>

>

ভারত যদি মুক্তিযুদ্ধে না জড়াতো তাহলে বাংলাদেশ কি স্বাধীন হতো?

ভারত যদি মুক্তিযুদ্ধে না জড়াতো তাহলে বাংলাদেশ কি স্বাধীন হতো?

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি বিতর্ক প্রায়ই শোনা যায় - "ভারত সহায়তা না করলে আমাদের হয়তো দেরি হতো, কিন্তু আমরা স্বাধীন হতামই।" এই ধারণাটি শুনতে আবেগপ্রবণ মনে হলেও, সামরিক বিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় এর ভিত্তি অত্যন্ত নড়বড়ে। ১৯৭১ সালে বাঙালির অদম্য সাহস যদি যুদ্ধের 'ইঞ্জিন' হয়ে থাকে, তবে ভারত ছিল সেই ইঞ্জিনের 'জ্বালানি' এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর 'নিরাপদ পথ'।

TruthBangla

ইতিহাস কেবল বীরত্বগাঁথা দিয়ে রচিত হয় না; ইতিহাস রচিত হয় সামরিক কৌশল, ভৌগোলিক সুবিধা এবং কূটনৈতিক মিত্রতার সমীকরণে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে একটি বিতর্ক প্রায়ই শোনা যায় - "ভারত সহায়তা না করলে আমাদের হয়তো দেরি হতো, কিন্তু আমরা স্বাধীন হতামই।" এই ধারণাটি শুনতে আবেগপ্রবণ মনে হলেও, সামরিক বিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় এর ভিত্তি অত্যন্ত নড়বড়ে। ১৯৭১ সালে বাঙালির অদম্য সাহস যদি যুদ্ধের 'ইঞ্জিন' হয়ে থাকে, তবে ভারত ছিল সেই ইঞ্জিনের 'জ্বালানি' এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর 'নিরাপদ পথ'। ভারতের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া একটি আধুনিক এবং সুসংগঠিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কেবল সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ দিয়ে বিজয় অর্জন করা কতটা অসম্ভব ছিল, আজ আমরা সেই নির্মোহ সত্যটিই বিশ্লেষণ করব।

ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা ও ভারতের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে দূরত্ব ছিল প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার (১০০০ মাইল)। মাঝখানে ছিল বিশাল ভারতীয় ভূখণ্ড। যুদ্ধের শুরুতেই ভারত একটি অত্যন্ত দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা পাকিস্তানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।

আকাশপথের অবরোধ

ফেব্রুয়ারি ১৯৭১-এ 'গঙ্গা' নামক একটি ভারতীয় বিমান হাইজ্যাক হওয়ার পর ভারত তার আকাশসীমা পাকিস্তানের জন্য বন্ধ করে দেয়। এর ফলে পাকিস্তান তাদের সৈন্য ও রসদ সরাসরি পূর্ব পাকিস্তানে পাঠাতে পারছিল না। তাদের ঘুরে শ্রীলঙ্কা হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। যদি ভারত আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিত, তবে মার্চের 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর সময় পাকিস্তান হাজার হাজার সৈন্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় নামাতে পারত। ভারতের এই বাধার কারণে পাকিস্তান নেপাল বা ভুটানের ভূখণ্ডও ব্যবহার করতে পারেনি, কারণ ভারত তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল।

নৌপথের সীমাবদ্ধতা

ভারতের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় পাকিস্তান পুরোপুরি নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধিপত্যের কারণে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে রসদ পৌঁছানো ছিল চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতাই পাকিস্তানকে যুদ্ধের শুরুতেই মানসিকভাবে অর্ধেক পরাজিত করে ফেলেছিল।

মুক্তিবাহিনী বনাম পাকিস্তান সেনাবাহিনী

অনেকেই মনে করেন, কেবল গেরিলা যুদ্ধ দিয়ে একটি আধুনিক বাহিনীকে পরাজিত করা সম্ভব। কিন্তু সামরিক ইতিহাস বলে, কোনো গেরিলা বাহিনী কখনোই একটি শক্তিশালী নিয়মিত বাহিনীকে পরাজিত করতে পারে না যদি না তাদের কোনো 'সেফ হ্যাভেন' বা নিরাপদ আশ্রয় এবং নিয়মিত সামরিক সহায়তা থাকে।

