>

>

একাত্তরের রণাঙ্গনে এক সুফি সৈনিক – দেওয়ানবাগী পীর

একাত্তরের রণাঙ্গনে এক সুফি সৈনিক – দেওয়ানবাগী পীর

যখন শর্ষিণার পীর বা গোলাম আযমের মতো কিছু প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষ নিয়ে ফতোয়া দিচ্ছিলেন এবং বাঙালির নির্মূল অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রাখছিলেন, ঠিক তখনই আরেকজন প্রভাবশালী আলেম, মাওলানা মাহবুব-এ-খোদা (পরবর্তীকালে সুফি সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর হিসেবে পরিচিত) অস্ত্র হাতেই হানাদারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। একাত্তরের রণাঙ্গনে তাঁর ভূমিকা ছিল আপোষহীন।

TruthBangla

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেবল রাজনীতিবিদ, সামরিক অফিসার বা ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি ছিল এমন এক সর্বাত্মক জনযুদ্ধ, যেখানে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ - পেশা, ধর্ম ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মাতৃভূমি রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল। আলেম-ওলামা সমাজের মধ্যেও সেই সময়ে এক চরম বিভাজন দেখা গিয়েছিল। যখন শর্ষিণার পীর বা গোলাম আযমের মতো কিছু প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষ নিয়ে ফতোয়া দিচ্ছিলেন এবং বাঙালির নির্মূল অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রাখছিলেন, ঠিক তখনই আরেকজন প্রভাবশালী আলেম, মাওলানা মাহবুব-এ-খোদা (পরবর্তীকালে সুফি সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর হিসেবে পরিচিত) অস্ত্র হাতেই হানাদারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। একাত্তরের রণাঙ্গনে তাঁর ভূমিকা ছিল আপোষহীন - যা এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ইসলামের দেশপ্রেম ও প্রতিরোধের শিক্ষাকে প্রতিষ্ঠা করেছিল।

ধর্মীয় নেতৃত্বের ঐতিহাসিক বিভাজন

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক কঠিন বাস্তব দিক হলো, সেই সময়ে ধর্মীয় নেতাদের একটি বড় অংশ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ অবলম্বন করেছিল। ‘এক ইসলাম, এক পাকিস্তান’-এর স্লোগানে বিভ্রান্ত হয়ে বা সরাসরি স্বার্থান্বেষী হয়ে তারা রাজাকার, আল-বদর ও শান্তিবাহিনীর মতো ঘাতক দল গঠনে উৎসাহ জুগিয়েছিল।

বিপরীত স্রোত: এই অন্ধকার প্রেক্ষাপটেই কিছু ধর্মপ্রাণ আলেম ও পীর-মাশায়েখ দেশের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। মাওলানা মাহবুব-এ-খোদা ছিলেন সেই হাতে গোনা ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বদের একজন। আলেম হয়েও তিনি শুধু সমর্থন জানাননি, বরং সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে প্রমাণ করেছিলেন—মাতৃভূমিকে শত্রুর কবল থেকে মুক্ত করা একজন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব।

সমালোচনা ও ফ্যাক্ট: দেওয়ানবাগী হুজুরের ব্যক্তিগত মতাদর্শ নিয়ে বর্তমানে হাসি-তামাশা, বিতর্ক বা সমালোচনা থাকতে পারে। তাঁকে নিয়ে তৈরি গানগুলো ব্যাপক ট্রোলিংয়ের শিকার হলেও, একটি অনস্বীকার্য ঐতিহাসিক সত্য হলো—তিনি অস্ত্র ধরেছিলেন, যুদ্ধ করেছিলেন এবং বাংলার মুক্তির সংগ্রামে একজন সক্রিয় সৈনিক হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। ইতিহাসকে ব্যক্তিজীবনের বিতর্ক দিয়ে মুছে ফেলা যায় না।

যুদ্ধ-পূর্ব প্রস্তুতি – কেবল আলেম নন, তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মীও

মাওলানা মাহবুব-এ-খোদার মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি কেবল ২৫শে মার্চের পরে শুরু হয়নি। তাঁর দেশপ্রেম এবং রাজনৈতিক সচেতনতা ছিল একাত্তরেরও আগের।

