খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম - এক গেরিলা মাস্টারমাইন্ড ও ট্র্যাজিক হিরো
বাংলাদেশের ইতিহাসের অগ্নিপুরুষ এক কালজয়ী নাম খালেদ মোশাররফ। বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকতে গিয়ে যে কজন মানুষের রক্ত কালির চেয়েও বেশি গাঢ় হয়ে ঝরেছে, তাঁদের মধ্যে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম) অন্যতম। ১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে যখন পুরো দেশ পাকিস্তানি হানাদারদের বুলেটের শব্দে প্রকম্পিত, তখন কিছু মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খালেদ মোশাররফ।

TruthBangla
Jan 21, 2026
বাংলাদেশের ইতিহাসের অগ্নিপুরুষ এক কালজয়ী নাম খালেদ মোশাররফ। বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকতে গিয়ে যে কজন মানুষের রক্ত কালির চেয়েও বেশি গাঢ় হয়ে ঝরেছে, তাঁদের মধ্যে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম) অন্যতম। ১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে যখন পুরো দেশ পাকিস্তানি হানাদারদের বুলেটের শব্দে প্রকম্পিত, তখন কিছু মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন খালেদ মোশাররফ।
তিনি কেবল একজন দক্ষ সমরনায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন গেরিলা যুদ্ধের এক জাদুকর। ১৯৩৭ সালের ১ নভেম্বর জামালপুরের মোশাররফগঞ্জ গ্রামে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি আজীবন লালন করেছেন অদম্য দেশপ্রেম। ১৯৭১-এর উত্তাল দিনগুলোতে যখন পুরো জাতি দিশেহারা, তখন তিনি হয়ে উঠেছিলেন আশার প্রদীপ। আজ আমরা আলোকপাত করব এই বীরের জীবন, যুদ্ধকৌশল এবং তাঁর জীবনের সেই ট্র্যাজিক পরিসমাপ্তির ওপর।

এই মানুষটি কেবল একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন নিখুঁত রণকৌশলী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দিকের সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান কারিগর।
১৯৭১ - বিদ্রোহের অগ্নিশিখা
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে যখন ঢাকায় 'অপারেশন সার্চলাইট' শুরু হয়, পাকিস্তানি বাহিনী ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, খালেদ মোশাররফ তখন কুমিল্লায় চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ২৬ মার্চ তিনি অবস্থান করছিলেন মৌলভীবাজারের শমসেরনগরে। ঢাকার গণহত্যার খবর পৌঁছাতে দেরি হয়নি তাঁর কাছে। খবর পৌঁছানো মাত্রই তাঁর রক্ত টগবগিয়ে ওঠে। পেশাগত আনুগত্যের চেয়েও দেশের প্রতি টান তাঁকে বিদ্রোহী করে তোলে।
তিনি আর মুহূর্তকাল দেরি করেননি। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন আর পাকিস্তান নয়, এবার নিজের দেশের জন্য লড়াই। পাঞ্জাবি সৈন্যদের নির্দেশ অমান্য করে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি তাঁর বাহিনীকে নিয়ে তড়িৎ গতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ২৭ মার্চ সকালে তিনি মেজর শাফায়াত জামিলের বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হন।
সেখানে পাঞ্জাবি সৈন্যদের কড়া পাহারায় থাকা চতুর্থ বেঙ্গলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে, সেখানে অবস্থানরত পাঞ্জাবি সৈন্যদের বন্দি করে, তিনি নিজেকে কমান্ডিং অফিসার ঘোষণা করেন। এটিই ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানি সামরিক কাঠামোর ভেতরে প্রথম বড় ধরনের ফাটল। এটি ছিল স্রেফ একটি বিদ্রোহ নয়, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের সামরিক ভিত্তিপ্রস্তর।
২ নং সেক্টর ও কে-ফোর্স (K-Force)
মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর খালেদ মোশাররফকে ২ নং সেক্টর-এর কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সেক্টরটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর অধীনে ছিল ঢাকা, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং ফরিদপুরের অংশবিশেষ। পরে সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর নামানুসারে গঠিত হয় শক্তিশালী ‘কে-ফোর্স’।
খালেদ মোশাররফ বুঝতে পেরেছিলেন, সামনাসামনি যুদ্ধে পাকিস্তানি শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে হারানো কঠিন হবে। আধুনিক মরণাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জেতা কঠিন। তাই তিনি বেছে নেন 'হিট অ্যান্ড রান' বা গেরিলা পদ্ধতি।
তিনি তাঁর অফিস স্থানান্তর করেন তেলিপাড়া চা-বাগানে। এখান থেকেই বাংলাদেশের যুদ্ধের প্রথম কৌশলগত পরিকল্পনাগুলো করা হয়। মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানি বাহিনীকে প্রচণ্ড বাধার মুখে রাখেন। যখন পাকিস্তান বিমান হামলা বাড়িয়ে দেয়, তখন তিনি কৌশলগত কারণে তাঁর বাহিনীকে নিয়ে ত্রিপুরায় আশ্রয় নেন।