প্রশিক্ষণ ও আশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তা

মার্চের পর যখন পাকিস্তানি বাহিনীর তাণ্ডব শুরু হয়, তখন প্রায় ১ কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেয়। এই শরণার্থীদের মধ্য থেকেই গড়ে ওঠে মুক্তিবাহিনী। ভারত যদি তার সীমান্ত খুলে না দিত, তবে এই বিশাল জনগোষ্ঠী দেশের ভেতরেই গণহত্যার শিকার হতো। মুক্তিবাহিনী তাদের ট্রেনিং ক্যাম্পগুলো ভারতের মাটিতেই স্থাপন করেছিল। ভারতের 'র' (RAW) এবং বিএসএফ (BSF) সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। ভারতের মাটি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে পুনর্গঠিত হওয়া এবং পাল্টা আঘাত করা অসম্ভব ছিল।

২.২. কামানের সামনে লাঠি: আধুনিক যুদ্ধের সীমাবদ্ধতা

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ছিল সেই সময়ের অন্যতম সুসংগঠিত বাহিনী। তাদের ছিল ট্যাঙ্ক, কামান এবং বিমানবাহিনী। সাধারণ জনগণের অদম্য ইচ্ছা থাকলেও, আধুনিক মরণাস্ত্রের সামনে তারা কতদিন টিকতে পারত? পর্যাপ্ত ভারী অস্ত্র ছাড়া মুক্তিবাহিনী কখনোই পাকিস্তানি বাঙ্কারগুলো ধ্বংস করতে পারত না। ৩ ডিসেম্বর ভারত সরাসরি যুদ্ধে নামার পর তাদের বিমানবাহিনী ও ট্যাঙ্ক ডিভিশন মাত্র ১৩ দিনে ঢাকাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এই দ্রুত বিজয় ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়া কল্পনাও করা যায় না।

কূটনৈতিক যুদ্ধ - ইন্দিরা গান্ধীর বিশ্ব অভিযান

একটি যুদ্ধের জয় কেবল রণাঙ্গনে হয় না, তা অর্জিত হয় বিশ্বনেতাদের টেবিলও। ১৯৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। সেই সময়ে বাংলাদেশের ন্যায্যতার কথা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা ছিল পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।

ভারতের জোরালো কূটনীতি

তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিশ্বজুড়ে সফর করে বাংলাদেশের গণহত্যার ভয়াবহতা এবং যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বিশ্ব জনমতকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশের পক্ষে নিয়ে আসেন। ভারত যদি এই কূটনৈতিক লড়াই না করত, তবে আন্তর্জাতিক সমাজ একে পাকিস্তানের 'অভ্যন্তরীণ বিষয়' হিসেবেই দেখে যেত।

ইন্দো-সোভিয়েত চুক্তি ও আমেরিকার গতিরোধ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন সপ্তম নৌবহর (7th Fleet) বঙ্গোপসাগরে পাঠিয়েছিল, তখন ভারত যদি রাশিয়ার (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) সাথে ' Indo-Soviet Treaty of Peace, Friendship and Cooperation' না করত, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত। রাশিয়ার সহায়তা নিশ্চিত করেই ভারত আমেরিকাকে রুখে দিয়েছিল। এই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দাবার চালে ভারত না থাকলে বাংলাদেশ একা কখনোই পরাশক্তিদের মোকাবিলা করতে পারত না।

স্বাধীনতা কেন আসেনি অন্য দেশগুলোতে

ভারতের সহায়তার গুরুত্ব বুঝতে হলে আমাদের তাকাতে হবে বিশ্বের অন্যান্য স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে। অনেক জাতি দশকের পর দশক লড়াই করেও স্বাধীন হতে পারছে না কেবল একটি শক্তিশালী 'বন্ধুরাষ্ট্রের' অভাবে।

কাশ্মীর ও বেলুচিস্তান - বন্ধুহীন লড়াই

কাশ্মীর বা বেলুচিস্তানের মানুষেরা দীর্ঘকাল ধরে লড়াই করছে। কিন্তু তাদের ভৌগোলিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণ এমন যে, কোনো পরাশক্তি বা প্রতিবেশী রাষ্ট্র তাদের হয়ে সরাসরি লড়ছে না। বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবি পাকিস্তান সেনাবাহিনী কঠোরভাবে দমন করছে, কিন্তু তাদের পাশে ভারতের মতো কোনো দেশ দাঁড়াতে পারছে না ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে।

