কিংবদন্তী তারামন বিবি – ১৩ বছর বয়সে ধরেছিলেন স্টেনগান
একজন কিংবদন্তী নারী মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি। কুড়িগ্রামের এক অজপাড়াগাঁয়ে জন্ম নেওয়া তারাবানু নামের এক কিশোরী, যিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে জীবন-মরণের ভয় উপেক্ষা করে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদান, যা দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল, তা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অপরিহার্য অংশ।

TruthBangla
Dec 1, 2025
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেবল পুরুষের শৌর্য বা সামরিক কৌশলের গল্প নয়। এটি লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের বিশেষত নারীদের অবিশ্বাস্য সাহস, আত্মত্যাগ এবং সম্মুখ সমরের এক মহাকাব্য। এমনই একজন কিংবদন্তী নারী মুক্তিযোদ্ধা হলেন তারামন বিবি। কুড়িগ্রামের এক অজপাড়াগাঁয়ে জন্ম নেওয়া তারাবানু নামের এক কিশোরী, যিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে জীবন-মরণের ভয় উপেক্ষা করে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদান, যা দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল, তা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অপরিহার্য অংশ। এই নিবন্ধে আমরা সেই নির্ভীক নারী যোদ্ধার জীবন ও মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে তাঁর ব্যতিক্রমী ভূমিকা তুলে ধরব।
কিশোরী তারাবানু থেকে বীর প্রতীক তারামন
তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু। ১৯৫৭ সালের কোনো এক দিনে তিনি কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরের শংকর মাধবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সাধারণ এক গ্রামের মেয়ে, যাঁর জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে দেয় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর শুরু হওয়া এক ভয়াবহ যুদ্ধ।
যুদ্ধ ও নিয়তি: তারামন বিবির বয়স তখন মাত্র ১৩ বছর। চারপাশের মানুষ যখন প্রাণ বাঁচাতে দিশেহারা, ঠিক তখনই তিনি দেখলেন দলে দলে ট্রাকে ট্রাকে পাকিস্তানি সৈন্য নামছে। তাঁর গ্রামটি পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে, যাঁর নেতৃত্বে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার মেজর আবু তাহের। যুদ্ধের ভয়াবহতা তারাবানুর মতো কিশোরীর মনেও দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার সাহস সঞ্চার করেছিল।
ইতিহাসের আহ্বান: আজ বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে, তাঁর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে (১ ডিসেম্বর, ২০১৮ তে তাঁর মৃত্যু হয়) আমরা বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এই কিংবদন্তী মুক্তিযোদ্ধাকে, যাঁর জীবন প্রমাণ করে - দেশপ্রেমের জন্য বয়সের কোনো সীমা নেই।
রণাঙ্গনে প্রবেশ – রান্নাঘরের আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতি
অন্যান্য অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধার মতো, তারামন বিবির যুদ্ধযাত্রার শুরুটাও হয়েছিল অত্যন্ত সাদামাটাভাবে - রান্না ও সেবা দিয়ে। কিন্তু এই সেবার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল সম্মুখ সমরের প্রাথমিক প্রস্তুতি।
ক্যাম্পের জীবন – রান্নার দায়িত্ব ও নতুন পরিচয়
একাত্তরের সেই সংকটময় সময়ে, যখন পুরুষ মুক্তিযোদ্ধারা দিনরাত অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন ক্যাম্পের দৈনন্দিন কাজের জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
