স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী মেজর এম এ জলিল?
দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী দাবি করে আসছে যে, মেজর জলিল ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের "প্রথম রাজবন্দী"। তাদের দাবি অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের সম্পদ ও অস্ত্র লুটের প্রতিবাদ করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের নির্মোহ দলিলে এই দাবির সত্যতা কতটুকু? এটি কি নিছক একটি রাজনৈতিক বয়ান, নাকি এর পেছনে কোনো অকাট্য দালিলিক প্রমাণ আছে? সেদিন আসলে কী ঘটেছিল।

TruthBangla
Jan 21, 2026
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাসের একটি অন্যতম আলোচিত এবং বিতর্কিত বিষয় হলো মেজর এম এ জলিলের গ্রেপ্তার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর এম এ জলিল একটি অবিস্মরণীয় নাম। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই তাঁর জীবন এক নাটকীয় মোড় নেয়।
দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী দাবি করে আসছে যে, মেজর জলিল ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের "প্রথম রাজবন্দী"। তাদের দাবি অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের সম্পদ ও অস্ত্র লুটের প্রতিবাদ করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসের নির্মোহ দলিলে এই দাবির সত্যতা কতটুকু? এটি কি নিছক একটি রাজনৈতিক বয়ান, নাকি এর পেছনে কোনো অকাট্য দালিলিক প্রমাণ আছে? আজ আমরা তথ্যের গভীরে গিয়ে জানার চেষ্টা করব সেদিন আসলে কী ঘটেছিল।
কে ছিলেন মেজর এম এ জলিল?
আলোচনার শুরুতে আমাদের চিনে নিতে হবে মেজর মোহাম্মদ আব্দুল জলিলকে। মেজর মোহাম্মদ আব্দুল জলিল ১৯৪২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন তিনি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানে অবস্থান না করে পালিয়ে এসে যুদ্ধে যোগ দেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ছিলেন বরিশাল, পটুয়াখালী ও খুলনা অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৯ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার। তাঁর সাহসিকতা ও রণকৌশল এই অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করতে বিশাল ভূমিকা রেখেছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য এবং তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি ৯ নম্বর সেক্টরের (খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চল) সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। সুন্দরবন অঞ্চলে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনায় তাঁর অসামান্য দক্ষতা ছিল। তিনি ছিলেন একাধারে তুখোড় সৈনিক, সুবক্তা এবং পরবর্তীতে একজন রাজনৈতিক নেতা।
বিতর্কের সূত্রপাত: দাবি বনাম পাল্টা দাবি
একটি নির্দিষ্ট মহল দীর্ঘদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় যে তথ্য প্রচার করছে তা হুবহু এখানে তুলে ধরলাম:
”স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী মেজর এম এ জলিল। দেশ স্বাধীন হলো কিন্তু স্বাধীনতার স্বাদ মেজর এম এ জলিল ভোগ করতে পারেন নি। কারণ স্বাধীনতার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণের সময়ে রেখে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যাওয়ার সময় বাঁধা প্রদান করলে সেই অপরাধে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৭১ মেজর এম এ জলিলকে গ্রেফতার করা হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী অস্ত্র শস্ত্র গোলা বারুদ লুটপাট ও খুলনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশের সম্পদ পাচারের তীব্র প্রতিবাদ করাই ছিল তাঁর অপরাধ ! তাঁকে ধরে প্রথমে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে অবস্থিত সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে কার্যত নজরবন্দী করে রাখা হয়।
তাঁদের দাবির মূল পয়েন্টগুলো হলো:
ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ ভারতে নিয়ে যাচ্ছিল।
মেজর জলিল খুলনা সীমান্ত দিয়ে দেশের সম্পদ পাচারের তীব্র প্রতিবাদ করেন।
এই প্রতিবাদের কারণেই ভারতীয় বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং রেসকোর্স ময়দানের সেনা ক্যাম্পে নজরবন্দী করে।
এই দাবির ঐতিহাসিক অসংগতি
এই দাবিগুলোর বিপরীতে নির্ভরযোগ্য কোনো দালিলিক প্রমাণ (যেমন: সমসাময়িক সংবাদপত্র, সরকারি গেজেট বা আন্তর্জাতিক নথি) পাওয়া যায় না। ঐতিহাসিক তথ্য ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই দাবির পেছনে অনেকগুলো ফাঁক রয়েছে। প্রথমত, ১৬ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশে প্রশাসনিক ক্ষমতা ধীরে ধীরে অস্থায়ী সরকারের হাতে অর্পিত হচ্ছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) এবং ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে নির্দিষ্ট প্রটোকল ছিল। একজন সেক্টর কমান্ডারকে ভারতীয় সেনাবাহিনী সরাসরি গ্রেপ্তার করবে এমন ঘটনা প্রশাসনিকভাবে অসম্ভব ছিল। আর এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার বা তৎকালীন সেনাপ্রধান নীরব থাকবেন এমনটি হওয়া প্রায় অসম্ভব।
মিত্রবাহিনী হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশে ছিল এবং তারা ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে ফিরে যায়। এই সময়ের মধ্যে তারা কোনো বাংলাদেশি উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে এমন কোনো রেকর্ড জাতিসংঘ বা রেডক্রসের দলিলেও নেই।
মেজর জলিল কি সত্যিই প্রথম 'রাজবন্দী'?