মেলাঘর গেরিলা ক্যাম্প: মেলাঘরের দুর্গম জঙ্গলে তিনি স্থাপন করেন এক বিশাল গেরিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। হাজার হাজার যুবককে তিনি স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের ভেতরে পাঠিয়ে দেন। এখান থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকায় কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল 'ক্র্যাক প্লাটুন'।
শফি ইমাম রুমী ও ক্র্যাক প্লাটুন: খালেদ মোশাররফের অধীনেই যুদ্ধ করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি ইমাম রুমী এবং শফি ইমাম রুমীর মতো অসম সাহসী ক্র্যাক প্লাটুনের যোদ্ধারা। খালেদ মোশাররফ যোদ্ধাদের কেবল অস্ত্র চালানো শেখাননি, শিখিয়েছিলেন মস্তিস্ক ব্যবহার করা।
তিনি শরীফ ইমামের মতো বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করতেন কীভাবে সেতু বা কালভার্ট ধ্বংস করলে পাকিস্তানিরা বিপদে পড়বে, অথচ স্বাধীনতার পর তা দ্রুত মেরামত করা যাবে। যুদ্ধের ময়দানে তাঁর এই দূরদর্শিতা ছিল অনন্য।
কে-ফোর্স গঠন: সেপ্টেম্বর মাসে যখন নিয়মিত বাহিনীর ব্রিগেডের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন তাঁর নামের আদ্যক্ষর দিয়ে গঠিত হয় 'কে-ফোর্স'। এই ব্রিগেডের অন্তর্ভুক্ত ছিল ৪র্থ, ৯ম এবং ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে এই বাহিনী একের পর এক পাকিস্তানি আস্তানা ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।
রণকৌশলী খালেদ মোশাররফ
একজন সেনাপতির কাজ কেবল শত্রু নিধন নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের কথা ভাবা। খালেদ মোশাররফ ছিলেন সেই বিরল প্রতিভাধরদের একজন।
তিনি যখন কোনো ব্রিজ বা কালভার্ট ধ্বংসের পরিকল্পনা করতেন, তখন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের স্বামী প্রকৌশলী শরীফ ইমামের মতো বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতেন। লক্ষ্য ছিল একটাই ব্রিজটি এমনভাবে ভাঙা যাতে পাকিস্তানিরা পার হতে না পারে, কিন্তু যুদ্ধের পর যেন অল্প খরচে দ্রুত মেরামত করা যায়।

ঢাকার ভেতরে পাকিস্তানিদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়া 'ক্র্যাক প্লাটুন' ছিল তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। হোটেলের ভেতরে বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে হাই-প্রোফাইল টার্গেট ধ্বংস সবই হতো তাঁর নির্দেশে।
মাথায় বুলেটের আঘাত ও মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা
যুদ্ধের ময়দানে খালেদ মোশাররফ কখনো আড়ালে থাকতেন না। তিনি ছিলেন সামনের সারির যোদ্ধা। ২৩ অক্টোবর কসবা ফ্রন্টে যুদ্ধের সময় শত্রুর কামানের গোলার স্প্লিন্টার তাঁর কপালে ও মাথায় আঘাত হানে। প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ আর মারাত্মক আঘাত নিয়ে তাঁকে দ্রুত আগরতলা এবং পরে ভারতের লক্ষ্ণৌ সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিকিৎসকরা তাঁর বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি অলৌকিকভাবে ফিরে আসেন। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি। কপালে সেই গভীর ক্ষতচিহ্ন নিয়ে মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েই সুস্থ হতে না হতেই আবার ফিরে আসেন যুদ্ধক্ষেত্রে। তাঁর নেতৃত্বে ২ নং সেক্টর পাকিস্তানি বাহিনীর রসদ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যা ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল।
তাঁর এই অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে 'বীর উত্তম' খেতাবে ভূষিত করে, যার সনদ নম্বর ছিল ৭।
স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনী পুনর্গঠন
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খালেদ মোশাররফ বসে থাকেননি। তিনি সেনাসদরে স্টাফ অফিসার এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে একটি সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে তিনি দিনরাত কাজ করেছেন। তিনি চেয়েছিলেন রাজনীতিমুক্ত একটি পেশাদার সেনাবাহিনী।
তিনি চেয়েছিলেন একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে।
মুক্তিযোদ্ধা সেনাদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে তিনি ছিলেন আপসহীন।
সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্ক্ষলা রক্ষায় তিনি কোনো ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না।
১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দেশ এক গভীর সংকটে পড়ে। খুনি চক্র রেডিও স্টেশনে বসে দেশ শাসন করতে শুরু করে। খন্দকার মোশতাক ও খুনি মেজরদের দাপটে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে। একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক এবং পেশাদার সৈনিক হিসেবে খালেদ মোশাররফ এই বিশৃঙ্খলা মেনে নিতে পারেননি।
৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে খালেদ মোশাররফ রক্তপাতহীন এক সফল অভ্যুত্থান ঘটান। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল:
১. খুনি মেজরদের বঙ্গভবন থেকে তাড়ানো।
২. সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা বা চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনা।
৩. তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা (যিনি পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছিলেন এবং যাতে কমান্ড একক নেতৃত্বে থাকে)।
তিনি নিজেকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করেন এবং সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন। তিনি চেয়েছিলেন সংবিধান রক্ষা করতে এবং খুনিদের বিচার নিশ্চিত করতে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, এই ৩ দিনের মাথায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়।
৭ নভেম্বর - এক ট্র্যাজিক মহাপ্রয়াণ
৭ নভেম্বর সকালে পাল্টা অভ্যুত্থানের ঢেউ আছড়ে পড়ে ঢাকা সেনানিবাসে। জাসদ ও লুকিয়ে থাকা রাজাকারদের ষড়যন্ত্রে একদল বিভ্রান্ত সৈনিক উসকানিমূলক স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নেমে আসে। খালেদ মোশাররফ তখন তাঁর দুই সঙ্গী কর্নেল নাজমুল হুদা এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ.টি.এম. হায়দারের সঙ্গে শেরেবাংলা নগরে ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অবস্থান করছিলেন।

১০ম ইস্ট বেঙ্গল ছিল খালেদের নিজের হাতে গড়া ইউনিট। তিনি ভেবেছিলেন সেখানে তিনি নিরাপদ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেই ইউনিটেরই কিছু বেঈমান সৈনিক ও কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন এই তিন সূর্যসন্তান। সকাল ১১টার দিকে ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল নাজমুল হুদা এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ.টি.এম. হায়দারকে নির্মমভাবে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়।
সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, যাঁদেরকে তিনি নিজের হাতে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, যাঁদেরকে নিয়ে তিনি পাকিস্তান হারাতেন সেই বাঙালি সেনাদের বুলেটে তাঁর বুক ঝাঁজরা হয়ে যায়। স্বাধীনতার সূর্যসন্তানেরা স্বদেশের মাটিতেই নিজ বাহিনীর হাতে প্রাণ হারালেন।
তিনি কেন অমর?
খালেদ মোশাররফ কেবল একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না, তিনি ছিলেন যুদ্ধের দর্শন। মাথায় আঘাত পাওয়ার পরও তাঁর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার স্পৃহা তরুণদের আজও অনুপ্রাণিত করে। একটি আধুনিক গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, দেশপ্রেম থাকলে প্রযুক্তির অভাব জয় করা সম্ভব।
খালেদ মোশাররফ প্রায়ই একটি কথা বলতেন যা আজও প্রতিটি দেশপ্রেমিকের রক্তে আগুন জ্বালায়:
“কোনো স্বাধীন দেশ জীবিত গেরিলা চায় না; চায় রক্তস্নাত শহীদ।”
তিনি নিজেই তাঁর সেই কথার প্রমাণ দিয়ে গেছেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো আজকের বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস অন্যরকম হতো। তিনি ছিলেন নির্ভীক, মেধাবী এবং আপাদমস্তক এক জাতীয়তাবাদী বীর। তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করে।
ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নক্ষত্র
মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ (বীর উত্তম) কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রেরণা। একটি ধ্বংসপ্রায় দেশ থেকে শক্রকে বিতাড়িত করে একটি মানচিত্র এনে দেওয়া এই বীরকে কি আমরা যথাযথ মর্যাদা দিতে পেরেছি? রাজনীতি তাঁকে নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত থাকতে পারে, কিন্তু ইতিহাস তাঁকে দিয়েছে বীরের মর্যাদা।
৭ নভেম্বরের সেই রক্তমাখা সকাল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ষড়যন্ত্রের জাল কতটুকু গভীর হতে পারে। তবে যত ষড়যন্ত্রই হোক, মেলাঘরের সেই ধুলোমাখা পথ থেকে শুরু করে ১০ম বেঙ্গলের সেই শেষ প্রহর পর্যন্ত খালেদ মোশাররফ ছিলেন এক অকুতোভয় সিংহহৃদয় যোদ্ধা।
আপনি কি মনে করেন খালেদ মোশাররফের সেই ৩ নভেম্বরের পদক্ষেপ বাংলাদেশকে একটি ভিন্ন ধারায় নিয়ে যেতে পারত? এই বীরের গল্প সবার কাছে পৌঁছে দিতে আর্টিকেলটি শেয়ার করুন।
Explore Topics
Featured Posts
About
TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.















