শেখ মুজিব কি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব চেয়েছিলেন নাকি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন?
একটি গুরুত্বপূর্ণ (যদিও বিতর্কিত) দলিল হলো পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের জবানবন্দি। হামুদুর রহমান কমিশনের সামনে দেওয়া এই জবানবন্দিতে ইয়াহিয়া খান তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা এবং নিজের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর একটি আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। শেখ মুজিব কি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব চেয়েছিলেন নাকি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন?

TruthBangla

Dec 4, 2025
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মার্চ মাস ছিল এক অগ্নিগর্ভ সময়। একদিকে সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বাধিকারের আকাঙ্ক্ষা, আর অন্যদিকে পাকিস্তানি শাসকচক্রের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। সেই টালমাটাল দিনগুলোতে পর্দার আড়ালে কী ঘটেছিল, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ (যদিও বিতর্কিত) দলিল হলো পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের জবানবন্দি। হামুদুর রহমান কমিশনের সামনে দেওয়া এই জবানবন্দিতে ইয়াহিয়া খান তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা এবং নিজের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর একটি আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক ব্যাখ্যা প্রদান করেন। শেখ মুজিব কি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব চেয়েছিলেন নাকি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন?
আজকের এই বিস্তারিত নিবন্ধে আমরা ইয়াহিয়া খানের সেই জবানবন্দির আলোকে ১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলো বিশ্লেষণ করব এবং জানার চেষ্টা করব কেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোর যাবতীয় প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করে একটি স্বাধীন মানচিত্রের লক্ষ্যেই অবিচল ছিলেন।
হামুদুর রহমান কমিশন ও ইয়াহিয়ার জবানবন্দি
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রটি এক চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। পরাজয়ের গ্লানি ও কারণ অনুসন্ধানে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার প্রধান বিচারপতি হামুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের সামনেই জেনারেল ইয়াহিয়া খান তাঁর জবানবন্দি দেন। এই জবানবন্দিতে ইয়াহিয়া নিজেকে একজন "অসহায় কমান্ডার" হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন, যিনি পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন। অন্যদিকে, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে চিত্রিত করেছেন একজন "অনমনীয় রাষ্ট্রদ্রোহী" হিসেবে, যিনি শুরু থেকেই পাকিস্তান ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ইতিহাসের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইয়াহিয়ার এই বয়ান ছিল মূলত নিজের ব্যর্থতা ঢাকার এক চতুর প্রচেষ্টা।
প্রলোভন বনাম নীতি - বঙ্গবন্ধুর আপসহীন অবস্থান
ইয়াহিয়ার জবানবন্দির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল যে, তিনি শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের অখণ্ডতা বজায় রাখার বিনিময়ে অনেক বড় বড় পদের প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। ইয়াহিয়ার ভাষ্যমতে, তিনি মুজিবকে কেবল পূর্ব পাকিস্তানের নেতা হিসেবে নয়, বরং সমগ্র পাকিস্তানের "প্রধানমন্ত্রী" হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।
ইয়াহিয়া দাবি করেন, তিনি চেয়েছিলেন মুজিব যেন বিচ্ছিন্নতার চিন্তা বাদ দিয়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ভীতি কাটিয়ে মূলধারার রাজনীতিতে অংশ নেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। বঙ্গবন্ধু জানতেন যে, পাকিস্তানের সামরিক জান্তা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী কখনোই প্রকৃত ক্ষমতা বাঙালির হাতে ছেড়ে দেবে না। ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদের মোহ তাঁকে জনগণের দেওয়া ‘ছয় দফা’র ম্যান্ডেট থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের (DCMLA) প্রস্তাব
জবানবন্দিতে ইয়াহিয়া আরও উল্লেখ করেন যে, মুজিবকে আশ্বস্ত করার জন্য তিনি তাঁকে ‘ডেপুটি চিফ মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’ বা উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইয়াহিয়ার মতে, এটি ছিল ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি বড় সুযোগ। কিন্তু বঙ্গবন্ধু এই প্রস্তাবকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কারণ, তিনি বুঝেছিলেন এটি ছিল তাঁর জনপ্রিয়তা নষ্ট করার এবং তাঁকে সামরিক শাসনের অংশীদার বানিয়ে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানোর একটি সূক্ষ্ম ফাঁদ।
