পদ্মা সেতু মেট্রোরেল শেখ হাসিনা কি তার বাপের টাকায় করেছে?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ চর্চিত হচ্ছে "পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেল কি শেখ হাসিনা নিজের পকেটের টাকায় করেছেন?" এই প্রশ্নটির মাঝেই লুকিয়ে আছে এক গভীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিভ্রম। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানই তার ব্যক্তিগত অর্থে উন্নয়ন করেন না; উন্নয়ন হয় জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই টাকা সঠিক পথে খরচ করার 'সাহস', 'ভিশন' এবং 'আন্তর্জাতিক চাপ' উপেক্ষা করার সক্ষমতা সবার থাকে কি না।

TruthBangla
Dec 27, 2025
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ চর্চিত হচ্ছে "পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেল কি শেখ হাসিনা নিজের পকেটের টাকায় করেছেন?" এই প্রশ্নটির মাঝেই লুকিয়ে আছে এক গভীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিভ্রম। আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানই তার ব্যক্তিগত অর্থে উন্নয়ন করেন না; উন্নয়ন হয় জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেই টাকা সঠিক পথে খরচ করার 'সাহস', 'ভিশন' এবং 'আন্তর্জাতিক চাপ' উপেক্ষা করার সক্ষমতা সবার থাকে কি না। আজ যারা এই প্রশ্নগুলো তুলছেন, বিশেষ করে 'জেন-জি' বা নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ, তাদের ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখা প্রয়োজন যে একটি দেশের অবকাঠামোগত ভিত্তি কোনো জাদুমন্ত্রে তৈরি হয় না। এটি গড়ে ওঠে বছরের পর বছর নেওয়া কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব বাংলাদেশের ডিজিটাল বিপ্লব, পদ্মা সেতুর নেপথ্য লড়াই এবং গত কয়েক দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসের কিছু অমীমাংসিত সত্য নিয়ে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ - বিলাসিতা থেকে মৌলিক অধিকার
আজকের তরুণ প্রজন্ম যারা স্মার্টফোনে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে রাজনীতি বা অর্থনীতি নিয়ে ট্রল করছে, তাদের কাছে এটি সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ছিল উচ্চবিত্তের একচেটিয়া বিলাসিতা। একটি হ্যান্ডসেট ও সংযোগের দাম ছিল এক লাখ টাকারও বেশি। এর কারণ ছিল তৎকালিন বাজার ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা।
সিটিসেল একচেটিয়া বাজার
বিএনপি নেতা মোর্শেদ খানের মালিকানাধীন 'সিটাসেল' তখন ছিল বাজারের একমাত্র খেলোয়াড়। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল এই প্রযুক্তি। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর টেলিকম খাতের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে দেন। তিনি গ্রামীণফোন, একটেল (বর্তমান রবি) এবং বাংলালিংকের মতো কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স দেন। প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির ফলেই মোবাইল ফোনের দাম ও কলরেট সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে চলে আসে। মজার বিষয় হলো, আজ যারা আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন, তারা হয়তো জানেন না যে একটেলের মালিকানা ছিল বিএনপির সাবেক মন্ত্রীর আর গ্রামীণফোনের পেছনে কার বিশেষ সমর্থন ছিল তা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। শেখ হাসিনা তখন রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দলমতনির্বিশেষে লাইসেন্স উন্মুক্ত করেছিলেন।
তথ্যের ‘পাচার’ আতঙ্ক বনাম গ্লোবাল কানেক্টিভিটি
