>

>

খুন ২৬ খুনি ১২ – বঙ্গবন্ধু পরিবারের নৃশংসতম হত্যাকান্ড

খুন ২৬ খুনি ১২ – বঙ্গবন্ধু পরিবারের নৃশংসতম হত্যাকান্ড

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন এক কালরাত্রি, যা কেবল একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ছিল না, বরং তা ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর এক বর্বরতম আঘাত। একদল উচ্চাভিলাষী, ক্ষমতালোভী ও বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তা ও সৈনিক মিলে রাতের অন্ধকারে ঠান্ডা মাথায় সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর নিকটাত্মীয়দের।

TruthBangla

বঙ্গবন্ধু পরিবারের নৃশংসতম হত্যাকান্ড: খুন ২৬ খুনি ১২

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন এক কালরাত্রি, যা কেবল একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ছিল না, বরং তা ছিল বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর এক বর্বরতম আঘাত। একদল উচ্চাভিলাষী, ক্ষমতালোভী ও বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তা ও সৈনিক মিলে রাতের অন্ধকারে ঠান্ডা মাথায় সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর নিকটাত্মীয়দের।

খুনিদের মূল অভিসন্ধি কেবল একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা ছিল না; তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসের মহানায়ককে তাঁর বংশলতিকাসহ চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া, যাতে এই ভূখণ্ডে পুনরায় পাকিস্তানি ভাবধারা এবং স্বৈরতান্ত্রিক অপশাসন কায়েম করা যায়। সেই ভয়াল রাতে খুনিদের বুলেটের আঘাতে ঝরে গিয়েছিল ২৬টি তাজা প্রাণ। অন্যদিকে, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইতিহাসের এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে ১২ জন খুনির ফাঁসির রায় বহাল রাখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

আমার এই বিস্তারিত নিবন্ধে ১৫ই আগস্টের সেই রুদ্ধশ্বাস ও বিভীষিকাময় রাতের বিবরণ, ২৬ জন শহীদের আত্মত্যাগ, ইনডেমনিটি নামক কালো আইনের বেড়াজাল এবং দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর ১২ জন খুনির বিচার ও বর্তমান পরিস্থিতির এক নিখুঁত ঐতিহাসিক দলিল তুলে ধরা হলো।

ব্লুপ্রিন্ট ও কৌশলগত বিন্যাস: ঘাতকদের ৪টি ঘাতক দল

১৯৭৫ সালের আগস্টের শুরুর দিকেই ঢাকা সেনানিবাসে বসে চূড়ান্ত করা হয়েছিল এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা। খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক আশ্রয়ে মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান এবং মেজর খন্দকার আব্দুর রশীদ পুরো অভিযানের মূল সামরিক ছক আঁকে। ১৫ই আগস্ট ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকা সেনানিবাস থেকে ল্যান্সার ও আর্টিলারি (কামান) রেজিমেন্টের ঘাতক সেনারা ট্যাঙ্কের বহর নিয়ে ঢাকার রাস্তায় নেমে পড়ে।

সমগ্র ঢাকা শহরকে অবরুদ্ধ করতে এবং সুনির্দিষ্ট তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে আঘাত হানতে খুনিরা তাদের বাহিনীকে মূলত চারটি সুনির্দিষ্ট ঘাতক দলে (Strike Teams) বিভক্ত করেছিল:

প্রথম দল (লক্ষ্যবস্তু: ধানমন্ডি ৩২ নম্বর): এই দলের মূল দায়িত্বে ছিল মেজর বজলুল হুদা এবং মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি)। তাদের সাথে ছিল ল্যান্সার ও টু-ফিল্ড আর্টিলারির এক বিশাল ঘাতক বহর, যাদের মূল দায়িত্ব ছিল বঙ্গবন্ধুর বাসভবন ধ্বংস করা এবং ভেতরে থাকা সবাইকে হত্যা করা।

দ্বিতীয় দল (লক্ষ্যবস্তু: মিন্টো রোড ও আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসা): এই দলটির নেতৃত্বে ছিল মেজর সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান এবং মেজর মোসলেম উদ্দিন। তাদের দায়িত্ব ছিল বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি এবং তৎকালীন মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করা।

