>

>

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন - যাকে হত্যা করেছিল রাজাকাররা

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন - যাকে হত্যা করেছিল রাজাকাররা

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে কোনো পাকিস্তানি সেনা সদস্য হত্যা করেনি, তাকে হত্যা করেছিল এ দেশেরই জাতির বেঈমান গাদ্দার রাজাকাররা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন। পাকিস্তানি শত্রুদের বুলেটের আঘাতে নয়, বরং এদেশেরই গাদ্দার, দেশদ্রোহী রাজাকারদের অমানুষিক নির্যাতনে ও গুলিতে তিনি শাহাদাতবরণ করেছিলেন।

TruthBangla

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে কোনো পাকিস্তানি সেনা সদস্য হত্যা করেনি, তাকে হত্যা করেছিল এ দেশেরই জাতির বেঈমান গাদ্দার রাজাকাররা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের আত্মত্যাগ আমাদের প্রেরণার চিরন্তন উৎস। তাঁদের মধ্যে একজন - বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তাঁর নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে এগিয়ে যাওয়া এক রণতরীর ছবি। কিন্তু এই অসীম সাহসী যোদ্ধার শাহাদাতের প্রেক্ষাপট আজও এক চাপা ক্ষোভ আর বেদনার জন্ম দেয়। ইতিহাসের নির্মম সত্য হলো - পাকিস্তানি শত্রুদের বুলেটের আঘাতে নয়, বরং এদেশেরই গাদ্দার, দেশদ্রোহী রাজাকারদের অমানুষিক নির্যাতনে ও গুলিতে তিনি শাহাদাতবরণ করেছিলেন। তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যু আমাদের স্বাধীনতার জন্য দেওয়া সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মূল্যের পাশাপাশি স্থানীয় দালালদের ঘৃণ্যতম বিশ্বাসঘাতকতার চিত্রও তুলে ধরে।

সামরিক দক্ষতা থেকে জনযুদ্ধে যোগদান

মোহাম্মদ রুহুল আমিন ছিলেন একজন দক্ষ নৌবাহিনীর সদস্য। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক আগে থেকেই তাঁর পেশাগত জীবনে সামরিক জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর এই সামরিক প্রস্তুতিই একাত্তরে দেশমাতৃকার সেবায় কাজে লাগে।

প্রাথমিক জীবন ও সামরিক প্রেক্ষাপট

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৩৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন আর্টিফিসার (Artificer), যা নৌবাহিনীতে কারিগরি দক্ষতা ও যান্ত্রিক জ্ঞান সম্পন্ন পদ। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তাঁর পেশাগত নিষ্ঠা ও সামরিক জ্ঞান ছিল অনুকরণীয়।

মুক্তিযুদ্ধের ডাক

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন রুহুল আমিন চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঘাঁটি 'পিএনএস বখতিয়ার'-এ কর্মরত ছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা এবং গণহত্যার সংবাদ তাঁকে স্থির থাকতে দেয়নি। দ্রুতই তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সামরিক শৃঙ্খলা ভেঙে তিনি দেশপ্রেমের ডাকে সাড়া দেন এবং নিজ গ্রামে চলে আসেন। এরপর যোগ দেন ৩ নম্বর সেক্টরে।

নৌ-কমান্ডো অপারেশন এবং 'পলাশ' অভিযানের প্রস্তুতি

মুক্তিবাহিনীর পক্ষ থেকে জলপথে পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আঘাত হানার জন্য নৌ-কমান্ডো বাহিনী গঠন করা হয়। রুহুল আমিনের মতো অভিজ্ঞ নৌসেনার উপস্থিতি এই বাহিনীকে নতুন শক্তি যোগায়।

রূহুল আমিন নৌ-কমান্ডোদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির 'ভাগীরথী'তে যোগ দেন। সেখানে তাঁকে যুদ্ধ কৌশল, মাইন স্থাপন এবং নৌযুদ্ধ পরিচালনার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রশিক্ষণ শেষে তাঁকে এক কঠিন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করা হয় - তা হলো, অভ্যন্তরীণ জলপথে পাকিস্তানি নৌবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ জানানো।

রণতরী দখল ও 'পলাশ' মিশন

১৯৭১ সালের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি জাহাজ দেওয়া হয়, যা পরে বাংলাদেশের প্রথম নৌবহর হিসেবে পরিচিত হয়। এর মধ্যে 'পলাশ' ছিল অন্যতম।

রুহুল আমিনকে 'পলাশ' নামক রণতরীর ইঞ্জিন রুমের আর্টিফিসার ইন চার্জ বা প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর কারিগরি দক্ষতা এই জাহাজটির জন্য ছিল অপরিহার্য। এই নৌবহরের প্রধান লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং মংলা ও খুলনা বন্দর দখল করা। এই অভিযান ইতিহাসে 'অপারেশন পলাশ' নামে পরিচিত।