বাংলাদেশের ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার গল্পটি আরও চমকপ্রদ। ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের কাছে অফার এসেছিল বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগে যুক্ত হওয়ার। কিন্তু তৎকালীন সরকার এই অজুহাতে সেটি প্রত্যাখ্যান করে যে "এতে দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাবে।" এই অদ্ভুত ও পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বমঞ্চ থেকে পিছিয়ে পড়ে কয়েক বছর। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে বাংলাদেশকে গ্লোবাল ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে যুক্ত করেন। আজ জেন-জি যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বসে কথা বলছে, সেই রাস্তাটি তৈরি হয়েছিল ওই সাহসী সিদ্ধান্তের হাত ধরেই।
পদ্মা সেতু - কংক্রিটের কাঠামো এখন জাতীয় আত্মমর্যাদা
পদ্মা সেতু নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা এটি নিয়ে বিতর্ক করা সবচেয়ে সহজ কাজ হতে পারে, কিন্তু এর নেপথ্যের লড়াইটি ছিল একটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পরীক্ষা। বিশ্বব্যাংক যখন দুর্নীতির 'কাল্পনিক' অভিযোগে ঋণ বাতিল করল, তখন সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও তদন্তের ফলাফল
ড. ইউনূসের লবিং এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রচণ্ড চাপের মুখেও শেখ হাসিনা মাথা নত করেননি। কানাডার আদালতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রমাণিত হয়েছে যে, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ মেলেনি। যারা বলেছিলেন "নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু অসম্ভব", তারা আসলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক শক্তিকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। শেখ হাসিনা যখন বললেন "নিজের টাকায় করব", তখন সেটি কেবল ঘোষণা ছিল না, সেটি ছিল বিশ্বব্যাংক ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এক চ্যালেঞ্জ। আজ পদ্মা সেতু দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে। এটি কারো পকেটের টাকা নয়, কিন্তু এটি একজনের 'ইচ্ছাশক্তি'র ফসল।
খাম্বা রাজনীতি বনাম নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ
নতুন প্রজন্ম হয়তো 'খাম্বা' উপাধির ইতিহাস জানে না। ২০০১-০৬ মেয়াদে দেশে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার ছিল প্রবাদতুল্য। তখন গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি (খাম্বা) বসানো হতো, কিন্তু সেই তারে বিদ্যুৎ আসত না। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে খুঁটি বাণিজ্যে মনোযোগ ছিল বেশি। সারের দাবিতে আন্দোলন করায় কৃষকদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৮ জন কৃষক। সেই পাঁচবারের দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশের ইতিহাস কি জেন-জি জানে? ৬৪ জেলায় একসাথে বোমা হামলার ভয়াবহতা কি আজ কল্পনা করা যায়?
তৎকালীন সময়ে হরকাতুল জিহাদ বা জেএমবি’র মতো জঙ্গি সংগঠনের উত্থান এবং তাদের সাথে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোলাকুলির সম্পর্ক রাষ্ট্রকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে টেনে তুলে আনা এবং মেগাপ্রকল্পের মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কোনো সাধারণ নেতৃত্বের কাজ নয়।
ভারত ইস্যু ও প্রোপাগান্ডার রাজনীতি
একটি কমন বয়ান জেন-জি’র কানে দেওয়া হয়েছে যে "শেখ হাসিনা দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন" বা "বাংলাদেশে ২৬ লাখ ভারতীয় চাকরি করে।" বাস্তব পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, এসবের কোনো দালিলিক ভিত্তি নেই।
দেশ বিক্রির চুক্তি ও বাস্তবতা
যদি সত্যিই দেশ বিক্রির চুক্তি হয়ে থাকত, তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর একটি চুক্তিও কি বাতিল হয়েছে? ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি তো এখনো আগের মতোই চলছে। এমনকি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভারতের সাথে করা চুক্তিগুলো এখনো অপরিবর্তিত। আসলে 'দেশ বিক্রি' শব্দটি ছিল একটি আবেগীয় প্রোপাগান্ডা, যা দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে মূল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
জেন-জি’র সচেতনতা কোথায়?
