>

>

জামায়াতে ইসলামীর ‘বায়তুল মাল’ চাঁদাবাজি এবং ধর্মের নামে ভন্ডামি

জামায়াতে ইসলামীর ‘বায়তুল মাল’ চাঁদাবাজি এবং ধর্মের নামে ভন্ডামি

জামায়াতে ইসলামীর 'ধর্ম ব্যবসা' এবং ইসলামের মূল শিক্ষার বিকৃতির এক চুলচেরা বিশ্লেষণএকটি সচেতন নাগরিক ও মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে। আজ দুপুরে আমার পারিবারিক পরিমণ্ডলে ঘটে যাওয়া একটি সাধারণ ঘটনাই আমাকে এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্লেষণে বাধ্য করেছে।

TruthBangla

জামায়াতে ইসলামীর ‘বায়তুল মাল’ চাঁদাবাজি এবং ধর্মের নামে ভন্ডামি

জামায়াতে ইসলামীর 'ধর্ম ব্যবসা' এবং ইসলামের মূল শিক্ষার বিকৃতির এক চুলচেরা বিশ্লেষণএকটি সচেতন নাগরিক ও মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে। আজ দুপুরে আমার পারিবারিক পরিমণ্ডলে ঘটে যাওয়া একটি সাধারণ ঘটনাই আমাকে এই দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্লেষণে বাধ্য করেছে।

একটি অপ্রিয় সত্যের মুখোমুখি

দুপুরের দিকে আমার ভাবীর মুঠোফোনে একটি কল আসে। ভাবী তখন ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকায় আমি নিজে গিয়ে ফোনটি উনার হাতে দিয়ে আসি। ভাবীর কথা শেষ হওয়ার পর কৌতূহলবশত জিজ্ঞেস করলাম, "কে ফোন করেছিল?" ভাবীর উত্তর শুনে আমি একপ্রকার আকাশ থেকে পড়লাম।

তিনি জানালেন যে, কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর কিছু মহিলা কর্মী এসে বাসায় একটি বই দিয়ে গিয়েছিল। আজ তারা মূলত সেই সূত্র ধরেই ফোন করেছে এবং ফোন করে দাবি করেছে- 'বায়তুলমাল' বাবদ অবিলম্বে ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে!

এই একটি সাধারণ ঘটনাই আমার চিন্তাজগতকে ওলোটপালোট করে দিল। মাথায় তাৎক্ষণিক একগুচ্ছ প্রশ্নের উদয় হলো। রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে কেন একজন সাধারণ নাগরিককে 'বায়তুলমাল' দিতে হবে? ইসলামে বায়তুলমালের প্রকৃত সংজ্ঞা কী, আর এই দলটি ধর্মের এই পবিত্র পরিভাষাকে কীভাবে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে? এই ঔদ্ধত্য এবং প্রকাশ্য চাঁদাবাজির উৎস কোথায়? কৌতূহল এবং তীব্র ক্ষোভ থেকে আমি ঘর থেকে জামায়াতের সেই রেখে যাওয়া বইটি খুঁজে বের করলাম। বইটির নাম 'ব্যক্তিগত রিপোর্টবই'।

৩২ পাতার এই ছোট পুস্তিকাটি উল্টেপাল্টে দেখতেই আমার সামনে উন্মোচিত হলো এক চরম সত্য-কীভাবে ইসলামের পবিত্র স্তম্ভ, পরিভাষা এবং মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে জামায়াতে ইসলামী বছরের পর বছর ধরে এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক ভন্ডামির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ: জামায়াতের নারী কর্মীরা প্রথমে সুকৌশলে সাধারণ মানুষের অন্দরমহলে প্রবেশ করে বিভিন্ন পুস্তিকা বা রিপোর্টবই বিলি করে। পরবর্তীতে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে 'বায়তুলমাল' বা 'ইয়ানত'-এর নামে নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হয়। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি তাদের দেশব্যাপী সুসংগঠিত চাঁদাবাজির একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।

বায়তুলমাল বিতর্ক: ইসলামের শাশ্বত বিধান বনাম জামায়াতের দলীয় চাঁদাবাজি

ইসলামী শরীয়াহ এবং ইতিহাসের আলোকে 'বায়তুলমাল' শব্দটির একটি সুনির্দিষ্ট, পবিত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক অর্থ রয়েছে। ইসলামী পরিভাষায়, বিভিন্ন বৈধ উৎস হতে অর্জিত এবং রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কোষাগারে জমাকৃত ধন-সম্পদকেই বায়তুলমাল বলা হয়। একটি ইসলামী বা ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে এই কোষাগারের ওপর রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের-তিনি মুসলিম হোন বা অমুসলিম-সম্মিলিত ও সমান অধিকার থাকে।

