স্বাধীনতা যুদ্ধের ১১ সেক্টর কমান্ডার - সশস্ত্র সংগ্রামের নেপথ্য বীরেরা
যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে সুসংগঠিত সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ দেওয়ার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সামরিক সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এই সেক্টরগুলোর নেতৃত্বে ছিলেন একঝাঁক অকুতোভয় সামরিক কর্মকর্তা, যাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন।

TruthBangla
Dec 16, 2025
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মানেই এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, অসীম ত্যাগ এবং সুনিপুণ রণকৌশলের আখ্যান। ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে সুসংগঠিত সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ দেওয়ার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সামরিক সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এই সেক্টরগুলোর নেতৃত্বে ছিলেন একঝাঁক অকুতোভয় সামরিক কর্মকর্তা, যাঁরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন।
আজকের এই বিস্তারিত ব্লগে আমরা আলোচনা করব সেই ১১টি সেক্টরের কমান্ডারদের পরিচয়, তাঁদের রণকৌশল এবং রণাঙ্গনের সেই রোমাঞ্চকর দিনগুলো নিয়ে।
১১ সেক্টর কমান্ডার ও সশস্ত্র সংগ্রামের নেপথ্য বীরেরা
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে তেলিয়াপাড়া সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণের জন্য ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন কর্নেল (পরবর্তীতে জেনারেল) এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে এই বৈঠকে বাংলাদেশকে ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বিভাজনই ছিল পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাস্ত করার মূল চাবিকাঠি।
সেক্টর ১ - চট্টগ্রামের প্রতিরোধ ও মেজর জিয়াউর রহমান
চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং নোয়াখালী জেলার মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিল ১ নম্বর সেক্টর। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল হরিণা। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে এই অঞ্চলের বিদ্রোহ ও প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেন মেজর জিয়াউর রহমান।
মেজর জিয়াউর রহমান: মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন তৎকালীন অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। ২৫শে মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার পর তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন, যা সারা দেশে মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার করে। সেক্টর ১-এর কমান্ডারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম নিয়মিত ব্রিগেড 'জেড ফোর্স'-এর প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তাঁর স্থানে মেজর রফিকুল ইসলাম এই সেক্টরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই সেক্টরের অধীনেই চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় অত্যন্ত দুর্গম গেরিলা যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল।
সেক্টর ২ - ঢাকা-কুমিল্লার লড়াই ও মেজর খালেদ মোশাররফ
সেক্টর ২ ছিল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সেক্টরের অধীনে ছিল ঢাকা শহর, কুমিল্লা, আখাউড়া এবং ফরিদপুর ও নোয়াখালীর কিছু অংশ। এই সেক্টরের নেতৃত্ব দেন প্রখর ধীশক্তি সম্পন্ন সামরিক অফিসার মেজর খালেদ মোশাররফ।
মেজর খালেদ মোশাররফ ও কে-ফোর্স: মেজর খালেদ মোশাররফ কেবল একজন কমান্ডার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন আধুনিক রণকৌশলী। তাঁর নেতৃত্বাধীন নিয়মিত ব্রিগেড 'কে-ফোর্স' পাকিস্তানি সেনাদের তটস্থ করে রেখেছিল। ঢাকা শহর এই সেক্টরের অধীনে থাকায় 'ক্র্যাক প্লাটুন'-এর মতো দুঃসাহসী গেরিলা দলগুলো এখান থেকেই পরিচালিত হতো। যুদ্ধের এক পর্যায়ে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেলে মেজর এ টি এম হায়দার সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ঢাকার উপকণ্ঠে এবং কুমিল্লা সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে এই সেক্টরের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
