কল্পিত বিহারী গণহত্যা - একাত্তরের পরাজিত শক্তির অপকৌশল
একাত্তরের পরাজিত শক্তি - জামায়াত, পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠী এবং কিছু অতি-সুশীল চক্র নিয়মিতভাবে একটি কাল্পনিক দাবি প্রচার করে আসছে: একাত্তরে বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা নাকি লক্ষ লক্ষ বিহারীকে হত্যা করেছিল। তাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় নাকি ৫ লক্ষ বিহারীকে গণহত্যা করা হয়েছিল।

TruthBangla

Aug 21, 2025
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এক দলিল। এটি ছিল বাঙালি জাতির ওপর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের স্থানীয় দোসরদের দ্বারা সংঘটিত পৃথিবীর নৃশংসতম গণহত্যা। কিন্তু এই প্রমাণিত সত্যের বিপরীতে, একাত্তরের পরাজিত শক্তি - জামায়াত, পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠী এবং কিছু অতি-সুশীল চক্র নিয়মিতভাবে একটি কাল্পনিক দাবি প্রচার করে আসছে: একাত্তরে বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা নাকি লক্ষ লক্ষ বিহারীকে হত্যা করেছিল। তাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় নাকি ৫ লক্ষ বিহারীকে গণহত্যা করা হয়েছিল। এটি একটি অসত্য ও মিথ্যাচার দাবি, এবং এ দাবী তখন তোলা হয় যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চলমান ছিল এবং তাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাজারজাত করা একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক অপকৌশল। আসুন, তথ্য ও যুক্তির নিরিখে এই 'কাল্পনিক বিহারী গণহত্যার' গল্পটির আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করা যাক।
মিথ্যার জন্ম ও সংখ্যার কারসাজি
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অন্যতম প্রধান চেষ্টা হলো, একাত্তরে বিহারীদের ওপর বাঙালি কর্তৃক গণহত্যার অভিযোগ উত্থাপন করা। এই অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য দুটি: প্রথমত, বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রামকে 'জাতিগত নিধন' হিসেবে চিহ্নিত করা; দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানি বাহিনী ও দালালদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যার নৃশংসতা থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেওয়া।
৫ লক্ষের উৎস - 'ব্লাড অ্যান্ড টিয়ার্স'
যে ৫ লক্ষ বিহারী হত্যার দাবি বারবার করা হয়, তার উৎসটি খুঁজে দেখলে দেখা যায়, এটি নিতান্তই কাঁচা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কুতুবউদ্দিন আজিজের বই: এই সংখ্যার দাবিটি সম্ভবত ১৯৭৪ সালে করাচি থেকে প্রকাশিত পাকিস্তানি সাংবাদিক কুতুবউদ্দিন আজিজ সম্পাদিত 'ব্লাড অ্যান্ড টিয়ার্স' (Blood and Tears) নামক বই থেকে নেওয়া। এই বইটিতে বলা আছে: "আওয়ামী লীগ সমর্থকরা পূর্ব পাকিস্তানে ১ থেকে ৫ লক্ষ বিহারীকে হত্যা করেছে।"
হামুদুর রহমান কমিশন: মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান সরকার কর্তৃক গঠিত হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্টেও এই বইটির দাবিকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই এই কাল্পনিক সংখ্যার গল্পটি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়।
কাঁচা রূপকথা - প্রশ্ন যেখানে জরুরি
সাংবাদিক আজিজ এই কাঁচা রূপকথা ফেঁদেছিলেন এবং হামুদুর রহমান কমিশন এটিকে সত্য দাবি করেছিল। কিন্তু বাস্তবতার দিকে তাকালে বেশ কিছু জরুরি প্রশ্ন সামনে আসে:
আওয়ামী লীগপন্থীরা যদি পূর্ব পাকিস্তানে একাত্তরে এত বিহারী হত্যা করল, তাহলে কেন পৃথিবীর কোনো সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে কোনো রিপোর্ট করল না? বিদেশী সংবাদমাধ্যমের কথা বাদ দিলেও, কেন পাকিস্তানের দুই অংশের কোনো সংবাদমাধ্যম এই বিষয়ে একটি লাইনও খুঁজে পেল না?
