>

>

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শেখ মুজিব কি পাকিস্তান সরকার থেকে বেতন-ভাতা পেতেন?

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শেখ মুজিব কি পাকিস্তান সরকার থেকে বেতন-ভাতা পেতেন?

একটি বহুল প্রচলিত অপপ্রচার হলো - ১৯৭১ সালের নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সরকার থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করতেন। ঐতিহাসিক সত্য হলো, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর থেকে তিনি ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। কীভাবে একজন বন্দি ব্যক্তি শত্রুপক্ষের সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে পারেন?

TruthBangla

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিতর্কিত করার জন্য স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তিগুলো দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন ধরনের গুজব ও মিথ্যাচার ছড়িয়ে আসছে। এর মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত অপপ্রচার হলো - ১৯৭১ সালের নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সরকার থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করতেন। ঐতিহাসিক সত্য হলো, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর থেকে তিনি ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। কীভাবে একজন বন্দি ব্যক্তি শত্রুপক্ষের সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করতে পারেন?

না, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সরকার থেকে কোনো বেতন-ভাতা পাননি। তবে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আমলে বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক পদে তথা মন্ত্রী বা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) থাকার কারণে পাকিস্তান সরকার থেকে বেতন-ভাতা পেতেন। এই প্রবন্ধে আমরা এই গুজবটির উৎস, এর নেপথ্যের উদ্দেশ্য এবং প্রামাণ্য ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে এর অসারতা প্রমাণ করব।

গুজব তৈরির কৌশল ও ঐতিহাসিক সত্যের বিকৃতি

একটি দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা একটি পুরনো রাজনৈতিক কৌশল। এর উদ্দেশ্য হলো - নেতৃত্বের সততা নিয়ে জনগণের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।

গুজবের দাবি: প্রধান দাবি হলো, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা পেতেন।

সত্যের ভিত্তি: ঐতিহাসিক তথ্য, কারাবাসের নথি এবং সময়ের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। না, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সরকার থেকে কোনো বেতন-ভাতা পাননি, বরং তিনি তখন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর কারাবাস ও বেতনের প্রশ্ন (১৯৭১)

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নয় মাস (২৫ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২) শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সরকারের অধীনে একজন রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে ছিলেন। তিনি কোন বেতনভোগী কর্মচারী হিসেবে ছিলেন না, তাই বেতন ভাতা পাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

গ্রেফতার ও কারাবাস

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী তাঁকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ঢাকা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মিয়ানওয়ালি কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে ফয়সালাবাদ এবং কোট লাখপত কারাগারেও রাখা হয়।

রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে বিচার: কারাবাসে তাঁকে কেবল বন্দি হিসেবে রাখা হয়নি, বরং সামরিক ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে সামরিক বিচার শুরু করা হয়েছিল।

বেতন-ভাতার প্রশ্নই আসে না

যেহেতু তিনি পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী হিসেবে অভিযুক্ত এবং সামরিক আদালতের বিচারের সম্মুখীন ছিলেন, সেহেতু তাঁকে সরকারি কর্মকর্তা বা সাংসদ হিসেবে বেতন-ভাতা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

একজন বন্দিকে শত্রুপক্ষের সরকার সাধারণত বেতন-ভাতা দেয় না, বরং তাঁকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও বন্দিদশায় রাখা হয়। যদি তিনি বেতন পেতেন, তবে তাঁর বিচার করার কোনো যৌক্তিকতা থাকত না।

দীর্ঘ নয় মাস কারাবাসের পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তিনি ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি মুক্তি পান এবং ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

পরিবারের বন্দিদশা ও গুজবের উৎস

শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার তথা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শেখ হাসিনা, শেখ জামাল, শেখ রেহানা, শেখ রাসেল প্রমুখ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঢাকায় বন্দি ছিলেন। বেতন-ভাতার গুজবটির মূল উৎস এই পরিবারের বন্দিদশা নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচার।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর শেখ মুজিবের পরিবারকে ধানমন্ডির ১৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল।

যদিও তাঁরা কারাগারে ছিলেন না, কিন্তু তাঁদের গতিবিধি ছিল সীমিত এবং তাঁরা কার্যত গৃহবন্দি জীবনযাপন করছিলেন।

স্বাধীনতা-বিরোধীরা অভিযোগ করে যে, পাকিস্তান সরকার পরিবারকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিল, যার মধ্যে মাসিক ভাতা পাওয়ার বিষয়টিও ছিল। এই অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচার।

