>

>

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শেখ মুজিবের অবদান

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শেখ মুজিবের অবদান

বঙ্গবন্ধু কেবল স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি; বরং সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সুদূরপ্রসারী কৌশল এবং চূড়ান্ত আত্মত্যাগের মাধ্যমে তিনি একাত্তরের গণযুদ্ধের বীজ বপন করেছিলেন, যা তাঁর অনুপস্থিতিতেও জাতিকে বিজয় এনে দিয়েছিল।

TruthBangla

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে তার পূর্ণাঙ্গ পটভূমিতে বুঝতে হলে, এর মূল নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকে নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। এক শ্রেণির অপপ্রচারকারী বা রাজাকারদের দোসররা যখন বিভ্রান্তি ছড়াতে চায় যে, বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছায় ধরা দিয়েছিলেন বা তাঁর কোনো অবদান ছিল না, তখন ইতিহাসের অকাট্য দলিল ও তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তার জবাব দেওয়া আবশ্যক। প্রকৃতপক্ষে, বঙ্গবন্ধু কেবল স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি; বরং সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সুদূরপ্রসারী কৌশল এবং চূড়ান্ত আত্মত্যাগের মাধ্যমে তিনি একাত্তরের গণযুদ্ধের বীজ বপন করেছিলেন, যা তাঁর অনুপস্থিতিতেও জাতিকে বিজয় এনে দিয়েছিল।

বিতর্ক নয়, ইতিহাসের আলোকে শেখ মুজিবের অবস্থান

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি কৌশল এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য - সবকিছুই ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় চালিত।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি যদিও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন, কিন্তু এই বন্দিদশা ছিল তাঁর সুকৌশলে নেতৃত্ব প্রদানের একটি অংশ এবং পাকিস্তানি সামরিক জান্তার ঘৃণ্যতম চক্রান্তের ফল। এই প্রবন্ধটি সেই ঐতিহাসিক সত্যগুলো তুলে ধরবে - যেভাবে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার জন্য জাতিকে ধাপে ধাপে প্রস্তুত করেছিলেন, তাঁর নেতৃত্বের ফলে যুদ্ধ কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিকভাবে সেই যুদ্ধের কী প্রভাব পড়েছিল।

সশস্ত্র সংগ্রামের বীজ বপন – ২৫ মার্চের পূর্ব প্রস্তুতি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন দূরদর্শী নেতা ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কখনোই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তাই, আনুষ্ঠানিক আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি গোপনে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন।

আওয়ামী লীগের গোপন প্রশিক্ষণ ও নির্দেশাবলী

গোপন পরামর্শ: ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোকে গোপনে আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

সশস্ত্র প্রস্তুতি: তাঁর এই পরামর্শের পরই ছাত্রলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী (Volunteer Force) এবং পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (EPR)-এর অনেক দেশপ্রেমিক সদস্য গোপনে স্বাধীনতার সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

প্রাথমিক প্রশিক্ষণ: ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পরই কিছু স্থানে পুলিশ বা আনসার সদস্যদের সহায়তায় মৌলিক অস্ত্রচালনা শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। 'একাত্তরের দিনগুলি' (জাহানারা ইমাম) এবং 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র'-এ এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

সারাদেশে অস্ত্রচালনা ও গেরিলা কৌশল প্রশিক্ষণ

১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়।

বিস্তৃত পরিধি: চট্টগ্রাম, যশোর, টাঙ্গাইল, রংপুর, নওগাঁ, গোপালগঞ্জ, খুলনা, কুমিল্লা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় গোপনে অস্ত্রচালনা ও গেরিলা কৌশলের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়।

দলিলপত্রের প্রমাণ: 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ - দলিলপত্র: খণ্ড ১' (গভর্নমেন্ট পাবলিকেশন)-এ উল্লেখ আছে যে, মার্চ মাসের প্রথম দিকেই ছাত্রলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ও মুক্তিকামী পুলিশ-ইপিআর সদস্যরা গোপনে অস্ত্রচর্চা শুরু করে। এই প্রস্তুতি প্রমাণ করে যে, বঙ্গবন্ধু একটি সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য জাতিকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করছিলেন।

সামরিক অফিসারদের মানসিক প্রস্তুতি

রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও মানসিক ও সামরিকভাবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর কৌশলের প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য।

সামরিক সহযোগিতা: মেজর জিয়াউর রহমান, মেজর রফিকুল ইসলাম, মেজর খালেদ মোশাররফ, এবং অন্য অনেক দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা ২৫ মার্চের আগেই পূর্ববাংলার ইউনিটগুলোকে গোপনে স্বাধীনতার সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য মানসিক ও সামরিকভাবে প্রস্তুত করছিলেন।

অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ: মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে বাঙালি সেনা ও ইপিআর সদস্যরা গোপনে অস্ত্র ও গুলি নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখে। এই কৌশলগত নিয়ন্ত্রণই ২৫ মার্চের পরে দ্রুততম সময়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল।