"রাজবন্দী" বা 'রাজনৈতিক বন্দী' শব্দটির একটি আইনি ও রাজনৈতিক সংজ্ঞা আছে। মেজর জলিলকে নিয়ে এই "রাজবন্দী" তকমাটি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো দাঁড়াতে শুরু করে।
তথ্য যাচাই: সরকারি বা নির্ভরযোগ্য জাতীয় নথিপত্রে মেজর জলিলকে "স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী" হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
যদি কোনো সেনা কর্মকর্তাকে শৃঙ্খলার কারণে বা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে সামরিক কর্তৃপক্ষ তলব করে বা হেফাজতে নেয়, তবে তাকে রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে গণ্য করা যায় না। মেজর জলিলের ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল তা ছিল মূলত একটি প্রশাসনিক ও সামরিক চেইন অফ কমান্ডের বিষয়।
ঐতিহাসিকদের মতে, ওই সময় মেজর জলিলের সাথে কেন্দ্রীয় কমান্ডের কিছু প্রশাসনিক মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। যদি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েও থাকে, তবে তা ছিল নবগঠিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয়, ভারতের কোনো হস্তক্ষেপের বিষয় নয়।
গুজব বনাম বাস্তবতা
দাবি (গুজব) | ঐতিহাসিক সত্য (বাস্তবতা) |
ভারতীয় বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করে। | বাংলাদেশ সরকারই দেশের সর্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ছিল। |
৩১ ডিসেম্বর ১৯৭১ তিনি প্রথম বন্দী হন। | সে সময় কোনো আনুষ্ঠানিক 'রাজবন্দী' তালিকা তৈরি হয়নি। |
সম্পদ পাচারের প্রতিবাদই ছিল কারণ। | এটি মূলত একটি রাজনৈতিক বয়ান, যার সুনির্দিষ্ট দালিলিক প্রমাণ নেই। |
তিনি সারাজীবন অবহেলিত ছিলেন। | তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন। |
ভারতীয় বাহিনী ও সম্পদ পাচারের অভিযোগের বাস্তবতা কী?
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মিত্রবাহিনী বা ভারতীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অনেক আলোচনা রয়েছে। তবে মেজর জলিলকে আটক করার সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে কোনো আন্তর্জাতিক বা জাতীয় দলিল "অস্ত্র লুটপাটের প্রতিবাদ" হিসেবে চিহ্নিত করেনি।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশে পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করে এবং ভারত সহ মিত্র বাহিনীর উপস্থিতিতে Bangladesh স্বাধীন হয়েছিল। এই সময় পাকিস্তানি বাহিনীর প্রচুর অস্ত্র, গোলাবারুদ, গাড়ি ইত্যাদি ছিল যা মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ সরকার গ্রহণের দায়িত্ব ছিল।
কিছু মুক্তিযোদ্ধা এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন লেখক/স্মৃতিকথায় এটা উল্লেখ আছে যে যুদ্ধের পর কিছু অস্ত্র, গোলাবারুদ, গাড়ি ইত্যাদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিকৃত বা অন্যদিকে চলে গিয়েছিল এবং কিছু অংশ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা বা সরকার পুনরুদ্ধার করতে পারেছিল।
কিছু মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্মৃতিকথা ও পক্ষপাতদুষ্ট লেখা দাবি করে যে কিছু ভারতীয় সৈন্য বা বাহিনী সদস্য অবশিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম নিয়েছিল কিন্তু এইসব দাবির ব্যাপক ঐতিহাসিক প্রমাণ বা বিদেশী/সরকারি নথি দিয়ে প্রমাণিত সত্য হিসেবেও স্বীকৃতি নেই এবং অনেকটাই একাধিক ব্যক্তির ব্যক্তিগত মতামত বা অভিজ্ঞতা। আন্তর্জাতিক ও নিরপেক্ষ ইতিহাসে ভারতের বাহিনীকে “পাচার” বা “লুটপাট” হিসাবে স্বীকৃতভাবে বর্ণিত করা হয়নি।
যুদ্ধ পরবর্তী রাজনৈতিক জীবন ও জাসদ
