জগন্নাথ হল এক বিভীষিকাময় মৃত্যুকূপ
২৫ মার্চ, ১৯৭১। বাঙালির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় কালরাত। সেই রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক এক নৃশংস নিধনযজ্ঞের মাধ্যমে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। এই যজ্ঞের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালির জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র। সেই রাতে হানাদার বাহিনী কেবল সাধারণ মানুষকেই হত্যা করেনি, তারা বেছে বেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আমাদের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের ওপর চালিয়েছিল বর্বরোচিত আক্রমণ।

TruthBangla

‘মিলিটারি যখন জগন্নাথ হলে গণহত্যা শুরু করলো তখন আমরা হলের অ্যাসেম্বলির পিছনের জায়গায় গিয়া লুকাইলাম। কারণ ঐদিকটা আন্ধার ছিল। আমার স্বামীর কোলে আমার মেয়েটা ছিল। হঠাৎ একটা বাচ্চা কাইদা উঠলো। তখন মিলিটারি টর্চ জ্বালাইয়া আমার স্বামীরে খুঁইজা পাইলো। তারে টানটানি কইরা নিয়া যাওয়ার সময় আমি বললাম, তারে কই নিয়া যান?
ওরা আমারে লাথি মেরে আমার মেয়েটারে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আমার স্বামীকে নিয়ে গেল। আমি তখন ওদের জিজ্ঞেস করলাম, উনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? ওরা আমাকে লাথি মেরে সরিয়ে দিলো। আমি তখন বেহুঁশ হয়ে গেলাম। আমার সাথে থাকা বাকিরা আমার চোখে জল ছিটালে কিছুক্ষণ পর আমার হুঁশ ফিরে আসলো। সঙ্গে থাকা বাকিরা কইলো, ‘লও আমরা গেইটের দিকে যাই।’
এরপর আমরা যহন গেইটের দিকে গেলাম, দেখলাম হাউস টিউটর অনুদ্বৈপায়ন বাবুরে রাইফেলের বাঁট দিয়া মারতে মারতে নিয়া আসছে ওরা।
তাঁর দুহাত পিছনের দিকে ধুতি দিয়া বান্ধা, পরনে আন্ডারওয়্যার। এরপর বাকিদের মতো তারেও মাঠের একপাশে দাঁড় করালো। উর্দুতে কি যেন জিজ্ঞেস করলো। তিনিও উর্দুতে জবাব দিলেন। এর একটু পরেই আমি গুলির শব্দ শুনলাম।’
২৫ মার্চ কালরাতে অণুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের শহীদ হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে আমাকে এমনটাই বলেছিলেন জগন্নাথ হল গণহত্যার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী বকুল রাণী দাস। অণুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এবং জগন্নাথ হলের হাউস টিউটর।
তবে অণুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য নন, ২৫ মার্চ কালরাতে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সর্বপ্রথম শিকার ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফজলুর রহমান খান।
ফজলুর রহমান খান থাকতেন নীলক্ষেতে বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় শিক্ষকদের আবাসনে। তাঁর স্ত্রী ফরিদা খানম ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। তখন তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার কারণে দেশের বাইর অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।
রশীদ হায়দার সম্পাদিত ‘স্মৃতিঃ ১৯৭১’ এর প্রথম খণ্ডে ড. ফজলুর রহমান খানের চাচাতো ভাই আবদুল হান্নান ঠাকুর লিখেছেন,
‘তখন রাত বারোটা বিশ মিনিট। ভাইয়ের দরজায় বন্দুকের আঘাত। ভেঙে ফেলার উপক্রম। উর্দুতে গালাগালি, দরোজা খোলার হুঙ্কার। ভেতরে ভাই, কাঞ্চন, জবান। দরোজায় আঘাতের পর আঘাতে থাকতে না পেরে কাঞ্চন বলেছিল, ‘মামা আমার ইউওটিসির ট্রেনিং আছে। সারেন্ডারের ভঙ্গিতে গিয়ে দরোজা খুলে দি, ওরা কিছু করবে না।’ ভাই তাকে ফেরাতে ব্যর্থ হলেন শেষবারের মতো। দরোজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে হায়েনারা রাইফেলের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিল কাঞ্চনের বুক।
সহ্য করতে না পেরে ভাই রেগে উচ্চকণ্ঠে বকতে শুরু করলেন। সঙ্গে সঙ্গে আবারো গর্জে উঠল হায়েনার বন্দুক। মুহূর্তে ঝাঁঝরা হয়ে গেল ভাইয়ের বুক। এতেও হায়েনারা তৃপ্ত না হয়ে বেয়োনেটে X চিহ্ন কেটে দিল ফজলু ভাইয়ের বুকে। ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে গেল দুটি তাজা প্রাণ। মৃত্যুর এই ভয়াবহ দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করেছিল জবান। পাশের বাথরুমের ভেতর থেকে।’
মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সূচনা হয়েছিলো ২৫ মার্চ কালরাতেই। ৩২ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজের নেতৃত্বে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সদস্যরা খুঁজে খুঁজে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিলো।
২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধুলায় মিশিয়ে দেয়া। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই ছিল সকল আন্দোলনের সূতিকাগার এবং কেন্দ্রবিন্দু। ২৫শে মার্চ কালরাত ও ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানী বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত অবস্থাতেও প্রাণে বেঁচে যান।
২৫ মার্চ রাত ২টার দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর এক ট্রুপস সেনা শহীদ মিনার এলাকায় অবস্থিত শিক্ষকদের আবাসিক কোয়ার্টারের ৩৪ নম্বর ভবনের এসে পৌঁছায়। এসময় তাঁরা লাথি মেরে ভবনের মূল গেট ভেঙে ফেলে। একজন পাকিস্তানি অফিসার এসময় হ্যান্ডমাইকে তিনজন অধ্যাপকের নাম ঘোষণা করে তাদের বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসতে বলে।
এই তিনজন হলেন পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক এ. এন. এম মুনীরউজ্জামান, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র দেব (জিসি দেব) এবং ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা। অধ্যাপক জিসি দেব তখন এই ভবনে থাকতেন না।
ভবনটির নিচ তলায় থাকতেন অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এবং তিনতলায় থাকতেন অধ্যাপক এ. এন. এম মুনীরউজ্জামান। হ্যান্ডমাইকে ঘোষণার পরও তাদের কেউ না আসায় একজন পাকিস্তানি অফিসার নিচতলার রান্নাঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে।
এসময় শোবার ঘরে ঢুকে জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতাকে দেখতে পেয়ে পাকিস্তানি অফিসার তাঁকে জিজ্ঞেস করে আপ প্রফেসর সাহাব হ্যায়?’ জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, ‘ইয়েস’। অফিসার বলে, ‘আপকো লে যায়েগা।’ জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হোয়াই?’ জবাবে কোন উত্তর দিলোনা সেই অফিসার। তাঁকে টেনে বাইরে নিয়ে যাওয়া হলো।
এরই মধ্যে পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল সিঁড়ি দিয়ে তিনতলায় উঠে এসে অধ্যাপক মুনীরুজ্জামানের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। তখন নামাজ আদায় করে দোয়াদরুদ পাঠ করছিলেন অধ্যাপক মুনীরুজ্জামান । হানাদার সেনারা ঘরে প্রবেশ করেই অধ্যাপক মুনীরউজ্জামানের কাছে পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় পরে পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে নিচে নামিয়ে আনে।
নিচে নামিয়ে আনার পর পাকিস্তানি সেনারা মোট আটটা গুলি করে। গুলি করার পরপরই হানাদার সেনারা সবাইকে কারফিউ জারির কথা ঘোষণা করে দ্রুত ট্রাক নিয়ে চলে যায়।
তখন অধ্যাপক মুনীরউজ্জামানের স্ত্রী সৈয়দা মাহমুদা জামান তেতলা থেকে পানি নিয়ে এসে গুলিবিদ্ধ চারজনকে পান করালেন। তিনি দৌড়ে গিয়ে জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার স্ত্রী বাসন্তী গুহঠাকুরতাকে বললেন, ‘আপনার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়ে বাইরে পড়ে আছেন, আমার সাথে কথা বলছেন, তিনি বাঁচবেন না।’ তখন দুজনই ছুটে এসে দেখেন ততোক্ষণে অধ্যাপক মুনীরউজ্জামান ও বাকিরা মারা গেলেও জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা তখনো জীবিত আছেন।
পরবর্তীতে চোখের সামনে মেডিকেল হওয়া সত্ত্বেও কারফিউর কারণে গুরুতর আহত জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতাকে মেডিকেলে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। ২৭ মার্চ সকালে তাঁকে মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে কোন চিকিৎসক ও লোকজন না থাকায় দায়িত্বরত নার্সরাই প্রাণপণ সেবা করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ মার্চ মৃত্যুবরণ করেছিলেন অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা।