তৃতীয় দল (লক্ষ্যবস্তু: শেখ ফজলুল হক মণির বাসা): এই দলের নেতৃত্বে ছিল রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের একটি বিশেষ স্কোয়াড। তরুণ যুবনেতা ও বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি এবং তাঁর পরিবারকে হত্যা করাই ছিল এই দলের কাজ।

চতুর্থ দল (কৌশলগত রিজার্ভ ও রেডিও স্টেশন): মেজর সৈয়দ ফারুক রহমানের নেতৃত্বে এই দলটি সাঁজোয়া যান (ট্যাঙ্ক) নিয়ে শেরেবাংলা নগর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং শাহবাগ রেডিও স্টেশনের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যাতে বহিরাগত কোনো সামরিক ইউনিট বা সাভারে থাকা রক্ষীবাহিনী ঢাকায় প্রবেশ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর: যেখানে থমকে গিয়েছিল ইতিহাস

১৫ই আগস্ট ভোররাত আনুমানিক সাড়ে চারটা। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি চারপাশ থেকে ঘেরাও করে ফেলে ঘাতকদের প্রথম দলটি। তারা ভারী মেশিনগান এবং রাইফেল থেকে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করতে করতে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।

বীরের মতো আত্মত্যাগ: কর্নেল জামিল

বাড়ির চারপাশে গুলির শব্দ শুনে বঙ্গবন্ধু তৎক্ষণাৎ তাঁর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদকে ফোনে পরিস্থিতি জানান। বীর সেনা অফিসার কর্নেল জামিল এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি। তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবন রক্ষা করতে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে লালবাগ থেকে সোজা ধানমন্ডির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সোবহানবাগ মসজিদের কাছে ঘাতকদের ব্যারিকেডের মুখে পড়লে তিনি পিছু না হটে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেখানেই ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে বীরের মতো শহীদ হন কর্নেল জামিল। তিনি যদি সেদিন ধানমন্ডিতে পৌঁছাতে পারতেন, তবে হয়তো ইতিহাস অন্যরকম হতে পারত।

ভেতরের নরক ও অবোধ রাসেলের আর্তনাদ

ভেতরে তখন ঘাতকেরা একের পর এক ঘরে ঢুকে গুলি চালাচ্ছিল। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল ঘাতকদের প্রতিহত করতে সামনে এগিয়ে এলে মেজর বজলুল হুদা তাঁকে প্রথম ব্রাশফায়ার করে। এরপর সিঁড়ির মুখে স্বয়ং বঙ্গবন্ধুকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ঘাতকদের নিষ্ঠুরতা এখানেই শেষ হয়নি। তারা একে একে হত্যা করে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ জামাল, শেখ কামালের সদ্য বিবাহিত স্ত্রী সুলতানা কামাল এবং শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামালকে। ১০ বছরের অবোধ শিশু শেখ রাসেল ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ির কর্মচারীদের পেছনে লুকিয়েছিল। সে কান্নাকাটি করে বলছিল, “আমি মায়ের কাছে যাব।” নিষ্ঠুর ঘাতকেরা তাকে মায়ের রক্তাক্ত লাশের কাছে নিয়ে গিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে।

সাক্ষীর জবানবন্দি: বঙ্গবন্ধুর আবাসিক সহকারী মুহিতুল ইসলামের ভাষ্যমতে, রাসেলকে যখন নিচে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন সে মুহিতুলকে জড়িয়ে ধরে বাঁচানোর আকুতি করেছিল। কিন্তু ঘাতকদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া জাগেনি।

মিন্টো রোড ও শেখ মণির বাসভবনে হত্যাকাণ্ড

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের পাশাপাশি অন্য দুটি ঘাতক দলও তাদের বর্বরোচিত মিশন সফল করতে মেতে উঠেছিল রক্তের হোলি খেলায়।

শেখ ফজলুল হক মণির বাসভবন: ট্যাংক ও সামরিক গাড়ি নিয়ে ঘাতকেরা হানা দেয় ধানমন্ডির ১৩/১ নম্বরে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণির বাসায়। ঘাতকেরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শেখ মণিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। স্বামীকে বাঁচাতে তাঁর অন্তসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি নিজের শরীর দিয়ে স্বামীকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। ঘাতকদের নির্মম বুলেট আরজু মণির শরীর ভেদ করে শেখ মণির বুকে গিয়ে লাগে। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই রক্তগঙ্গায় ভেসে বিদায় নেন এই পৃথিবী থেকে।

আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবন (মিন্টো রোড): মিন্টো রোডের ২৭ নম্বর সরকারি বাসভবনে তৎকালীন বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবার তখনো গভীর ঘুমে মগ্ন। ঘাতক দলটির নেতৃত্ব দেওয়া মেজর মোসলেম উদ্দিনের সেনারা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে নির্বিচারে গুলি শুরু করে। তারা সবাইকে ড্রয়িংরুমে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করায়।

সেখানে আবদুর রব সেরনিয়াবাতকে গুলি করার পর ঘাতকেরা তাঁর ১৪ বছর বয়সী কন্যা বেবী সেরনিয়াবাত, ১২ বছরের পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত এবং মাত্র ৪ বছরের নিষ্পাপ নাতি সুকান্ত বাবুকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করে। এছাড়াও রেহাই পাননি সেরনিয়াবাতের ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং বাড়িতে বেড়াতে আসা তরুণ বেন্টু খান ও আব্দুল নঈম খান রিন্টু।

রক্তস্নাত ২৬ জন শহীদ

১৫ই আগস্টের সেই কালো রাতে খুনিদের নির্মম বুলেটের আঘাতে মোট ২৬ জন মানুষ শাহাদাত বরণ করেন। নিচে তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও অবস্থান তুলে ধরা হলো:

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে শহীদ ১৭ জন

১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (জাতির পিতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি)

২. বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব (বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী)

৩. শেখ কামাল (বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ক্রীড়াবিদ)

৪. শেখ জামাল (বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্র ও সেনা কর্মকর্তা)

৫. শেখ রাসেল (বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র, বয়স মাত্র ১০ বছর)

৬. সুলতানা কামাল খুকু (শেখ কামালের স্ত্রী, প্রখ্যাত অ্যাথলেট)

৭. পারভীন জামাল রোজী (শেখ জামালের স্ত্রী)

৮. শেখ আবু নাসের (বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ছোট ভাই, ব্যবসায়ী)

৯. কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ (বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, মরণোত্তর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল)

১০. সিদ্দিকুর রহমান (স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাব-ইন্সপেক্টর)

১১. সৈয়দ মাহবুবুল হক (বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মী/সেনাসদস্য)

১২-১৭. বাসভবনের অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক ও গৃহকর্মী (যাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়)।

মিন্টো রোডে আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবনে শহীদ ৭ জন

১৮. আবদুর রব সেরনিয়াবাত (বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি ও তৎকালীন মন্ত্রী)

১৯. বেবী সেরনিয়াবাত (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ১৪ বছর বয়সী কন্যা)

২০. আরিফ সেরনিয়াবাত (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ১২ বছর বয়সী পুত্র)

২১. সুকান্ত বাবু (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ৪ বছর বয়সী নাতি, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পুত্র)

২২. সজীব সেরনিয়াবাত (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে)

২৩. বেন্টু খান (পরিবারের নিকট আত্মীয়)

২৪. আবদুল নঈম খান রিন্টু (আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর খালাতো ভাই, এসএসসি পরীক্ষার্থী)

ধানমন্ডি ১৩/১ নম্বরে শেখ মণির বাসভবনে শহীদ ২ জন

২৫. শেখ ফজলুল হক মণি (বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রখ্যাত সাংবাদিক)

২৬. আরজু মণি (শেখ মণির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী)

অলৌকিক বেঁচে যাওয়া: সেই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি: গৃহকর্মী রমা ও মুহিতুলের চোখে দেখা শেষ মুহূর্তগুলো

বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলার রায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল সেই রাতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বেঁচে যাওয়া গৃহকর্মী ও কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য। তাঁদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঘাতকেরা কতটা নির্মম ও সুপরিকল্পিতভাবে পুরো পরিবারটিকে শেষ করেছিল।

আবদুর রহমান শেখ রমা (বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত গৃহকর্মী)-র সাক্ষ্য

