>

>

মেটিকুলাস ডিজাইন ও ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড - রক্তের দাগ মুছতে কি পদায়নের রাজনীতি?

মেটিকুলাস ডিজাইন ও ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড - রক্তের দাগ মুছতে কি পদায়নের রাজনীতি?

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একদল তরুণ নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছিল। তাদের মধ্যে শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন অন্যতম। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচিত ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ এর মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। হাদির মৃত্যু কি নিছক কোনো অপরাধ, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো সুগভীর ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা সূক্ষ্ম পরিকল্পনা? সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এই বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। নিহতের বড় ভাই ওমর বিন হাদিকে কূটনৈতিক পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি কি শোকাতুর পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া, নাকি কোনো সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা?

TruthBangla

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একদল তরুণ নেতৃত্বের উত্থান ঘটেছিল। তাদের মধ্যে শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন অন্যতম। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচিত ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ এর মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। হাদির মৃত্যু কি নিছক কোনো অপরাধ, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো সুগভীর ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা সূক্ষ্ম পরিকল্পনা? সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এই বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। নিহতের বড় ভাই ওমর বিন হাদিকে কূটনৈতিক পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি কি শোকাতুর পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া, নাকি কোনো সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা? আজকের ব্লগে আমরা এই চাঞ্চল্যকর বিষয়ের গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করব।

শরিফ ওসমান হাদি - কে ছিলেন তিনি এবং কেন তিনি লক্ষ্যবস্তু?

শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন 'ইনকিলাব মঞ্চ' নামক একটি প্ল্যাটফর্মের বলিষ্ঠ সংগঠক। জুলাই বিপ্লবের সময়ে এবং পরবর্তী দিনগুলোতে শাহবাগের রাজপথে তাকে প্রায়শই দেখা যেত। তার বক্তব্যের ধরনে ছিল এক ধরনের আপসহীনতা, যা দ্রুত তাকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে জনপ্রিয় করে তোলে।

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা হয়েছিল, তাতে ওসমান হাদি ছিলেন অগ্রগণ্য। ওসমান হাদির রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল 'ভারতীয় আধিপত্যবাদ'-এর বিরোধিতা। তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দিল্লির প্রভাব বলয় থেকে বের হয়ে আসা জরুরি।

শাহবাগের একটি সমাবেশে হাদিকে বলতে শোনা যায় যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল ভারতের একটি 'মাস্টারপ্ল্যান' বা চক্রান্ত। এই বক্তব্যটি অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তাছাড়া তার গালিগালাজের কারণেও তাকে সমালোচনা করা হতো।

'ইন্ডিয়া আউট' ক্যাম্পেইনের অন্যতম সোচ্চার কণ্ঠ ছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত উস্কানিমূলক ভাষায় প্রতিবেশী দেশের নীতির সমালোচনা করতেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাদির জনপ্রিয়তার গ্রাফটি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তিনি কেবল রাজপথের কর্মী ছিলেন না, বরং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পলিসি এবং রাজনৈতিক গতিপথের ওপরও তীক্ষ্ণ নজরদারি রাখতেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাদির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং তার স্পষ্টবাদী বক্তব্য অনেক প্রভাবশালী মহলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। এটি ছিল অত্যন্ত নিপুণভাবে সংঘটিত একটি ঘটনা, যাকে অপরাধ বিজ্ঞানের ভাষায় 'টার্গেট কিলিং' হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। তার হত্যাকাণ্ডের সময় এবং স্থান নির্বাচন ইঙ্গিত দেয় যে, হন্তারকরা তার গতিবিধি সম্পর্কে আগে থেকেই জানত।

‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ ও রক্তের দাগ মোছার কৌশল

ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব, তবে দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় তার ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় 'মেটিকুলাস ডিজাইন' শব্দটি এখন রাজনৈতিক আলাপের কেন্দ্রে। এই তত্ত্বটি মূলত রাজনৈতিক সংকট বা হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট জনরোষকে কৌশলে প্রশমিত করার একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায়।

অভিযোগ উঠেছে যে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও কিছু সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের স্বজনদের সরকারি চাকরি বা আর্থিক সুবিধা দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছিল। সমালোচকরা একে 'ব্লাড মানি' বা রক্তের বিনিময়ে সুবিধা প্রদানের রাজনীতি হিসেবে দেখছেন।

"যখন কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা রাজনৈতিক মৃত্যু নিয়ে সরকার চাপের মুখে পড়ে, তখন ভুক্তভোগী পরিবারকে বড় কোনো রাষ্ট্রীয় সুবিধা দিয়ে তাদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয় এটাই মেটিকুলাস ডিজাইনের মূল চালিকাশক্তি।"