সেক্টর ৩ - ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রণাঙ্গন ও মেজর কে এম শফিউল্লাহ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, সিলেট জেলার কিছু অংশ এবং কিশোরগঞ্জ ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ৩ নম্বর সেক্টর। এই সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ।
মেজর কে এম শফিউল্লাহ ও এস-ফোর্স: কে এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত হয় নিয়মিত ব্রিগেড 'এস-ফোর্স'। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল হেজামারা। সেক্টর ৩-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে নদীপথ ও রেলপথে পাকিস্তানিদের চলাচলে এই সেক্টরের যোদ্ধারা ক্রমাগত বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। পরবর্তীতে মেজর এ এন এম নুরুজ্জামান এই সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন।
সেক্টর ৪ - সিলেটের পূর্বাঞ্চল ও মেজর সি আর দত্ত
সিলেটের পূর্বাঞ্চল, খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন এবং ডাউকি ও শিলং সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিল ৪ নম্বর সেক্টর। এর নেতৃত্বে ছিলেন মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত, যিনি সবার কাছে সি আর দত্ত নামেই পরিচিত।
মেজর সি আর দত্তের বীরত্ব: সি আর দত্তের নেতৃত্বে ৪ নম্বর সেক্টর সিলেটের পাহাড়ি ও চা বাগান অধ্যুষিত এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে। চা বাগানের শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ যুবকদের গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়ে তিনি এক দুর্ধর্ষ বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে সিলেটের এই দুর্গম এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনী কখনোই থিতু হতে পারেনি।
সেক্টর ৫ - সিলেটের উত্তরাঞ্চল ও মেজর মীর শওকত আলী
সিলেট জেলার উত্তরাঞ্চল, সুনামগঞ্জ এবং সিলেট-শিলং সড়কের সংলগ্ন এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিল ৫ নম্বর সেক্টর। এর সদর দপ্তর ছিল বাঁশতলায়। এই সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।
রণকৌশল ও মীর শওকত আলী: এই সেক্টরের ভূ-প্রকৃতি ছিল হাওর ও পাহাড়ের সংমিশ্রণ। মীর শওকত আলীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা বর্ষাকালে ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় করে পাকিস্তানি ক্যাম্পগুলোতে অতর্কিত হামলা চালাতেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন বাহিনী ডাউকি-সিলেট মহাসড়কে পাকিস্তানিদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সেক্টর ৬ - উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ৬ নম্বর সেক্টর। এই সেক্টরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল—এটিই ছিল একমাত্র সেক্টর যার সদর দপ্তর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বুড়িমারীতে অবস্থিত ছিল। এই সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
খাদেমুল বাশার ও উত্তরবঙ্গের যুদ্ধ: একজন দক্ষ বিমান চালক হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্থলযুদ্ধে অসাধারণ পারদর্শিতা দেখান। তাঁর নেতৃত্বে রংপুর ও দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর সুরক্ষিত বাঙ্কারগুলোতে কমান্ডো হামলা পরিচালনা করতেন। উত্তরবঙ্গের এই সেক্টর থেকে পরিচালিত অপারেশনগুলো মিত্র বাহিনীর চূড়ান্ত অভিযানের পথ সুগম করেছিল।
সেক্টর ৭ - রাজশাহী-পাবনার সংগ্রাম ও মেজর নাজমুল হক
রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণ অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ৭ নম্বর সেক্টর। এই সেক্টরের প্রথম কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক।
মেজর নাজমুল হক ও মেজর কাজী নুরুজ্জামান: মেজর নাজমুল হক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই সেক্টর পরিচালনা করছিলেন, কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি শহীদ হন। তাঁর মৃত্যুর পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেজর কাজী নুরুজ্জামান। ৭ নম্বর সেক্টরের অধীনে রাজশাহী শহরে বেশ কিছু বড় আকারের সম্মুখ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং পাবনা অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে অবরুদ্ধ করে রাখা ছিল এই সেক্টরের প্রধান সাফল্য।