রমা সেই রাতে বাড়ির ভেতরেই ছিলেন। তাঁর জবানবন্দি অনুযায়ী, ভোর ৫টার দিকে প্রথম যখন দক্ষিণ দিক থেকে গুলিবর্ষণ শুরু হয়, তখন বঙ্গবন্ধু লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। রমাকে তিনি নির্দেশ দেন শেখ কামালকে ডেকে তুলতে। শেখ কামাল নিচে নেমে যাওয়ার পরপরই রমা দেখেন ঘাতক সেনাদল কামালের পায়ে প্রথম গুলি করে। কামাল চিৎকার করে ওপরে থাকা বঙ্গবন্ধুকে বলেন, “আব্বা, আর্মিরা এসেছে।” এর পরপরই ব্রাশফায়ারে কামালের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

মুহিতুল ইসলামের অবরুদ্ধ আর্তনাদ

বঙ্গবন্ধুর আবাসিক সহকারী মুহিতুল ইসলাম যখন নিচতলার অফিস কক্ষে ল্যান্ডফোনে সাভারের রক্ষীবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে ফোন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই ঘাতক দল ঘরের ভেতরে ঢোকে। তারা মুহিতুলের ফোনের রিসিভার কেড়ে নিয়ে পিস্তলের বাঁট দিয়ে তাঁকে আঘাত করে।

বঙ্গবন্ধু যখন পাইপ হাতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসছিলেন, তখন তিনি ঘাতকদের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত বজ্রকণ্ঠে প্রশ্ন করেছিলেন:

“তোরা কী চাস? তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাস?”

ডিফেন্সের খুনি মেজর মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি) তখন বঙ্গবন্ধুকে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই পেছন থেকে মেজর বজলুল হুদা স্টেনগান দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকে ও পেটে গুলি লেগে বঙ্গবন্ধু সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর হাতের পাইপটি ছিটকে পড়ে যায়।

'প্ল্যান বি' এবং ৩রা নভেম্বরের জেল হত্যা

অনেকেই ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে একটি বিচ্ছিন্ন সেনা অভ্যুত্থান মনে করলেও, এটি ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টির মহাপরিকল্পনা। খুনি চক্র জানত, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যদি আওয়ামী লীগের চার শীর্ষ নেতা (সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান) বেঁচে থাকেন, তবে তাঁরা যেকোনো মুহূর্তে দেশের জনগণকে সংগঠিত করে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।

বঙ্গভবন থেকে নিয়ন্ত্রিত ডেথ স্কোয়াড

১৫ই আগস্টের পর থেকেই খুনি মেজররা (ফারুক, রশীদ, ডালিম) বঙ্গভবনে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রপতির সমান্তরাল ক্ষমতা ভোগ করছিল। ৩রা নভেম্বর যখন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি পাল্টা অভ্যুত্থান (Counter-Coup) ঘটে, তখন খুনি চক্র বুঝতে পারে তাদের ক্ষমতা হাতছাড়া হতে চলেছে।

দেশ ছাড়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে, ২রা নভেম্বর মধ্যরাতে খুনি খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রত্যক্ষ মৌখিক আদেশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে একটি বিশেষ ঘাতক দল পাঠানো হয়। এই দলের নেতৃত্বে ছিল রিসালদার মোসলেম উদ্দিন।

জঘন্যতম কারাগার হত্যাকাণ্ড

কারা কর্তৃপক্ষকে বঙ্গভবন থেকে সরাসরি ফোন করে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন ঘাতক দলকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়। ৩রা নভেম্বর ভোরে, জেলের ভেতরে একটি সেলে চার জাতীয় নেতাকে একত্রিত করে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে এবং ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৫ই আগস্ট যে রক্তপাতের সূচনা হয়েছিল, ৩রা নভেম্বরের জেল হত্যার মাধ্যমে তার বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়া।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ ও আইনের মোড়কে খুনিদের দায়মুক্তি

হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর খুনিরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল যে, তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে (যেমন বিবিসি, দ্য টাইমস) সগৌরবে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে সাক্ষাৎকার দেয়। তারা ধরে নিয়েছিল, বাংলাদেশে তাদের স্পর্শ করার মতো কোনো শক্তি আর অবশিষ্ট নেই।

খন্দকার মোশতাকের কালো আইন

এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডকে আইনি সুরক্ষা দিতে এবং খুনিদের যেকোনো ধরণের বিচারপ্রক্রিয়া থেকে অনাক্রম্যতা (Immunity) প্রদান করতে ১৯৭৫ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ জারি করেন 'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' (Indemnity Ordinance, 1975)। এই অধ্যাদেশের মূল বক্তব্য ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের সামরিক অভ্যুত্থান এবং হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশের কোনো আদালতে মামলা, তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া চালানো যাবে না।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের সারকথা: এটি ছিল বিশ্ব আইনি ইতিহাসের এক নজিরবিহীন কালো আইন, যা খুন করার অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং বিচারের বাণীকে দীর্ঘ ২০ বছরের জন্য অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।