উত্তাল ফেব্রুয়ারি ও অধিবেশন স্থগিতের নেপথ্য নায়ক
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বসার কথা ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং সামরিক জান্তা এতে বাধা সৃষ্টি করে।
ভুট্টোর হুমকি: ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ তারিখে জুলফিকার আলী ভুট্টো ঘোষণা করেন যে, তাঁর দল পিপিপি (PPP) ৩ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবে না। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানের কোনো সদস্য যদি ঢাকা যায়, তবে তাদের লাঞ্ছিত করা হবে।
ইয়াহিয়ার সিদ্ধান্ত: ভুট্টোর এই হুমকির পর ১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য অধিবেশন স্থগিত করেন। এই ঘোষণাটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের পিঠে ছুরিকাঘাতের মতো। মুহূর্তের মধ্যে ঢাকা তথা সারা বাংলা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
ভুট্টোর প্রতিক্রিয়া: ২ ও ৩ মার্চ করাচিতে ভুট্টোর সাথে ইয়াহিয়ার বৈঠক হয়। অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্তে ভুট্টো এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে তিনি ইয়াহিয়াকে বলেছিলেন, "জেনারেল, আপনি পাকিস্তানকে বাঁচালেন।" অথচ সেই সিদ্ধান্তই ছিল পাকিস্তান ভাঙার কফিনে শেষ পেরেক।
ঢাকার রাজপথে বিদ্রোহ - পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণ হারানো
মার্চের মাঝামাঝি সময়ে (১৪ বা ১৫ মার্চ) যখন ইয়াহিয়া খান ঢাকা পৌঁছান, তখন পরিস্থিতি তাঁর কল্পনার বাইরে ছিল। ইয়াহিয়া তাঁর জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন যে, ঢাকা তখন কার্যত পাকিস্তান সরকারের হাতের বাইরে চলে গেছে। প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি ভবন, এমনকি সাধারণ মানুষের বাড়িতেও ওড়ছিল কালো পতাকা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা।
ইয়াহিয়া ঢাকা এসে দেখেন, প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে সচিবালয়ের পিয়ন পর্যন্ত সবাই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ‘অসহযোগ আন্দোলনে’ অংশ নিচ্ছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কেবল সেনানিবাসের ভেতরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এই চিত্রটি ইয়াহিয়াকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, আলোচনার মাধ্যমে এই গণজোয়ার থামানো প্রায় অসম্ভব।
মুজিব-ইয়াহিয়া চূড়ান্ত বৈঠক
১৪ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে ইয়াহিয়া ও মুজিবের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হয়। ইয়াহিয়ার জবানবন্দিতে এই বৈঠকগুলোর বিবরণ ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। তিনি দাবি করেন, এই বৈঠকগুলোতে শেখ মুজিব তাঁর শর্তগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে তুলে ধরেন, যা মেনে নেওয়া ইয়াহিয়ার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
পৃথক অধিবেশনের দাবি
মুজিব দাবি করেছিলেন যে, জাতীয় পরিষদের দুটি আলাদা অধিবেশন হতে হবে। একটি হবে পূর্ব পাকিস্তানের সদস্যদের নিয়ে এবং অন্যটি হবে পশ্চিম পাকিস্তানের সদস্যদের নিয়ে। ইয়াহিয়ার দৃষ্টিতে এটি ছিল কার্যত দেশভাগের প্রস্তাব বা কনফেডারেশনের সূচনা। কিন্তু বাঙালির কাছে এটি ছিল স্বায়ত্তশাসনের শেষ সুযোগ।
কনফেডারেশন প্রস্তাব
আলোচনার এক পর্যায়ে মুজিব প্রস্তাব দেন যে, পাকিস্তান একটি ফেডারেশনের পরিবর্তে ‘কনফেডারেশন’ হতে পারে। অর্থাৎ, দুটি অংশ স্বতন্ত্র থাকবে কিন্তু কিছু বিষয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক থাকবে। ইয়াহিয়ার মতে, এটি ছিল অখণ্ড পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকা। মুজিব স্পষ্ট ভাষায় ইয়াহিয়াকে বলেছিলেন, "বাঙালিরা আগের মতো পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে পারবে না।"
সেনাবাহিনী বিলুপ্তির হুমকি
জবানবন্দিতে ইয়াহিয়া একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, মুজিব তাঁকে বলেছিলেন যে অখণ্ড পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলেও তাঁর প্রথম কাজ হবে প্রতিরক্ষা বাজেট কমানো এবং ক্রমান্বয়ে সেনাবাহিনীকে বিলুপ্ত করা। ইয়াহিয়ার মতে, এটি ছিল পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অস্তিত্বের প্রতি সরাসরি হুমকি। প্রকৃতপক্ষে, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সামরিক শাসনের হাত থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করে একটি গণতান্ত্রিক বেসামরিক কাঠামো গড়ে তুলতে।
কেন শেখ মুজিব পাকিস্তানি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন?