মেজর জলিল কেন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এলেন, তা বুঝতে হলে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনের দিকে তাকাতে হবে। মেজর জলিলের "রাজবন্দী" হওয়ার মূল অধ্যায়টি শুরু হয় ১৯৭২ সালের শেষদিকে, যখন তিনি 'জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল' (জাসদ) গঠন করেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরোধিতায় তিনি রাজপথে নামেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে তিনি কারাবরণ করেন। মূলত রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর এই কারাবরণকেই অনেকে "প্রথম রাজবন্দী" হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেন।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফেরার পর মেজর জলিল মুক্তি পান এটি ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। মুক্তির পার ১৯৭২ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন এবং কর্নেল আবু তাহেরের সঙ্গে নবগঠিত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এ যোগ দেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে তাহেরকে ফাঁসি দেন ও মেজর জলিলের ৫ বছর জেল হয়। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট সাধারণ ক্ষমা দিলে মেজর জলিল মুক্তি পান।
তিনি বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর কড়া রাজনৈতিক অবস্থান এবং পরবর্তীকালে ১৯৭৫-এর প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকা তাঁকে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে আসে।
রাজনৈতিক বন্দীর তকমাটি মূলত তাঁর জাসদকালীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে জনশ্রুতিতে পরিণত হয়েছে, যা ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের কোনো ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
অপপ্রচারের রাজনীতি ও ইতিহাসের বিকৃতি
একটি স্বার্থান্বেষী মহল সবসময় চেষ্টা করেছে বঙ্গবন্ধু সরকার এবং মুক্তিযুদ্ধের মিত্রদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে। মেজর জলিলের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে প্রচার করার পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কাজ করে:
তাদের সবসময়ই সবচেয়ে প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সহায়তাকারী ভারতীয় বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। মুক্তিযুদ্ধ যে একটি যৌথ বাহিনীর বিজয় ছিল, তাকে বিতর্কিত করা।
মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভাজন করা। সেক্টর কমান্ডার বনাম সরকারের একটি কাল্পনিক চিত্র দাঁড় করানো। রাজনৈতিক ফায়দা নিতে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করা।
বাংলাদেশ জাতীয় ঐতিহাসিক নথি বা স্বীকৃত কোনো গবেষণায় (যেমন: হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত দলিলপত্র) মেজর জলিলের 'প্রথম রাজবন্দী' হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলে না। তৎকালীন সময়ের সংবাদপত্র বা বিদেশি সাংবাদিকদের রিপোর্টেও এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায় না। সুতরাং, একে ইতিহাসের একটি 'মিথ' বা রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবেই গণ্য করা যুক্তিযুক্ত।
মেজর জলিলের রাজনৈতিক দর্শন
মেজর জলিল কেবল একজন যোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর লেখা বই "সীমাহীন সময়" এবং অন্যান্য রচনা পড়লে বোঝা যায় তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন চেয়েছিলেন। ১৯৭৫ পরবর্তী রাজনীতিতে তিনি ইসলামী আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং 'জাতীয় মুক্তি আন্দোলন' গঠন করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি মারা যান। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন প্রমাণ করে যে, তিনি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সংকীর্ণ দাবির চেয়ে অনেক বড় মাপের মানুষ ছিলেন।
আবেগের উর্ধ্বে সত্যের জয়
মেজর এম এ জলিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সূর্যসন্তান। তাঁর রণকৌশল ও সাহসিকতা চিরস্মরণীয়। কিন্তু তাঁর বীরত্বকে ব্যবহার করে ইতিহাসের অপব্যাখ্যা দেওয়া অনুচিত। "স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দী" হিসেবে তাঁকে উপস্থাপন করা ঐতিহাসিক তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বেশি ব্যবহৃত হয়েছে।
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো, যেকোনো তথ্য গ্রহণ করার আগে তার ঐতিহাসিক ভিত্তি যাচাই করা। আবেগ দিয়ে নয়, বরং দালিলিক প্রমাণ দিয়েই আমাদের গৌরবময় ইতিহাসকে রক্ষা করতে হবে।
Explore Topics
Featured Posts
About
TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.