সেক্টর ৮ - কুষ্টিয়া-যশোর ও মেজর আবু ওসমান চৌধুরী
কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা এবং ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ৮ নম্বর সেক্টর। এর প্রথম কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।
মেজর আবু ওসমান ও মেজর এম এ মঞ্জুর: যুদ্ধের শুরুতে মেজর আবু ওসমান চৌধুরী চুয়াডাঙ্গায় সদর দপ্তর স্থাপন করে এই অঞ্চলের প্রতিরোধ যুদ্ধ পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে আগস্ট মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মেজর এম এ মঞ্জুর। সেক্টর ৮-এর অন্যতম গৌরবোজ্জ্বল লড়াই ছিল যশোরের পতন ঘটানো। ৬ই ডিসেম্বর যশোর ছিল বাংলাদেশের প্রথম মুক্ত জেলা, যার কৃতিত্ব এই সেক্টরের কমান্ডার ও যোদ্ধাদের।
সেক্টর ৯ - দক্ষিণাঞ্চলের জলপথ ও মেজর এম এ জলিল
বরিশাল, পটুয়াখালী এবং খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ৯ নম্বর সেক্টর। এই সেক্টরের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর এম এ জলিল।
মেজর এম এ জলিল ও সুন্দরবন সীমান্ত: সুন্দরবনের গহিন অরণ্য ও অসংখ্য নদীনদী বেষ্টিত এই অঞ্চলে যুদ্ধ করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। মেজর এম এ জলিল এই জলপথকে কাজে লাগিয়ে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনা করতেন। পাকিস্তানি নৌ-বাহিনীকে রুখে দেওয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর নেতৃত্ব ছিল প্রশ্নাতীত। পরবর্তীতে এই সেক্টরের দায়িত্বে অতিরিক্ত হিসেবে মেজর জয়নুল আবেদীন ও মেজর এম এ মঞ্জুরও ছিলেন।
সেক্টর ১০ - নৌ-সেক্টর ও বিশেষ কমান্ডো বাহিনী
১০ নম্বর সেক্টরটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। এর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা ছিল না। এটি ছিল মূলত একটি নৌ-সেক্টর, যা সরাসরি প্রধান সেনাপতি (C-in-C) এম এ জি ওসমানীর অধীনে পরিচালিত হতো।
অপারেশন জ্যাকপট: এই সেক্টরের অধীনে প্রশিক্ষিত নৌ-কমান্ডোরা চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে পাকিস্তানি জাহাজে মাইন লাগিয়ে ধ্বংস করে দিতেন। ১৯৭১ সালের 'অপারেশন জ্যাকপট' ছিল পৃথিবীর নৌ-যুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম সফল ও দুঃসাহসী অভিযান। এই সেক্টরে কোনো স্থায়ী কমান্ডার ছিলেন না; যখন যে এলাকায় অপারেশন হতো, তখন স্থানীয় সেক্টর কমান্ডারের সহযোগিতায় নৌ-কমান্ডোরা কাজ করতেন।
সেক্টর ১১ - ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল ও মেজর আবু তাহের
ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত হয়েছিল ১১ নম্বর সেক্টর। এর নেতৃত্বে ছিলেন দুঃসাহসী যোদ্ধা মেজর আবু তাহের।
মেজর আবু তাহের ও তাঁর আত্মত্যাগ: মেজর তাহেরের নেতৃত্বে ১১ নম্বর সেক্টর পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য এক বিভীষিকায় পরিণত হয়েছিল। টাঙ্গাইলের বন ও পাহাড়কে কাজে লাগিয়ে তিনি যে গেরিলা রণকৌশল সাজিয়েছিলেন, তাতে পাকিস্তানিরা সবসময় আতঙ্কে থাকত। কামালপুর যুদ্ধ ছিল এই সেক্টরের অন্যতম রক্তক্ষয়ী লড়াই। এই যুদ্ধেই তিনি তাঁর একটি পা হারান। তাঁর পরে মেজর এম হামিদুল্লাহ খান সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।
ইতিহাসে তাঁদের স্থান
বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই ১১ জন সেক্টর কমান্ডার কেবল সামরিক কর্মকর্তাই ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন একটি জাতির সার্বভৌমত্বের স্বপ্নদ্রষ্টা। সীমিত জনবল ও সাধারণ মানের অস্ত্র নিয়ে তাঁরা যেভাবে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী একটি সুপ্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেছেন, তা ইতিহাসে বিরল।
মেজর জিয়াউর রহমান থেকে মেজর আবু তাহের - প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এক সুতোয় গেঁথেছিলেন স্বাধীনতার মালা। আজ আমরা যে স্বাধীন পতাকাতলে নিশ্বাস নিচ্ছি, তার প্রতিটি ইঞ্চি মাটিতে মিশে আছে এই বীরদের মেধা ও সাহস। বর্তমান প্রজন্মের জন্য এই কমান্ডারদের জীবনী ও রণকৌশল জানা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটিই আমাদের জাতীয় বীরত্বের শেকড়।
Explore Topics
Featured Posts
About
TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.