২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা হলে (বর্তমানে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল) কামানের গোলাবর্ষণ শুরু করে। এসময় হানাদারদের ছোঁড়া গোলার আঘাতে শহীদ হন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আতাউর রহমান খান খাদিম। ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান ঢাকা হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত গণিত বিভাগের প্রভাষক শরাফত আলী।
কিন্তু কামানের গোলার আঘাতে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঢাকা হল। শরাফত আলীদের আবাসে আগুন ধরে যায়। একপর্যায়ে ভোরের দিকে শরাফত আলী চুপিসারে আগুন নেভাতে যান। এসময় পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে দেখতে পায়। এরপর হানাদার সেনারা তাঁকে চরমভাবে বেয়নেট চার্জ করে গুলি করে হত্যা করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ নং ফুলার রোডের শিক্ষকদের একটি ভবনের নিচ তলায় থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল মুকতাদির। ভবনটির তিনতলায় থাকতেন সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সায়েদ আলী নকী।
২৫ মার্চ রাতে গোলাগুলি শুরু হলে আবদুল মুকতাদির তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অধাপক নকীর বাসায় আশ্রয় নেন। ভোর ছয়টার দিকে ১০/১৫ জন হানাদার সেনা বাড়ির সামনে এসে বাসিন্দাদের নিচে নেমে আসার আদেশ দেয়। অধ্যাপক নকী নিচে নেমে আসেন।
হঠাৎ ৪/৫ জন সেনা অধ্যাপক নকীর সঙ্গে তিনতলায় উঠে আসেন। একজন সেনা এসময় আবদুল মুকতাদিরকে লক্ষ্য করে ‘তুম জয় বাংলা বলতা, পাকিস্তান নেহি চাহতা’ বলে চিৎকার করে তাঁর বুকে ও পেটে গুলি করে।
এসময় তাঁর স্ত্রী প্রাণভিক্ষা চাইলে তাকে ধাক্কা মেরে ঐ বাড়ির আরও একজনকে গুলি করে হত্যা করে হানাদার সেনারা। এমন সময় অধ্যাপক সায়েদ আলী নকীর মেয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরলে হানাদার সেনারা তাকে হত্যা না করেই চলে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সামনে একতলা একটি কোয়ার্টার থাকতেন দর্শন বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব(জি সি দেব)। গোবিন্দ চন্দ্র দেবের সঙ্গে আরও থাকতেন তাঁর পালিত মেয়ে রোকেয়া সুলতানা এবং রোকেয়ার স্বামী। ২৫ মার্চ রাতে তুমুল গুলিবর্ষণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের ঘরটি। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় ঘরটি।
উত্তেজনায় সে রাতে বেশ কয়েকবার মূর্ছা যান গোবিন্দ দেব। একপর্যায়ে শেষরাতের দিকে গুলিবর্ষণের একপর্যায়ে হ্যান্ড মাইকে হানাদার সেনারা সারেন্ডার করার আদেশ দিচ্ছিলো ভোরের দিকে গুলির আওয়াজ কমে আসে।
সমস্ত রাত্রি জাগরণের কারণে ক্লান্তিতে নুয়ে পড়েছিলেন গোবিন্দ দেব। তখন তিনি মেয়েকে বলেন, ‘উপাসনার সময় হয়েছে, একটু স্থান করে দেয়, মা’। রোকেয়া সুলতানা উপাসনার জায়গা করে দিলেন। ফ্লাক্সে রাখা গরম পানি দিয়ে চা বানিয়ে দিলেন। হঠাৎ দরজায় আঘাত পড়লো, হানাদার সেনারা হুঙ্কারের সঙ্গে বললো, ‘মালাউন কা বাচ্চা দরওয়াজা খোল দো’।
তীব্র উত্তেজনায় উঠে দাঁড়ালেন গোবিন্দ চন্দ্র দেব। এসময় তাঁকে বসিয়ে দিলেন রোকেয়া। দরজায় তখনো লাথির পর লাথি পড়ছে। রোকেয়ার স্বামী উঠে গিয়ে দরজা খুলতে যেতেই লাথির আঘাতে দরজা ভেঙে পড়লো। হানাদারদের গুলিতে শহীদ হলেন রোকেয়ার স্বামী মোহাম্মদ আলী। এমন সময় শান্তভাবে অধ্যাপক জি সি দেব বললেন, ‘বাবারা কি চাও এখানে?’ জি সি দেব জিজ্ঞেস করতেই হানাদার সেনারা ব্রাশফায়ার শুরু করে।
মাথায় দুটি গুলি বিদ্ধ হয়। গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় গোবিন্দ চন্দ্র দেবের বুক। আমাদের আত্মভোলা সেই মহান দার্শনিক দর্শনকে ভালোবেসেছিলেন মনেপ্রাণে। যার সাধনায় তিনি ব্রতী ছিলেন সারাজীবন। যিনি বারেবারে বলে গিয়েছিলেন, 'Philosophy is my first love, philosophy is my second love and philosophy is my last love.
ছবিটি সেই মহাত্মা অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র দেবের।
লেখক: আহমাদ ইশতিয়াক