পঞ্চম সংশোধনী ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ

পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান এই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সংবিধানের 'পঞ্চম সংশোধনী'-র মাধ্যমে পবিত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন। এর ফলে খুনিরা কেবল আইনি সুরক্ষাই পায়নি, বরং তাদের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, কনস্যুলার ও উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।

সাংস্কৃতিক অন্ধকার ও ইতিহাস বিকৃতি

প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক ইমদাদুল হক মিলন জানান, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে এক ভয়ানক সাংস্কৃতিক অন্ধকার নেমে এসেছিল। স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তক, সরকারি নথিপত্র এবং বেতার-টেলিভিশন থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম ও ছবি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো ছিল এক অঘোষিত অপরাধ। ইতিহাসকে এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছিল যেন তরুণ প্রজন্ম জানতেই না পারে যে এই দেশের স্বাধীনতার মূল স্থপতি কে ছিলেন।

বিচারের দীর্ঘ পথ (১৯৯৬-২০১০)

দীর্ঘ ২১ বছর পর, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির অবসান ঘটে। ১৯৯৬ সালের ১২ই নভেম্বর জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়, যা সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক পরবর্তীতে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

সাধারণ আইনের আওতায় মামলা

বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা সামরিক আদালতে এই বিচার করতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে দেশের প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি (Crimal Procedure Code) অনুযায়ী এই মামলার বিচার হোক। ১৯৯৬ সালের ২রা অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর আবাসিক সহকারী মুহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় ২০ জন খুনির নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।

বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘ সময়সীমা

১৯৯৮ সাল (বিচারিক আদালত): ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল অভিযুক্ত ২০ জন আসামির মধ্যে ১৫ জনকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

২০০১ সাল (হাইকোর্ট): হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে মতদ্বৈধতা দেখা দেওয়ায় তৃতীয় বিচারক হিসেবে জজ মোহাম্মদ ফজলুল করিম ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

২০০৯ সাল (আপিল বিভাগ): দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের নানা টালবাহানা শেষে ২০০৯ সালের ১৯শে নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ১২ জন আসামির চূড়ান্ত ফাঁসির রায় বহাল রাখে।

দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি লড়াই শেষে ২০১০ সালের ২৭শে জানুয়ারি রাতে প্রথম দফায় ৫ জন শীর্ষ খুনির ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে বাঙালি জাতি কিছুটা হলেও কলঙ্কমুক্ত হয়।

'অ্যাক্ট অব স্টেট' বনাম ফৌজদারি অপরাধ

১৯৯৬ সালে যখন বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন খুনিদের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বিভ্রান্ত করতে এবং বিচার বন্ধ করতে একাধিক জটিল আইনি তত্ত্ব (Legal Doctrines) খাড়া করেছিলেন।

ডিফেন্সের মূল আইনি যুক্তি: খুনিদের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, এটি কোনো সাধারণ 'খুন' ছিল না; এটি ছিল একটি সফল 'সামরিক অভ্যুত্থান' বা 'বিপ্লব' (Revolution), যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি (Grundnorm) পরিবর্তিত হয়েছিল। তাই একে 'Act of State' হিসেবে গণ্য করে সাধারণ আদালতে বিচার করা যাবে না।

সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক প্রত্যাখ্যান

বাংলাদেশের আদালত ডিফেন্সের এই ‘ক্যাপচার অব পাওয়ার’ বা ‘অ্যাক্ট অব স্টেট’ তত্ত্বটিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়:

দেশের সংবিধানকে বলপ্রয়োগ করে স্থগিত বা খণ্ডিত করলেও অপরাধীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি দেওয়া যায় না। ঠান্ডা মাথায় নারী ও শিশুদের হত্যা করা কোনো সামরিক অভ্যুত্থানের অংশ হতে পারে না; এটি সম্পূর্ণ একটি সুপরিকল্পিত ফৌজদারি অপরাধ (Criminal Homicide)।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার পর, দণ্ডবিধি (Penal Code) অনুযায়ী এই খুনিরা সাধারণ খুনের আসামির মতোই বিচার্য। এই যুগান্তকারী রায়ের ফলেই পরবর্তীতে বাংলাদেশে যেকোনো সামরিক অভ্যুত্থান বা সংবিধান লঙ্ঘনের বিচার করার আইনি পথ উন্মুক্ত হয়।

