>

>

বঙ্গবন্ধু ও বাঙালিদের স্বাধীনতা

বঙ্গবন্ধু ও বাঙালিদের স্বাধীনতা

বাংলাদেশের মতো একটি জাতির অভ্যুদয়ে, যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস ছিল, সেখানে স্বাধীনতার সংগ্রামকে শুধুমাত্র সশস্ত্র প্রতিরোধ বা সামরিক অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব ছিল না। প্রয়োজন ছিল দেশের আপামর জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ - একটি সত্যিকারের গণযুদ্ধ।

TruthBangla

স্বাধীনতার সংগ্রাম শুধুমাত্র সশস্ত্র প্রতিরোধ বা অস্ত্রের লড়াই দিয়েই সম্পূর্ণ হয় না। স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য গণমানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সংগ্রামই সফল হতে পারে না - ইতিহাসের এই অমোঘ সত্যটিই বার বার প্রমাণিত হয়েছে। প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন দেশের সকল মানুষের অংশগ্রহণ, অর্থাৎ একটি গণযুদ্ধ। বিশেষত, বাংলাদেশের মতো একটি জাতির অভ্যুদয়ে, যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাস ছিল, সেখানে স্বাধীনতার সংগ্রামকে শুধুমাত্র সশস্ত্র প্রতিরোধ বা সামরিক অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব ছিল না। প্রয়োজন ছিল দেশের আপামর জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ - একটি সত্যিকারের গণযুদ্ধ।

স্বাধীনতা শুধু সশস্ত্র যুদ্ধ নয়, গণমানুষের মহাসংগ্রাম

স্বাধীনতার সংগ্রামকে প্রায়শই কেবল সামরিক কৌশল, সম্মুখ যুদ্ধ এবং অস্ত্রশস্ত্রের লড়াই হিসেবে চিত্রিত করা হয়। কিন্তু ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, কোনো জাতির মুক্তি কেবল সেনাবাহিনীর হাতে আসে না, বরং তা আসে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি, ত্যাগ এবং প্রতিরোধের মাধ্যমে। যখন একটি জাতির কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই একটি অভিন্ন লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখনই সেই সংগ্রাম 'বিদ্রোহ' বা 'অভ্যুত্থান' থেকে 'মুক্তিযুদ্ধে' বা 'জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে' রূপান্তরিত হয়।

এই গণযুদ্ধের ধারণাটিই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি ছিল। এটি প্রমাণ করে যে, প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন দেশের সকল মানুষের অংশগ্রহণ, অর্থাৎ একটি গণযুদ্ধ। গণমানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া স্বাধীনতা যুদ্ধে জয় লাভ করা যে সম্ভব নয়, ইতিহাস এর সুস্পষ্ট প্রমাণ দেয়।

ইতিহাসের মানদণ্ডে গণযুদ্ধের ব্যর্থতা ও সাফল্য

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, যে আন্দোলনগুলোতে জনগণের সম্পূর্ণ সম্পৃক্ততা ছিল না, সেগুলোর পরিণতি হয়েছে ব্যর্থতা। অপরদিকে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে চূড়ান্ত বিজয়।

১. ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ – জনসম্পৃক্ততার অভাব

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের প্রথম বড় ধরনের প্রতিরোধ প্রচেষ্টা। দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ঘোষণা করা হলেও, এই বিদ্রোহে জনগণের সম্পৃক্ততা ছিল অত্যন্ত সীমিত।

রাজনৈতিক সচেতনতার অভাব: সেসময় গ্রামের বৃহত্তর কৃষক সমাজ স্বাধীনতার রাজনৈতিক অর্থ বুঝতে সক্ষম হয়নি। তারা মূলত স্থানীয় জমিদারি বা ব্রিটিশদের খাজনা নীতির নিপীড়নেই জর্জরিত ছিল, কিন্তু কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কে তারা ছিল উদাসীন।

মধ্যবিত্তের দ্বিধা: শহুরে মধ্যবিত্ত ও শিক্ষিত শ্রেণি একদিকে ব্রিটিশ শাসনের অধীনে চাকরি ও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছিল। এই সুবিধা হারানোর ভয়, সামাজিক সংশয় এবং বিদ্রোহের সহিংস প্রকৃতি তাদের এই আন্দোলনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করেছিল।

সীমাবদ্ধতা: ফলে বিদ্রোহটি সর্বজনীন মুক্তি সংগ্রামের রূপ নিতে পারেনি; এটি মূলত ছিল সিপাহীদের অসন্তোষকেন্দ্রিক একটি সশস্ত্র আন্দোলন, যার ব্যর্থতা ছিল অনিবার্য।