আজ জেন-জি’র একটি অংশ জামায়াত-শিবিরের মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ব্ল্যাকে বিক্রি করা "জান্নাতের টিকেটের" লোভে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে সুর মেলাতে দ্বিধা করে না। তারা এটা বোঝে না যে, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদেরই ভবিষ্যৎ। দক্ষ মাঝি ছাড়া উত্তাল সমুদ্রে যেমন নৌকা বাঁচে না, তেমনি দূরদর্শী নেতৃত্ব ছাড়া উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের তরীও তীরের দেখা পায় না।
জঙ্গিবাদ দমনে শেখ হাসিনার অবদান
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির অগ্রযাত্রায় অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান। ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ সামাজিক কাঠামোর কারণে বিভিন্ন সময়ে এ দেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে গত দেড় দশকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম আলোচিত এবং স্বীকৃত সাফল্য ছিল জঙ্গিবাদকে কঠোর হস্তে দমন করা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বর্তমান সময়ের অস্থির পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সেই সময়কার নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্ব নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে।
শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছিল। এটি কেবল রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না, বরং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশেষ করে পুলিশের ‘কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম’ (CTTC) ইউনিট এবং র্যাবের বিশেষায়িত দলগুলো একের পর এক সফল অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির ফলে অনেক বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
হলি আর্টিজান পরবর্তী নিরাপত্তা মোড়
২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। সেই সংকটের পর সরকার যেভাবে পুরো দেশের নিরাপত্তা কাঠামো ঢেলে সাজিয়েছিল, তা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছিল। অপারেশন থান্ডারবোল্ট থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক বছরে সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা নব্য জেএমবি-র মতো সংগঠনগুলোকে কোণঠাসা করে ফেলা হয়। জঙ্গি দমনে এই কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে এক ধরনের স্বস্তি ও নিরাপত্তার বোধ কাজ করেছে।
জনসচেতনতা ও ডি-র্যাডিকালাইজেশন
জঙ্গিবাদ দমনে কেবল শক্তি প্রয়োগ নয়, বরং আদর্শিক লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তাও শেখ হাসিনা অনুধাবন করেছিলেন। ইসলামের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তরুণদের বিপথে নেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ওলামা-মাশায়েখদের সম্পৃক্ত করা এবং মসজিদের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া যারা ভুল পথে পা বাড়িয়েছিল, তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য 'ডি-র্যাডিকালাইজেশন' প্রোগ্রাম বা আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়ার মতো মানবিক পদক্ষেপও দেখা গেছে।
বর্তমান সময়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যখন দেশ অতিবাহিত হচ্ছে, তখন জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা পুনরায় অনুধাবন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কোনো দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বা উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন সেই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অটুট থাকে। জঙ্গিবাদের মতো বৈশ্বিক সংকট যদি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তবে তা কেবল একটি দল বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনার অভাব বোধ করছে?
আজ বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা আর সামাজিক নিরাপত্তার অভাব সাধারণ মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। কৃষক ও শ্রমিকরা বোঝেন যে, মেগাপ্রকল্প কেবল দৃশ্যমান কাঠামো নয়, এর সাথে কর্মসংস্থান ও যাতায়াত ব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নয়ন যুক্ত ছিল। শেখ হাসিনা তার বাপের টাকায় উন্নয়ন করেননি সত্যি, কিন্তু তিনি সেই যোগ্য নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন যেখানে রাষ্ট্র তার নিজের সম্পদ ব্যবহার করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে।
উপসংহার
ইতিহাস না জানলে বর্তমানকে বোঝা অসম্ভব। আজ যারা পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেল নিয়ে উপহাস করছেন, তারা আসলে নিজেদের শেকড়কেই অস্বীকার করছেন। উন্নয়ন কারো পকেট থেকে আসে না, আসে দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় নীতি থেকে। জেন-জি’র উচিত হবে হুজুগে না মেতে ইতিহাস পড়া এবং বোঝা যে রাষ্ট্র চালানো এবং একটি দেশের ইনফ্রাস্ট্রাকচার পরিবর্তন করা বিল গেটসের চেয়ারে বসার মতো সহজ নয়। দেশপ্রেম মানে কেবল আবেগী স্লোগান নয়, দেশপ্রেম মানে হলো রাষ্ট্রের প্রতিটি ইট-পাথরের নেপথ্যের লড়াইকে সম্মান জানানো। জেন-জি’র বোধোদয় কবে হবে, সেটাই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।
Explore Topics
Featured Posts
About
TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.