খলিফায়ে রাশেদীনের আমলে বায়তুলমালের অর্থ ব্যয় হতো বিধবা, এতিম, দুস্থ, প্রতিবন্ধী এবং রাষ্ট্রের সার্বিক অবকাঠামোগত ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের কাজে। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা উপদলের নিজস্ব ফান্ড কখনো 'বায়তুলমাল' হতে পারে না।

অথচ জামায়াতে ইসলামীর সরবরাহ করা সেই 'ব্যক্তিগত রিপোর্টবই'-এর ১৫ নম্বর পাতার ৫ নম্বর লাইনে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে:

"ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের ইয়ানতই (এককালীন বা মাসিক নিয়মিত সাহায্য) বায়াতুলমালের আয়ের মূল উৎস। তাই আমাদের সকলকেই এ ব্যাপারে আল্লাহর পথে ব্যয়ের আর্থিক কুরবানীর আদর্শ স্থাপনের চেষ্টা করতে হবে।"

জামায়াতের এই সংজ্ঞাটি লক্ষ্য করলে যেকোনো সাধারণ বুদ্ধিমান মানুষের কাছেও তাদের চরম মিথ্যাচার স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তারা একটি রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি ও দলীয় তহবিল সংগ্রহকে জঘন্যভাবে 'বায়তুলমাল' নামে অভিহিত করছে। ইসলামে বায়তুলমাল গঠন করতে পারে কেবলমাত্র একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র, কোনো পকেট সংগঠন বা ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক দল নয়। জামায়াত ধর্মের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্ল্যাকমেইল করছে এবং প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এটি ইসলামের দৃষ্টিতে এক প্রকার জঘন্য 'চাঁদাবাজি' ছাড়া আর কিছুই নয়। অথচ তারা একে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যেন এই টাকা না দিলে একজন মুসলিমের ইসলামই পূর্ণাঙ্গ হবে না।

ইসলামী শরীয়াহ মতে বায়তুলমাল

বিভিন্ন বৈধ উৎস হতে অর্জিত এবং ইসলামী রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কোষাগারে জমাকৃত ধন-সম্পদ। এতে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের সম্মিলিত ও সমান মালিকানা ও অধিকার থাকে। এর ব্যবহার হয় জনকল্যাণে।

জামায়াতে ইসলামীর মতে বায়তুলমাল

দলীয় কর্মীদের ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত 'ইয়ানত' বা চাঁদা, যা জামায়াতের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং দলীয় ফান্ড ভারী করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

সবচেয়ে হাস্যকর এবং রহস্যজনক ব্যাপার হলো, তাদের এই ৩২ পাতার বইতে বায়তুলমালের অর্থ কীভাবে বা কোন খাতে ব্যয় হবে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ কোনো খাতের উল্লেখ নেই। আয়ের ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ নির্দেশিকা থাকলেও ব্যয়ের হিসাব সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় যে, ধর্মের নাম ব্যবহার করে সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ আসলে দলীয় ক্যাডার লালন, রাজনৈতিক নাশকতা এবং নেতাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়।

'আল্লাহকে করয' দেওয়ার নামে ঈমান হরণের অপচেষ্টা

জামায়াতের এই রিপোর্ট বইয়ের ১৪ নম্বর পাতায় আরও এক কাঠি বাড়িয়ে লেখা রয়েছে-এই খরচ নাকি কোনো সাধারণ খরচ নয়, বরং "আল্লাহকে দেয়া করয"! একই বইয়ের ২১ নম্বর পাতায় কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

"এ পথে অর্থ ব্যয় করলে আখিরাতে কি প্রতিদান পাওয়া যাবে তা তাদের কে বুঝিয়ে দিন এবং বলুন যে, খোদার পথে ব্যয় করা মানে তাঁকে সাহায্য করা, আর তার অর্থের এর চেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যবহার আর কিছুই হতে পারেনা।"

একবার গভীরভাব চিন্তা করে দেখুন, এটি কত বড় বিপজ্জনক এবং কুফরি ধারণার সমতুল্য বক্তব্য! জামায়াত নামক একটি রাজনৈতিক দলের তহবিলে চাঁদা দিলে তা কীভাবে সরাসরি আল্লাহকে করয বা ঋণ দেওয়া হয়? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কি কখনো কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে বান্দার কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করেন? পবিত্র কুরআনে আল্লাহকে 'করযে হাসানা' দেওয়ার যে কথা বলা হয়েছে, তা হলো এতিম, মিসকিন, অভাবী ও নিঃস্ব মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে ব্যয় করা, অথবা প্রকৃত ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার নিঃস্বার্থ সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করা। কোনো একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক দলের পেছনে অর্থ ঢালা কখনোই 'আল্লাহকে করয দেওয়া' হতে পারে না।

