>

>

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ও মার্কিন প্রভাব

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ও মার্কিন প্রভাব

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভোর ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার মাধ্যমে কেবল একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি, বরং দেশের মৌলিক আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আঘাত করা হয়েছিল।

TruthBangla

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ভোর ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার মাধ্যমে কেবল একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি, বরং দেশের মৌলিক আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আঘাত করা হয়েছিল। এই অভ্যুত্থান একটি সদ্য স্বাধীন দেশকে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের পথে ঠেলে দেয়। তবে এই অভ্যন্তরীণ সামরিক অভ্যুত্থানের পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, বিশেষত তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশল কতখানি প্রভাব ফেলেছিল, তা আজও এক গভীর বিতর্কের জন্ম দেয়। ১৫ আগস্টের পরপরই জিয়া-মোশতাকের হাত ধরে বাংলাদেশ যখন মার্কিন বলয়ে প্রবেশ করে, তখন এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয় - বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততা কি ছিল সুদূরপ্রসারী?

অভ্যুত্থান ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অভ্যুত্থানকে কেবল অভ্যন্তরীণ সামরিক অস্থিরতা হিসেবে দেখা যায় না। এই সময়কালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা খন্দকার মোশতাক ও পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়। এই ঘটনাপ্রবাহে বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয়। বিশেষ করে হেনরি কিসিঞ্জারের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম এই ষড়যন্ত্রে বারবার উঠে এসেছে।

হেনরি কিসিঞ্জার – ব্যক্তিগত শত্রুতা ও প্রতিহিংসা

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশি শক্তির সম্পৃক্ততার আলোচনা এলেই তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের নাম শীর্ষে উঠে আসে। কিসিঞ্জারের ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ছিল এই ষড়যন্ত্রে তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকার মূল কারণ।

কিসিঞ্জারের 'বিদেশি শত্রু' তালিকা

কিসিঞ্জারের সাবেক স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট রজার মরিস এক সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুর প্রতি কিসিঞ্জারের তীব্র ঘৃণার কথা উল্লেখ করে বলেন:

"কিসিঞ্জারের বিদেশি শত্রুর তালিকায় তিনজন সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি ছিলেন—চিলির প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দে, ভিয়েতনামের নেতা হো চি মিন এবং বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।" (সূত্র: দ্য আনফিনিশড রেভল্যুশন, লরেন্স লিফশুলজ, পৃষ্ঠা ১৩৭-১৩৮)

এই উদ্ধৃতি প্রমাণ করে, বঙ্গবন্ধু ছিলেন কিসিঞ্জারের চোখে কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং তিনি ছিলেন এমন একজন 'শত্রু', যাকে কিসিঞ্জার ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতাচ্যুত দেখতে চেয়েছিলেন।

একাত্তরের ব্যক্তিগত পরাজয়

হেনরি কিসিঞ্জার একাত্তরে বাংলাদেশের জন্ম ও পাকিস্তানের পরাজয়কে ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।একাত্তরের যুদ্ধে আমেরিকা খোলাখুলিভাবে পাকিস্তানের সামরিক জান্তার পক্ষ নিয়েছিল। চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে কিসিঞ্জার পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করেন।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও তাঁর অটল দৃঢ়তার কারণেই কিসিঞ্জারের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। এই ব্যর্থতা কিসিঞ্জারকে প্রতিহিংসাপরায়ণ করে তোলে এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাঁর বিদ্বেষ আরও গভীর হয়। কিসিঞ্জার বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও 'ঔদ্ধত্য'-কে ব্যক্তিগত শত্রুতা বলে উল্লেখ করেছিলেন।

মোশতাককে দ্রুত স্বীকৃতি – ষড়যন্ত্রের প্রমাণ?