১২ জন প্রধান খুনি, তাঁদের আইনি স্ট্যাটাস ও বর্তমান অবস্থান

নিচে সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জন প্রধান আসামির নাম, সামরিক পদবী, ফাঁসি কার্যকরের তারিখ এবং পলাতকদের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ছক আকারে দেওয়া হলো:

খুনির নাম ও তৎকালীন পদবী

রায় কার্যকরের তারিখ / মৃত্যুর বিবরণ

বর্তমান অবস্থান ও কূটনৈতিক স্ট্যাটাস

কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান

২৭শে জানুয়ারি, ২০১০ (রাত)

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

মেজর বজলুল হুদা

২৭শে জানুয়ারি, ২০১০ (রাত)

থাইল্যান্ড থেকে বহিষ্কারের পর দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি)

২৭শে জানুয়ারি, ২০১০ (রাত)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করার পর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

মেজর মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার)

২৭শে জানুয়ারি, ২০১০ (রাত)

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

মেজর সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান

২৭শে জানুয়ারি, ২০১০ (রাত)

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

মেজর আজিজ পাশা

রায় কার্যকরের আগে মৃত্যু (২০০১)

জিম্বাবুয়েতে পলাতক অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেন।

ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ

১১ই এপ্রিল, ২০২০ (রাত)

দীর্ঘ সময় ভারতে লুকিয়ে থাকার পর ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন এবং দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

খন্দকার আব্দুর রশীদ

পলাতক

সম্ভাব্য অবস্থান লিবিয়া, পাকিস্তান বা আফ্রিকা। অবস্থান পরিবর্তন করায় এখনো নিখোঁজ।

মেজর নূর চৌধুরী

পলাতক

কানাডায় অবস্থানরত। কানাডা সরকারের মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আইনের সুযোগ নিয়ে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় বা লিগ্যাল স্ট্যাটাস ধরে রেখেছেন।

মেজর শরিফুল হক ডালিম

পলাতক

স্পেন বা যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত। ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে ধারণা করা হয়।

রিসালদার মোসলেম উদ্দিন

পলাতক

জার্মানিতে অবস্থানরত। বিভিন্ন সময় তাঁর ভারতে বা ইউরোপে মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও ইন্টারপোলের রেড নোটিশ এখনো জারি আছে।

মেজর এ এম রাশেদ চৌধুরী

পলাতক

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন ঝুলে আছে। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য আইনি লড়াই চালাচ্ছে।

পলাতক ৫ খুনি ও কূটনৈতিক জটিলতা

১২ জন খুনির মধ্যে ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে এবং ১ জন বিদেশে মারা গেছেন। কিন্তু এখনো ৫ জন খুনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকায় বাঙালি জাতির রক্তের এই ঋণ পুরোপুরি শোধ করা সম্ভব হয়নি। এই পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কিছু বড় ধরণের কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতা বিদ্যমান:

কানাডা ও নূর চৌধুরী সংকট

মেজর নূর চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় প্রকাশ্য জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশ সরকার বারবার তাঁকে প্রত্যর্পণের (Extradition) অনুরোধ জানালেও কানাডার অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী যে দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে, সেই দেশে তারা কোনো আসামিকে ফেরত পাঠায় না। বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে কানাডার আদালতে আইনি লড়াই চালাচ্ছে যাতে অন্তত নূর চৌধুরীর রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস বাতিল করে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশেদ চৌধুরী মামলা

মেজর রাশেদ চৌধুরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের (Asylum) আবেদন করে সেখানে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকারের জোরালো লবিং ও আইনি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মার্কিন বিচার বিভাগ এই মামলাটি পুনরায় পর্যালোচনার (Reopen) সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালত থেকে তাঁর আশ্রয় বাতিল করিয়ে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা।

