ফ্রীডম পার্টি থেকে বর্তমানের এনসিপি - ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?
১৫ আগস্টের বিশ্বাসঘাতকতার অগ্রভাগে ছিল আইএসআই এর পালিত কর্নেল ফারুক, কর্নেল রশিদ ও মেজর বজলুল হুদাদের মতো খুনিরা। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তারা 'ফ্রীডম পার্টি' নামক এক রাজনৈতিক মোড়কে আবির্ভূত হয়েছিল। আজ ২০২৪-২৫ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যখন আমরা সেই একই স্লোগান, একই রণকৌশল এবং একই ধরনের বয়ান শুনতে পাই, তখন প্রশ্ন জাগে - ফ্রীডম পার্টি কি আসলেই হারিয়ে গেছে, নাকি নতুন কোনো নামে, নতুন কোনো অবয়বে তারা আবার ফিরে এসেছে?

TruthBangla
Jan 18, 2026
ছদ্মবেশে ফিরে আসা এক অতীত বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে মাঝে মাঝেই এমন কিছু মেঘ জমে, যার ছায়া আমাদের ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়গুলোকে মনে করিয়ে দেয়। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস যেমন বীরত্বগাথার, তেমনি এটি বিশ্বাসঘাতকতা আর ষড়যন্ত্রের এক অন্তহীন আখ্যান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কেবল একটি পরিবারকে হত্যা করা হয়নি, বরং একটি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের মূলস্তম্ভকে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। ইতিহাসের সেই ঘাতকেরা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়েছে, দল গঠন করেছে এবং রাষ্ট্রক্ষমতার স্বাদও আস্বাদন করেছে।
১৫ আগস্টের বিশ্বাসঘাতকতার অগ্রভাগে ছিল আইএসআই এর পালিত কর্নেল ফারুক, কর্নেল রশিদ ও মেজর বজলুল হুদাদের মতো খুনিরা। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তারা 'ফ্রীডম পার্টি' নামক এক রাজনৈতিক মোড়কে আবির্ভূত হয়েছিল। আজ ২০২৪-২৫ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যখন আমরা সেই একই স্লোগান, একই রণকৌশল এবং একই ধরনের বয়ান শুনতে পাই, তখন প্রশ্ন জাগে - ফ্রীডম পার্টি কি আসলেই হারিয়ে গেছে, নাকি নতুন কোনো নামে, নতুন কোনো অবয়বে তারা আবার ফিরে এসেছে? আশির দশকের ‘ফ্রীডম পার্টি’ আর বর্তমানের ‘নব্য রাজনৈতিক শক্তি’র মধ্যে কি কোনো অদৃশ্য সুতোর টান রয়েছে?
ফ্রীডম পার্টির জন্মকথা - বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীরা বিশেষ বিমানযোগে দেশ ত্যাগ করেন। তারা প্রথমে ইয়াঙ্গুন হয়ে ব্যাংকক যান। সেখান থেকে পাকিস্তান হয়ে লিবিয়ায় আশ্রয় নেন। লিবিয়া থেকে পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন কে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ১৯৭৫ থেকে ’৯০ সাল পর্যন্ত লিবিয়াকেই নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন শেখ মুজিবের হত্যাকারীরা।
১৯৭৫-এর হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে পালিয়ে থাকলেও সেনাশাসক জিয়াউর রহমান ও পরবর্তীতে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলে তারা দেশে ফেরার এবং রাজনীতি করার সুযোগ পায়।
১৯৮০-এর দশকে কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল আবদুর রশিদ এবং মেজর বজলুল হুদা মিলে গঠন করে ‘ফ্রীডম পার্টি’। লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির পৃষ্ঠপোষকতায় তারা ঢাকার হোটেল শেরাটনে ১৯৮৭ সালের ৩ আগস্ট ফ্রিডম পার্টির প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করেন। এই দলটির মূল লক্ষ্য ছিল ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে একটি 'বিপ্লব' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে মুছে ফেলা।