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর, ১৫ই আগস্ট, ১৯৭৫ থেকে ৬ই নভেম্বর, ১৯৭৫ পর্যন্ত খুনি খন্দকার মোশতাক আহমদ ৮৩ দিন অঘোষিতভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হন। মোশতাককে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫ দিনের মাথায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত স্বীকৃতি ছিল অভ্যুত্থানে বিদেশি শক্তির পূর্বজ্ঞান বা সম্পৃক্ততার অন্যতম বড় প্রমাণ।

কিসিঞ্জারের উল্লসিত প্রতিক্রিয়া

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ৫ দিনের মাথায় ২০শে আগস্ট খন্দকার মোশতাককে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিসিঞ্জার এতটাই উল্লসিত হন যে, তিনি প্রকাশ্যেই বলেন:

‘মোশতাক সরকারকে স্বীকৃতি দিতে পেরে আমরা নিজেকে ধন্য মনে করছি।’

এক বিশেষ বার্তায় তিনি আরও বলেন, ‘স্বীকৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে বার্তা পৌঁছানো, যাতে তারা ভরসা পায় যে আমরা তাদের চাহিদার প্রতি সহানুভূতিশীল থাকব। তাদের স্বীকৃতি দেব।’

২০ আগস্টের স্টাফ মিটিং-এ কিসিঞ্জার

আল জাজিরা কর্তৃক প্রকাশিত গোপন মার্কিন নথিপত্র এবং লরেন্স লিফশুলজের গবেষণা থেকে জানা যায়, ২০ আগস্ট সকালে কিসিঞ্জারের স্টাফ সভায় কী আলোচনা হয়েছিল:

সভার সূচনা: এদিন সকাল ৮টায় কিসিঞ্জার স্টাফ সভায় বসেন এবং ঢাকার খবর জানার জন্য বৈঠকের শুরুতেই বলেন, ‘আমরা এখন বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কথা বলব।’

অভ্যুত্থানের প্রকৃতি: সভায় বাংলাদেশের ঘটনাবলি সম্পর্কে নিকট প্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আথারটন বলেন, ‘এটা হচ্ছে সুপরিকল্পিত ও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা অভ্যুত্থান।’

মৃত্যু নিশ্চিতকরণ: কিসিঞ্জার জানতে চান যে ‘মুজিব কি জীবিত না মৃত?’ আথারটন বলেন, ‘মুজিব মৃত। তার অনেক ঘনিষ্ঠসহ পরিবারের কজন সদস্য, ভাই, ভাগনে নিহত হয়েছেন।’

আনন্দের বহিঃপ্রকাশ: রজার মরিস ও অন্যান্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, কিসিঞ্জার সভা শুরুর আগেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য নেন এবং পুরোটা সময় তাকে খুশিতে আত্মহারা মনে হয়েছিল এবং তিনি ঘন ঘন 'মদ্যপান' করছিলেন।

এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে, একটি নির্বাচিত সরকারকে নৃশংসভাবে উৎখাত করার ঘটনাকে আমেরিকা নেতিবাচকভাবে দেখেনি, বরং কিসিঞ্জার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ হওয়ায় উল্লসিত হয়েছিলেন এবং দ্রুত স্বীকৃতি দিয়ে মোশতাক সরকারের প্রতি তাঁর সমর্থন জানান।

অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা

১৯৭৫ সালের অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন বলয়ে প্রবেশ করে। এর মাধ্যমে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

মোশতাক-জিয়ার মাধ্যমে মার্কিন বলয়ে প্রবেশ

নীতিগত পরিবর্তন: বঙ্গবন্ধুর সমাজতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ নীতি থেকে সরে এসে মোশতাক সরকার দ্রুতই পশ্চিমা উদার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই পরিবর্তন মার্কিন স্বার্থের অনুকূল ছিল।

সামরিকীকরণ: মোশতাকের পতনের পর জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। জিয়াউর রহমানের সরকার সামরিকীকরণ, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও ইসলামপন্থী রাজনীতিকে উৎসাহিত করে, যা স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে মার্কিন কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

কিসিঞ্জারের ভূ-রাজনৈতিক কারণ

কিসিঞ্জার ও মার্কিন শাসকবর্গের কাছে বঙ্গবন্ধুর পরাজয় ছিল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তার পেছনে ভূ-রাজনৈতিক কারণ ছিল:

ভারতের প্রভাব হ্রাস: বঙ্গবন্ধু ছিলেন ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের আঞ্চলিক প্রভাব কমানো সম্ভব ছিল।

সোভিয়েত প্রভাব নিয়ন্ত্রণ: বঙ্গবন্ধুর নীতি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিসিঞ্জারের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে সোভিয়েত বলয় থেকে বের করে আনা।

সামরিক-অর্থনৈতিক সুবিধা: মোশতাক-জিয়াউর রহমানের সরকার সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশে সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেয়।