ডালিম, রশীদ ও মোসলেম উদ্দিনের ধোঁয়াশা

শরিফুল হক ডালিম এবং খন্দকার আব্দুর রশীদ এই দুই মূল মাস্টারমাইন্ড বিভিন্ন ছদ্মনাম এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহার করে লিবিয়া, পাকিস্তান এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন। ইন্টারপোলের (Interpol) রেড নোটিশ জারি থাকা সত্ত্বেও তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা আমাদের কূটনৈতিক মিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

পাকিস্তান, চীন ও সৌদি আরবের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শিবিরের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তন আসে।

পাকিস্তানের তাৎক্ষণিক চাল ও সাহায্য: বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো রেডিওতে ঘোষণা দেন যে, পাকিস্তান অবিলম্বে মোশতাকের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে একটি ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে স্বাগত জানিয়ে ভুট্টো তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টন চাল এবং ৪ লাখ গজ কাপড় অনুদান হিসেবে পাঠানোর ঘোষণা দেন। এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনে পাকিস্তানপ্রীতি ফিরিয়ে আনা।

চীন ও সৌদি আরবের স্বীকৃতি: স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে যে চীন ও সৌদি আরব বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরপরই তাদের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে।

৩১শে আগস্ট, ১৯৭৫: চীন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

১লা সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫: সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং নতুন সরকারকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেয়।

বিশ্ব গণমাধ্যমগুলো তখন স্পষ্টভাবে লিখেছিল যে, শেখ মুজিবের ধর্মনিরপেক্ষ এবং সোভিয়েত-ভারত ঘেঁষা নীতির কারণেই এই দেশগুলো এতদিন ঢাকাকে বর্জন করেছিল, যা তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথেই পরিবর্তিত হয়ে যায়।

সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ধ্বংস এবং পরবর্তী ক্যু-এর দীর্ঘ শৃঙ্খল

১৫ই আগস্টের এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা (Chain of Command) সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল। জুনিয়র অফিসাররা (মেজর পদমর্যাদার) সিনিয়র জেনারেলদের বন্দি বা নির্দেশ দেওয়ার যে নজির স্থাপন করেছিল, তার খেসারত দিতে হয়েছিল পুরো দেশকে।

২০টিরও বেশি পাল্টা অভ্যুত্থান: ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর থেকে ১৯৮১ সালে জেনারেল জিয়াউ রহমানের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ২০টিরও বেশি ছোট-বড় সামরিক অভ্যুত্থান এবং সিপাহী বিদ্রোহ ঘটে।

জুনিয়র অফিসারদের এই বেপরোয়া মনোভাবের কারণে সেনাবাহিনীর ভেতরে চরম উপদলীয় কোন্দল (Factionalism) তৈরি হয়। হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার এবং সাধারণ সৈনিককে ফাঁসি ও কোর্ট-মার্শালের মাধ্যমে হত্যা করা হয়।

ইতিহাসবিদদের মতে, ১৫ই আগস্ট যদি সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে খুনিদের পুরস্কৃত করা না হতো, তবে পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে এত রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যেতে হতো না।

ইতিহাসের অমোঘ বিচার ও চিরন্তন সত্য

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে খুনিরা ভেবেছিল তারা একটি আদর্শকে, একটি রাষ্ট্রকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পেরেছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ব্যক্তিকে হত্যা করা গেলেও তার আদর্শ ও সৃষ্টিকে কখনো হত্যা করা যায় না। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মতো নিকৃষ্ট আইনি বাধা এবং দীর্ঘ ২১ বছরের ইতিহাস বিকৃতির দেয়াল ভেঙে বাংলাদেশ যেভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার সম্পন্ন করেছে, তা বিশ্বের বিচারিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ খুনির মধ্যে বাকি ৫ পলাতককে দেশে ফিরিয়ে এনে রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করাই এখন জাতির মূল দাবি। এই বিচার কেবল একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার ছিল না, এটি ছিল বাংলাদেশের সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক লড়াই। রক্ত দিয়ে যে স্বাধীন মানচিত্র বঙ্গবন্ধু আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন, সেই মানচিত্রের বুকেই খুনিদের বিচার সম্পন্ন করে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে প্রমাণ করেছে এ দেশে দেরিতে হলেও সত্য ও ন্যায়ের জয় অবশ্যম্ভাবী।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jun 22, 2026