১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এই খুনিদের দল অংশ নেয়। এমনকি খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করার দুঃসাহস দেখায়। এরশাদ সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে খুনি বজলুল হুদারা তখন সংসদেও বসার সুযোগ পায়। এটি ছিল বাঙালি জাতির জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ অবমাননা।
এরশাদ ও গাদ্দাফির পৃষ্ঠপোষকতা
স্বৈরাচারী এরশাদ আমল ছিল এই খুনিদের জন্য স্বর্ণযুগ। রাষ্ট্রীয় মদতে তারা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়। ১৯৮৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়ে খুনি বজলুল হুদা সংসদে বসেন।
ফ্রিডম পার্টি পরিচালিত হতো মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির টাকায়। শুরু থেকেই লিবিয়ায় কর্নেল ফারুক ও কর্নেল রশিদ দুজনেই ভিআইপি অতিথির মর্যাদা পেতেন। সৈয়দ ফারুক রহমান ও খন্দকার আবদুর রশিদকে কেন্দ্র করে মুজিবের অন্যান্য হত্যাকারীরা লিবিয়ায় মিলিত হতেন। লিবিয়ার ত্রিপোলি ছাড়াও বেনগাজিতে মুজিবের হত্যাকারীদের ব্যবসায়িক অফিস ছিলো। সেখানেও অন্যান্য দেশ থেকে অন্যান্য হত্যাকারীরা নিরাপদে মিলিত হতেন।
লিবিয়ার তৎকালীন শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরাসরি অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতায় ফ্রিডম পার্টি দলটির ক্যাডারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। লিবিয়া ফেরত এই ক্যাডাররা বাংলাদেশে এক সশস্ত্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সে সময় মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে এই দলটি বিপুল পরিমাণ অর্থ ও লজিস্টিক সহায়তা পেত বলে অভিযোগ রয়েছে।
খন্দকার আবদুর রশিদ ত্রিপোলিতে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি গড়ে তোলেন। সেই কোম্পানি গড়ে তোলার জন্য গাদ্দাফি তাকে অর্থ দিয়েছিলেন। আর সৈয়দ ফারুক রহমান লিবিয়ায় জনশক্তি রফতানি কোম্পানি খুলেছিলেন। সেই কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতো লিবিয়ায়।
এছাড়া বাংলাদেশ-লিবিয়া ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি গড়ে তোলেন সৈয়দ ফারুক রহমান ও খন্দকার আবদুর রশিদ। ঢাকায় ব্রাদার গাদ্দাফি কিন্ডারগার্টেন স্কুলও খোলা হয়েছিলো। আর গাদ্দাফির লেখা গ্রিন বুক বাংলায় অনুবাদ করে জনসাধারণের মাঝে ফ্রি বিতরণের ব্যবস্থাও করেন এ দুই খুনি।
সিআইএ এবং আইএসআই-এর নীলনকশা
১৯৮১ সালে ‘দৈনিক খবর’ পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কর্নেল ফারুক রহমান যে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। ফারুক স্বীকার করেছিলেন যে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করার আগে তারা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)-র কাছ থেকে ‘সবুজ সংকেত’ পেয়েছিল।
সাক্ষাৎকারে আরও উঠে আসে যে, কেবল বঙ্গবন্ধুকে মেরেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। ৩ নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার নির্দেশ ছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-র প্রত্যক্ষ নির্দেশে। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে সম্পূর্ণ নেতৃত্বহীন ও নির্মুল করে দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের স্বার্থে আঘাত করতে না পারে।
‘দিল্লি না ঢাকা?’ স্লোগান
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কিছু স্লোগান অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজপথে একটি স্লোগান খুব বেশি শোনা যাচ্ছে "দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা"। কিংবা "ইনকিলাব" ও "আজাদি" স্লোগানগুলো বারংবার শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এই স্লোগানগুলোর আদি উৎস কোথায়?
সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুখে এই স্লোগানটি দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ মনে হলেও, এর রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ পুরনো এবং বিতর্কিত।
ঐতিহাসিক ভিডিও ফুটেজ ও দলিলাদি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৮০-এর দশকে ফ্রীডম পার্টি এবং তাদের সহযোগী সংগঠন ‘প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি’ (প্রগশ) প্রথম এই স্লোগানটি জনসমক্ষে আনে। ১৯৮৬ সালের অক্টোবর মাসে ফ্রীডম পার্টির এক জনসভায় মঞ্চ থেকে ঠিক এই স্লোগানটিই দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর শাহরিয়ার রশিদ খান। তিনি অত্যন্ত উচ্চকণ্ঠে বলেছিলেন, "দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা।"
যাঁরা আজ এই স্লোগানকে নতুন প্রজন্মের 'বিপ্লবী স্লোগান' হিসেবে প্রচার করছেন, তাঁরা কি জানেন এর পেছনে রয়েছে ১৫ আগস্টের খুনিদের মস্তিষ্ক? ফ্রীডম পার্টির এজেন্ডা ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে এমনভাবে বদলে দেওয়া যা মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সাথে দূরত্ব তৈরি করে এবং দেশকে আবার সেই পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল:
১. ভারতবিদ্বেষকে পুঁজি করে জনসমর্থন আদায় করা।
২. বাংলাদেশের রাজনীতিকে একাত্তরের চেতনার বিপরীতে নিয়ে যাওয়া।
৩. ‘১৫ আগস্টের বিপ্লব’ (খুনিদের ভাষায়) বাস্তবায়ন করা।
‘প্রগশ’ ও ফ্রীডম পার্টির অশুভ আঁতাত
ফ্রীডম পার্টির পাশাপাশি তৎকালীন সময়ে 'প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তি' (প্রগশ) নামক আরেকটি সংগঠন সক্রিয় ছিল। এদের মূল উদ্দেশ্য ছিল '১৫ আগস্টের বিপ্লবের আদর্শ বাস্তবায়ন'। এই সংগঠনগুলো অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মানুষের মনে ভারত-বিদ্বেষ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী মনোভাব গেঁথে দেওয়ার কাজ শুরু করেছিল। তাদের স্লোগানগুলো ছিল মূলত একটি রাজনৈতিক 'টুলস', যা সাধারণ মানুষের দেশপ্রেমকে পুঁজি করে ব্যবহার করা হতো।
ফ্রীডম পার্টির প্রেতাত্মা এনসিপি
কাগজে-কলমে ফ্রীডম পার্টি আজ বিলুপ্ত মনে হলেও তাদের আদর্শিক উত্তরাধিকার বা 'লং-টার্ম এসাইনমেন্ট' এখনো শেষ হয়নি।
অনেকেই মনে করছেন, বর্তমানের এনসিপি বা এই জাতীয় প্ল্যাটফর্মগুলো আসলে ফ্রীডম পার্টিরই একটি আধুনিক এক্সটেনশন বা বর্ধিত সংস্করণ। আশি ও নব্বইয়ের দশকে ফ্রীডম পার্টির ক্যাডাররা যেভাবে রাজপথে পেশিশক্তি প্রদর্শন করত, বর্তমানের কিছু সংগঠনের কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
আশির দশকে ফ্রীডম পার্টি যে ‘ইনকিলাব’ বা ‘আজাদি’র বুলি আওড়াত, বর্তমানের এনসিপির রাজনৈতিক শক্তির ভাষা হুবহু এক।
আদর্শিক মিল: একাত্তর ও বঙ্গবন্ধুর ওপর সর্বাত্মক আঘাত হানাই ছিল ফ্রীডম পার্টির লক্ষ্য। বর্তমানেও আমরা দেখছি একদল মানুষ সুকৌশলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মিশনে নেমেছে।
নেতৃত্বের মিল: ইতিহাসের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুনি ফারুক-রশিদরা যেভাবে নিজেদের 'বিপ্লবী' হিসেবে তুলে ধরত, বর্তমানের কিছু তরুণ নেতাও একই ধরনের বয়ান তৈরি করছে।
"বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক, রশিদ, বজলুল হুদারাই যেন এ যুগের নতুন শরীরে পুরনো অবতার।"
লিবিয়া ফেরত ক্যাডার ও এনসিপির মব সন্ত্রাস রাজনীতি
ফ্রীডম পার্টির শক্তির মূল উৎস ছিল তাদের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। লিবিয়া থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা এই তরুণরা তখন ভাবত তারা এক 'মহাবিপ্লব' সম্পন্ন করবে। আজ যখন দেখা যায় আইএসআই ও জামায়াতের মদদপ্রাপ্ত এনসিপির ক্যাডাররা মব সন্ত্রাস করে বেড়াচ্ছে কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে, তখন সেই ফ্রীডম পার্টির বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। এই তথাকথিত 'নাগরিক পার্টি' বা এনসিপি-র মধ্যে যদি সেই খুনিদের আদর্শিক উত্তরাধিকার থাকে, তবে তা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় হুমকি।
২০২৪-এর অভ্যুত্থান - বিদেশি যোগসাজশ?