সমালোচকরা বলছেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের পর তার ভাই ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই নিয়োগটি চুক্তিভিত্তিক। বিশ্লেষকদের মতে, যখন কোনো বড় হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকার চাপে পড়ে, তখন তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে বড় কোনো সুবিধা দিয়ে ‘মুখ বন্ধ’ করার চেষ্টা করে।

ওমর বিন হাদির বিস্ফোরক মন্তব্য

নিহত হাদির বড় ভাই ওমর বিন হাদি কিছুদিন আগেও শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে আগুনের মতো জ্বলে উঠেছিলেন। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা ছিল অত্যন্ত কঠোর। তিনি সরাসরি সরকারকে অভিযুক্ত করে বলেছিলেন:

"আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন। আমরা তা কখনো হতে দেবো না।"

তার সেই বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো ছিল: হাদি যখন নিহত হন, তখন এই সরকারই ক্ষমতায় ছিল, তাই এর দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনের পর ক্ষমতা ছেড়ে বিদেশে চলে গেলেও জনতা তাদের ছাড়বে না।

তার সেই বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, হাদির মৃত্যুর দায় বর্তমান সরকারের ওপরই বর্তায়। তিনি সরকারের পতন এবং পরবর্তী বিচারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন উঠছে যিনি মাসখানেক আগে সরকারকে হত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করলেন, তিনি আজ সেই সরকারেরই কূটনৈতিক পদ গ্রহণ করলেন কীভাবে? যিনি গতকাল সরকারকে ‘খুনি’ বললেন, তিনি আজ সেই সরকারের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে করবেন? এটি কি আপস, নাকি কোনো গোপন চাপের ফল?

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কি জামায়াতে ইসলামী?

গোয়েন্দা তথ্য এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে বেরিয়ে আসছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য, যেখানে অভিযোগের আঙুল উঠছে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রনেতা আবু সাদিক কায়েমের দিকে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাজনৈতিক সূত্রগুলো এই ঘটনার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর সরাসরি অথবা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কথা বলে আসছে। বিশেষ করে, ছাত্রশিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডারদের এই অভিযানে ব্যবহারের জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে।

একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি সর্বজনবিদিত। এই হত্যাকাণ্ডের ধরণ এবং পরবর্তী সময়ে দলটির নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

যেভাবে হাদিকে টার্গেট করা হয়েছে, তা কোনো সাধারণ অপরাধী চক্রের কাজ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই শিবিরের চিহ্নিত কিছু ক্যাডারকে ওই এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছিল।

তাছাড়া হাদির অবর্তমানে কার রাজনৈতিক পথ সুগম হচ্ছে, সেটি বিশ্লেষণ করলেই জামায়াতের স্বার্থের জায়গাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সালমান ও ওসমাণ হাদি

এই হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মোড় হলো সালমানের ভূমিকা। সালমান হলেন জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ারের পুত্র।

প্রাপ্ত অনুসন্ধানী তথ্য অনুযায়ী, সালমানই ওসমাণ হাদির সাথে তার কথিত হত্যাকারীর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। অবাক করার মতো বিষয় হলো, পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তিকে হাদির নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের একজন ‘একনিষ্ঠ সহযোগী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

এটি একটি বিশাল ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। হাদির অতি ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বাসভাজন হওয়ার সুযোগ নিয়ে হত্যাকারীকে তার নিরাপদ বলয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা এখন বড় তদন্তের বিষয়। নিজের দলের শীর্ষ নেতার ছেলের মাধ্যমে ঘাতকের সাথে পরিচয় হওয়া হাদির জন্য ছিল এক মরণফাঁদ।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হাদির লাশ নিয়ে রাজনীতি করে ওই আসনে সাদেক কায়েমকে বিজয়ী করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদেরই হাদিকে নিয়ে কুমিরের কান্নাকাটি করতে ও রাজনীতি করতে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।

হাদির লাশ বনাম সাদিক কায়েমের বিজয়

রাজনীতিতে অনেক সময় মৃত ব্যক্তি জীবিত ব্যক্তির চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। হাদি হত্যাকাণ্ডের পর একটি বিশেষ মহলের দাবি এই মৃত্যুটিকে রাজনৈতিকভাবে পুঁজি করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওসমাণ হাদির মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেখানে আবু সাদিক কায়েমকে বিজয়ী করার একটি নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে।

হাদির অনুসারীদের মধ্যে শোক এবং ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সেই সমর্থন সাদিক কায়েমের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ঘটনার পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর একনিষ্ঠ কর্মীরাই সোশ্যাল মিডিয়ায় হাদিকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি ‘সহানুভূতি’ দেখাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা একে ‘কুমিরের কান্নাকাটি’ হিসেবে অভিহিত করছেন, যা মূলত জনমত নিজেদের পক্ষে টানার একটি কৌশল মাত্র।

১৫ মিনিটের সেই ফেসবুক পোষ্ট

হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং ছাত্রনেতা আবু সাদিক কায়েম। তার ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধছে।