/

Post by

বঙ্গবন্ধুকে কেবল হাজার বছরের ফ্রেমে বাঁধা কঠিন; দেশ-বিদেশের বহু ইতিহাসবিদ, সমাজবিজ্ঞানী এবং কোটি কোটি সাধারণ মানুষ তাঁকে 'সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি' হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু অনেকেরই হয়তো জানা নেই, কীভাবে এই ভূষিত রূপটি একটি আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। কবে, কোন ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের প্রত্যক্ষ ভোটে শেখ মুজিব এই অনন্য খেতাব অর্জন করেছিলেন? সেই ঐতিহাসিক জরিপে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বা সহযোগী অন্যান্য বাঙালি শ্রেষ্ঠরাই বা কারা ছিলেন?

May 23, 2026

/

Post by

একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে তাঁর নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটিয়েছিল সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী কর্মকর্তা ও জওয়ান। কিন্তু এই চরম জাতীয় ট্র্যাজেডির অব্যবহিত পরেই স্বাধীন বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো যেভাবে চোখের পলকে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছিল, তা কেবল নজিরবিহীনই নয়, বরং চরম বিস্ময় ও লজ্জার এক ঐতিহাসিক দলিল।

May 8, 2026

/

Post by

১৬ই ডিসেম্বর ঢাকা মুক্ত হলেও বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বড় এলাকা এবং বিচ্ছিন্নভাবে আরও কিছু পাকিস্তানি সেনাঘাঁটি ও তাদের অনুগত মিলিশিয়া বা রাজাকারদের অবস্থান তখনো আত্মসমর্পণ করেনি। তারা ঢাকার বুকে এক একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির মতো টিকে ছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও বিপজ্জনক অবস্থানটি ছিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক ভবন যেখানে বন্দি ছিলেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার।

Mar 7, 2026

/

Post by

৭ই মার্চের ভাষণ কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়; এটি একটি জাতির জন্মসনদ, একটি নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর মুক্তির মহাকাব্য। ১৯৭১ সালের সেই পড়ন্ত বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে বজ্রকণ্ঠ ঘোষণা করেছিলেন, তা আজ ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য ঐতিহ্য।

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jun 22, 2026

/

Post by

বঙ্গবন্ধুকে কেবল হাজার বছরের ফ্রেমে বাঁধা কঠিন; দেশ-বিদেশের বহু ইতিহাসবিদ, সমাজবিজ্ঞানী এবং কোটি কোটি সাধারণ মানুষ তাঁকে 'সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি' হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু অনেকেরই হয়তো জানা নেই, কীভাবে এই ভূষিত রূপটি একটি আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। কবে, কোন ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের প্রত্যক্ষ ভোটে শেখ মুজিব এই অনন্য খেতাব অর্জন করেছিলেন? সেই ঐতিহাসিক জরিপে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বা সহযোগী অন্যান্য বাঙালি শ্রেষ্ঠরাই বা কারা ছিলেন?

May 23, 2026

/

Post by

একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে তাঁর নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটিয়েছিল সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী কর্মকর্তা ও জওয়ান। কিন্তু এই চরম জাতীয় ট্র্যাজেডির অব্যবহিত পরেই স্বাধীন বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো যেভাবে চোখের পলকে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছিল, তা কেবল নজিরবিহীনই নয়, বরং চরম বিস্ময় ও লজ্জার এক ঐতিহাসিক দলিল।

May 8, 2026

/

Post by

১৬ই ডিসেম্বর ঢাকা মুক্ত হলেও বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বড় এলাকা এবং বিচ্ছিন্নভাবে আরও কিছু পাকিস্তানি সেনাঘাঁটি ও তাদের অনুগত মিলিশিয়া বা রাজাকারদের অবস্থান তখনো আত্মসমর্পণ করেনি। তারা ঢাকার বুকে এক একটি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির মতো টিকে ছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও বিপজ্জনক অবস্থানটি ছিল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক ভবন যেখানে বন্দি ছিলেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার।

Mar 7, 2026

/

Post by

৭ই মার্চের ভাষণ কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়; এটি একটি জাতির জন্মসনদ, একটি নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর মুক্তির মহাকাব্য। ১৯৭১ সালের সেই পড়ন্ত বিকেলে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে বজ্রকণ্ঠ ঘোষণা করেছিলেন, তা আজ ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য ঐতিহ্য।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.