ইয়াহিয়া খানের জবানবন্দিতে শেখ মুজিবকে "রাষ্ট্রদ্রোহী" হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, নিরপেক্ষ বিচারে দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল যৌক্তিক।
অবিশ্বাস ও সন্দেহের বাতাবরণ: ইয়াহিয়ার জবানবন্দিতে বারবার উঠে এসেছে যে বঙ্গবন্ধু সামরিক বাহিনীকে বিশ্বাস করতেন না। বঙ্গবন্ধু জানতেন, সামরিক জান্তা কেবল সময়ক্ষেপণ করছে যাতে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আরও সৈন্য ও রসদ আনা যায়।
নির্বাচনী ম্যান্ডেট: বঙ্গবন্ধু ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ছয় দফার ভিত্তিতে ভোট পেয়েছিলেন। এই ম্যান্ডেট থেকে সরে আসা মানে ছিল জনগণের সাথে প্রতারণা করা।
দলের অভ্যন্তরীণ চাপ: ইয়াহিয়া দাবি করেছেন যে, আওয়ামী লীগের ভেতরে একটি চরমপন্থী দল ছিল যারা বিচ্ছেদ চাচ্ছিল। তবে সত্য এটাই যে, ৭ মার্চের ভাষণের পর বাংলার প্রতিটি মানুষ স্বাধীনতার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল।
২৫শে মার্চ - আলোচনার টেবিলে ষড়যন্ত্রের শেষ দৃশ্য
ইয়াহিয়া খান তাঁর জবানবন্দিতে দাবি করেছেন যে, তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাজনৈতিক সমাধান চেয়েছিলেন। কিন্তু ২৫শে মার্চ রাতে তিনি যখন গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন, তখন তিনি সেনাবাহিনীকে "ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের" মাধ্যমে বিদ্রোহ দমনের নির্দেশ দিয়ে যান।
ইয়াহিয়ার এই "ন্যূনতম শক্তি" ছিল ইতিহাসে অন্যতম নিকৃষ্টতম গণহত্যা ‘অপারেশন সার্চলাইট’। তাঁর জবানবন্দিতে তিনি নির্লজ্জভাবে দাবি করেছেন যে, তিনি মুজিবের কোনো শারীরিক ক্ষতি না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই রাতেই হাজার হাজার নিরপরাধ বাঙালিকে হত্যা করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানে।
বিশ্লেষণের দর্পণে ইয়াহিয়ার জবানবন্দি
ইয়াহিয়া খানের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি ছিল পরাজয়ের পর নিজের পিঠ বাঁচানোর একটি দলিল। তিনি দায় চাপাতে চেয়েছেন শেখ মুজিবের ওপর এবং জুলফিকার আলী ভুট্টোর ষড়যন্ত্রের ওপর। অথচ তিনি নিজেই ছিলেন এই পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রক।
অসহায়ত্বের অভিনয়: ইয়াহিয়া নিজেকে অসহায় দেখিয়েছেন, কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে ২৫শে মার্চের গণহত্যার নীল নকশা তাঁর নেতৃত্বেই তৈরি হয়েছিল।
মুজিবের দূরদর্শিতা: ইয়াহিয়ার দেওয়া তথাকথিত প্রলোভনগুলো যে আসলে ফাঁদ ছিল, তা বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন বলেই তিনি প্রধানমন্ত্রীত্বের চেয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দেওয়াকে শ্রেয় মনে করেছিলেন।
ঐতিহাসিক অনিবার্যতা: ইয়াহিয়া দাবি করেছেন যে মুজিব "মুখ ফসকে" স্বাধীনতার কথা বলে ফেলেছিলেন। আসলে সেটি মুখ ফসকে বলা ছিল না, সেটি ছিল সাত কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ।
একটি জাতিরাষ্ট্রের অভ্যুদয়
জেনারেল ইয়াহিয়া খানের হামুদুর রহমান কমিশনের জবানবন্দি পড়লে বোঝা যায়, একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলোতে পাকিস্তানি শাসকচক্র কতটা বিভ্রান্ত এবং ভীত ছিল। তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতার অংশীদার করার টোপ দিলেও তাঁর দেশপ্রেমের গভীরতা পরিমাপ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধু জানতেন, অখণ্ড পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া মানে হলো সামরিকতন্ত্রের দাসত্ব করা। তাই তিনি ক্ষমতার মোহ ত্যাগ করে বেছে নিয়েছিলেন কণ্টকাকীর্ণ স্বাধীনতার পথ। ইয়াহিয়ার জবানবন্দি মূলত বঙ্গবন্ধুর অটল হিমাদ্রি সদৃশ ব্যক্তিত্বেরই স্বীকৃতি দেয়, যেখানে তিনি একজন পরাজিত শাসকের চোখেও হয়ে উঠেছিলেন এক দুর্ভেদ্য দেয়াল।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ইয়াহিয়ার সেই "অসহায়ত্ব" পূর্ণতা পায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এবং বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল হিসেবে উদিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।