অসহযোগ আন্দোলন – সরকার প্রধানের আসনে শেখ মুজিব

১৯৭১ সালের ২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সমগ্র বাংলাদেশে এক ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম ধাপ।

কার্যত সরকার প্রধান

১০ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে কার্যত শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশেই দেশ পরিচালিত হচ্ছিল। এই সময়কালে:

নির্দেশনা: সরকারি অফিস, ব্যাংক, বন্দর, রেডিও, টিভি - সব তাঁর নির্দেশেই চলছিল। তিনি প্রতিদিন যে নির্দেশনা দিতেন, সেটাই ছিল তখনকার দেশের আইন।

জনতার ম্যান্ডেট: এই অসহযোগ আন্দোলন প্রমাণ করে যে, বঙ্গবন্ধু শুধু নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন কার্যত দেশের সরকার প্রধান। জনগণ তাঁর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করছিল। এটিই আন্তর্জাতিক মহলে স্বাধীনতা যুদ্ধের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেছিল।

২৩ মার্চের পতাকা উত্তোলন – স্বাধীনতার প্রতীক

২৩ মার্চ, যা পাকিস্তানিরা 'পাকিস্তান দিবস' হিসেবে পালন করত, সেদিন সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

বিপ্লব: এই দিনে দেশের অনেক এলাকায় অস্ত্রসংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। এই পতাকা উত্তোলন ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের এক প্রতীকী ঘোষণা।

রাজনৈতিক কৌশল: এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে শেখ মুজিবকে বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো বিচ্ছিন্নতাবাদী সাজানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেখ মুজিব তখন বলেছিলেন, "আমি স্বাধীনতা চাচ্ছি না, আমি বাংলার মানুষের অধিকার চাই।" এই কূটনৈতিক বক্তব্য জামায়াতের মতো দেশবিরোধী শক্তিগুলো অপব্যবহার করে থাকে, কিন্তু বাস্তবতা হলো - এটি ছিল কঠোর সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখতে বঙ্গবন্ধুর কৌশলী অবস্থান।

৭ই মার্চের ভাষণ – অলিখিত স্বাধীনতার ঘোষণা

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতার অলিখিত ঘোষণা এবং গণযুদ্ধের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা।

গণযুদ্ধের কৌশল

ভাষণে তিনি একদিকে যেমন আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোলা রেখেছিলেন, তেমনি অন্যদিকে জাতিকে সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।

"তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো... রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব, তবুও এ দেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম!"

এই ভাষণটি ছিল একাধারে রাজনৈতিক নির্দেশনা, সামরিক প্রস্তুতি এবং মনোবৈজ্ঞানিক অনুপ্রেরণা। এটিই ছিল সেই বীজমন্ত্র, যা নয় মাস ধরে প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার হৃদয়ে গেঁথে ছিল।

গ্রেফতার ও স্বাধীনতার চূড়ান্ত বার্তা

২৫ মার্চের কালরাত্রিতে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' শুরু করে, ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধু এক চরম আত্মত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

স্বেচ্ছায় ধরা নাকি সুকৌশলে গ্রেফতার?

শেখ মুজিব স্বেচ্ছায় ধরা দেননি, বরং তিনি সুকৌশলে গ্রেফতার বরণ করেছিলেন। এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ ছিল:

মুক্তির বার্তা: গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগে তিনি স্বাধীনতার চূড়ান্ত বার্তাটি পাঠিয়ে দিতে পেরেছিলেন।

আন্তর্জাতিক চাপ: একজন নির্বাচিত ও জনপ্রিয় নেতাকে পাকিস্তানিরা হত্যা করলে আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তান চরম চাপের মুখে পড়ত। বঙ্গবন্ধুর জীবিত থাকাটা ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক রক্ষাকবচ।

স্বাধীনতার ঘোষণা

২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতারের ঠিক আগে তিনি একটি বার্তা পাঠান:

“এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, যেখানেই থাকুন, যার যা আছে, তাই নিয়ে যেন দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান। বাংলাদেশের মাটি থেকে শেষ শত্রুটিকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত আপনাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।”

এই বার্তাটি বাংলাদেশ রেডিওর মাধ্যমে প্রচারিত হয় এবং মেজর জিয়াউর রহমানসহ অনেকে পরে তা সম্প্রচার করেন। এই ঘোষণাই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি এবং সশস্ত্র যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা।

অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব – মুজিবনগর সরকার ও যুদ্ধের চালিকাশক্তি

বঙ্গবন্ধু অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর নেতৃত্বেই পুরো মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শেখ মুজিব

সরকার গঠন: ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। এই সরকার গঠিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নামেই। সেখানে শেখ মুজিবকে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।

দায়িত্ব বন্টন: তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সরকার পরিচালনার মাধ্যমে যুদ্ধের আইনি বৈধতা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হয়।

