>

>

১৬ ডিসেম্বর জেনারেল এম এ জি ওসমানী কেন উপস্থিত ছিলেন না?

১৬ ডিসেম্বর জেনারেল এম এ জি ওসমানী কেন উপস্থিত ছিলেন না?

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বিকেল ৪টা ৩১ মিনিট। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মাথা নিচু করে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করছেন দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজী। তাঁর পাশে বিজয়ী বেশে বসে আছেন ভারতীয় ও বাংলাদেশের যৌথ কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক ফ্রেমে একটি মুখ অনুপস্থিত ছিল, যা নিয়ে গত পাঁচ দশকে অজস্র আলোচনা, সমালোচনা, গুজব আর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা মেলেছে। তিনি হলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী।

TruthBangla

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বিকেল ৪টা ৩১ মিনিট। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মাথা নিচু করে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করছেন দখলদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজী। তাঁর পাশে বিজয়ী বেশে বসে আছেন ভারতীয় ও বাংলাদেশের যৌথ কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক ফ্রেমে একটি মুখ অনুপস্থিত ছিল, যা নিয়ে গত পাঁচ দশকে অজস্র আলোচনা, সমালোচনা, গুজব আর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা মেলেছে। তিনি হলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী

নয় মাস ধরে যে মানুষটি একটি জাতিকে সামরিক নেতৃত্ব দিলেন, যার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধারা অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিলেন, সেই চূড়ান্ত বিজয়ের মুহূর্তে কেন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন? এটি কি কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল, নাকি নিছক সামরিক প্রটোকলের মারপ্যাঁচ? এই প্রবন্ধে আমরা ইতিহাসের দলিলাদি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং জেনারেল ওসমানীর নিজস্ব জবানবন্দির আলোকে সেই সত্যটি উদঘাটন করার চেষ্টা করব।

যৌথ কমান্ডের প্রেক্ষাপট - কমান্ড কাঠামো ও প্রটোকল

১৬ ডিসেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বোঝার আগে আমাদের ফিরে যেতে হবে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বরে। ওইদিন বাংলাদেশ সরকার এবং ভারত সরকারের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে গঠিত হয় 'যৌথ কমান্ড' (Mitro Bahini)।

এই চুক্তির আগে পর্যন্ত মুক্তিবাহিনী মূলত গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করছিল। কিন্তু চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে যখন সম্মুখ যুদ্ধের প্রয়োজন দেখা দিল, তখন ভারতের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশের মুক্তি বাহিনীকে একীভূত করা হয়। বাস্তবতার নিরিখে এবং বিশাল সামরিক শক্তির কথা বিবেচনা করে এই যৌথ বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ডার নিযুক্ত হন তৎকালীন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ।

এখানে একটি সূক্ষ্ম প্রটোকল বা মর্যাদার বিষয় ছিল। জেনারেল মানেকশ ছিলেন ভারতের সেনাপ্রধান, আর জেনারেল ওসমানী ছিলেন বাংলাদেশের প্রধান সেনাপতি। অর্থাৎ, সামরিক মর্যাদার দিক থেকে তাঁরা দুজনেই ছিলেন সমপর্যায়ের (Counterparts)। অন্যদিকে, জেনারেল অরোরা ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান, যিনি প্রটোকল অনুযায়ী জেনারেল মানেকশ-এর অধীনস্থ। ৩ ডিসেম্বর যখন পাকিস্তান ভারতের ওপর বিমান হামলা চালাল, তখন যুদ্ধটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে রূপ নেয় এবং যৌথ কমান্ডের নেতৃত্বে চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়।

১৬ ডিসেম্বর সকাল - কলকাতার সদর দপ্তর ও এক আকস্মিক বার্তা

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকালে কলকাতার থিয়েটার রোডে অবস্থিত মুক্তিবাহিনীর সদর দপ্তরে এক অভাবনীয় ব্যস্ততা শুরু হয়। মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার (পরবর্তীতে এয়ার ভাইস মার্শাল) সকালে তাঁর দপ্তরে ফিরে দেখেন কিছু লোক তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন।

সেখানেই তিনি প্রথম জানতে পারেন যে, পাকিস্তানি বাহিনী সেদিন বিকালেই আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানটি হবে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং সেটি হবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও অনাড়ম্বর। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল এক জায়গায়—এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন? জেনারেল ওসমানী তখন কলকাতায় নেই। তিনি যুদ্ধের একদম শেষ পর্যায়ে রণাঙ্গন পরিদর্শনে গিয়েছেন।

মুক্তিবাহিনীর সদর দপ্তর থেকে জেনারেল ওসমানীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি তখন সিলেটের গহীন যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান করছিলেন। তৎকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা আজকের মতো উন্নত ছিল না এবং যুদ্ধের ময়দানে থাকা একজন জেনারেলকে কয়েক ঘণ্টার নোটিশে খুঁজে বের করে ঢাকায় আনা অসম্ভব ছিল। ফলে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এয়ারপোর্টের সেই প্রটোকল - এ কে খন্দকার ও জেনারেল অরোরা