গুজবের নেপথ্য উদ্দেশ্য

এই ধরনের গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল মূলত: গৃহবন্দি থাকা একটি পরিবারের বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রয়োজনকে 'সুবিধা' হিসেবে আখ্যায়িত করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল প্রতীক শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারকে নিয়ে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করে নৈতিক সমর্থন দুর্বল করা। প্রকৃত সত্য হলো শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারকে কোনো মাসিক ভাতা দেওয়া হয়েছিল বা তাঁরা কোনো সুবিধা ভোগ করেছিলেন - এর কোনো প্রামাণ্য দলিল বা নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্র নেই। এই দাবিটি অপপ্রচারের অংশ হিসেবেই প্রচারিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে বঙ্গবন্ধুর আয়ের উৎস ও বেতন-ভাতার প্রেক্ষাপট

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের বিতর্কের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে শেখ মুজিবুর রহমান কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং তাঁর আয়ের উৎস কী ছিল।

রাজনৈতিক ও সরকারি পদাধিকারী

পাকিস্তান আমলে শেখ মুজিবুর রহমান একজন সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, যে কারণে তিনি বেতন-ভাতা পেতেন।

তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মন্ত্রী এবং প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন। তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমপিএ) এবং জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই এসব পদে থাকার কারণে তিনি সরকারের কোষাগার থেকে সরকারি বেতন-ভাতা পেতেন।

বেতন-ভাতা ছিল আয়ের একটি অংশ মাত্র

সরকারি বেতন-ভাতা শেখ মুজিবুর রহমানের আয়ের একমাত্র বা প্রধান উৎস ছিল না। তিনি ছিলেন একজন রাজনৈতিক কর্মী ও নেতা, যাঁর জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে অন্যান্য উৎস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।

তাঁর মূল আয় আসত তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রম, দলের অনুদান এবং জনগণের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তা থেকে।

তাছাড়া তিনি ব্যবসা (যেমন: ইনস্যুরেন্স কোম্পানি) এবং কৃষিখাত থেকেও আয় করতেন। তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমানের পৈতৃক সম্পত্তি থেকেও তাঁর আয় ছিল।

কারাবাসে থাকা অবস্থায় আয় বন্ধ

শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে দীর্ঘকাল কারাবাস করেছেন। যেমন- 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' (১৯৬৮) সহ বিভিন্ন সময়ে তাঁকে দীর্ঘ কারাবাস করতে হয়েছে।

যখনই তিনি কারারুদ্ধ থাকতেন, স্বাভাবিকভাবেই সরকারি বেতন-ভাতা বন্ধ থাকত। এতে প্রমাণিত হয় যে, তিনি বেতনভোগী কর্মকর্তা হিসেবে জীবন যাপন করতেন না, বরং একজন জননেতা হিসেবে তাঁর মূল পরিচিতি ছিল।

ইতিহাসকে তার স্বস্থানে রাখা

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান সরকার থেকে বেতন-ভাতা পাওয়ার গুজবটি ইতিহাসের সত্যকে বিকৃত করার এক দুর্বল প্রচেষ্টা।

১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে অভিযুক্ত। বেতন-ভাতা পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তাঁর পরিবার গৃহবন্দি ছিল, কিন্তু তাদের ভাতা পাওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ গুজব।

মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে তিনি সরকারি পদে থাকায় বেতন পেতেন, কিন্তু তা তাঁর আয়ের একমাত্র উৎস ছিল না, বরং রাজনৈতিক কারণে তাঁর সেই আয় প্রায়শই ব্যাহত হতো।

জাতির জনকের জীবনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এই ধরনের অপপ্রচারকে ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে খণ্ডন করা অত্যাবশ্যক। ইতিহাসকে অবশ্যই তার স্বস্থানে রাখতে হবে, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন বেতনভোগী কর্মকর্তা হিসেবে নন, বরং একজন নির্ভীক জননেতা এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে চিরভাস্বর।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 24, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালটি ছিল পুনর্গঠনের পাশাপাশি চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার। এই অস্থিরতার কেন্দ্রে ছিল নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাসদ' এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন বিতর্ক উসকে দেয় বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন? কেন জাসদ সেই সময় এত সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল? আর ১৫ আগস্টের পর হঠাৎ কেন তারা স্তিমিত হয়ে গেল?

Jan 22, 2026

/

Post by

সবার চোখেমুখে এক অদ্ভুত আবেগ। কারণ, আজ ঘরে ফিরছেন সেই মানুষটি, যিনি দশকের পর দশক ধরে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক আর মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পূর্ণতা পাওয়ার পথে মওলানা ভাসানীর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল এক বিশাল মাইলফলক।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.