১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান ও ছাত্র রাজনীতি

পেশায় একজন আলেম হলেও তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি: ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেন। এই অবস্থানই প্রমাণ করে, তিনি কেবল ধর্মচর্চা বা মাজারকেন্দ্রীক ছিলেন না, বরং গণমানুষের অধিকার আদায়ে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে যখন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার ষড়যন্ত্র স্পষ্ট হতে শুরু করে, তখনই তিনি বুঝতে পারেন, রাজনৈতিক সংগ্রাম অচিরেই সশস্ত্র রূপ নিতে পারে। তিনি তখন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্যদের নিয়ে যুদ্ধের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন। এটি ছিল একজন দূরদর্শী নেতার পরিচয়।

ধর্মীয় ফতোয়ার বিপরীতে সশস্ত্র প্রতিরোধ

মুক্তিযুদ্ধকালে শর্ষিণার পীর আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ যখন বাঙালি মেয়েদের ‘মালে গনিমত’ আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানি সৈনিকদের জন্য হালাল করার মতো জঘন্য ফতোয়া দিতে ব্যস্ত ছিলেন, এবং কুখ্যাত গোলাম আজম যখন জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে মিলে বাঙালি নির্মূল অভিযানে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই মাওলানা মাহবুব-এ-খোদা সিদ্ধান্ত নেন - রণাঙ্গনেই ফতোয়াবাজ ও হানাদারদের জবাব দিতে হবে। এই সশস্ত্র প্রতিরোধ ছিল সেই সময়ের বিকৃত ধর্মীয় ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে একজন আলেমের জোরালো প্রতিবাদ।

রণাঙ্গনের প্রথম সারিতে – ৩ নম্বর সেক্টরের প্লাটুন কমান্ডার

২৫শে মার্চের ভয়াল গণহত্যার পর, মাওলানা মাহবুব-এ-খোদা প্রথমে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে রিফিউজিদের সহায়তা শুরু করেন। কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতা দ্রুত পাল্টে যায়।

মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ও কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ

প্রথম ধাপ: তিনি বুঝতে পারেন, কেবল দেশীয় অস্ত্র বা ত্রাণ দিয়ে আধুনিক সুসজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই, ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল তিনি ৭২ জন সহযোদ্ধাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেড্ডায় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে যোগ দেন।

প্লাটুন কমান্ডার: সেখান থেকে তিনি তেলিয়াপাড়া ৩ নম্বর সেক্টর হেডকোয়ার্টারে নির্বাচিত ৬০ জন যুবকের একটি প্লাটুনের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। এই যোগদান ও কমান্ডিং পদে দায়িত্ব গ্রহণ ছিল মুজিবনগর সরকার গঠনেরও পূর্বের ঘটনা।

রেকর্ড ও দলিল: দেওয়ানবাগী হুজুরের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণের ঐতিহাসিক প্রমাণ সরকারি দলিলাদিতে সংরক্ষিত আছে। তাঁর ভারতীয় রেকর্ড অনুযায়ী ক্রমিক নম্বর এমএফ ভলিউম-৭, পৃষ্ঠা নং-১১ এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের রেকর্ড অনুযায়ী তাঁর ক্রমিক নম্বর ৩৪০৬৬

সম্মুখ যুদ্ধ এবং সামরিক অপারেশন

মুক্তিযুদ্ধকালীন দলিলাদি ও প্রত্যক্ষদর্শী সেনা কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দেওয়ানবাগী হুজুর ছিলেন ৩ নম্বর সেক্টরের একজন অত্যন্ত সক্রিয় প্লাটুন কমান্ডার।

প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ: তাঁর প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ ছিল ১৯৭১ সালের ২৬শে এপ্রিল, শাহবাজপুরে। এই যুদ্ধে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর সফল ‘টার্গেট অ্যাটাক’ পরিচালনা করে সফলতা পান।

গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনসমূহ: এরপর তিনি নিয়মিত বিভিন্ন সামরিক অপারেশনে অংশ নেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • ১১ই মে: সিলেট-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কে এ্যাম্বুশ।

  • ১২ই মে: মাধবপুরের বাগসাইর গ্রামে এ্যাম্বুশ।

  • ১৬ই মে: তেলিয়াপাড়ায় এবং চুনারুঘাট মহাসড়কে এ্যাম্বুশ।

  • অন্যান্য যুদ্ধ: ২৮শে এপ্রিলের মাধবপুর যুদ্ধ এবং ১৫ই জুনের মনতলা-হরষপুর যুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