এ কে খন্দকার যখন কলকাতার দমদম এয়ারপোর্টে পৌঁছালেন, তখন সেখানে একটি বিশেষ বিমান অপেক্ষা করছিল। কিছুক্ষণ পরেই একটি জিপে করে সস্ত্রীক হাজির হলেন জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এ কে খন্দকার প্রটোকল অনুযায়ী বিমানে ওঠার আগে সিনিয়র জেনারেল অরোরাকে পথ ছেড়ে দিলেন।

কিন্তু এখানে জেনারেল অরোরা এক অনন্য সৌজন্য প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি এ কে খন্দকারের পিঠে হাত দিয়ে বলেছিলেন, "আপনি এই মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার, আপনিই আগে উঠুন।" এই ছোট্ট ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, সামরিক প্রটোকল বা দেমাগ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়েই সেদিন যৌথ কমান্ড পরিচালিত হচ্ছিল। বিমানটি প্রথমে আগরতলায় নামে এবং সেখান থেকে সাতটি হেলিকপ্টারে করে যৌথ কমান্ডের প্রতিনিধি দল ঢাকায় পৌঁছায়।

ওসমানী তখন কোথায়? সিলেটের রণাঙ্গন ও অলৌকিক বেঁচে ফেরা

যখন ঢাকার আকাশে বিজয়ের জয়ধ্বনি বাজছে, তখন জেনারেল ওসমানী কোথায় ছিলেন? তিনি কি ইচ্ছা করেই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান এড়িয়ে গিয়েছিলেন? ইতিহাস বলছে অন্য কথা।

১৬ ডিসেম্বর সকালে জেনারেল ওসমানী ছিলেন সিলেটের সীমান্ত এলাকায়। ৭ ডিসেম্বর থেকে সিলেট ঘেরাও শুরু হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী যখন সিলেট শহরে প্রবেশ করছিল, জেনারেল ওসমানী তখন তাঁর হেলিকপ্টারে করে রণক্ষেত্র পরিদর্শন করছিলেন। ফার্স্ট বেঙ্গল, থার্ড বেঙ্গল এবং অন্যান্য ব্যাটালিয়নের মুক্তিযোদ্ধারা তখন সিলেটে পাকিস্তানি সেনাদের কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন।

মেজর হাফিজ (বীর বিক্রম) এবং মেজর শাফায়াত জামিলরা যখন সিলেটের সার্কিট হাউজে জেনারেল ওসমানীকে দেখলেন, তাঁরা অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিলেন, "স্যার, ঢাকার আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের বদলে আপনি এখানে কেন?" ওসমানী তখন বাইরের দিকে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। তিনি শান্তভাবে জানিয়েছিলেন যে, তিনি আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের কথা জানতেনই না। এমনকি তিনি এক ভয়াবহ বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। লুকিয়ে থাকা পাকিস্তানি সৈন্যরা তাঁর হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল, ফলে হেলিকপ্টারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন। তাঁর সাথে থাকা কর্নেল আব্দুর রব সেই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন।

প্রটোকলের মারপ্যাঁচ - কেন ওসমানী নিয়াজীর সামনে যেতেন না?

জেনারেল ওসমানী যখন কয়েকদিন পর কলকাতায় সদর দপ্তরে ফিরে এলেন, তখন রাজনৈতিক মহলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে নানা কানাঘুষা শুরু হয়। কেউ বলছিলেন এটি ষড়যন্ত্র, কেউ বলছিলেন ভারতের চাপে তিনি যেতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর জনসংযোগ কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে তিনি নিজের কক্ষে ডাকেন।

ওসমানী যে ব্যাখ্যাটি দিয়েছিলেন, সেটি ছিল একজন পেশাদার এবং প্রটোকল-সচেতন সামরিক কর্মকর্তার আদর্শ ব্যাখ্যা। তিনি বলেছিলেন:

১. তথ্যগত বিভ্রান্তি: তিনি যখন কলকাতা ছাড়েন, তখনো আত্মসমর্পণের কোনো চূড়ান্ত প্রস্তাব আসেনি। ফলে তিনি জানতেনই না যে ওইদিন আত্মসমর্পণ হতে যাচ্ছে। ২. মর্যাদার প্রশ্ন: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণটি ছিল প্রটোকল। জেনারেল ওসমানী ছিলেন একটি স্বাধীন দেশের (বাংলাদেশ) প্রধান সেনাপতি। তাঁর সমমর্যাদার পদটি ছিল ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল মানেকশ-এর। অন্যদিকে, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল জেনারেল অরোরার, যিনি মানেকশ-এর অধীনে একজন আঞ্চলিক কমান্ড প্রধান ছিলেন।

ওসমানী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, "সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমার অবস্থান জেনারেল মানেকশ-এর সমান। আমি জেনারেল মানেকশ-এর অধীনস্থ জেনারেল অরোরার সফরসঙ্গী হতে পারি না। এটি দেমাগের কথা নয়, এটি প্রটোকলের ব্যাপার।" তিনি আরও যোগ করেছিলেন যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাইত না, কারণ বাংলাদেশ তখনো জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ ছিল না।

