>

>

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কি কেবলই 'নাটক'? ফিরে আসছে কি সেই ভয়াবহ দিনগুলো?

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ কি কেবলই 'নাটক'? ফিরে আসছে কি সেই ভয়াবহ দিনগুলো?

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জনপরিসরে একটি বিতর্ক জিইয়ে রাখা হয়েছে দেশে কি আসলেই জঙ্গি আছে, নাকি এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘নাটক’? বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দল, পত্রিকা এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা নিরন্তর প্রচার করে আসছে যে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ একটি সাজানো বিষয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল ইসলামি ঘরানার মানুষদের দমন করার একটি হাতিয়ার মাত্র।

TruthBangla

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জনপরিসরে একটি বিতর্ক জিইয়ে রাখা হয়েছে দেশে কি আসলেই জঙ্গি আছে, নাকি এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘নাটক’? বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দল, পত্রিকা এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা নিরন্তর প্রচার করে আসছে যে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ একটি সাজানো বিষয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল ইসলামি ঘরানার মানুষদের দমন করার একটি হাতিয়ার মাত্র। কিন্তু ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ সেই পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সামনে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যখন একটি মাদ্রাসার আড়ালে সুইসাইডাল ভেস্ট তৈরির উপকরণ পাওয়া যায়, তখন আর একে ‘নাটক’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

কেরানীগঞ্জ বিস্ফোরণ - হাসনাবাদের সেই ভয়াবহ সকাল

২০২৫ সালের শেষভাগে এসে দেশ যখন থমথমে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ২৬ ডিসেম্বর ভোরে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার ‘দক্ষিণ উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’য় এক বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এই বিস্ফোরণটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে যে, মাদ্রাসার একটি কক্ষে বিস্ফোরক তৈরির সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, একতলা ভবনটির দুটি কক্ষের দেয়াল মুহূর্তের মধ্যে উড়ে যায়। ছাদ এবং বিমে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। এমনকি পাশের ভবনের দেয়াল ও জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ও বোমা ডিসপোজাল ইউনিট যা উদ্ধার করেছে, তা ছিল শিউরে ওঠার মতো। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড এবং টিএটিপি (Triacetone Triperoxide) তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টিএটিপি সাধারণত আত্মঘাতী হামলার জন্য ‘সুইসাইডাল ভেস্ট’ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

আল আমিন শেখ রাজিব - এক পুরোনো খেলোয়াড়ের নতুন চাল

এই পুরো ঘটনার মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে আল আমিন শেখ রাজিবের নাম। সে কোনো সাধারণ মাদ্রাসার শিক্ষক নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িত একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জ থেকে র‍্যাব তাকে প্রথম গ্রেফতার করেছিল। সে সময় তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, গুলি এবং জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছিল।

রাজিব নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির (জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) তামিম-সারোয়ার গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য। গত তিন বছর ধরে সে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে সপরিবারে বসবাস করার পাশাপাশি এই মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছিল। একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সে যে আসলে একটি বোমা তৈরির কারখানা এবং সুইসাইডাল স্কোয়াডের আস্তানা গড়ে তুলেছিল, তা এই বিস্ফোরণের আগে স্থানীয়দের ধারণার বাইরে ছিল। এটি প্রমাণ করে যে, উগ্রপন্থীরা এখন কতটা সুকৌশলে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

‘জঙ্গি নাটক’ তত্ত্ব এবং রাজনৈতিক প্রচারণা

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা সবসময়ই লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী যেমন জামাত-শিবির এবং তাদের সংবাদমাধ্যম যেমন ‘আমার দেশ’ পত্রিকা বিভিন্ন সময় জঙ্গি বিরোধী অভিযানগুলোকে ‘নাটক’ হিসেবে প্রচার করেছে। তাদের দাবি ছিল, আওয়ামী লীগ সরকার আলেম-ওলামাদের দমন করার জন্য এবং বিদেশি শক্তিকে খুশি করার জন্য এসব ঘটনা সাজাত।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও জামায়াত-শিবিরপন্থী অ্যাক্টিভিস্টরা এই তত্ত্বকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছে। তারা জনগণকে বুঝিয়েছে যে, দেশে কোনো জঙ্গি নেই এবং এসবই কেবল ইসলাম ধর্মকে কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র। এই ধরনের প্রচারণার ফলে সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ জঙ্গিবাদের প্রকৃত ঝুঁকি সম্পর্কে অসচেতন হয়ে পড়ে। যখনই কোনো জঙ্গি আস্তানা থেকে বিপুল অস্ত্রসহ কেউ গ্রেফতার হতো, তখনই বলা হতো - এগুলো পুলিশ নিজেরা রেখে এসেছে। কিন্তু কেরানীগঞ্জের মতো যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই বিস্ফোরণ ঘটে দেয়াল উড়ে যায়, তখন সেই ‘সাজানো নাটক’ তত্ত্বের অসারতা পরিষ্কার হয়ে যায়।