চেচনিয়া - রাশিয়ার পাহাড়সম শক্তি

চেচনিয়া রাশিয়ার হাত থেকে স্বাধীন হওয়ার জন্য কয়েক দফা যুদ্ধ করেছে। তাদের যোদ্ধারা অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ছিল। কিন্তু রাশিয়ার সামরিক শক্তির সামনে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর নীরবতার কারণে তারা আজ পরাজিত ও পর্যুদস্ত। একইভাবে কুর্দিরা (Kurds) দীর্ঘকাল লড়াই করেও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পাচ্ছে না, কারণ তুরস্ক, ইরান ও ইরাকের মতো প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের শত্রু।

বন্ধুর প্রয়োজনীয়তা

এই উদাহরণগুলো প্রমাণ করে যে, কেবল ন্যায্য দাবি আর অদম্য সাহস একটি দেশকে স্বাধীন করার জন্য যথেষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্র যদি সরাসরি যুদ্ধে না জড়ায়, তবে স্বাধীনতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব বা অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ ভাগ্যবান ছিল যে, ভারত তার স্বার্থেই হোক বা মানবিক কারণেই হোক, সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়েছিল।

দালাল নাকি প্রজ্ঞাবান নাগরিক

বাংলাদেশে একটি প্রচলিত প্রবণতা হলো - ভারতের অবদানের কথা বললেই তাকে স্বাধীনতা বিরোধীরা 'ভারতের দালাল' তকমা দেয়। কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আর দাসত্ব করা এক বিষয় নয়।

যারা মনে করেন ভারত ছাড়াও আমরা স্বাধীন হতাম, তারা মূলত যুদ্ধের রসদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং সামরিক কৌশলের গুরুত্বকে উপেক্ষা করেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তৈরি হয় সত্যকে স্বীকার করার মাধ্যমে। ভারত ১৯৭১ সালে আমাদের শুধু অস্ত্র দেয়নি, তারা তাদের ভূখণ্ড দিয়েছে এবং যুদ্ধের চরম মুহূর্তে ভারতীয় জওয়ানদের রক্ত দিয়েছে।

ভারতকে ঘৃণা করা বা পছন্দ করা আপনার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, কিন্তু ১৯৭১ সালের বাস্তবতাকে অস্বীকার করা হলো ঐতিহাসিক অসততা। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশ হয়তো আরেকটি কাশ্মীর বা চেচনিয়ায় পরিণত হতো, যেখানে স্বাধীনতার স্বপ্ন আজও রক্তের সাগরে ভাসছে।

সার্বভৌমত্ব ও কৃতজ্ঞতা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বাঙালির বীরত্ব আর ভারতীয় সহায়তার এক অনন্য সংমিশ্রণ। ভারত যদি যুদ্ধে না জড়াতো, তবে পাকিস্তানের 'পোড়ামাটি নীতি' বাস্তবায়িত হয়ে যেত এবং বাঙালির দীর্ঘদিনের সংগ্রাম হয়তো অঙ্কুরেই বিনষ্ট হতো অথবা এক অন্তহীন গৃহযুদ্ধের রূপ নিত।

আমরা আজ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক। এই সার্বভৌমত্ব আমাদের অহংকার। কিন্তু এই স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে ভারতের যে অসামান্য ঋণ রয়েছে, তা স্বীকার করলে আমরা ছোট হই না, বরং আমাদের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পরিপক্বতা প্রকাশ পায়। যারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে, তারাই ভবিষ্যতে নিজেদের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে পারে।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jan 8, 2026

/

Post by

শান্ত সমুদ্রের নিচে অশান্ত কূটনীতি নীল জলরাশি আর প্রবাল প্রাচীরে ঘেরা বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটকদের কাছে এটি স্বপ্নের স্বর্গভূমি হলেও বিশ্বশক্তির সামরিক পরিকল্পনাবিদদের কাছে এটি এক স্ট্র্যাটেজিক 'সোনার খনি'। সাম্প্রতিক সময়ে সেন্টমার্টিন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন এটি ছোট এবং নরম মাটির দ্বীপ বলে এখানে সামরিক ঘাঁটি করা অসম্ভব, আবার কেউ বলছেন আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