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের নেপথ্যে বিদেশি শক্তির ভূমিকা নিয়ে খোদ আন্দোলনকারীদের মধ্যেও ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ২০২৪-এর আন্দোলনে পাকিস্তানের আইএসআই এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর্দার আড়ালের সমর্থন ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কিছু বক্তব্য এবং এনসিপি নেতাদের কর্মকাণ্ড এই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।
সন্দেহবাদীদের মতে: খুনি ফারুক-রশিদরা যেমন সিআইএ-র সংকেত পেয়েছিল, বর্তমানের প্রেক্ষাপটও কি তেমনই কোনো আন্তর্জাতিক জিও-পলিটিক্যাল চালের অংশ? আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ, হাসনাত, সারজিস বা মাহফুজদের ভূমিকা কি কেবলই আবেগপ্রসূত, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ রয়েছে?
ফ্রীডম পার্টির লক্ষ্য ছিল একাত্তরকে অস্বীকার করা এবং ১৫ আগস্টকে জায়েজ করা। বর্তমান নব্য শক্তির লক্ষ্য জাতীয় শোক দিবস বাতিল করা, বঙ্গবন্ধুর ছবি ও ভাস্কর্য ভাংচুর ও অবমাননা এবং স্বাধীনতার ইতিহাস পুনর্লিখন। যেন তাদের প্রধান টার্গেটই মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু। এই মিলগুলো কি কাকতালীয়? নাকি এটি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ? খুনিদের ‘অসমাপ্ত কাজ’ সম্পন্ন করতেই কি এই নব্য শক্তির আবির্ভাব?
কেন ব্যর্থ হবে এই পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা?
বাংলাদেশের মানুষ বারবার চরম সংকটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। খুনিদের ফ্রীডম পার্টি আশির দশকে অনেক তর্জন-গর্জন করেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। বাংলার মানুষ তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
দল ফ্রীডম পার্টি যেমন অতীতে টিকতে পারেনি, তেমনি যেকোনো পাকিস্তানপন্থী বা বিদেশি শক্তির লেজুড়বৃত্তি করা গোষ্ঠীও এ দেশে বেশিদিন রাজত্ব করতে পারবে না।
ইতিহাসকে সাময়িকভাবে বিকৃত করা গেলেও চিরতরে মুছে ফেলা যায় না। 'জয় বাংলা' স্লোগানটি কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি একটি জাতির অস্তিত্বের প্রতীক। ফ্রীডম পার্টির অনুসারীরা যতই 'আজাদি' বা 'ইনকিলাব' স্লোগান দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করুক না কেন, বাঙালির চেতনার মূলে থাকা জয় বাংলা-কে তারা পরাজিত করতে পারবে না।
বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারছে। খুনিদের স্লোগান ধার করে যে বিপ্লব সাজানো হয়, তার স্থায়িত্ব যে খুব কম তা মানুষ বুঝতে শুরু করেছে।
ইতিহাসের বিচার ও আমাদের করণীয়
ফ্রীডম পার্টির সেই অসমাপ্ত এসাইনমেন্ট বাংলাদেশকে একটি মিনি পাকিস্তানে পরিণত করা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের নাম-নিশানা মুছে ফেলা - তা কখনোই সফল হবে না। খুনি ফারুক-রশিদের রাজনৈতিক সূর্য যেমন অস্তমিত হয়েছে, তাদের বর্তমান লেজুড়দের পরিণতিও একই হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখনই কোনো অশুভ শক্তি 'বিপ্লব' বা 'আজাদি'র নামে খুনিদের স্লোগান পুনরুজ্জীবিত করতে চাইবে, তখনই আমাদের ফিরে তাকাতে হবে ইতিহাসের আয়নায়। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের কোনো স্থান নেই। পরিশেষে, সেই দিন বেশি দূরে নয় যখন বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এই অপশক্তিকে চিরতরে ছুড়ে ফেলবে।
Explore Topics
Featured Posts
About
TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.