আমার তো মনে হয়, কোনো সরলমনা মুসলমান যদি জামায়াতের এই দাবিকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, তবে তার ঈমান থাকবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। জামায়াত প্রকারান্তরে নিজেদের আত্মঘোষিত 'আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দল' হিসেবে জাহির করার অপচেষ্টা করছে। তাদের এই কথার অর্থ দাঁড়ায়-জামায়াতকে চাঁদা দিলেই কেবল আল্লাহর পথে ব্যয় করা হয়, অন্যথায় নয়। বর্তমান বিশ্বে প্রায় ১৪০ কোটিরও বেশি মুসলমান রয়েছে। তাদের মধ্যে কত সামান্য অংশ এই জামায়াতে ইসলামী নামক দলটির সাথে যুক্ত? তাহলে যারা জামায়াত করে না, তারা কি আল্লাহর পথে নেই? তারা কি ইসলাম বহির্ভূত? এই ধরনের চরমপন্থী ও সংকীর্ণ চিন্তাধারা ইসলামের উদার ও সর্বজনীন রূপকে বিকৃত করে এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হানে।

সূচক

ইসলামের প্রকৃত বায়তুলমাল

জামায়াতে ইসলামীর তথাকথিত বায়তুলমাল

কর্তৃপক্ষ

শুধুমাত্র একটি বৈধ ইসলামী রাষ্ট্র বা সরকার।

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল (জামায়াতে ইসলামী)।

আয়ের উৎস

যাকাত, উশর, খরাজ এবং রাষ্ট্রীয় কর।

দলের কর্মীদের এবং দলের বাইরের লোকজন থেকে জোরপূর্বক বা মগজ ধোলাই করে নেওয়া ‘ইয়ানত’ বা চাঁদা।

মালিকানা

রাষ্ট্রের সকল সাধারণ নাগরিকের সম্মিলিত মালিকানা।

দলের শীর্ষ নেতা এবং দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের তহবিল।

ব্যবহারের ক্ষেত্র

জনকল্যাণ, দরিদ্র সেবা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা।

দলীয় কার্যালয় পরিচালনা, নির্বাচন এবং ক্যাডার লালন-পালন।

জিহাদের বিকৃতি: আল্লাহর পবিত্র বিধান বনাম জামায়াতের ক্যাডারতন্ত্র

উক্ত রিপোর্ট বইয়ের ৭ নম্বর পাতায় লেখা রয়েছে-

"জিহাদের কাজে আপনি নিজেকে জামায়াতের একজন উজ্জীবিত কর্মী হিসেবে গড়ে তুলুন।"

ইসলামে 'জিহাদ' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র ইবাদত। জিহাদ শব্দের অর্থ হলো অন্যায়, অবিচার, জুলুম এবং শয়তানের কুমন্ত্রণার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা। নিজের ভেতরের পাপাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করাকেও ইসলামে 'জিহাদে আকবর' বা সবচেয়ে বড় জিহাদ বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এই পবিত্র 'জিহাদ' শব্দটিকে নিজেদের দলীয় স্বার্থে চরমভাবে বিকৃত করেছে। তাদের ভাষায়, জামায়াতের ক্যাডার বাহিনী বা ছাত্র শিবিরে যোগ দেওয়া এবং তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই যেন একমাত্র জিহাদ!

জিহাদ কি জামায়াতের পৈতৃক সম্পত্তি? জামায়াত বা তাদের ছাত্র সংগঠন 'শিবির' বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে যে ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে-তা কি অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ছিল, নাকি নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য সাধারণ মানুষের রগ কাটা, শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা ছড়ানো এবং বোমাবাজির রাজনীতি ছিল? পবিত্র কুরআন ও হাদিসের জিহাদের সংজ্ঞার সাথে জামায়াতের এই ক্যাডারভিত্তিক উগ্রতাবাদের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। জিহাদের এই বিকৃতি মূলত ইসলাম অবমাননার শামিল। তারা ইসলামের এই সুমহান বিধানকে নিজেদের দল ও পকেট ভারী করার হাতিয়ারে পরিণত করেছে, যার ফলে আজ বিশ্বমঞ্চে এবং সাধারণ মহলে 'জিহাদ' শব্দটিকে নেতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। এর জন্য জামায়াতের মতো দলগুলোই প্রধানত দায়ী।

জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহাসিক ভন্ডামি ও রাজনৈতিক ডিগবাজি