তিতুমীর ও সূর্যসেনের সংগ্রাম – আঞ্চলিক প্রতিরোধের সীমাবদ্ধতা

তিতুমীরের বিদ্রোহ এবং সূর্যসেনের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের মতো বিপ্লবী প্রচেষ্টাগুলোও একই কারণে জাতীয় মুক্তি আনতে পারেনি:

তিতুমীরের বিদ্রোহ: বাংলার মুসলিম কৃষক সমাজের নেতৃত্বে তিতুমীর (সৈয়দ মীর নিসার আলী) ব্রিটিশ এবং স্থানীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও সাধারণ জনগণ পুরোভাবে অংশগ্রহণ করেনি। এটি ছিল একটি স্থানীয় ও শ্রেণিগত আন্দোলন। সমাজের অন্যান্য অংশ, যেমন শহুরে মধ্যবিত্ত বা অন্য ধর্মের মানুষজন, এতে পুরোভাবে অংশগ্রহণ করেনি। ফলস্বরূপ, আন্দোলনটি বৃহত্তর জাতীয় কাঠামোতে বিকশিত হতে পারেনি।

সূর্যসেনের বিদ্রোহ: সূর্যসেনের নেতৃত্বে স্বদেশী তরুণদের এই বীরত্বপূর্ণ আক্রমণ ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কেন্দ্রে আঘাত হানার একটি সাহসীক প্রচেষ্টা। কিন্তু জনগণ তার আহ্বানে সম্পূর্ণ সমর্থন দেয়নি। এটি একটি গেরিলা কৌশলভিত্তিক বিপ্লবী আন্দোলন ছিল, যা গণমানুষের মনোজগতে সম্পূর্ণভাবে প্রভাব ফেলতে পারেনি।

৩. নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আহবান

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক কিংবদন্তী পুরুষ নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ঘোষণা করেছিলেন, "তোমরা আমাকে এক সাগর রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব"। এই আহ্বান ছিল চরম ত্যাগের এবং একটি সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দ্রুত স্বাধীনতা অর্জনের। কিন্তু সেই সময়েও ভারতীয় জনগণ, বিশেষত বাঙালিরা, এক সাগর রক্ত দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল না। তাদের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ছিল, কিন্তু তা গণযুদ্ধের আকারে প্রকাশ করার মতো সেই ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক মঞ্চ তখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ফলে, নেতাজীর সংগ্রাম ভারতের স্বাধীনতা আনয়ন করলেও, তা এককভাবে নয়।

১৯৭১ – গণযুদ্ধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত

অন্যদিকে, ১৯৭১ সালের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে একটি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম সফল হয়েছিল শুধুমাত্র একটি কারণেই - কারণ এই সংগ্রাম ছিল সর্বাংশে একটি গণযুদ্ধ। এই গণযুদ্ধকে সফল করার নেপথ্যে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচক্ষণ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং ধাপে ধাপে জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া।

১. ৬-দফা – স্বাধীনতার বীজ বপন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে ৬-দফা কর্মসূচি পেশ করেন। ৬-দফা ছিল মূলত বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবি, যা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মুক্তির পথ খুলে দেয়।

রাজনৈতিক জাগরণ: এই ৬-দফা কর্মসূচি রাতারাতি বাংলার মানুষকে স্বাধীনতার জন্য জাগিয়ে তোলে। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, এটি ছিল বাঙালির মনস্তত্ত্বের উপর ঔপনিবেশিক শাসনের নিপীড়ন থেকে মুক্তির প্রথম সুস্পষ্ট ঘোষণা। এটি প্রমাণ করে যে, একটি সফল গণযুদ্ধের জন্য একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দর্শন থাকা অত্যাবশ্যক।

জনভিত্তি তৈরি: ৬-দফার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছান এবং তাদের বিশ্বাস ও সমর্থন অর্জন করেন। এটি ছিল জনগণকে গণযুদ্ধের জন্য রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত করার প্রথম ধাপ।

২. ১৯৭০ সালের নির্বাচন – গণযুদ্ধের ম্যান্ডেট অর্জন

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ছিল স্বাধীনতার প্রশ্নে জনগণের চূড়ান্ত মতামত বা ম্যান্ডেট আদায়ের একটি অসাধারণ কৌশল।

ব্যাপক বিজয়: আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং কেন্দ্রীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এই বিপুল ভোটে জয়লাভ প্রমাণ করে যে, বাংলার মানুষ ৬-দফা ভিত্তিক স্বায়ত্তশাসন এবং কার্যত স্বাধীনতার পক্ষেই তাদের রায় দিয়েছে।