কারাগার থেকে পলায়ন - ২০২৪ এর পরবর্তী নিরাপত্তা ঝুঁকি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এবং তার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বিশাল ভাঙন দেখা দেয়। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন কারাগার ভেঙে বহু কয়েদি পালিয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পালানো কয়েদিদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল সাজাপ্রাপ্ত এবং দুর্ধর্ষ জঙ্গি সদস্য।

যারা কারাগার ভাঙার সময় বের হতে পারেনি, তাদের মধ্যে অনেকেই বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আইনি মারপ্যাঁচে জামিনে মুক্ত হয়ে গেছে। এই দুর্ধর্ষ অপরাধীরা এখন কোথায় আছে বা কী করছে, তার কোনো সঠিক হিসাব নেই। কেরানীগঞ্জের রাজিবের মতো ব্যক্তিরা এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা এখন সরাসরি রাজনৈতিক লেবাস বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। আজকের কেরানীগঞ্জের বিস্ফোরণটি হয়তো একটি বড় অ্যাকশনের মহড়া মাত্র।

জনগণের অসচেতনতা এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ

বাঙালি জাতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো - যতক্ষণ না বিপদ নিজের ঘরের দরজায় কড়া নাড়ে, ততক্ষণ আমরা সচেতন হতে চাই না। জঙ্গিবাদের মতো জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়কে আমরা রাজনৈতিক চশমায় দেখি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বোমা বা বিস্ফোরক দল দেখে ফাটে না। হাসনাবাদের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণটি যদি দিনের বেলা হতো, তবে অনেক নিষ্পাপ শিশুর জীবন চলে যেতে পারতো।

জঙ্গিবাদ কোনো বিশেষ সরকারের ইস্যু নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের টিকে থাকার লড়াই। যখন ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে তরুণদের হাতে সুইসাইডাল ভেস্ট তুলে দেওয়া হয়, তখন সেই ধ্বংসাত্মক আদর্শকে রুখতে সামাজিক সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। কেরানীগঞ্জের এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, জঙ্গিরা বাইরেই আছে এবং তারা তাদের ‘অ্যাকশন’ শুরু করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সচেতনতাই শেষ রক্ষা

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ছিল না বা নেই - এই কথাটি বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বলা মানে আত্মহননের শামিল। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যখনই কোনো রাষ্ট্রে চরমপন্থাকে হালকাভাবে নেওয়া হয়েছে, তখনই সাধারণ মানুষকে তার চড়া মাশুল দিতে হয়েছে। কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদের এই বিস্ফোরণ আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা বা 'ওয়েক-আপ কল'।

দেশের সার্বভৌমত্ব এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা করতে হলে আমাদের দলমত নির্বিশেষে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মাদ্রাসার আড়ালে বোমা তৈরির কারখানাকে আর ‘নাটক’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সময় নেই। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী যেমন সজাগ থাকা প্রয়োজন, তেমনি প্রতিটি নাগরিককে নিজের এলাকা এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। নতুবা, বড় কোনো ট্র্যাজেডির পর বিশ্বাস করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার থাকবে না।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jul 10, 2026

/

Post by

বাংলাদেশী রাজনীতির পটভূমি সবসময়ই নাটকীয়তা, সংঘাত এবং অপ্রত্যাশিত মোড় দিয়ে ঘেরা। কিন্তু ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে’র প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা-৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী ওসমান হাদীর ওপর ঘটে যাওয়া গুলির ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনামাত্র নয়; বরং এটি আমাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব, সাংগঠনিক শিথিলতা এবং ক্ষমতার অন্ধত্বের এক জ্বলন্ত দলিল। ওসমান হাদীর ট্র্যাজেডির নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক সত্য কথন।