জামায়াতে ইসলামীর ভন্ডামির ইতিহাস কেবল বর্তমানের এই আর্থিক ও সাংগঠনিক অনিয়মেই সীমাবদ্ধ নয়; এর শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। এই দলটির জন্মলগ্ন থেকেই তারা সুবিধাবাদী এবং ইসলাম-বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চলেছে। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওলানা মওদুদী সাহেব একসময় পাকিস্তানের রাজনীতি এবং কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, অথচ পরবর্তীতে পাকিস্তান সৃষ্টির পর তারাই পাকিস্তানের তথাকথিত 'ইসলামী ঠিকাদার' সেজে বসে।

সবচেয়ে বড় ভন্ডামি ও কলঙ্ক অধ্যায় রচিত হয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়। জামায়াতে ইসলামী ইসলামের পবিত্র নাম ব্যবহার করে তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মেলায়। তারা আল-বদর, আল-শামস এবং রাজাকার বাহিনী গঠন করে এদেশের লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি করে এবং দেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। তারা ফতোয়া দিয়েছিল যে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালিদের এই স্বাধীনতার লড়াই নাকি 'কাফেরদের যুদ্ধ' এবং পাকিস্তানকে রক্ষা করাই নাকি 'জিহাদ'। Muslim ভাইদের ওপর নির্বিচারে অত্যাচার ও গণহত্যা চালানোকে যারা ইসলামের নামে জায়েজ করেছিল, তাদের চেয়ে বড় ভন্ড ও ধর্ম ব্যবসায়ী এই উপমহাদেশে আর কে হতে পারে?

স্বাধীনতার পর তাদের রাজনৈতিক ডিগবাজি আরও স্পষ্ট রূপ নেয়। যে গণতন্ত্রকে মওদুদী সাহেব তার বইপুস্তকে 'হারাম' এবং 'কুফর' বলে অভিহিত করেছিলেন, ক্ষমতার লোভে জামায়াতে ইসলামী সেই পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই সানন্দে লুফে নেয়। তারা জোট রাজনীতির নামে কখনো ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সাথে লিয়াজোঁ করেছে, কখনো বা ক্ষমতার অংশীদার হতে আদেশিক শত্রুদের সাথে হাত মিলিয়েছে। তাদের কাছে দেশ, জাতি বা ধর্ম কখনো বড় ছিল না; তাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল এবং আছে যেকোনো উপায়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা।

অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম ব্যবসা

জামায়াতে ইসলামী আর্থিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দল। কিন্তু এই বিপুল অর্থের উৎস কী? এর পেছনে রয়েছে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে বাণিজ্যিকীকরণ করার এক সুদূরপ্রসারী নকশা। তারা বাংলাদেশে ব্যাংক, বীমা, hospital, কোচিং সেন্টার, প্রকাশনা সংস্থা এবং বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে এক বিশাল সমান্তরাল অর্থনীতি গড়ে তুলেছে।

সাধারণ মানুষ মনে করে 'ইসলামী' নামধারী এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে লেনদেন করলে সওয়াব হবে বা সুদ থেকে বাঁচা যাবে। কিন্তু বাস্তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশের একটি বিশাল অংশ সুকৌশলে চলে যায় জামায়াতের দলীয় তহবিলে, যা পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয় রাজনৈতিক নাশকতা ও ক্যাডার পালনের কাজে। তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে একচেটিয়া ব্যবসা করছে, অথচ ইসলামের মূল আদর্শ-যেমন সততা, স্বচ্ছতা এবং মানবকল্যাণ-সেগুলোর কোনো বালাই তাদের ব্যবসায়িক মডেলে নেই। এটিই হলো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম ব্যবসার নিকৃষ্টতম উদাহরণ।

মনস্তাত্ত্বিক মগজ ধোলাই ও পারিবারিক ভাঙন

জামায়াতের আরেকটি ভয়ংকর দিক হলো তাদের সুসংগঠিত মনস্তাত্ত্বিক মগজ ধোলাই (Brainwashing) প্রক্রিয়া। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং নারীদের মধ্যে তারা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এই জাল বিস্তার করে। আমার ভাবীর মোবাইলে আসা ফোন কলটি তারই প্রমাণ। তারা নারীদের টার্গেট করে কারণ একজন নারী সচেতন বা মগজ ধোলাইয়ের শিকার হলে পুরো পরিবারকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

