>

>

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের মধ্যে কি শেখ মুজিব তাঁর পুত্রদের বিয়ে দিয়েছিলেন?

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের মধ্যে কি শেখ মুজিব তাঁর পুত্রদের বিয়ে দিয়েছিলেন?

সামাজিক মাধ্যমে একটি বহুল প্রচলিত মিথ্যা দাবি হলো - সমগ্র বাংলাদেশ যখন খাদ্যের অভাবে জর্জরিত, তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই পুত্র শেখ কামাল ও শেখ জামাল-এর বিয়েতে বিপুল জাঁকজমক করা হয়েছিল। এই দাবিটি ঐতিহাসিক তথ্য ও সময়কালের নিরিখে কতটা সত্য? নাকি এটি স্রেফ একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ও মিথ্যাচার।

TruthBangla

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও মর্মান্তিক অধ্যায়গুলোর একটি হলো ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ। এই মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সময় তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে আজও বিতর্ক চলে। এই মানবিক দুর্যোগের স্মৃতি ব্যবহার করে মাঝে মাঝেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক গুজব ছড়ানো হয়। সামাজিক মাধ্যমে একটি বহুল প্রচলিত মিথ্যা দাবি হলো - সমগ্র বাংলাদেশ যখন খাদ্যের অভাবে জর্জরিত, তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই পুত্র শেখ কামাল ও শেখ জামাল-এর বিয়েতে বিপুল জাঁকজমক করা হয়েছিল। এই দাবিটি ঐতিহাসিক তথ্য ও সময়কালের নিরিখে কতটা সত্য? নাকি এটি স্রেফ একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ও মিথ্যাচার, যা ইতিহাসের সংবেদনশীল মুহূর্তকে ব্যবহার করে ছড়ানো হয়েছে? এই প্রবন্ধে আমরা প্রামাণ্য তথ্য, একাডেমিক গবেষণা এবং ঐতিহাসিক সময়কাল বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই বিতর্কটির নিষ্পত্তি করব।

ইতিহাসের সংবেদনশীল ব্যবহার ও গুজব

ইতিহাসের কিছু স্পর্শকাতর মুহূর্ত থাকে, যা রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির জন্য বারবার বিকৃত করা হয়। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ তেমনি একটি ঘটনা। দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের জীবনযাত্রার তুলনা করে গুজব ছড়ানো হয়, যার লক্ষ্য থাকে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করা।

গুজবের দাবি: প্রধান দাবি হলো, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের চরম সময়ে শেখ কামাল ও শেখ জামালের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে বিপুল জাঁকজমক ছিল।

প্রকৃত তথ্য: প্রকৃত তথ্য হলো - দুর্ভিক্ষের সময়কাল এবং বিয়ের অনুষ্ঠানের সময়কালের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান ছিল। এই প্রবন্ধ সেই ব্যবধান এবং প্রামাণিক দলিলগুলো উপস্থাপন করবে।

শেখ কামাল ও শেখ জামালের বিয়ের আনুষ্ঠানিক তারিখ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিন পুত্র ছিলেন: শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল।

নাম

জন্ম সাল

১৯৭৪ সালে বয়স

বিয়ের উপযুক্ততা

শেখ কামাল

১৯৪৯

২৫ বছর

উপযুক্ত

শেখ জামাল

১৯৫৪

২০ বছর

উপযুক্ত

শেখ রাসেল

১৯৬৪

১০ বছর

অনুপযুক্ত

শেখ রাসেল (বয়স ১০) তখন বিয়ের জন্য অনুপযুক্ত হওয়ায়, গুজবটি নিশ্চিতভাবেই শেখ কামাল এবং শেখ জামালকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। তাই, অনুসন্ধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয় তাঁদের বিয়ের সঠিক তারিখ ও দুর্ভিক্ষের সময়কালের মধ্যেকার সম্পর্ক।

মুজিব পুত্রদের বিয়ের সঠিক তারিখ

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদ দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘সংস্কৃতিমান শেখ কামাল’ শীর্ষক একটি স্মৃতিচারণায় উল্লেখ করেন, '৭৫-এর ১৪ জুলাই যেদিন গণভবনে শেখ কামাল ও শেখ জামাল দুই ভাইয়ের বিয়ে হয়...'