আসলে, কোনো স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বাঙালি কর্তৃক বিহারী নির্যাতনের কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না, এমনকি পাকিস্তান ও তাদের দালালদের দাবিকৃত এই গণহত্যার কোনো নির্যাতিতের যৌক্তিক ভাষ্য বা প্রমাণও পাওয়া যায় না। শুধু পাওয়া যায়, পাকিস্তানপন্থীদের স্থূল দাবি, যার পক্ষে তারা কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
সত্যের বিপরীতে অপপ্রচার - প্রমাণ ও তথ্য
ঐতিহাসিক তথ্য-উপাত্ত এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
সংবাদমাধ্যমের সত্য
সেই সময়কার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছিল, তা হলো:
বাঙালির গণহত্যা: পাকিস্তান সামরিক বাহিনী, বিহারী এবং তাদের বাঙালি দোসরদের হাতে বাঙালিদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ ও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা।
প্রমাণিত সত্য: তথ্য-উপাত্ত দিয়ে এটি বর্তমানে একটি প্রমাণিত সত্য যে, একাত্তরে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী, বিহারী ও দালালরা ত্রিশ লক্ষাধিক বাঙালিকে হত্যা করেছিল এবং পাঁচ লক্ষ বাঙালি নারীকে ধর্ষণ করেছিল।
১ মার্চের মিথ্যাচার খণ্ডন
পাকিস্তানিদের দাবি, ১ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া জাতীয় অধিবেশন স্থগিত করলে আওয়ামীপন্থীরা বিহারীদের গণহত্যা শুরু করে। এই দাবিটি যে নিছক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা, তার প্রমাণ হলো:
শান্তিপূর্ণ অসহযোগ: সারাবিশ্বের সংবাদপত্র বলছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে বাঙালিরা ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলন করেছে। বাঙালিরা তখন গণপ্রতিরোধে নয়, অহিংস অসহযোগিতায় লিপ্ত ছিল।
বাঙালি হত্যার হোলিখেলা: বস্তুত, এই সময়টিতে পাকিস্তান সরকার ও বিহারীরা মেতে উঠেছিল বাঙালি হত্যার হোলিখেলায়। অর্থাৎ, গণহত্যার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
একাত্তরে বিহারীদের সক্রিয় ভূমিকা
পাকিস্তানি প্রোপাগান্ডার বিপরীতে, ইতিহাসের সত্য হলো পুরো একাত্তর জুড়ে বিহারীরা বাঙালিদের কচুকাটা করে, পাকিস্তান আয়োজিত পৃথিবীর নৃশংসতম একটি জাতিগত ধোলাইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। পূর্ব পাকিস্তানে বিহারীরা জাতিগতভাবে বাঙালি গণহত্যায় অংশগ্রহণ করেছিল।
বিহারীদের জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা
বিহারীরা নিজেদের ভাবত আশরাফ (উচ্চ মর্যাদার মুসলমান)। তারা বাঙালিদের ভাবত আতরাফ (নিচু জাতের মুসলমান)। বিহারীরা মনে করত, বাঙালি মুসলমানরা হিন্দুয়ানি সংস্কৃতির চর্চাকারী অবিশুদ্ধ মুসলমান।
তাই, তারা পাকিস্তানি ও বাঙালি দোসরদের সাথে একজোট হয়ে গণহত্যা-ধর্ষণ তথা জাতিগত ধোলাইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের অনুগত 'বিশুদ্ধ বাঙালি মুসলমান' জাতির সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। এটি ছিল বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি আদর্শিক যুদ্ধ।
নৃশংসতার কেন্দ্রগুলো
যেসব এলাকায় বিহারী অধ্যুষিত ছিল, সেখানে তাদের বর্বরতা ছিল বর্ণনাতীত:
চট্টগ্রামের বিভীষিকা: চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়তলী, হালিশহর, পতেঙ্গা, চকবাজার, লালখান বাজার এলাকাগুলোতে বিহারীরা গাছের পাতা ছেঁড়ার মতো করে বাঙালিদের গণহত্যা-ধর্ষণ করেছিল। সেই সময়কার পত্রিকায় এর বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।
মিরপুরের দোজখখানা: ঢাকার মিরপুরে বিহারীদের বর্বরতা বর্ণনা নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। মিরপুরকে বাঙালিরা 'দোজখখানা' (নরক) বানিয়েছিল সেখানকার বিহারীরা।
সৈয়দপুরের শ্মশান: পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বিহারী অধ্যুষিত অঞ্চল সৈয়দপুর হয়ে গিয়েছিল বাঙালির শ্মশানখানা। একাত্তরের ২৫ মার্চ সৈয়দপুরে রেলওয়ের ওয়ার্কশপে বাঙালিদের জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছিল বিহারীরা।
খুলনার লোমহর্ষক ঘটনা: খুলনায় বিহারীদের বাঙালি নির্যাতনের কথা পড়তে গিয়ে যে কেউ শিউরে উঠবেন। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে বিহারীরা সেখানে পাকিস্তান বাহিনীর হয়ে বাঙালি গণহত্যায় লিপ্ত ছিল।
মৃত বিহারীর সংখ্যা - কল্পনার বিপরীতে বাস্তবতা
একটি প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক, একদমই কি বিহারীরা একাত্তরে মারা যায়নি? এর উত্তর হলো - হ্যাঁ, বিহারীরাও মারা গেছে একাত্তরে। তবে, তা বাঙালি কর্তৃক পরিকল্পিত কোনো গণহত্যা বা হত্যাকাণ্ড ছিল না। যেসব বিহারী মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের হাতে মারা পড়েছিল, তাদের প্রায় সকলেই ছিল:
পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সহযোগী ঘাতক।
রাজাকার, আল-বদর বা আল-শামস বাহিনীর সদস্য।
মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ সমরে নিহত।
অর্থাৎ, তারা নিরীহ, নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক ছিল না, বরং ছিল সশস্ত্র সহযোগী মিলিশিয়া বাহিনীর সদস্য।
মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজেক্ট 'মাইনরিটি অ্যাট রিস্ক' (Minorities at Risk) একাত্তরে এই মৃত বিহারীদের একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক তথ্য দিচ্ছে, যা পাকিস্তানি দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত:
সংখ্যা: একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় এক হাজার বিহারী এভাবে মারা গেছে।
তুলনা: কোথায় ৫ লক্ষ, আর কোথায় এক হাজার!