তারা এমন এক মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ তৈরি করে যেখানে কর্মীদের বোঝানো হয়- 'জামায়াতই হলো ইসলাম, আর জামায়াতের বাইরে যা কিছু আছে সবই ভ্রান্ত বা জাহেলিয়াত'। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উগ্র অহংবোধ তৈরি হয়। তারা নিজেদের বাবা-মা, ভাই-বোন বা সমাজকে 'অপবিত্র' বা 'দ্বীনহীন' মনে করতে শুরু করে। জামায়াতের এই সংকীর্ণ ও উগ্র দীক্ষা বহু সুসংগঠিত পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তৈরি করেছে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা।

এমনকি আমার দেখা অনেক ছেলেই শুধুমাত্র জামায়াত শিবিরের রাজনীতি করার জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে মেসে ভাড়া থাকে। কারণ ঘরবাড়িতে জামায়াত শিবিরের রাজনীতি ঠিকভাবে করা যাবে না, তাই তারা মেসে থাকে যেন সময়মতো জামায়াত শিবিরের বিভিন্ন বৈঠক, অনুষ্ঠান ও আন্দোলনে যেতে পারে।

ইসলামের মূল স্তম্ভ বনাম জামায়াতের রাজনৈতিক এজেন্ডা

ইসলামের মূল ভিত্তি বা স্তম্ভ পাঁচটি, যা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অবশ্য পালনীয়:

কালেমা: আল্লাহর একত্ববাদ ও রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া।

নামাজ: দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করা।

রোজা: পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনা করা।

হজ্জ্ব: সামর্থ্যবানদের জন্য আল্লাহর ঘরের জিয়ারত করা।

যাকাত: ধনীদের সম্পদে দরিদ্রের যে অধিকার আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন তা প্রদান করা।

জামায়াতে ইসলামীর সামগ্রিক কর্মকাণ্ড এবং তাদের দলীয় সাহিত্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা এই মৌলিক ইবাদতগুলোর চেয়েও 'দলীয় আনুগত্য', 'আমীরের নির্দেশ পালন' এবং 'দলীয় তহবিল (ইয়ানত) সংগ্রহ'-কে বেশি গুরুত্ব দেয়। তাদের কাছে দ্বীনেরক্ষার চেয়েও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায় দলের অস্তিত্ব রক্ষা। জামায়াতের কর্মকাণ্ডের সাথে ইসলামের এই মূল স্তম্ভগুলোর কতটুকু প্রকৃত যোগসূত্র আছে, নাকি তারা এগুলোকে কেবলই নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের একটি আবরণ হিসেবে রেখেছে তার বিচারের ভার আমি দেশের বিবেকবান ও সচেতন পাঠকদের ওপরই ছেড়ে দিলাম।

ইসলামের এই মৌলিক স্তম্ভগুলোর বিপরীতে জামায়াত যে সমান্তরাল দলীয় কাঠামো তৈরি করেছে, তা নিচে ছকের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হলো:

ইসলামের মূল স্তম্ভ

জামায়াতের সমান্তরাল দলীয় এজেন্ডা

ধর্মীয় ও সামাজিক প্রভাব

কালেমা (তৌহিদ ও রিসালাত)

দলীয় আনুগত্য ও আমীরের অন্ধ অনুকরণ।

ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা ও ইসলামের মূল রূপ থেকে বিচ্যুতি।

নামাজ (কায়েম করা)

দলীয় মিটিং ও মিছিলে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ।

ইবাদতের চেয়ে রাজনৈতিক উপযোগিতাকে প্রাধান্য দেওয়া।

রোজা (আত্মশুদ্ধি)

প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও রাজনৈতিক উগ্রতা ছড়ানো।

সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি।

হজ্জ (মুসলিম উম্মাহর ঐক্য)

আন্তর্জাতিক স্তরে লবিং ও ফান্ডিং নেটওয়ার্ক তৈরি।

পবিত্র ধর্মীয় বিধানকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার।

যাকাত (দরিদ্রের অধিকার)

‘ইয়ানত’ ও ‘বায়তুলমাল’ এর নামে বাধ্যতামূলক চাঁদা।

অর্থনৈতিক শোষণ এবং ধর্মীয় কর ব্যবস্থার বিকৃতি।

জামায়াতে ইসলামীর ভণ্ডামি ও দ্বিমুখী নীতির অন্যান্য দিক

জামায়াতের এই ৩২ পাতার সাধারণ একটি বইতেই যদি ধর্ম ব্যবসার এত নমুনা পাওয়া যায়, তবে তাদের বাকি সাহিত্য ও বইগুলোতে যে আরও কত ভয়াবহ বিভ্রান্তি লুকিয়ে আছে, তা কেবল আল্লাহই ভালো জানেন। জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস ঘাঁটলে তাদের ভণ্ডামির এমন কিছু দিক উন্মোচিত হয়, যা সাধারণ মুসলমানদের জানা জরুরি:

মগজ ধোলাই (Brainwashing) প্রক্রিয়া

জামায়াত তাদের কর্মীদের এমনভাবে মগজ ধোলাই করে যে, কর্মীরা মনে করতে শুরু করে: “জামায়াত মানেই ইসলাম, আর জামায়াত না থাকা মানে ইসলাম না থাকা।” তারা ইসলামের একচেটিয়া ঠিকাদার সেজে বসে আছে। কোনো সাধারণ মুসলমান যদি তাদের রাজনৈতিক দর্শনের বিরোধিতা করে, তাকে সাথে সাথে ‘ইসলামের শত্রু’ বা ‘মুনাফিক’ বলে ফতোয়া দেওয়া হয়। এটি ইসলামের উদার ও সার্বজনীন রূপের ওপর এক চরম আঘাত।

১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক পাপ ও যুদ্ধাপরাধ

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় এবং অকাট্য অভিযোগ হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের পাকিস্তানপন্থী ভূমিকা। ধর্মের নাম ব্যবহার করে তারা সে সময় আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল। ইসলামের নাম নিয়ে তারা এদেশের ৩০ লক্ষ মানুষের ওপর চালানো গণহত্যা ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানিকে সমর্থন করেছিল। এই ঐতিহাসিক অপরাধের গ্লানি তারা আজ পর্যন্ত সুন্দর সুন্দর কথার আড়ালে ঢাকার চেষ্টা করছে।

কর্পোরেট ইসলাম বা ধর্মের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য

আর্থিকভাবে জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত শক্তিশালী। ব্যাংক, বীমা, হাসপাতাল, কোচিং সেন্টার থেকে শুরু করে বিভিন্ন লাভজনক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের নিয়ন্ত্রণে। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে চাঁদা তোলে, অথচ সেই অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করা হয় তাদের বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য বিস্তারে। তাদের কথাগুলো অনেক সুন্দর ও চটকদার হলেও, ভেতরে ভেতরে তারা ইসলামের মূল চেতনা থেকে আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে।

প্রকৃত জিহাদ বনাম জামায়াত-জঙ্গিবাদের অপব্যাখ্যা

কুরআন ও হাদিসে যে প্রকৃত জিহাদের কথা বলা হয়েছে, একজন সাচ্চা মুসলমান হিসেবে আমি তার প্রতি পূর্ণ সহমত পোষণ করি। সমাজ থেকে অন্যায় দূর করা, নিজের নফসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই হলো আসল জিহাদ। আজকাল অনেক ধর্মের প্রতি উদাসীন মানুষ বা তথাকথিত প্রগতিশীলরা জিহাদ শব্দটিকে কটু দৃষ্টিতে দেখে। তাদের এই কটু দৃষ্টিতে ইসলামের বা আল্লাহর কিছু যায় আসে না।

কিন্তু আজ সমাজে জিহাদ শব্দটি যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে, তার জন্য দায়ী জামায়াতে ইসলামী এবং কিছু উগ্রপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী। তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে, বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা, জ্বালাও-পোড়াও করা এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর চড়াও হওয়াকে ‘জিহাদ’ বলে চালিয়ে দিয়েছে। ফলে অমুসলিম ও সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামের একটি নেতিবাচক ও উগ্র চিত্র উপস্থাপিত হচ্ছে। জামায়াত মূলত জিহাদের মতো একটি পবিত্র ইবাদতকে নিজেদের পকেট ও দল ভারী করার সস্তা হাতিয়ারে পরিণত করেছে।

রাষ্ট্রের নীরবতা ও নাগরিক সমাজের দায়িত্ব

এখানে একটি বড় প্রশ্ন দেখা দেয় রাষ্ট্র এই ধরনের প্রকাশ্য এবং সুসংগঠিত চাঁদাবাজির ব্যাপারে কেন নির্বিকার? বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলের কি সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার ভয় দেখিয়ে এভাবে চাঁদা বা ইয়ানত তোলার অধিকার আছে? দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা শহরে জিহাদী বই বা লিফলেট রাখার কারণে প্রায়শই উগ্রপন্থী বা জঙ্গিদের গ্রেফতার হতে দেখা যায়। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী যখন তাদের ৩২ পাতার এই প্রকাশ্য বিভ্রান্তিকর, ঈমান হরণকারী বই সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে বিলি করে এবং জিহাদের নামে ক্যাডার তৈরির উস্কানি দেয়, তখন রাষ্ট্র কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয় না? এই মহিলা কর্মী যারা ঘরে ঘরে গিয়ে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা আজ সময়ের দাবি।