যদিও তাঁর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী একই দিনে দুই ভাইয়ের বিয়ে হওয়ার কথা বলা হয়েছে, অন্যান্য প্রামাণিক সূত্রে তারিখের সামান্য তারতম্য দেখা যায়, তবে সাল ও মাস নিশ্চিতভাবে ১৯৭৫ সালের জুলাই।

শেখ কামাল: সাংবাদিক জাহিদ রহমানের নিবন্ধসহ একাধিক সূত্রমতে, শেখ কামালের সাথে সুলতানা কামাল (ডাক নাম খুকী) এর বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই তারিখে।

শেখ জামাল: শিক্ষক বাতায়নে প্রকাশিত মোছাঃ লাকী আখতার পারভীন-এর নিবন্ধ এবং অন্যান্য সূত্র থেকে জানা যায়, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামালের জন্য বর-কনের বার্তা ১৪ জুলাই দেওয়া হলেও তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল এর কিছুদিন পর ১৯৭৫ সালের ১৭ জুলাই তারিখে।

অর্থাৎ, তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধুর দুই পুত্রের বিয়ে হয়েছিল ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে, এবং কোনোভাবেই ১৯৭৪ সালে নয়।

ঐতিহাসিক রেকর্ড ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই পুত্র শেখ কামাল এবং শেখ জামাল-এর আনুষ্ঠানিক বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে

শেখ কামালের বিয়ে: তাঁর বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই

শেখ জামালের বিয়ে: তাঁর বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালের ১৭ জুলাই

দুর্ভিক্ষের সময়কাল - প্রামাণিক দলিল কী বলে?

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো, ঐতিহাসিক দলিল ও একাডেমিক গবেষণার ভিত্তিতে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রকৃত সময়কাল নিশ্চিত করা।

বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের অভিমত

সূচনা ও সমাপ্তি: যমুনা টেলিভিশনের একটি নিবন্ধে সাংবাদিক মিশুক নজীব লিখেছেন, ১৯৭৪ সালের মার্চে শুরু হওয়া হাহাকার কেটে যেতে শুরু করে ডিসেম্বর নাগাদ।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য: বাংলাপিডিয়ায় প্রকাশিত ‘দুর্ভিক্ষ’ নামক নিবন্ধে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই দুর্ভিক্ষ ১৯৭৪ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। এই সময়কালেই অনাহারে মানুষের মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে আসতে থাকে এবং পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।

অমর্ত্য সেন ও রেহমান সোবহান: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষ' (Poverty and Famines)-এ বাংলাদেশের এই দুর্ভিক্ষের কারণ ও সময়কাল নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। তাঁর বিশ্লেষণ এবং অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান-এর লেখা 'খাদ্য ও দুর্ভিক্ষের রাজনীতি' শীর্ষক দীর্ঘ প্রবন্ধ থেকেও এই সময়কালটিই জানা যায়।

বিভিন্ন সূত্রমতে, ১৯৭৪ সালের মর্মান্তিক দুর্ভিক্ষটি মূলত মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছিল, যখন দেশে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য সহায়তা পেতে বিলম্ব ঘটে।

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংবাদপত্রের সাক্ষ্য

তৎকালীন সংবাদপত্রের সংকলন এই সময়কালকে আরও জোরালো সমর্থন দেয়:

নিউ ইয়র্ক টাইমস: ১৩ই নভেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে প্রকাশিত ‘Bangladesh Fears Thousands May Be Dead as Famine Spreads’ শীর্ষক নিবন্ধে বলা হয়েছিল, শীতকালীন শস্য (সম্ভবত আমন ধান) উৎপাদন শুরু হয়েছে, এবং সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা কাটিয়ে ওটা সম্ভব হয়েছে। এর অর্থ হলো, নভেম্বরের দিকে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছিল।

দুর্ভিক্ষের সমাপ্তি: আহমেদ মুনির উদ্দিন সম্পাদিত ‘বাংলাদেশ : বাহাত্তর থেকে পচাত্তর’ বইয়ের সংকলন অনুযায়ী, সর্বশেষ ১৯৭৫ সালের ২২শে জানুয়ারি তারিখে দুর্ভিক্ষের কারণে মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। এর পরে দুর্ভিক্ষ সম্পর্কিত আর কোনো খবর নেই।

এই তথ্যগুলো দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করে যে, ১৯৭৫ সালের জানুয়ারির পর থেকে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল।

দুর্ভিক্ষের সমাপ্তি

দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে আমন ধান কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার পর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের দিকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়া শুরু করেছিল। খাদ্যশস্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং সরকারি তৎপরতায় খাদ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীলতার দিকে এগোয়।

১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকে বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় দুর্ভিক্ষের চরম মানবিক বিপর্যয়ের কোনো খবর বা ধারাবাহিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এর মানে হলো - ১৯৭৫ সালের শুরুতে বাংলাদেশ দুর্ভিক্ষের ভয়াল গ্রাস থেকে বেরিয়ে এসেছিল।

সময়কালের ব্যবধান

যদি দুর্ভিক্ষের চরম সময়কে জুলাই থেকে অক্টোবর ১৯৭৪ ধরা হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে শেখ কামাল ও শেখ জামালের বিয়ে তার অন্তত ৮ থেকে ১০ মাস পরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