মৃত্যুর ধরণ: এই এক হাজার বিহারী নিরীহ-নিরস্ত্র কেউ ছিল না এবং এরা পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়নি, এরা ছিল পাকিস্তান আধা-সামরিক বাহিনী সদস্য ও সম্মুখ সমরে নিহত হয়েছে।
এই গবেষণা প্রমাণ করে যে, '৫ লক্ষ বিহারী হত্যার' দাবিটি একটি ৩০০% অতিশয়োক্তি এবং মিথ্যাচার।
অপপ্রচারের রাজনীতি - কেন এই কাল্পনিক বিচার দাবি?
বর্তমানে যারা একাত্তরে কল্পিত এই বিহারী গণহত্যার বিচারের দাবি করছেন, তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অত্যন্ত সরল এবং স্থূল। এই দাবি যারা করেন, তারা হয় বিএনপি-জামায়াতের সদস্য, পাকিস্তানী অথবা জামাত-আইএসআই কর্তৃক পেইড লবিস্ট-অ্যাক্টিভিস্ট।
যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাধাগ্রস্ত করা
উদ্দেশ্য: বর্তমানে একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। আর এতে মানবতাবিরোধী সর্বোচ্চ অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের রায় কার্যকর হচ্ছে। এই সব অপরাধীরা ছিল পাকিস্তানের চিফ এজেন্ট।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া: এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া এবং শীর্ষ দালালদের রায় কার্যকর হওয়ার পর তাদের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কৌশল: বাংলাদেশে তাদের এই এজেন্টদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। আর এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা।
আন্তর্জাতিক লবিং কৌশল
এই অপচেষ্টার কৌশল হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাত্তরে কল্পিত-বানোয়াট বিহারি গণহত্যার বিচারের দাবি তুলছে পাকিস্তান ও জামায়াতের পেইড লবিস্ট, অ্যাক্টিভিস্ট ও সদস্যরা।
সমকক্ষতা প্রতিষ্ঠা: তাদের মূল লক্ষ্য হলো, আন্তর্জাতিকভাবে এই বিতর্ক সৃষ্টি করা যে, একাত্তরে উভয় পক্ষেই গণহত্যা হয়েছে - ফলে বাঙালিদের গণহত্যার বিচারটি একতরফা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত।
বিভ্রান্তি ছড়ানো: এই মিথ্যাচার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং সুশীল সমাজের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এদের বংশধর এবং সমর্থকরা আজও মুক্তিবাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনকারী বাঙালি জনতাকে 'ভারতের এজেন্ট' বলে ডাকে। এটি প্রমাণ করে, একাত্তরের পরাজিত শক্তির আদর্শিক ধারাবাহিকতা আজও বজায় আছে।
বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান
'কল্পিত বিহারী গণহত্যার' এই প্রোপাগান্ডা পাকিস্তান-আইএসআই-জামায়াত-বিএনপির বহুল চর্চিত একটি অপকৌশল। তথ্য-প্রমাণ ও বাস্তবতার নিরিখে এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই।
একাত্তরে বিহারীরা গণহত্যার শিকার হয়েছিল - এই দাবিটি একটি ঐতিহাসিক মিথ্যা। সত্য হলো, বিহারী জনগোষ্ঠী তাদের জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়ে বাঙালি গণহত্যায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। আমাদের উচিত এই ধরনের স্থূল প্রোপাগান্ডা এবং অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়া। বরং, আমাদের দায়িত্ব হলো ঐতিহাসিক সত্যকে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা।
একাত্তরের ইতিহাস কেবল বিজয়ের গল্প নয়, এটি হলো সত্য ও মিথ্যার মধ্যে চিরন্তন সংঘাতের দলিল। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিতর্কিত করার এই অপচেষ্টা রুখতে হলে তথ্য ও সচেতনতাই আমাদের প্রধান অস্ত্র।














