রেকর্ড অনুযায়ী প্রায় ১৮ হাজার মানুষকে সরাসরি রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছিল। আহতের সংখ্যা ৪ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ক্ষমতার মসনদ পাকাপোক্ত করতে রক্তের নদী বইয়ে দিতেও দ্বিধা করেননি তিনি।
১৯৮৮ সালের রাজনৈতিক বন্দি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়, যেখানে হাজার হাজার মানুষকে বিনা বিচারে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।
খোমেনির ক্ষমতার মূল ভিত্তি ছিল 'বিপ্লবের পবিত্রতা রক্ষা'। এই পবিত্রতা রক্ষার নামে তিনি বিরোধী দল, উদারপন্থী ও বামপন্থীদের, নির্মমভাবে দমন করেছিলেন। এমনকি তার বিরুদ্ধাচারণ করা যে কাউকে তিনি গুপ্ত হত্যা ও দমন করতেন। তাঁর কাছে ক্ষমতা ছিল ঐশ্বরিক নির্দেশনার অংশ, যেখানে ভিন্নমতের কোনো স্থান ছিল না।
জোসেফ স্ট্যালিন ও বেনিতো মুসোলিনির নৃশংসতা
ইউরোপের ইতিহাসে সোভিয়েত ইউনিয়নের জোসেফ স্ট্যালিন বা ইতালির মুসোলিনি ছিলেন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী দুই শাসক, যাঁদের ক্ষমতার ভিত্তি ছিল নিরঙ্কুশ ভয় এবং সুশৃঙ্খল গণহত্যা। তাদের প্রত্যেকের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মূলমন্ত্র ছিল ‘ভয়’ এবং ‘গণহত্যা’।
সোভিয়েত ইউনিয়নে স্ট্যালিনের শাসনকাল ছিল আক্ষরিক অর্থেই লাশের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। তাঁর 'গ্রেট পার্জ' বা মহাবিনাশের সময়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হয় হত্যা করা হয়েছিল, নয়তো সাইবেরিয়ার শ্রম শিবিরে (Gulag) পাঠিয়ে তিলে তিলে মারা হয়েছিল। স্ট্যালিন কেবল তাঁর শত্রুদের নয়, বরং তাঁর নিজের দলের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধাদেরও সন্দেহের বশে নির্মূল করেছিলেন। তাঁর কাছে ক্ষমতা রক্ষার একমাত্র পথ ছিল যেকোনো সম্ভাব্য হুমকিকে অঙ্কুরেই বিনাশ করা।
ইতালিতে মুসোলিনি প্রবর্তন করেছিলেন ফ্যাসিবাদ। তাঁর ব্ল্যাকশার্ট বাহিনী সাধারণ মানুষের মনে ত্রাস সৃষ্টি করত। 'জাতীয়তাবাদ'কে তিনি এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন যেখানে রাষ্ট্রের বাইরে ব্যক্তির কোনো অস্তিত্ব ছিল না। বিরোধীদের হত্যা, নির্বাসন এবং সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ ছিল তাঁর প্রাত্যহিক কাজ।
শেখ হাসিনা কেন আলাদা?
বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থান দমনে এই বিশ্বনেতারা যে পরিমাণ নৃশংসতা দেখিয়েছিলেন, তার তুলনায় শেখ হাসিনার পদক্ষেপ ছিল ভিন্ন। খোমেনি বা স্ট্যালিনের মতো শাসকরা যখন বিপদে পড়তেন, তখন তাঁরা পুরো দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়ে হলেও ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যখন দেখলেন গণভবনের দিকে লক্ষ লক্ষ মানুষ এগিয়ে আসছে, তখন তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ঢাকা শহরকে লাশের স্তূপে পরিণত করার পথ বেছে নেননি। তিনি বেছে নিয়েছিলেন পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের পথ।
শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকাল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য সময়। একদিকে যেমন অবকাঠামোগত উন্নয়ন (পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র) দেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, অন্যদিকে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ভোট ব্যবস্থার ধ্বংসের অভিযোগ তাঁর শাসনকে বিতর্কিত করে তুলেছিল।
সমালোচকরা বলপ্রয়োগের কথা বললেও, দিনশেষে তিনি একটি গৃহযুদ্ধ এড়াতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদি তিনি সত্যিই ‘রক্তপিপাসু স্বৈরশাসক’ হতেন, তবে ঢাকা শহরকে লাশের স্তূপে পরিণত করে হলেও সিংহাসন আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করতেন। কিন্তু ধর্মান্ধ উগ্রবাদীদের আক্রমন থেকে বাচতে তিনি বেছে নিয়েছেন নির্বাসনের পথ।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় বলপ্রয়োগের ঘটনা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছে। শত শত প্রাণহানি একটি স্বাধীন দেশের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক ছিল। স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠী তাঁকে স্ট্যালিন বা মুসোলিনির মতো একনায়ক হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেন। তাঁদের মতে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অতি-ব্যবহার জনগণের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল।
শেখ হাসিনা ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখতে পারতেন?