মুহিব হাবিলদারের প্রস্তাব: একদিন মুহিব হাবিলদার নামে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধা তারাবানুদের বাড়িতে এসে তারাবানুকে কাজের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধারা রান্নার পাশাপাশি ধোয়া-মোছার কাজ সামলাতে পারছেন না। বিনিময়ে তাকে কিছু টাকা দেওয়া হবে।
মায়ের দ্বিধা ও সম্মতি: প্রথমে তারাবানুর মা এই প্রস্তাবে রাজি হননি। এত ছোট মেয়েকে যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে অজানা ক্যাম্পে ছাড়তে মায়েদের ভয় থাকাই স্বাভাবিক ছিল। মুহিব হাবিলদারের বহু বোঝানোর পরে অবশেষে গ্রামের পাশে দশঘরিয়ায় অবস্থিত মুক্তিবাহিনীর সেই ক্যাম্পে রান্নার দায়িত্ব নিতে মেয়েকে ছাড়তে রাজি হন তারাবানুর মা।
নাম পরিবর্তন: এই ক্যাম্পেই মুহিব হাবিলদার তারাবানুর নামের শেষে যুক্ত করেন ‘মন’ শব্দটি - এভাবেই তারাবানু হয়ে ওঠেন তারামন, যা সাহস ও বীরত্বের প্রতীক হয়ে রইল।
সর্বকনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা ও অস্ত্র পরিষ্কারের দায়িত্ব
মুক্তিবাহিনীর সেই ক্যাম্পে তারামন ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। কেবল রান্না করা বা ধোয়ামোছা করাই তাঁর কাজ ছিল না।
রান্নার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত অস্ত্র পরিষ্কার করতেন। এই কাজ করতে গিয়েই তিনি অস্ত্রের গঠন, ব্যবহার এবং এর কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা অর্জন করেন, যা পরে তাঁকে সরাসরি যুদ্ধে উৎসাহিত করে।
সম্মুখসমরের ত্রাতা – সুপারি গাছের উপর থেকে যুদ্ধের বার্তা
তারামন বিবির সামরিক গুরুত্ব প্রথম প্রমাণিত হয় একটি অতর্কিত সম্মুখ যুদ্ধে তাঁর তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও নজরদারির কারণে।
বিপদের বার্তা: একবার মধ্য দুপুরে সবাই খেতে বসেছিল। তারামন খেয়ে দেয়ে চারপাশে নজর রাখছিলেন। ক্যাম্পের পাশে সুপারি গাছের উপরে উঠে দূরদৃষ্টি রাখছিলেন তিনি। হঠাৎ দেখলেন, পাকিস্তানিদের একটি গানবোট দ্রুত গতিতে তাঁদের ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে আসছে।
তাৎক্ষণিক সতর্কতা: সঙ্গে সঙ্গে তিনি কমান্ডারকে বিপদ সংকেত জানালেন। তাঁর এই জরুরি বার্তা পেয়ে সবার খাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যেই সবাই নিজ নিজ অবস্থান নিয়ে নিলেন।
সম্মুখ যুদ্ধ: সেই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ সম্মুখ যুদ্ধ চলেছিল। তারামন বিবির সময়োচিত সতর্কতার কারণেই সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানিদের অতর্কিত আক্রমণ থেকে রক্ষা পান। মুক্তিযোদ্ধারা মনে করতেন, তারামন সুপারি গাছের উপরে উঠে না দেখলে, পাকিস্তানি গানবোটের হামলায় তাঁরা সেদিন মাটির সঙ্গে মিশে যেতেন। এই ঘটনার পর তারামন কেবল ক্যাম্পের সেবিকা হিসেবে নয়, একজন গুরুত্বপূর্ণ স্কাউট বা নজরদার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তারামন বিবির গুপ্তচর বৃত্তি
মুক্তিবাহিনীতে তারামন বিবির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও ঝুঁকিপূর্ণ অবদান ছিল গুপ্তচর হিসেবে কাজ করা। তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং চমৎকার অভিনয় ক্ষমতা বিভিন্ন অপারেশনে সফলতা এনেছিল।
বিভিন্ন অপারেশনের আগে তারামন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলার ভেলায় করে গুরুত্বপূর্ণ রসদ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতেন। কলার ভেলায় করে খাল বা নদী পার হওয়া ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, বিশেষত যখন চারদিকে হানাদার বাহিনীর কড়া পাহারা।
ভেড়ামারি ক্যাম্পে ঐতিহাসিক গুপ্তচর বৃত্তি