সচেতনতা ও শুদ্ধ ইসলামের প্রত্যাশা

আজ জামায়াতের বইটি পড়ার পর আমার মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে যে, জামায়াতে ইসলামী দেশের জন্য তো বটেই, খোদ ইসলামের জন্যও এক বিরাট হুমকি। তারা তাদের কর্মীদের যেভাবে অন্ধ বানায়, তাতে কর্মীদের মনে হয় ইসলাম মানেই জামায়াত, আর জামায়াত না থাকা মানে ইসলাম না থাকা। এটি এক ধরনের মারাত্মক মনস্তাত্ত্বিক রোগ।

আমাদের দেশের সকল সাধারণ মানুষের এখন সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। জামায়াতের কাছে আসলে দেশ বা ধর্ম কোনোটিই বড় নয়; তাদের মূল লক্ষ্য হলো ধর্মের আবরণে ক্ষমতা এবং অর্থ প্রতিপত্তি অর্জন করা। তাদের সুন্দর সুন্দর কথা আর মিষ্টি লেবাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর হিংস্র ও সুবিধাবাদী চেহারা।

পরিশেষে আমি এটাই বলব এরা ইসলামের কেউ নয়। এরা শুধুই জামাত, এরা শুধুই শিবির, এবং এদের মূল পরিচয় এরা শুধুই সুবিধাবাদী ও স্বাধীনতার শত্রু রাজাকার। এদের এই মুখোশধারী ধর্ম ব্যবসার অবসান ঘটানোই হোক আমাদের সকলের অঙ্গীকার।

আজকে মুসলিম জাতির জন্য একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে বা ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য ধর্মের পবিত্র নাম ব্যবহার করে ব্যবসা বা চাঁদাবাজি করতে না পারে। জামায়াত-শিবির এদেশের সাধারণ মানুষের যতটা না ক্ষতি করেছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতি করেছে আমাদের পবিত্র ধর্মের ভাবমূর্তির। এরা ইসলামের সেবক নয়, বরং ধর্মের লেবাসধারী একদল সুবিধাবাদী ও ভন্ড। এদের ব্যাপারে দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে, নিজেদের পরিবারকে এদের মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে হবে। তবেই আমাদের ধর্ম এবং দেশ এই রাজনৈতিক ভন্ডামির হাত থেকে মুক্তি পাবে।

লেখক: রাহেলা হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Aug 9, 2026

/

Post by

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী অতিক্রান্ত হলেও পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি এবং তার শাসনযন্ত্রের মূল নিয়ামক 'সামরিক-গোয়েন্দা অক্ষ' (Military-Intelligence Establishment) বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অসাম্প্রদায়িক সত্তা এবং অগ্রযাত্রাকে মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি মেনে নিতে পারেনি। ১৯৭১ সালের বর্বর গণহত্যা থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পথে কৃত্রিম সংকট তৈরি, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা, পরবর্তীকালে উগ্রবাদের উত্থান এবং রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাকিস্তানের একটি নিরবচ্ছিন্ন অশুভ ভূমিকা বিদ্যমান।

Aug 8, 2026

/

Post by

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কুশীলব এবং নেপথ্য চক্রান্তকারী হিসেবে যে নামটি বারবার উঠে আসে, তিনি হলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা শরীফুল হক ডালিম (যিনি ‘মেজর ডালিম’ নামে সমধিক পরিচিত)। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, সামরিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর তাঁকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার আসন থেকে বিচ্যুত করে এক বিতর্কিত ও জাতির বিশ্বাসঘাতক চরিত্রে পরিণত করেছে।

Aug 5, 2026

/

Post by

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আজ পর্যন্ত তা সে ভিয়েতনাম হোক, কোরিয়া, আফগানিস্তান কিংবা ইরাক আমেরিকা যেসব সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে, তার প্রায় কোনোটিতেই তারা কাঙ্ক্ষিত 'চূড়ান্ত বিজয়' হাসিল করতে পারেনি। ২০২১ সালে প্রায় দুই দশক ধরে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পর আফগানিস্তান থেকে তালিবানদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে মার্কিন সেনাদের বিশৃঙ্খল প্রস্থান কিংবা ইরাককে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ফিরে আসা সামরিক দিক থেকে এগুলোকে জয় বলা যায় না। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, সংঘাতের ফলাফল বা সামরিক পরাজয় যাই হোক না কেন, প্রতিটি যুদ্ধ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে অভূতপূর্ব লাভবান হয়েছে।