সবচেয়ে বড় খটকা লাগে সাদিক কায়েমের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটি নিয়ে। ওসমাণ হাদির ওপর হামলার মাত্র ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে সাদিক কায়েম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি যা লিখেছিলেন:

"ওসমান হাদিকে গুলি করা হলো। চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টারদের কবল থেকে ঢাকা সিটিকে মুক্ত করতে অচিরেই আমাদের অভ্যুত্থান শুরু হবে।"

কেন এই পোস্টটি সন্দেহজনক? হামলার ১৫ মিনিটের মধ্যে যেখানে পরিবারের মানুষও খবর পায় না, সেখানে একজন নেতার সুচিন্তিত রাজনৈতিক পোস্ট করা অস্বাভাবিক। হাদি তার পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও পোস্টে তার শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসার চেয়ে ‘অভ্যুত্থান’ এবং ‘ঢাকা সিটি দখল’ এসব শব্দ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

ভবিষ্যদ্বাণী নাকি প্রস্তুতি? সাধারণ মানুষ মনে করছেন, সাদিক কায়েম হয়তো জানতেন এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে, আর তাই তিনি আগে থেকেই রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা প্রস্তুত রেখেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এই ঘটনার দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন, যা রাজনৈতিক ব্লেম-গেমের একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

নীরবতা কি সম্মতির লক্ষণ?

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজায় ড. ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁর নীরবতা ছিল চোখে পড়ার মতো। জানাজা পরবর্তী সময়ে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত বা খুনিদের গ্রেফতার নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এই নীরবতা সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহের দানা বাঁধছে। নিয়োগ বনাম বিচার? সরকার কি বিচারের চেয়ে নিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে?

বিপরীতে, হত্যাকাণ্ডের বিচার না করে নিহতের ভাইকে বিদেশে নিয়োগ দেওয়া একটি ‘সেটেলমেন্টের’ ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের এই নীরবতা আসলে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত

দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। কিন্তু 'মেটিকুলাস ডিজাইনের' মাধ্যমে প্রতিপক্ষ বা বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর দমন করা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য শুভ হবে না।

বিষয়

পরিস্থিতি

সম্ভাব্য প্রভাব

হত্যাকাণ্ড

ওসমান হাদির মৃত্যু

ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন স্তিমিত হওয়া

নিয়োগ

ওমর বিন হাদির দ্বিতীয় সচিব পদ

পরিবারের নীরবতা এবং অভিযোগ প্রত্যাহার

রাজনৈতিক লাভ

জামায়াত ও সাদিক কায়েমের প্রভাব বৃদ্ধি

নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়া সহজ হওয়া

বর্তমান পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা

ওসমাণ হাদি হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকা শহরে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাদিক কায়েমের ‘অভ্যুত্থান’ ডাক এবং জামায়াতের রহস্যজনক ভূমিকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিষয়

বর্তমান অবস্থা

জনমনে প্রভাব

তদন্ত

চলমান, একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ

ধীরগতির কারণে অসন্তোষ

রাজনৈতিক অস্থিরতা

থমথমে ভাব, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক

মিডিয়া ট্রায়াল

সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা গুজব ও তথ্য

বিভ্রান্তি বাড়ছে

আমরা কোন দিকে যাচ্ছি?

ওসমান হাদি হত্যার বিচার কি আদৌ হবে? নাকি একটি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আড়ালে হারিয়ে যাবে সত্য?

ড. ইউনূসকে আমরা জানি একজন ন্যায়বিচারক এবং মানবিক মানুষ হিসেবে। কিন্তু তার সরকারের অধীনে যখন এ ধরনের ‘ডিজাইন’ বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে, তখন তা পুরো জাতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হওয়া প্রয়োজন। যদি এই হত্যাকাণ্ডে শিবিরের হাত থাকে কিংবা সরকারের কোনো পরোক্ষ সমর্থন থাকে, তবে তা ইতিহাসের পাতায় একটি কালো অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া পদে আসীন হওয়া কি নৈতিকভাবে সঠিক? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো সময় দেবে।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 24, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালটি ছিল পুনর্গঠনের পাশাপাশি চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার। এই অস্থিরতার কেন্দ্রে ছিল নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাসদ' এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন বিতর্ক উসকে দেয় বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন? কেন জাসদ সেই সময় এত সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল? আর ১৫ আগস্টের পর হঠাৎ কেন তারা স্তিমিত হয়ে গেল?

Jan 22, 2026

/

Post by

সবার চোখেমুখে এক অদ্ভুত আবেগ। কারণ, আজ ঘরে ফিরছেন সেই মানুষটি, যিনি দশকের পর দশক ধরে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক আর মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পূর্ণতা পাওয়ার পথে মওলানা ভাসানীর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল এক বিশাল মাইলফলক।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.