জেনেভা কনভেনশন ও পাকিস্তানি বাহিনীর মনস্তত্ত্ব

পাকিস্তান সেনাবাহিনী ৯ মাস ধরে বাঙালির ওপর যে নৃশংসতা চালিয়েছিল, তাতে তাদের মনে এক গভীর ভয় ছিল। তারা জানত যে, মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করা মানেই বাঙালির পুঞ্জীভূত ক্ষোভের মুখে পড়া। তারা বরং নিয়মিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করাটাকে নিরাপদ মনে করেছিল।

পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী চাচ্ছিলেন এমন এক পরিস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করতে যেখানে 'জেনেভা কনভেনশন'-এর আওতায় তারা যুদ্ধবন্দী (POW) হিসেবে সুরক্ষা পায়। যেহেতু ভারত একটি স্বীকৃত রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধ, তাই তারা ভারতীয় জেনারেলের কাছেই আত্মসমর্পণ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিল। ভারতের জেনারেল জেএফআর জ্যাকব যখন নিয়াজীকে শর্তহীন আত্মসমর্পণের আল্টিমেটাম দেন, তখন নিয়াজী বুঝেছিলেন যে তাঁর সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

গুজব বনাম বাস্তবতা - একটি ঐতিহাসিক মূল্যায়ন

জেনারেল ওসমানীর অনুপস্থিতি নিয়ে আজও অনেকে নানা গল্প বলেন। কেউ বলেন ভারত সরকার তাঁকে যেতে দেয়নি, কেউ বলেন আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁকে চাননি। কিন্তু সত্য হলো, ওসমানী নিজেই একজন অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রটোকল সচেতন ব্রিটিশ-প্রশিক্ষিত অফিসার ছিলেন। তিনি জানতেন, বিজয়ের এই মুহূর্তে আবেগের চেয়ে প্রটোকল বড়।

তিনি যদি সেদিন জেনারেল অরোরার পাশে উপস্থিত থাকতেন, তবে আন্তর্জাতিকভাবে বার্তা যেত যে বাংলাদেশের প্রধান সেনাপতি ভারতীয় এক আঞ্চলিক কমান্ডারের অধীনস্থ - যা স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌম মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করত। এ কে খন্দকারকে পাঠিয়ে বাংলাদেশ সরকার এক চতুর চাল দিয়েছিল। খন্দকার ছিলেন ওসমানীর নিচে এবং অরোরার সমমর্যাদার কাছাকাছি এক অবস্থানে, যা প্রটোকল রক্ষা করেছিল আবার বাংলাদেশের উপস্থিতিও নিশ্চিত করেছিল।

একজন নির্মোহ সেনাপতির বিজয়

জেনারেল এম এ জি ওসমানী প্রদীপের নিচের আলোর মতো কাজ করেছেন। ৯ মাস খেয়ে না খেয়ে তিনি যে বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, তার বিজয়োল্লাস দেখার লোভ তাঁর ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর সৈন্যদের পাশে থেকে যুদ্ধ জয় করতে। সিলেটের রণক্ষেত্রে নিজের হেলিকপ্টারে গুলির আঘাত খেয়েও তিনি দমে যাননি।

১৬ ডিসেম্বরের বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে তাঁর অনুপস্থিতি কোনো ষড়যন্ত্র ছিল না, বরং তা ছিল সামরিক প্রটোকলের প্রতি এক নিষ্ঠাবান সেনাপতির সম্মান। তাঁর না থাকাটা বরং স্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক মর্যাদাকেই রক্ষা করেছিল। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, বাংলাদেশ কেবল একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল নিয়মিত বাহিনী সম্বলিত সার্বভৌম রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমরা যখন পেছনের দিকে তাকাই, তখন বুঝতে পারি যে ওসমানী সেদিন উপস্থিত না থেকেও প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার হৃদয়ে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে অর্জিত এই বিজয় চিরকাল ইতিহাসের পাতায় অম্লান হয়ে থাকবে।

  • স্মৃতিতে ১৬ ডিসেম্বর: ঐতিহাসিক সেই বিকেল। একে খন্দকার। বিডিনিউজ.কম। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩

  • রক্তেভেজা একাত্তর। মেজর(অবঃ)হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। সাহিত্য প্রকাশ।

  • একাত্তরের রণাঙ্গন অকথিত কিছু কথা। নজরুল ইসলাম। অনুপম প্রকাশনী।

  • প্রিসেট৭১

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 24, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালটি ছিল পুনর্গঠনের পাশাপাশি চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার। এই অস্থিরতার কেন্দ্রে ছিল নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাসদ' এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন বিতর্ক উসকে দেয় বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন? কেন জাসদ সেই সময় এত সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল? আর ১৫ আগস্টের পর হঠাৎ কেন তারা স্তিমিত হয়ে গেল?

Jan 22, 2026

/

Post by

সবার চোখেমুখে এক অদ্ভুত আবেগ। কারণ, আজ ঘরে ফিরছেন সেই মানুষটি, যিনি দশকের পর দশক ধরে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক আর মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পূর্ণতা পাওয়ার পথে মওলানা ভাসানীর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল এক বিশাল মাইলফলক।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.