Aug 5, 2026

/

Post by

বাংলাদেশ বিরোধী অপশক্তির মূল কাণ্ডারী ও নির্দেশদাতা ছিলেন তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি আলফ্রেড কিসিঞ্জার। বিশ শতকের বৈশ্বিক কূটনীতিতে ‘রিয়েলপলিটিক’ (Realpolitik) বা নীতিনৈতিকতাহীন পরম স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে কুখ্যাত রূপকার ছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। নিজের ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি, জাতিগত নিধন কিংবা গণতন্ত্র হত্যাকে তিনি স্রেফ ক্ষমতার সমীকরণের সামান্য ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ (Collateral Damage) বলে গণ্য করতেন।

Jul 29, 2026

/

Post by

এতদিন ধরে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তান যে অঞ্চলটিকে তথাকথিত "স্বাধীন কাশ্মীর"-এর মডেল হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছে, আজ তা এক সুবিশাল উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আজাদ কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের ওপর পাকিস্তান সরকারের পরিচালিত নজিরবিহীন দমন-পীড়ন আর কেবল সাধারণ কোনো প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাময়িক তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি স্পষ্টতই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, মানবিকতা এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বের সমস্ত সীমানা লঙ্ঘন করেছে।

Jul 27, 2026

/

Post by

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র ‘ভারত প্রজাতন্ত্রের’ (Republic of India) জন্য এই ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জের চরমতম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশে অবস্থিত অতি সংকীর্ণ একটি ভূখণ্ডে যার নাম শিলিগুড়ি করিডোর (Siliguri Corridor)। কৌশলগত পরিমণ্ডলে করিডোরটি সর্বজনীনভাবে ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck) বা ‘মুরগির ঘাড়’ নামে পরিচিত। শিলিগুড়ি করিডোরকে ভারতের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রেক্ষাপটে এক ‘ভূরাজনৈতিক দোধারী তলোয়ার’ (Double-edged Sword) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

Aug 9, 2026

/

Post by

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী অতিক্রান্ত হলেও পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি এবং তার শাসনযন্ত্রের মূল নিয়ামক 'সামরিক-গোয়েন্দা অক্ষ' (Military-Intelligence Establishment) বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অসাম্প্রদায়িক সত্তা এবং অগ্রযাত্রাকে মনস্তাত্ত্বিক ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি মেনে নিতে পারেনি। ১৯৭১ সালের বর্বর গণহত্যা থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পথে কৃত্রিম সংকট তৈরি, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা, পরবর্তীকালে উগ্রবাদের উত্থান এবং রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পাকিস্তানের একটি নিরবচ্ছিন্ন অশুভ ভূমিকা বিদ্যমান।

Aug 8, 2026

/

Post by

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কুশীলব এবং নেপথ্য চক্রান্তকারী হিসেবে যে নামটি বারবার উঠে আসে, তিনি হলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা শরীফুল হক ডালিম (যিনি ‘মেজর ডালিম’ নামে সমধিক পরিচিত)। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, সামরিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর তাঁকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার আসন থেকে বিচ্যুত করে এক বিতর্কিত ও জাতির বিশ্বাসঘাতক চরিত্রে পরিণত করেছে।

Aug 5, 2026

/

Post by

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আজ পর্যন্ত তা সে ভিয়েতনাম হোক, কোরিয়া, আফগানিস্তান কিংবা ইরাক আমেরিকা যেসব সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে, তার প্রায় কোনোটিতেই তারা কাঙ্ক্ষিত 'চূড়ান্ত বিজয়' হাসিল করতে পারেনি। ২০২১ সালে প্রায় দুই দশক ধরে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পর আফগানিস্তান থেকে তালিবানদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে মার্কিন সেনাদের বিশৃঙ্খল প্রস্থান কিংবা ইরাককে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে ফিরে আসা সামরিক দিক থেকে এগুলোকে জয় বলা যায় না। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, সংঘাতের ফলাফল বা সামরিক পরাজয় যাই হোক না কেন, প্রতিটি যুদ্ধ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে অভূতপূর্ব লাভবান হয়েছে।

Aug 5, 2026

/

Post by

বাংলাদেশ বিরোধী অপশক্তির মূল কাণ্ডারী ও নির্দেশদাতা ছিলেন তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি আলফ্রেড কিসিঞ্জার। বিশ শতকের বৈশ্বিক কূটনীতিতে ‘রিয়েলপলিটিক’ (Realpolitik) বা নীতিনৈতিকতাহীন পরম স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতির সবচেয়ে কুখ্যাত রূপকার ছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। নিজের ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি, জাতিগত নিধন কিংবা গণতন্ত্র হত্যাকে তিনি স্রেফ ক্ষমতার সমীকরণের সামান্য ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ (Collateral Damage) বলে গণ্য করতেন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.