১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের এক সাধারণ দিন, কুড়িগ্রামের কোদালকাটি এলাকায়, খালের ওপাশে ভেড়ামারি গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর সামরিক ক্যাম্পে এক অস্বাভাবিক দৃশ্য চোখে পড়ে। ক্যাম্পের পাশে এক অপ্রকৃতস্থ কিশোরী গোবর ও কাদা মেখে, ছেঁড়া কাপড়-চোপড় পরিহিত অবস্থায় গোবর কুড়াচ্ছিল। এই কিশোরীই ছিলেন নারী মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি। কেউ জানত না, গোবর কুড়ানো এই পাগলী আসলে ছিলেন মুক্তিবাহিনীর একজন দুর্ধর্ষ গুপ্তচর।
শত্রুর ক্যাম্পে তারাবানুর প্রবেশ
পাকিস্তানি সেনারা সামরিক প্রশিক্ষণে সুচতুর হলেও, গোবর কুড়ানো এক অপ্রকৃতস্থ কিশোরীর ছদ্মবেশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়ানক কৌশল তারা ধরতে পারেনি। পাকিস্তানি সেনারা তাকে দেখে প্রথমে মজা নিতে শুরু করে। তারা তাকে গালাগাল করে, এটা-ওটা বলে ক্ষেপিয়ে তোলে।
অপ্রকৃতস্থের ভান করে তারামন বিবিও ইচ্ছেমতো ওদের গাল দেন, ক্ষণিকের জন্য ক্যাম্পের আশপাশ ঘুরে বেড়ান এবং গোবর কুড়ান। এই সময়টুকুতে তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ক্যাম্পের ভেতরের সৈন্যসংখ্যা, অস্ত্রশস্ত্রের অবস্থান এবং সামরিক বিন্যাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেন।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত্রুর একেবারে নাকের ডগায় প্রবেশ করা এবং তাদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়ে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য চরম সাহসিকতা ও মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজন ছিল, যা তারামন বিবি প্রমাণ করেছিলেন।
মুক্তিবাহিনীর নিখুঁত আঘাত
সেই রাতেই ঘটনা ঘটে। খালের এপাশে খালিয়াভাঙ্গায় গোপনে ক্যাম্প করে লুকিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা তারামন বিবির দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে আক্রমণে যায়।
মুক্তিবাহিনীর নিখুঁত আক্রমণে পাকিস্তানি ক্যাম্প উড়ে যায়। পাকিস্তানিরা হয়তো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জানতেও পারেনি যে, সকালবেলা যে অপ্রকৃতস্থ কিশোরী গোবর কুড়াতে এসে তাদের গালাগাল করে গেল, সেই কিশোরীই তাদের পতনের কারণ।
আসলে সেই কিশোরী অপ্রকৃস্থ ছিল না। তিনি ছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মাত্র তিনজন বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত দুর্ধর্ষ নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন।
সম্মুখসমরে অংশ গ্রহণ ও বীরত্ব
গুপ্তচর বৃত্তির পাশাপাশি তারামন বিবি সরাসরি পুরুষ সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখসমরেও অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর সামরিক প্রশিক্ষণের অভাব ছিল না, কিন্তু প্রবল আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেম তাঁর প্রধান অস্ত্র ছিল।
বিখ্যাত যুদ্ধে অংশগ্রহণ: কেবল গুপ্তচর বৃত্তি বা নজরদারী নয়। তিনি মোহনগঞ্জ, তারাবর কোদালকাটি, গাইবান্ধার ফুলছড়ির বহু বিখ্যাত যুদ্ধে পুরুষ সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন।
আক্রমণের ধারা: তিনি যখন অস্ত্র হাতে নিতেন, তখন তাঁর বয়স বা শারীরিক গঠন কোনো বাধা ছিল না। তিনি শত্রুর দিকে গুলি ছুড়েছেন, সহযোদ্ধাদের কভার দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনেছেন। তাঁর এই অংশগ্রহণ নারী মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্ত্র ভূমিকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বীর প্রতীক উপাধি – দীর্ঘ অপেক্ষার পর সম্মাননা
মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবির এমন অসামান্য অবদান সত্ত্বেও, বিজয়ের পর তিনি নীরবে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন।