দীর্ঘ আড়াই মাস তিনি মেজর জেনারেল (তৎকালীন মেজর) কে এম সফিউল্লাহর তত্ত্বাবধানে ‘এস’ ফোর্সের অধীনে ৩ নম্বর সেক্টরে প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন।

মেজর জিয়ার অধীনে দায়িত্ব ও কমিশন প্রত্যাখ্যান

রণাঙ্গনে দেওয়ানবাগী হুজুরের সামরিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণ ছিল অসাধারণ।

১ নম্বর সেক্টরে দায়িত্ব পালন

যুদ্ধের এক পর্যায়ে, ৩ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর কে এম সফিউল্লাহ ১ নম্বর সেক্টরে (ত্রিপুরা/ধর্মনগর) একটি কোম্পানি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

কোম্পানির নেতৃত্ব: এই কোম্পানির দায়িত্ব দিয়ে মাওলানা মাহবুব-এ-খোদাকে পাঠানো হয়।

মেজর জিয়ার সান্নিধ্যে: সেখানে তিনি ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউর রহমানের কাছে প্রায় দুই সপ্তাহ অবস্থান করেন এবং ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠনে সহায়তা করেন। এটি প্রমাণ করে, তাঁর সামরিক দক্ষতা এবং সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।

কমিশনড অফিসার পদে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

যুদ্ধের ময়দানে তাঁর সাহসিকতা ও নেতৃত্বগুণ দেখে তৎকালীন সেনাপতি এম এ জি ওসমানী এবং সেক্টর কমান্ডাররা তাঁকে নিয়মিত বাহিনীতে কমিশনড অফিসার পদে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেই লোভনীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, "আমি একজন আলেম। ধর্মচর্চা ও শিক্ষাদানই আমার পেশা। মাতৃভূমিকে শত্রুদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য যুদ্ধে এসেছি। দেশ স্বাধীন হলে আমি আমার কাজে ফিরে যাব।"

এই প্রত্যাখ্যান প্রমাণ করে, তাঁর যুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণভাবে দেশপ্রেম এবং ধর্মীয় দায়িত্ববোধ দ্বারা চালিত, কোনো পদ-পদবি বা সামরিক ক্যারিয়ারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়।

ঐতিহাসিক মোটিভেশন – ঈদুল ফিতর থেকে ঈদুল আজহা

সামরিক পদ প্রত্যাখ্যানের পর তাঁকে মুক্তিযোদ্ধাদের মোটিভেশন ও ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। হোল্ডিং ক্যাম্পে তিনি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকার মানসিক শক্তি যোগাতেন এবং শপথ বাক্য পাঠ করাতেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দেওয়ানবাগী হুজুরের সবচেয়ে আলোচিত ও চমকপ্রদ ঘটনাটি ঘটে ১৯৭১ সালের ১৯শে নভেম্বর, পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন

  • স্থান: ভারতের হেজামারা (৩ নম্বর সেক্টর হেডকোয়ার্টার)।

  • ঘটনা: যুদ্ধের ডামাডোলে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে হাজারো মুক্তিযোদ্ধা ঈদের নামাজে দাঁড়িয়েছেন। ইমামতি করছেন মাওলানা মাহবুব-এ-খোদা। খুতবা দিতে গিয়ে তিনি আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে ঘোষণা দেন:

“আল্লাহর কসম! আগামী বকরা ঈদের আগে দেশ স্বাধীন হবে। আমি আপনাদের নিয়ে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবো।”

সেদিন তাঁর এই কথা উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের মনে এক অবিশ্বাস্য আশার সঞ্চার করেছিল। এটি ছিল চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সেনাদের জন্য এক বিশাল মানসিক শক্তি ও অনুপ্রেরণা।

বিস্ময়করভাবে, সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে ফলেছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয় এবং ১৯৭২ সালের ২৬শে জানুয়ারি, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)। সেই ঐতিহাসিক জামাতেও ইমামতি করেছিলেন রণাঙ্গন থেকে ফিরে আসা সেই মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী হুজুর।