৬ ডিসেম্বর - চূড়ান্ত যুদ্ধ ও বীরত্ব

নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে 'পলাশ' ও অন্য জাহাজগুলো সফলভাবে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ছিল সেই ঐতিহাসিক অভিযানের চূড়ান্ত দিন।

মুক্তিযোদ্ধাদের তিনটি গানবোট (পলাশ, পদ্মা, ও বলাকা) খুলনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। লক্ষ্য - খুলনা নৌ-বন্দর আক্রমণ করা। এই অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ পাকিস্তানি নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটিগুলোর একটি ছিল এই এলাকায়।

অতর্কিত আক্রমণ

বিকেল নাগাদ, রূপসা নদীর কাছে পৌঁছানোর পর, খুলনা শিপইয়ার্ডের দিক থেকে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান (মূলত সাবমেরিন ধ্বংসকারী বিমান) অতর্কিত আক্রমণ শুরু করে। প্রথম আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি গানবোট, 'পদ্মা', ডুবে যায়। এরপর 'পলাশ' লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। 'পলাশ' গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর ইঞ্জিনে গোলার আঘাত লাগে।

জাহাজটি তখনো পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়নি। রুহুল আমিন জানতেন, জাহাজটি যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে। তিনি তখন ইঞ্জিনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বে ছিলেন। আহত অবস্থাতেও তিনি যুদ্ধ বন্ধ করেননি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ইঞ্জিনটিকে সচল রাখার চেষ্টা করেন, যাতে সহযোদ্ধারা জাহাজ থেকে নেমে নিরাপদে তীরে পৌঁছাতে পারে।

শেষ রক্ষা ও নদীতে ঝাঁপ

জাহাজটি যখন পুরোপুরি অকেজো হয়ে ডুবে যেতে শুরু করে, তখন রুহুল আমিন কোনো উপায় না দেখে নদীতে ঝাঁপ দেন। তীব্র স্রোতের বিপরীতে সাঁতরে তিনি ভৈরব নদীর তীরে উঠতে সক্ষম হন। জাহাজটি ডুবতে শুরু করায় পাকিস্তানি সেনাদের মনোযোগ তখনো জাহাজটির দিকেই ছিল।

বিশ্বাসঘাতক রাজাকারদের হাতে শহীদ

রুহুল আমিনের শাহাদাতের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে।

দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকার পর রুহুল আমিন যখন কোনোক্রমে সাঁতরে তীরে উঠলেন, তখন তিনি ক্লান্ত এবং গুরুতর আহত ছিলেন। কিন্তু তাঁর যুদ্ধ তখনো শেষ হয়নি।

রাজাকারদের আক্রমণ

ইতিহাসের নির্মম তথ্য অনুযায়ী, তীরে উঠার সাথে সাথেই পশ্চাৎ দিক হতে এদেশেরই গাদ্দার রাজাকাররা তাঁকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত গুলি বর্ষণ করতে থাকে। পাকিস্তানি সেনা সদস্য নয়, স্থানীয় সহযোগী বাহিনীর হাতেই তিনি আক্রান্ত হন।

রাজাকারদের গুলিতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও তারা তাঁকে ক্ষান্ত দেয়নি। তারা এই অসীম সাহসী বীর যোদ্ধাকে বেয়নেট দ্বারা খুচিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার করে। সেই চরম নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন শাহাদতবরণ করেন।

পাকিস্তানি সেনারা সামরিক প্রতিপক্ষ ছিল, কিন্তু রাজাকাররা ছিল আপনজনের বেশে থাকা বিশ্বাসঘাতক। রুহুল আমিনের শাহাদাত প্রমাণ করে, একাত্তরে এদেশীয় দালালরা শত্রুর চেয়েও বেশি হিংস্র ও নির্মম ছিল।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি বিলীন

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের শাহাদাতের পর স্থানীয় গ্রামবাসীরাই তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং রাজাকারদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গ্রামবাসীরা এই অসীম সাহসী বীর যোদ্ধার মরদেহ যথাযথ মর্যাদার সাথে ভৈরব নদীর তীরে দাফন করে। সেই গ্রামবাসী ছিলই প্রকৃত দেশপ্রেমিক, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিল।