Jan 6, 2026

/

Post by

আমেরিকার বিরুদ্ধে গর্জন দিয়ে বিশ্বে একমাত্র শেখ হাসিনাই প্রাণে বেঁচে আছেন। বিশ্ব রাজনীতির নেপথ্য খেলা একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা যখন একটি 'গণতান্ত্রিক' ও 'মানবাধিকার' রক্ষা রক্ষাকারী বিশ্বের কথা বলি, তার আড়ালে কি কোনো অদৃশ্য সুতো খেলা করে? ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, কোনো ক্ষুদ্র বা মাঝারি রাষ্ট্রের নেতা যখনই নিজের দেশের স্বার্থকে পরাশক্তির স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন, তখনই তাঁর ওপর নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। আমেরিকার মতো পরাশক্তির নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের ক্ষমতা এবং জীবন বাজি রাখার সাহস দেখিয়েছেন হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্বনেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাদ্দাম হোসেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ার শেখ হাসিনা পর্যন্ত এই যাত্রাপথে 'বিদ্রোহ' আর 'দমন' এর এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস লেখা আছে।

Jan 1, 2026

/

Post by

ইতিহাসের বিচার ও কালের সাক্ষী ইতিহাসের একটি চিরন্তন শিক্ষা হলো ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমনই কিছু অমীমাংসিত এবং আলোচিত অধ্যায় রয়েছে, যা আজও আমাদের ভাবিয়ে তোলে। ২০০৪ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১০ সালের সেনানিবাসের বাড়ির আইনি লড়াই এই সময়কালটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির এক উত্তাল ও নাটকীয় অধ্যায়।

Dec 27, 2025

/

Post by

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রক্সি যুদ্ধ এবং আদর্শিক লড়াইয়ের ময়দান কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথের গ্রাফিতি পর্যন্ত। সম্প্রতি ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র আন্তর্জাতিক মহলের নজরে এসেছে। সেখানে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট নিহত ওসমান হাদির ছবি এবং কিছু বিতর্কিত স্লোগান অঙ্কিত হয়েছে। বিষয়টিকে কেবল একটি দেয়ালচিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এর গভীরে লুকিয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়ার জটিল ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের নীল নকশা।

Dec 22, 2025

/

Post by

রাজনীতিতে মানুষের জীবনের চেয়ে লাশের মূল্য কি বেশি? প্রশ্নটি কর্কশ হলেও বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ছাত্রনেতা ওসমান হাদির অকাল প্রয়াণ এবং তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্মাদনা আমাদের সমাজের এক নগ্ন সত্যকে সামনে এনেছে। আমরা কি কেবল মানুষকে মরার পরই সম্মান করতে জানি? নাকি জীবিত হাদির চেয়ে ‘মৃত হাদি’ এখন কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বেশি সুবিধাজনক?

Dec 21, 2025

/

Post by

ইরাকের সাদ্দাম হোসেন এবং বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উভয় নেতাই নিজ নিজ দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতি যে পিতৃসুলভ আস্থা রেখেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই আস্থার বৃত্তের ভেতরেই যে বিশ্বাসঘাতকতার বিষবাষ্প দানা বেঁধেছিল, তা ইতিহাসের এক নির্মম সমান্তরাল রেখা। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়কদের পতনের গল্পগুলো প্রায়ই রণক্ষেত্রের বীরত্ব দিয়ে নয়, বরং অন্দরমহলের বিশ্বাসঘাতকতা দিয়ে লেখা হয়েছে।

Jan 8, 2026

/

Post by

শান্ত সমুদ্রের নিচে অশান্ত কূটনীতি নীল জলরাশি আর প্রবাল প্রাচীরে ঘেরা বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটকদের কাছে এটি স্বপ্নের স্বর্গভূমি হলেও বিশ্বশক্তির সামরিক পরিকল্পনাবিদদের কাছে এটি এক স্ট্র্যাটেজিক 'সোনার খনি'। সাম্প্রতিক সময়ে সেন্টমার্টিন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন এটি ছোট এবং নরম মাটির দ্বীপ বলে এখানে সামরিক ঘাঁটি করা অসম্ভব, আবার কেউ বলছেন আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

Jan 6, 2026

/

Post by

আমেরিকার বিরুদ্ধে গর্জন দিয়ে বিশ্বে একমাত্র শেখ হাসিনাই প্রাণে বেঁচে আছেন। বিশ্ব রাজনীতির নেপথ্য খেলা একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা যখন একটি 'গণতান্ত্রিক' ও 'মানবাধিকার' রক্ষা রক্ষাকারী বিশ্বের কথা বলি, তার আড়ালে কি কোনো অদৃশ্য সুতো খেলা করে? ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, কোনো ক্ষুদ্র বা মাঝারি রাষ্ট্রের নেতা যখনই নিজের দেশের স্বার্থকে পরাশক্তির স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন, তখনই তাঁর ওপর নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। আমেরিকার মতো পরাশক্তির নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের ক্ষমতা এবং জীবন বাজি রাখার সাহস দেখিয়েছেন হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্বনেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাদ্দাম হোসেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ার শেখ হাসিনা পর্যন্ত এই যাত্রাপথে 'বিদ্রোহ' আর 'দমন' এর এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস লেখা আছে।