১৯৭৫ সালের পরিস্থিতি: ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে যখন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়, তখন দেশে খাদ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল এবং সংবাদমাধ্যমে দুর্ভিক্ষের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। বাংলাদেশ তখন অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা আনার প্রক্রিয়ায় ছিল।

গুজবের উৎস ও উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যাচার

যে কোনো রাজনৈতিক সংকট বা দুর্যোগের সময়, জনমনে অসন্তোষ কাজে লাগানোর জন্য এই ধরনের গুজব ছড়ানো হয়। 'দুর্ভিক্ষের সময় বিলাসিতা' - এই দাবিটি একটি শক্তিশালী আবেগিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে মূলত ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ নামক ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির সঙ্গে ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসের বিয়ের অনুষ্ঠানকে জুড়ে দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট:

নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা: বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে নৈতিক অসন্তোষ তৈরি করা।

ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি: সঠিক সময়কালকে ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গিয়ে ঐতিহাসিক তথ্য বিকৃত করা।

গুজব সৃষ্টিকারীরা প্রায়শই সঠিক সাল বা তারিখ উল্লেখ না করে শুধুমাত্র 'দুর্ভিক্ষের মধ্যে' এই অস্পষ্ট বাক্যটি ব্যবহার করে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, যাদের কাছে সঠিক তারিখ জানার সুযোগ কম, তারা সহজেই বিভ্রান্ত হয়।

জাঁকজমক নাকি সরলতা?

বিয়ের তারিখ নিয়ে গুজব খণ্ডনের পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো - বিয়ের অনুষ্ঠানটি কি সত্যিই 'বিপুল জাঁকজমকপূর্ণ' ছিল?

বঙ্গবন্ধু পরিবার ছিল সদ্য স্বাধীন একটি দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরিবার। তাঁদের পুত্রদের বিয়েতে কিছুটা আনুষ্ঠানিকতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু 'বিপুল জাঁকজমক' ছিল কিনা তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

১৯৭৫ সালের ১৪ এবং ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত এই বিয়েগুলো সামরিক অভ্যুত্থানের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও অনুষ্ঠানটি ছিল, কিন্তু এটি সেই সময়ের অন্যান্য ধনী বা প্রভাবশালী পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠানের তুলনায় বেশ সংযত ছিল বলেই জানা যায়। এর পেছনে পরিবারের নিজস্ব মূল্যবোধ এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও একটি কারণ ছিল।

তৎকালীন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনগুলোতে এই বিয়েকে 'বিপুল জাঁকজমক' হিসেবে চিত্রিত করার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না, যা মূলত অপপ্রচারকারীদের দাবির বিপরীত।

জাঁকজমক বনাম গুজব

সাধারণত, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সর্বোচ্চ নেতার ব্যক্তিগত জীবনের সামান্য আনুষ্ঠানিকতাকেও অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করে জনমনে বৈষম্যের অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে চায়। শেখ কামাল ও শেখ জামালের বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়েও তাই একই কাজ করা হয়েছে। এটি ছিল না জাঁকজমক, বরং ছিল এক সাধারণ রাষ্ট্রনেতার পরিবারের বিবাহ অনুষ্ঠান।

ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের মধ্যে মুজিবপুত্রের বিয়ে হয়েছিল এমন দাবিটি সুস্পষ্টভাবেই গুজব ও মিথ্যাচার

প্রামাণ্য ইতিহাস ও একাডেমিক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ শেষ হয়েছিল বা স্থিতিশীলতা লাভ করেছিল ১৯৭৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে। শেখ কামাল ও শেখ জামালের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে, যখন দেশে দুর্ভিক্ষের চরম পরিস্থিতি ছিল না।

ইতিহাসের সংবেদনশীল অংশগুলোকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার ছড়ানোর প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমাদের সকলের উচিত যেকোনো তথ্য যাচাই করে নেওয়া এবং ইতিহাসের সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। এই ঐতিহাসিক তথ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় - গুজবের প্রচার নয়, বরং প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতেই ইতিহাসকে জানতে ও বুঝতে হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, বিবিসি বাংলা, ফ্যাক্টওয়াচ

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 24, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালটি ছিল পুনর্গঠনের পাশাপাশি চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার। এই অস্থিরতার কেন্দ্রে ছিল নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাসদ' এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন বিতর্ক উসকে দেয় বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন? কেন জাসদ সেই সময় এত সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল? আর ১৫ আগস্টের পর হঠাৎ কেন তারা স্তিমিত হয়ে গেল?

Jan 22, 2026

/

Post by

সবার চোখেমুখে এক অদ্ভুত আবেগ। কারণ, আজ ঘরে ফিরছেন সেই মানুষটি, যিনি দশকের পর দশক ধরে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক আর মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পূর্ণতা পাওয়ার পথে মওলানা ভাসানীর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল এক বিশাল মাইলফলক।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.