দ্য আনফিনিশড রেভল্যুশন – অভ্যুত্থান ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সংযোগ

লরেন্স লিফশুলজের বই 'দ্য আনফিনিশড রেভল্যুশন' শুধু ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থান নয়, এর সঙ্গে বুদ্ধিজীবী হত্যার সংযোগ এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পটভূমি তুলে ধরে। রজার মরিসের উদ্ধৃতি অনুযায়ী:

"মুজিব ক্ষমতায় আসেন সব কিছু উপেক্ষা করে। আমেরিকা ও তার অনুগ্রহভাজন পাকিস্তানকে সত্যিই পরাজিত করে এবং মুজিবের বিজয় ছিল আমেরিকার শাসকবর্গের পক্ষে অত্যন্ত বিব্রতকর।" (সূত্র: দ্য আনফিনিশড রেভল্যুশন, লরেন্স লিফশুলজ, পৃষ্ঠা ১৩৭-১৩৮)

এই বিবৃতিটি স্পষ্ট করে, বঙ্গবন্ধুর বিজয়কে মার্কিন প্রশাসন তাদের কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখেছিল এবং এই 'বিব্রতকর' পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তারা যেকোনো সুযোগ নিতে প্রস্তুত ছিল।

দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে লরেন্স লিফশুলজ এবং অন্যান্য গবেষকরা বারবার প্রমাণ করেছেন যে, অভ্যুত্থানের মূল কুশীলবদের সঙ্গে অভ্যুত্থানের আগে থেকেই ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ছিল। যদিও সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে অভ্যুত্থানকারীরা জানত যে, আমেরিকা তাদের এই অভ্যুত্থানকে দ্রুত স্বীকৃতি দেবে এবং তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে সহযোগিতা করবে। এই পূর্বজ্ঞানই ষড়যন্ত্রকে সফল করতে সাহস জুগিয়েছিল।

ইতিহাসের নীরব সাক্ষী

১৯৭৫ সালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ছিল কেবল ক্ষমতার হাতবদল নয়, এটি ছিল একটি জাতির আদর্শিক দিকনির্দেশনার পরিবর্তন।

বিদেশি প্রভাবের সূচনা: বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বাংলাদেশ প্রথম বারের মতো দৃঢ়ভাবে মার্কিন বলয়ে প্রবেশ করে। এটি ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য এক যুগান্তকারী পরিবর্তন।

কিসিঞ্জারের জয়: ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে হেনরি কিসিঞ্জার ছিলেন সেই বিদেশি শক্তিগুলোর অন্যতম প্রতীক, যারা স্বাধীন বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে মেনে নিতে পারেনি। দ্রুত স্বীকৃতি দিয়ে তিনি কার্যত মোশতাক সরকারকে সাহস জুগিয়েছিলেন এবং অভ্যুত্থানের সফলতায় উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতি এবং মোশতাক-জিয়ার ক্ষমতা গ্রহণ - এই পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশের রাজনীতিকে এমন এক পথে ঠেলে দেয়, যার ক্ষতচিহ্ন আজও আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজে বিদ্যমান। ইতিহাসের এই নীরব সাক্ষীগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি সদ্য স্বাধীন দেশের জন্য অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও কতটা ভয়ংকর হতে পারে।

তথ্যসূত্র:

  • দ্য আনফিনিশড রেভল্যুশন, লরেন্স লিফশুলজ, পৃষ্ঠা ১৩৭-১৩৮

  • Al Jazeera Declassified US Documents on 1975 Bangladesh Coup

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 24, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালটি ছিল পুনর্গঠনের পাশাপাশি চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার। এই অস্থিরতার কেন্দ্রে ছিল নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাসদ' এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন বিতর্ক উসকে দেয় বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন? কেন জাসদ সেই সময় এত সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল? আর ১৫ আগস্টের পর হঠাৎ কেন তারা স্তিমিত হয়ে গেল?

Jan 22, 2026

/

Post by

সবার চোখেমুখে এক অদ্ভুত আবেগ। কারণ, আজ ঘরে ফিরছেন সেই মানুষটি, যিনি দশকের পর দশক ধরে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক আর মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পূর্ণতা পাওয়ার পথে মওলানা ভাসানীর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল এক বিশাল মাইলফলক।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.