কালক্রমে, প্রকৃতির নিয়মে এবং নদীর ভাঙনের কারণে শহীদ রুহুল আমিনের সমাধি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এই ঘটনাটি যেন আরেকটি ট্র্যাজেডি - স্বাধীনতার জন্য যার সর্বোচ্চ ত্যাগ, সেই বীরের শেষ চিহ্নটিও প্রকৃতি কেড়ে নিল। পরবর্তীতে, তাঁর স্মৃতি রক্ষার জন্য স্মৃতিস্তম্ভ ও সমাধি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়।

বীরত্বের স্বীকৃতি এবং চিরন্তন আদর্শ

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের অসীম সাহসিকতা, দক্ষতা, রণ কৌশল এবং সর্বোপরি দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক খেতাব 'বীরশ্রেষ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত করে।

তাঁর বীরত্ব ও আদর্শ আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে সংযোজিত হয়ে থাকবে। তাঁর এই বীরত্বগাথা কয়েকটি দিক থেকে অনন্য:

  • পেশাগত নিষ্ঠা: সামরিক দায়িত্বের বাইরে গিয়েও দেশপ্রেমের ডাকে সাড়া দেওয়া।

  • চরম আত্মত্যাগ: নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও যুদ্ধজাহাজের ইঞ্জিন সচল রেখে সহযোদ্ধাদের রক্ষা করার চেষ্টা।

  • শত্রু ও মিত্রের পার্থক্য: হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী নয়, বরং দেশীয় গাদ্দারদের হাতে নিহত হয়ে দেশের প্রতি চরম মূল্য দেওয়া।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন আমাদের শেখান - দেশপ্রেমের সংজ্ঞা। দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর মতো বীরের আদর্শ যুগ যুগ ধরে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর স্মৃতিস্তম্ভ এবং তাঁর আত্মদানের কাহিনি আমাদের জাতীয় চেতনাকে চিরকাল জাগিয়ে রাখবে।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন আমাদের চেতনায় এক অদম্য প্রতীক। তিনি রণতরীর সেই বীর, যিনি যুদ্ধাপরাধী শত্রুদের পাশাপাশি দেশদ্রোহী গাদ্দারদেরও ঘৃণার পাত্র হয়েছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতা এবং তার সুরক্ষার জন্য প্রদত্ত সর্বোচ্চ মূল্যের স্মারক।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 24, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালটি ছিল পুনর্গঠনের পাশাপাশি চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার। এই অস্থিরতার কেন্দ্রে ছিল নবগঠিত রাজনৈতিক দল 'জাসদ' এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্ন বিতর্ক উসকে দেয় বঙ্গবন্ধু কি সত্যিই জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিলেন? কেন জাসদ সেই সময় এত সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল? আর ১৫ আগস্টের পর হঠাৎ কেন তারা স্তিমিত হয়ে গেল?

Jan 22, 2026

/

Post by

সবার চোখেমুখে এক অদ্ভুত আবেগ। কারণ, আজ ঘরে ফিরছেন সেই মানুষটি, যিনি দশকের পর দশক ধরে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক আর মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা বলেছেন। তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পূর্ণতা পাওয়ার পথে মওলানা ভাসানীর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল এক বিশাল মাইলফলক।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jan 31, 2026

/

Post by

ছাত্রশিবির কি আসলেই রগ কাটে? কতজনের রগ কেটেছে ছাত্রশিবির? বাংলাদেশি ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সহিংসতা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার লড়াইয়ের চেয়ে পেশিশক্তির মহড়া বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে চরম নৃশংসতার। সেটি হলো 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ছাত্র সংগঠনটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে 'রগ কাটা' ও নৃশংস নির্যাতনের রাজনীতির জন্য।

Jan 29, 2026

/

Post by

প্রায় ৬৭২ জন গণহত্যায় সরাসরি সহায়তাকারী তথা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে পালিয়ে যান। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে যখন পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পারে, তখন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব পরিকল্পিতভাবে দেশ ছেড়ে পলায়নের পথ বেছে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, লুণ্ঠন এবং ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

Jan 25, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বাংলাদেশ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াল, তখন চারদিকে ছিল কেবল ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে যে কেবল পুনর্গঠনের স্বপ্ন ছিল তা নয়, বরং ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিতর্কিত চরিত্রগুলোর একজন হলেন সিরাজ সিকদার এবং তার 'পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি'।

Jan 25, 2026

/

Post by

একটি দেশ গড়ার জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং একটি সুশৃঙ্খল সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো। পুলিশ বাহিনী তখনো বিপর্যস্ত, প্রশাসন ভেঙে পড়েছে, আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নবজাতক এই রাষ্ট্রে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছিল নানা ক্ষমতার সমীকরণ, যার কেন্দ্রে ছিল 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' এবং 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী'। এই দুই বাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক অধ্যায়ের দিকে দেশকে ঠেলে দিয়েছিল।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.