যুদ্ধের স্লোগান ও প্রচারণা

নামের শক্তি: মুক্তিযোদ্ধারা "জয় বাংলা" স্লোগানে যুদ্ধ করেছিল, যা ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আন্দোলনের মূল স্লোগান। যুদ্ধের প্রতিটি প্রচার-প্রচারণা পরিচালিত হতো বঙ্গবন্ধুর নামে এবং তাঁর নির্দেশিত পথে।

মুক্তিযোদ্ধা ও জনতা: তাঁর নেতৃত্বই ছিল সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রধান চালিকাশক্তি। তাঁর কারাবন্দি থাকা অবস্থায়ও তাঁর নাম ও আদর্শই ছিল রণাঙ্গনের প্রতিটি যোদ্ধার অনুপ্রেরণা।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট – মুজিবের বাংলাদেশ

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে শেখ মুজিবের নাম আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বিরাট প্রভাব ফেলেছিল, যা যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেয়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থন

বিদেশি সংবাদমাধ্যম: বিদেশি সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বলা হতো “Mujib’s Bangladesh”। অর্থাৎ, বিশ্ব তখন থেকেই জানত যে, এই যুদ্ধ একজন একক নেতার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছিল।

ইন্দিরা গান্ধী ও সোভিয়েত ইউনিয়ন: ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের বহু দেশ শেখ মুজিবের বন্দিদশাকে আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে। তারা পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, যেন বঙ্গবন্ধুর কোনো ক্ষতি না করা হয়।

শরণার্থী ও সামরিক সহায়তা

আশ্রয় ও সহায়তা: শেখ মুজিবের নামেই প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে ভারত আশ্রয় দেয়। তাঁর প্রতি আন্তর্জাতিক সহানুভূতি থাকার কারণেই ভারত মুক্তিযুদ্ধকে তাদের নৈতিক সমর্থন দেয়।

সামরিক ও কূটনৈতিক সাহায্য: ভারতের আশ্রয় এবং সামরিক ট্রেনিং, সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্ত্র ও রসদ সাহায্য—এই সবই মূলত বঙ্গবন্ধুর আন্তর্জাতিক মর্যাদা এবং তাঁর নেতৃত্বে চলা মুক্তিযুদ্ধের ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্ভব হয়েছিল। তাঁর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি কোনোটিই স্বাধীনতা যুদ্ধের লক্ষ্যকে ম্লান করতে পারেনি।

শেখ মুজিব – ইতিহাসের অমোঘ সত্য

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি; তিনি ছিলেন সেই নেতা, যিনি ২৫ বছর ধরে একটি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর করেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক কৌশল, সাংগঠনিক দক্ষতা, এবং আপোষহীন নেতৃত্বেই স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল।

অকাট্য সত্য: তাঁর কারাবন্দি থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি, যুদ্ধের প্রেরণা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের কেন্দ্রবিন্দু।

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা: যারা তাঁর অবদানকে খাটো করতে চায়, তারা আসলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেই অস্বীকার করতে চায়। “বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ” - এই সত্যটিই বিশ্বের কাছে ছিল মুক্তিযুদ্ধের পরিচিতি।

স্বাধীনতার বীজমন্ত্র থেকে শুরু করে বিজয়ের চূড়ান্ত মুহূর্ত পর্যন্ত, প্রতিটি ধাপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা, মহানায়ক এবং ইতিহাসের অমোঘ সত্য। তাঁর আত্মত্যাগ, দূরদর্শিতা এবং অবিচল নেতৃত্বই এই জাতিকে চূড়ান্ত স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Jan 4, 2026

/

Post by

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালটি নিয়ে দুটি বিপরীতমুখী বয়ান পাওয়া যায়। একদল একে দেখেন ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচারের’ কাল হিসেবে, আর অন্যদল একে দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে রাষ্ট্র গড়ার মহাবীরত্বগাথা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা এই সময়কালকে কেবল ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচার’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসবিদরা দেখেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি জাতিকে টেনে তোলার প্রাণপণ লড়াই।

Jan 2, 2026

/

Post by

শ্রাবণের সেই কালরাত ও স্তব্ধ বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। বাংলার আকাশে সেদিন সূর্য উঠেছিল এক বিভীষিকাময় বার্তা নিয়ে। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটি, যা ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু, তা তখন নিথর, নিস্তব্ধ এবং রক্তে রঞ্জিত। জাতির গাদ্দার বিশ্বাসঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সপরিবারে তাঁকে হত্যার মাধ্যমে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা হয়। কিন্তু রাজনীতির এই মহানায়কের পার্থিব শরীরের শেষ গন্তব্য কোথায় হবে? ঘাতকরা চেয়েছিল তাঁকে লোকচক্ষুর অন্তরালে কোথাও ফেলে দিতে, কিন্তু বিধাতার লিখন ছিল তাঁর জন্মভূমি সবুজ ঘাসে ঘেরা নিভৃত পল্লী টুঙ্গীপাড়ায়।

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.