বিশ্ব্বরণ্যে নেতার প্রতিষ্ঠা: নির্বাচনের এই ফলাফল বঙ্গবন্ধুকে শুধু একজন আঞ্চলিক নেতা হিসেবে নয়, বরং বিশ্বদরবারে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বা 'ম্যানডেটপ্রাপ্ত' নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এটি ছিল আন্তর্জাতিক মহলে স্বাধীনতার ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

৭ই মার্চের ভাষণ – গণযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রেরণা

  • অসহযোগ আন্দোলনের পটভূমি

  • "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম" - ভাষণের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য।

  • "আমি যদি হুকুম দিতে না-ও পারি, তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।" - এই নির্দেশনার মাধ্যমে সামরিক কমান্ডের অনুপস্থিতিতেও জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

  • ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে চূড়ান্ত ত্যাগের জন্য প্রস্তুত করা।

নয় মাসের সশস্ত্র গণযুদ্ধ – জনগণের অপরিহার্য ভূমিকা

মুক্তিবাহিনী ও সাধারণ জনগণ: শুধুমাত্র সামরিক বাহিনীর অংশ নয়, কৃষক-শ্রমিক-ছাত্রদের নিয়ে গঠিত গেরিলা দলগুলোর ভূমিকা।

গেরিলা যুদ্ধ ও জনসমর্থন: কীভাবে সাধারণ মানুষ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাদ্য ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করে গেরিলা যুদ্ধকে সফল করেছিল।

নারীর ভূমিকা: নারী সমাজের ত্যাগ, সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং সেবা-শুশ্রূষার মাধ্যমে গণযুদ্ধে তাদের অবদান।

বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা: জনমত সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় এবং সাহস যোগানোর জন্য সাংস্কৃতিক আন্দোলন।

ফলাফল – গণযুদ্ধের বিজয় ও বাঙালি জাতির মুক্তি

  • গণযুদ্ধই যে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার একমাত্র মূল চাবিকাঠি ছিল, তার চূড়ান্ত বিশ্লেষণ।

  • বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কিভাবে এক মহাসাগর রক্তদান নিশ্চিত করে।

  • স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও গণযুদ্ধের তাৎপর্য ও এর শিক্ষা।

উপসংহার

উপসংহারে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধুমাত্র একটি সামরিক বিজয় ছিল না, এটি ছিল গণমানুষের অভূতপূর্ব জাগরণ ও ত্যাগের ফসল। ১৮৫৭, তিতুমীর বা সূর্যসেনের আন্দোলনের বিপরীতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রমাণ করে যে, যখন একটি জাতি তাদের আকাঙ্ক্ষা, রক্ত এবং সাহস দিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামকে একটি গণযুদ্ধে রূপ দেয়, তখন কোনো পরাশক্তিই সেই জাতির বিজয়কে রুখতে পারে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বেই বাংলার মানুষ 'এক সাগর রক্ত' দিতে প্রস্তুত হয়েছিল, এবং সেই ত্যাগের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছিল আমাদের মহান স্বাধীনতা।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Jan 4, 2026

/

Post by

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালটি নিয়ে দুটি বিপরীতমুখী বয়ান পাওয়া যায়। একদল একে দেখেন ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচারের’ কাল হিসেবে, আর অন্যদল একে দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে রাষ্ট্র গড়ার মহাবীরত্বগাথা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা এই সময়কালকে কেবল ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচার’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসবিদরা দেখেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি জাতিকে টেনে তোলার প্রাণপণ লড়াই।

Jan 2, 2026

/

Post by

শ্রাবণের সেই কালরাত ও স্তব্ধ বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। বাংলার আকাশে সেদিন সূর্য উঠেছিল এক বিভীষিকাময় বার্তা নিয়ে। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটি, যা ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু, তা তখন নিথর, নিস্তব্ধ এবং রক্তে রঞ্জিত। জাতির গাদ্দার বিশ্বাসঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সপরিবারে তাঁকে হত্যার মাধ্যমে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা হয়। কিন্তু রাজনীতির এই মহানায়কের পার্থিব শরীরের শেষ গন্তব্য কোথায় হবে? ঘাতকরা চেয়েছিল তাঁকে লোকচক্ষুর অন্তরালে কোথাও ফেলে দিতে, কিন্তু বিধাতার লিখন ছিল তাঁর জন্মভূমি সবুজ ঘাসে ঘেরা নিভৃত পল্লী টুঙ্গীপাড়ায়।

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.