Jul 7, 2026

/

Post by

বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিশ্ব রাজনীতিতে এমন দুটি অন্যতম উদাহরণ হলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) বা আইআরজিসি এবং সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় রক্ষীবাহিনী (JRB)। এই নিবন্ধে প্রদত্ত উপাত্তসমূহ এবং গভীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই দুটি বাহিনীর গঠন, উদ্দেশ্য, তাদের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক মিল-অমিল এবং ইতিহাসের গতিপথে তাদের প্রভাব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

Jul 2, 2026

/

Post by

২০১৮ সালে বিমানবন্দর সড়কে দুই বাসের রেষারেষিতে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীবের মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো দেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। সেই উত্তপ্ত ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ঘি ঢালার কাজটি করেছিলেন অভিনয়শিল্পী কাজী নওশাবা আহমেদ। উত্তরার একটি শুটিং স্পটে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি যে ভয়াবহ ও লোমহর্ষক গুজব ছড়িয়েছিলেন তা তৎকালীন সময়ে পুরো ঢাকাসহ সারা দেশকে এক চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jul 1, 2026

/

Post by

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে তা থেকে রূপ নেওয়া এক দফার ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এই আন্দোলন কেবল রাজপথের লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর সমান্তরালে ভার্চুয়াল জগতেও সংঘটিত হয়েছিল এক নজিরবিহীন গুজব বা 'তথ্য যুদ্ধ' (Information Warfare) বা তথ্য বিশৃঙ্খলা। একদিকে ছিল সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনমানুষের ক্ষোভ ও প্রতিরোধের স্রোত, অন্যদিকে ছিল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা কিংবা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার বহুমুখী রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রচেষ্টা।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jul 10, 2026

/

Post by

বাংলাদেশী রাজনীতির পটভূমি সবসময়ই নাটকীয়তা, সংঘাত এবং অপ্রত্যাশিত মোড় দিয়ে ঘেরা। কিন্তু ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে’র প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা-৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী ওসমান হাদীর ওপর ঘটে যাওয়া গুলির ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনামাত্র নয়; বরং এটি আমাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব, সাংগঠনিক শিথিলতা এবং ক্ষমতার অন্ধত্বের এক জ্বলন্ত দলিল। ওসমান হাদীর ট্র্যাজেডির নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক সত্য কথন।

Jul 7, 2026

/

Post by

বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিশ্ব রাজনীতিতে এমন দুটি অন্যতম উদাহরণ হলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) বা আইআরজিসি এবং সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় রক্ষীবাহিনী (JRB)। এই নিবন্ধে প্রদত্ত উপাত্তসমূহ এবং গভীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই দুটি বাহিনীর গঠন, উদ্দেশ্য, তাদের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক মিল-অমিল এবং ইতিহাসের গতিপথে তাদের প্রভাব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

Jul 2, 2026

/

Post by

২০১৮ সালে বিমানবন্দর সড়কে দুই বাসের রেষারেষিতে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীবের মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো দেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। সেই উত্তপ্ত ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ঘি ঢালার কাজটি করেছিলেন অভিনয়শিল্পী কাজী নওশাবা আহমেদ। উত্তরার একটি শুটিং স্পটে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি যে ভয়াবহ ও লোমহর্ষক গুজব ছড়িয়েছিলেন তা তৎকালীন সময়ে পুরো ঢাকাসহ সারা দেশকে এক চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jul 1, 2026

/

Post by

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে তা থেকে রূপ নেওয়া এক দফার ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এই আন্দোলন কেবল রাজপথের লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর সমান্তরালে ভার্চুয়াল জগতেও সংঘটিত হয়েছিল এক নজিরবিহীন গুজব বা 'তথ্য যুদ্ধ' (Information Warfare) বা তথ্য বিশৃঙ্খলা। একদিকে ছিল সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনমানুষের ক্ষোভ ও প্রতিরোধের স্রোত, অন্যদিকে ছিল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা কিংবা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার বহুমুখী রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রচেষ্টা।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.