এই ঐতিহাসিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তৎকালীন রণাঙ্গনের শীর্ষ কমান্ডাররা। মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ (৩ নম্বর সেক্টর কমান্ডার) এবং মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া তাঁদের স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া তাঁর ‘যুদ্ধে যুদ্ধে স্বাধীনতা’ বইয়ের ৩১৩ পৃষ্ঠায় এই ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন।

উপসংহার

মাওলানা মাহবুব-এ-খোদা, যিনি পরবর্তী জীবনে সুফি সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর হিসেবে পরিচিত, তাঁর ব্যক্তিগত মতাদর্শ নিয়ে সমাজের বিভিন্ন মহলে নানাবিধ প্রশ্ন, বিতর্ক বা সমালোচনা থাকতেই পারে। তবে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি জাতীয় জীবনের সন্ধিক্ষণে তাঁর যে ঐতিহাসিক ভূমিকা, তা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, প্রকৃত ধর্মচর্চা মানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা বা অত্যাচারীর সঙ্গে আপস করা নয়, বরং মাতৃভূমি রক্ষার জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলাও একজন মুমিনের দায়িত্ব।

আজ যখন ধর্মীয় উগ্রবাদ বা মাজারকেন্দ্রিক বিতর্ক দিয়ে তাঁর সামগ্রিক পরিচিতিকে বিচার করা হয়, তখন তাঁর এই ‘সোলজার’ সত্তাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় - প্রয়োজনে তসবিহ রেখে স্টেনগান কাঁধে তুলে নেওয়াও দেশপ্রেমিক ধর্ম দর্শনেরই একটি অংশ।

দেওয়ানবাগী হুজুরের এই অংশগ্রহণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে উন্মোচন করে - যেখানে ধর্ম, রাজনীতি ও সশস্ত্র সংগ্রাম এক বিন্দুতে মিলিত হয়েছিল। এটি ছিল সকল বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি এক আপোষহীন অঙ্গীকার।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Feb 4, 2026

/

Post by

ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।

Feb 2, 2026

/

Post by

গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।

Feb 1, 2026

/

Post by

একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।

Jan 29, 2026

/

Post by

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জনপদ গোপালগঞ্জ। এই জনপদ কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর পলিবিধৌত এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছিলেন বাঙালির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এই মাটি ভিজেছে বীর সন্তানদের রক্তে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের ত্যাগ, লড়াই এবং বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

Dec 18, 2025

/

Post by

একাত্তরের রণাঙ্গনে যে কজন বীরের নাম শুনলে পাকিস্তানি বাহিনীর বুক কেঁপে উঠত, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ভাটি বাংলার বাঘ হিসেবে পরিচিত জগৎজ্যোতি দাস। তিনি ছিলেন অকুতোভয় 'দাস পার্টি'র অধিনায়ক। তাঁর বীরত্বগাথা যেমন মহাকাব্যিক, তাঁর মৃত্যু পরবর্তী লাঞ্ছনা তেমনি হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটানো এক ট্র্যাজেডি।

Dec 16, 2025

/

Post by

একাত্তরের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে সাত সমুদ্র তেরো নদী ওপার থেকে আসা একজন ভিনদেশি নাগরিক যেভাবে নিজের জীবন বিপন্ন করে বাঙালির মুক্তির নেশায় মত্ত হয়েছিলেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তিনি আর কেউ নন - আমাদের পরম বন্ধু, মহান মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র বিদেশি ‘বীর প্রতীক’ উইলিয়াম এ. এস. ওডারল্যান্ড।

Feb 4, 2026

/

Post by

ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।

Feb 2, 2026

/

Post by

গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।

Feb 1, 2026

/

Post by

একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।

Jan 29, 2026

/

Post by

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জনপদ গোপালগঞ্জ। এই জনপদ কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর পলিবিধৌত এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছিলেন বাঙালির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এই মাটি ভিজেছে বীর সন্তানদের রক্তে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের ত্যাগ, লড়াই এবং বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

Feb 4, 2026

/

Post by

ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।

Feb 2, 2026

/

Post by

গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।

Feb 1, 2026

/

Post by

একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।

Jan 29, 2026

/

Post by

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জনপদ গোপালগঞ্জ। এই জনপদ কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর পলিবিধৌত এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছিলেন বাঙালির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এই মাটি ভিজেছে বীর সন্তানদের রক্তে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের ত্যাগ, লড়াই এবং বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.