শেখ হাসিনার স্বেচ্ছায় নির্বাসন নেয়া কি তাঁর দুর্বলতা ছিল নাকি দূরদর্শিতা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি যদি সত্যিই স্ট্যালিনের মতো নৃশংস হতে চাইতেন, তবে সেদিন কয়েক হাজার মানুষের রক্ত গঙ্গা বইয়ে দেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব ছিল না। কিন্তু তিনি একটি রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ থেকে দেশকে বাঁচাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেছেন।
শেখ হাসিনা বেছে নিয়েছেন নির্বাসনের এক নিঃসঙ্গ পথ। ক্ষমতার প্রতি অন্ধ মোহ থাকলে তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মরণপণ লড়াই করার নির্দেশ দিতেন, যা সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ করেছেন বা লিবিয়ার গাদ্দাফি করেছিলেন।
বিশ্লেষণাত্মক তত্ত্বে বলা হয়, যে কোনো আন্দোলন দমনের জন্য তার শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। পাকিস্তানী ও আমেরিকার দোসরদের গ্রেফতার বা বন্দি করে বাংলাদেশকে তিনি বাচাতে পারতেন। শেখ হাসিনা চাইলে কি পারতেন না আন্দোলনের প্রথম সারির ১০-১৫ জন মাস্টারমাইন্ডকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে? প্রযুক্তির এই যুগে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এটি অসম্ভব ছিল না।
কিন্তু তিনি তা করেননি। কেন?
তিনি জানতেন, বলপ্রয়োগ করলে দেশ একটি দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধে (Civil War) নিপতিত হতে পারে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বকে ধ্বংস করে দেবে। হাজারো সীমাবদ্ধতার মাঝেও তিনি চেয়েছিলেন একটি রাজনৈতিক সমাধান, সামরিক সমাধান নয়।
শান্তির জন্য সিংহাসন ত্যাগ?
ইতিহাসে রাজার অভাব নেই, কিন্তু রাজত্ব ত্যাগ করা রাজার সংখ্যা খুবই কম। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার নোংরা রাজনীতির প্রেক্ষাপটে, যেখানে ক্ষমতা হারানো মানেই জেল বা মৃত্যু, সেখানে স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগ করা এক বিরাট সাহসের পরিচয়।
শেখ হাসিনা জানতেন দেশ ছাড়লে তাঁর দলের কর্মীরা বিপদে পড়বেন, তাঁর বিরুদ্ধে হাজারো মামলা হবে, এমনকি তাঁকে আজীবন প্রবাসে কাটাতে হতে পারে। সব জেনেও তিনি নিজের সম্মান ও ক্ষমতার চেয়ে দেশের শান্তিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এটিই একজন ‘স্টেটসম্যান’ বা রাষ্ট্রনায়কের প্রকৃত পরিচয়।
জননেত্রী থেকে বিশ্বনেত্রী
‘দেশরত্ন’ উপাধিটি শেখ হাসিনা কোনো দয়ায় পাননি। দীর্ঘ ২১ বছরের লড়াই, গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে ফেরা এবং বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার যে কারিশমা তিনি দেখিয়েছেন, তা অনস্বীকার্য।
পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল: উন্নয়নের যে মাইলফলক তিনি স্থাপন করেছেন, তা আগামী ১০০ বছর বাংলাদেশের মানুষ ভোগ করবে।
জঙ্গিবাদ দমন: পাকিস্তানের মদদে বাংলাদেশে হওয়া দীর্ঘকাল ধরে চলা জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ দমনে তাঁর জিরো টলারেন্স নীতি দক্ষিণ এশিয়াকে এক বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করেছে। পাকিস্তান সবসময়ই বাংলাদেশের ভূখন্ডকে ব্যবহার করে তাদের দোসর জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ জারি রাখতে চেয়েছিল। শেখ হাসিনা বরাবরাই কঠোরভাবে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন করেছেন সফলতার সাথে।
ইতিহাসের দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম
আজকের আবেগপ্রবণ সময়ে দাঁড়িয়ে অনেকে হয়তো শেখ হাসিনাকে ভুল বুঝছেন। প্রচার-অপপ্রচার আর সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রায়ালে সত্য ঢাকা পড়ে আছে। কিন্তু ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, আবার কাউকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতেও ভোলে না।
আজ যারা তাঁকে স্বৈরশাসক বলছেন, কাল তারা যখন মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকার দেশগুলোর গৃহযুদ্ধের রক্তপাত দেখবেন, তখন হয়তো অনুধাবন করবেন কীভাবে একজন নারী নেত্রী নিজের সর্বোচ্চ বিসর্জন দিয়ে একটি জাতিকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থেকে বাঁচিয়েছিলেন।
নেতা বনাম শাসক
নেতা আর শাসকের মধ্যে পার্থক্য হলো শাসক শাসন করে ক্ষমতার জোরে, আর নেতা নেতৃত্ব দেয় ত্যাগের জোরে। শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রদের কাছে এক গবেষণার বিষয় হবে। ক্ষমতার নেশায় অন্ধ না হয়ে, জনগণের রক্তের মায়ায় রাজপথ ছেড়ে দেওয়াটা পরাজয় নয়, বরং এক নৈতিক বিজয়।
ইতিহাস একদিন ঠিকই স্মরণ করিয়ে দেবে কে ছিল রক্তপিপাসু আর কে ছিল জনগণের প্রকৃত রক্ষক। শেখ হাসিনা নামক অধ্যায়টি হয়তো সাময়িকভাবে থমকে গেছে, কিন্তু তাঁর উন্নয়নের চিহ্ন আর ত্যাগের গল্প বাংলাদেশের ধূলিকণায় অমর হয়ে থাকবে।
আপনি কি মনে করেন সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই বক্তব্যগুলো ২০২৪-এর ঘটনাপ্রবাহের এক নতুন দিক উন্মোচন করছে?
Explore Topics
Featured Posts
About
TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.