Jan 1, 2026

/

Post by

ইতিহাসের বিচার ও কালের সাক্ষী ইতিহাসের একটি চিরন্তন শিক্ষা হলো ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমনই কিছু অমীমাংসিত এবং আলোচিত অধ্যায় রয়েছে, যা আজও আমাদের ভাবিয়ে তোলে। ২০০৪ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১০ সালের সেনানিবাসের বাড়ির আইনি লড়াই এই সময়কালটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির এক উত্তাল ও নাটকীয় অধ্যায়।

Dec 27, 2025

/

Post by

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রক্সি যুদ্ধ এবং আদর্শিক লড়াইয়ের ময়দান কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথের গ্রাফিতি পর্যন্ত। সম্প্রতি ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র আন্তর্জাতিক মহলের নজরে এসেছে। সেখানে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট নিহত ওসমান হাদির ছবি এবং কিছু বিতর্কিত স্লোগান অঙ্কিত হয়েছে। বিষয়টিকে কেবল একটি দেয়ালচিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এর গভীরে লুকিয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়ার জটিল ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের নীল নকশা।

Jan 8, 2026

/

Post by

শান্ত সমুদ্রের নিচে অশান্ত কূটনীতি নীল জলরাশি আর প্রবাল প্রাচীরে ঘেরা বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটকদের কাছে এটি স্বপ্নের স্বর্গভূমি হলেও বিশ্বশক্তির সামরিক পরিকল্পনাবিদদের কাছে এটি এক স্ট্র্যাটেজিক 'সোনার খনি'। সাম্প্রতিক সময়ে সেন্টমার্টিন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন এটি ছোট এবং নরম মাটির দ্বীপ বলে এখানে সামরিক ঘাঁটি করা অসম্ভব, আবার কেউ বলছেন আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

Jan 6, 2026

/

Post by

আমেরিকার বিরুদ্ধে গর্জন দিয়ে বিশ্বে একমাত্র শেখ হাসিনাই প্রাণে বেঁচে আছেন। বিশ্ব রাজনীতির নেপথ্য খেলা একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমরা যখন একটি 'গণতান্ত্রিক' ও 'মানবাধিকার' রক্ষা রক্ষাকারী বিশ্বের কথা বলি, তার আড়ালে কি কোনো অদৃশ্য সুতো খেলা করে? ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, কোনো ক্ষুদ্র বা মাঝারি রাষ্ট্রের নেতা যখনই নিজের দেশের স্বার্থকে পরাশক্তির স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন, তখনই তাঁর ওপর নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। আমেরিকার মতো পরাশক্তির নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের ক্ষমতা এবং জীবন বাজি রাখার সাহস দেখিয়েছেন হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্বনেতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাদ্দাম হোসেন, মুয়াম্মার গাদ্দাফি থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়ার শেখ হাসিনা পর্যন্ত এই যাত্রাপথে 'বিদ্রোহ' আর 'দমন' এর এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস লেখা আছে।

Jan 1, 2026

/

Post by

ইতিহাসের বিচার ও কালের সাক্ষী ইতিহাসের একটি চিরন্তন শিক্ষা হলো ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমনই কিছু অমীমাংসিত এবং আলোচিত অধ্যায় রয়েছে, যা আজও আমাদের ভাবিয়ে তোলে। ২০০৪ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১০ সালের সেনানিবাসের বাড়ির আইনি লড়াই এই সময়কালটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির এক উত্তাল ও নাটকীয় অধ্যায়।

Dec 27, 2025

/

Post by

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রক্সি যুদ্ধ এবং আদর্শিক লড়াইয়ের ময়দান কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথের গ্রাফিতি পর্যন্ত। সম্প্রতি ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র আন্তর্জাতিক মহলের নজরে এসেছে। সেখানে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট নিহত ওসমান হাদির ছবি এবং কিছু বিতর্কিত স্লোগান অঙ্কিত হয়েছে। বিষয়টিকে কেবল একটি দেয়ালচিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এর গভীরে লুকিয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়ার জটিল ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের নীল নকশা।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.