সরকারি স্বীকৃতি: ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তারামন বিবিকে সর্বোচ্চ সামরিক খেতাবগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘বীর প্রতীক’ উপাধিতে ভূষিত করে।
অজানা জীবন: কিন্তু এই খবরও তিনি জানতে পারেননি। যুদ্ধের পর তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যান, বিয়ে করেন এবং পরিবারের সঙ্গে চরাঞ্চলে বসবাস শুরু করেন। একসময় তিনি সম্পূর্ণভাবে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান। বিয়ের পর তাঁর স্বামী আব্দুল মজিদও জানতেন না যে, তাঁর স্ত্রী একজন মুক্তিযোদ্ধা।
স্বামীর সরল স্বীকারোক্তি: এক সাক্ষাৎকারে তাঁর স্বামী সরলভাবে বলেছিলেন, "হ্যায় যে মুক্তিযোদ্ধা, হেইটা বিয়ের পরও বুঝি নাই। লেহা পড়া নাই। চর্যার মধ্যে বাড়ি। পেটের ভাত জোগাড় কোরতেই দিন চইলা যাইত, হ্যাই খবর কেমনে নিমু?"
পুনর্সন্ধান ও আনুষ্ঠানিক সম্মাননা
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর তারামন বিবির খোঁজ মেলে।
গবেষকের প্রচেষ্টা: ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের অধ্যাপক-গবেষক বিমল কান্তি দের মাধ্যমে তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়। তাকে সহযোগিতা করেছিলেন তারামন বিবির জন্মস্থান কুড়িগ্রামের রাজীবপুরের কলেজের অধ্যাপক আবদুস সবুর ফারুকী।
পরিচয় প্রতিষ্ঠা: অধ্যাপকেরাই কাগজপত্র দেখিয়ে তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন যে, তাদের পরিচিত তারাবানুই হচ্ছেন সেই বিরল সম্মাননাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি।
সংবাদ: তাঁকে খুঁজে পাওয়ার খবরটি ১৯৯৫ সালের ২১ নভেম্বর দৈনিক ভোরের কাগজের প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছিল।
সম্মাননা প্রদান: দীর্ঘ ২২ বছর পর, ১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তারামন বিবির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর বীর প্রতীক সম্মাননা তুলে দেন।
অনুপ্রেরণার উৎস
২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর সবাইকে ছেড়ে যান মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী নারী মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি বীর প্রতীক। তাঁর জীবন আমাদের এই শিক্ষা দেয়:
দেশপ্রেমের কোনো বয়স নেই: মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁর যুদ্ধে অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, দেশপ্রেম কোনো বয়সের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়।
নারীর বহুমুখী ভূমিকা: তিনি রান্নাঘরের কাজ থেকে শুরু করে গুপ্তচর বৃত্তি, নজরদারী এবং সম্মুখসমরে অংশগ্রহণ—মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারী যোদ্ধাদের বহুমুখী সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন।
সাধারণের বীরত্ব: তারামন বিবির মতো সাধারণ ঘরের একজন কিশোরী, যিনি কোনো সামরিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই সর্বোচ্চ ত্যাগ ও সাহসিকতা প্রদর্শন করেছেন, তিনি আমাদের জাতীয় বীরত্বের এক চিরন্তন প্রতীক।
তারামন বিবি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সেইসব নারী যোদ্ধাদের প্রতিনিধিত্ব করেন, যাদের অসামান্য আত্মত্যাগ ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়তো অসম্ভব হতো। তাঁর বীরত্বগাথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সাহস, সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাবে।
Explore Topics
Featured Posts
About
TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.















