>

>

মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দেওয়ার সরকারি পুরস্কার ও গাদ্দারদের ভূমিকা

মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দেওয়ার সরকারি পুরস্কার ও গাদ্দারদের ভূমিকা

১৯৭১ সালের নয় মাস জুড়ে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা যখন নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছিল, তখন দেশপ্রেমিক তরুণদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারিভাবে ঘৃণ্য অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়েছিল। সেই চক্রান্তের এক নির্মম দলিল হলো, মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য নগদ পুরস্কার ঘোষণা করে প্রকাশিত সরকারি গেজেট।

TruthBangla

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস যেমন বীরত্বের, তেমনি তা বিশ্বাসঘাতকতা ও নৃশংসতার এক অন্ধকার অধ্যায়ও বহন করে। ১৯৭১ সালের নয় মাস জুড়ে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা যখন নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছিল, তখন তারা শুধু অস্ত্র দিয়েই আক্রমণ করেনি; তারা বাঙালি সমাজকে বিভক্ত করার এবং দেশপ্রেমিক তরুণদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারিভাবে ঘৃণ্য অপপ্রচারের আশ্রয় নিয়েছিল। সেই চক্রান্তের এক নির্মম দলিল হলো, মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য নগদ পুরস্কার ঘোষণা করে প্রকাশিত সরকারি গেজেট। এই সরকারি ঘোষণার প্রধান সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল জামায়াতে ইসলামী, আল-বদর, আল-শামস এবং রাজাকারদের মতো দেশদ্রোহী সংগঠনগুলো।

মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ও আদর্শিক সংঘাত

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল কেবল দুটি সামরিক বাহিনীর মধ্যেকার যুদ্ধ নয়; এটি ছিল স্বাধীনতা ও পরাধীনতা, ন্যায় ও অন্যায়ের এবং দেশপ্রেম ও বিশ্বাসঘাতকতার আদর্শিক সংঘাত। একদিকে যেমন ছিল হাজারো তরুণ-যুবকের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করার অদম্য সাহস, অন্যদিকে তেমনি ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর স্থানীয় দোসরদের চরম গাদ্দারী।

ঐতিহাসিক দলিল: দৈনিক 'পূর্বদেশ' পত্রিকায় ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত সেই সরকারি গেজেটটি সেই গাদ্দারীর জঘন্যতম প্রমাণ বহন করে। এই গেজেটটি প্রমাণ করে, পাকিস্তানি দখলদার শক্তি কতটা মরিয়া হয়ে উঠেছিল এবং তাদের এদেশীয় দালালরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কত গভীরভাবে লিপ্ত ছিল।

লক্ষ্য: এই প্রবন্ধটি সেই সরকারি ঘোষণার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, পুরস্কারের বিবরণ, এবং এই জঘন্য কাজে যারা সহযোগিতা করেছিল, তাদের আদর্শিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা বিশ্লেষণ করবে।

গেজেটের প্রেক্ষাপট – পরাজয়ের মুখে মরিয়া পাকিস্তান

মুক্তিযুদ্ধ যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, এবং মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর আক্রমণে পাকিস্তানি বাহিনী কোণঠাসা, ঠিক তখনই তারা তাদের মনোবল ধরে রাখার এবং বাঙালিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য এমন চরম পদক্ষেপ নেয়।

সামরিক ব্যর্থতা ও হতাশা

১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে মুক্তিযুদ্ধ একটি গণযুদ্ধে পরিণত হয়। গেরিলা কৌশল এবং স্থানীয় জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে নাজেহাল করে দিচ্ছিল।

গেরিলা আতঙ্ক: পাকিস্তানি বাহিনী গ্রামাঞ্চলে গেরিলাদের আক্রমণের মুখে ছিল চরমভাবে ভীত ও অসহায়। তারা বুঝতে পারছিল, সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত করা কঠিন হলেও, স্থানীয় তথ্যের মাধ্যমে গেরিলাদের খুঁজে বের করা না গেলে তাদের পতন অনিবার্য।

জনগণের সমর্থন ভাঙার চেষ্টা: এই গেজেট প্রকাশ করে পাকিস্তানি সরকার মূলত জনগণের মধ্যে লোভ ঢুকিয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল - বাঙালিদের মধ্যে অবিশ্বাস ও বিভেদ সৃষ্টি করা, যাতে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন আস্তানা ও তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য দিতে শুরু করে।

সরকারি গেজেটের ঘোষণা

দৈনিক 'পূর্বদেশ' সহ তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্রগুলোতে এই সংক্রান্ত একটি সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল। এই ঘোষণা ছিল বাঙালি জাতির প্রতি এক চরম অপমান ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার প্রতীক। এই গেজেটে ঘোষিত পুরস্কারের বিবরণ ছিল নিম্নরূপ:

ধরিয়ে দেওয়ার ধরন

পুরস্কারের পরিমাণ (নগদ টাকা)

১. একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ধরিয়ে দিলে

৫০০ টাকা

২. ভারতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হলে

৭৫০ টাকা

৩. অস্ত্রসহ ধরিয়ে দিলে

১০০০ টাকা

৪. কোনো মুক্তিযোদ্ধার নেতাকে ধরিয়ে দিলে

২০০০ টাকা

৫. একটি পুরো গ্রুপকে ধরিয়ে দিলে

সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা

মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এমন আর্থিক প্রলোভন ছিল পাকিস্তানি সামরিক জান্তার চরম নৈতিক দেউলিয়াত্বের নিদর্শন।

ঘৃণ্য সহযোগীরা – আল-বদর, আল-শামস, রাজাকার ও জামায়াতে ইসলামী

এই সরকারি ঘোষণা কার্যকর করার প্রধান সহযোগী এবং ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী শক্তি ছিল স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মভিত্তিক সংগঠন। এরা কেবল টাকা বা লোভের জন্য নয়, বরং আদর্শগতভাবে পাকিস্তানের অখণ্ডতা ও ইসলাম রক্ষার মিথ্যা অজুহাতে এই জঘন্য কাজে লিপ্ত ছিল।

জামায়াতে ইসলামী ও আদর্শিক ভিত্তি

মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বিরোধী শক্তি ছিল জামায়াতে ইসলামী। তারা শুরু থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোর বিরোধিতা করে।

পাকিস্তানের অখণ্ডতা: জামায়াতের নেতারা মনে করতেন, পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষা করা তাদের 'ইসলামী দায়িত্ব'। তাদের মতে, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ছিল 'ইসলাম বিরোধী'

নেতৃত্ব ও নির্দেশনা: জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রকাশ্যে পাকিস্তানি সামরিক জান্তাকে সমর্থন দেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের 'বিচ্ছিন্নতাবাদী', 'ভারতের দালাল''ইসলামের শত্রু' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাদের রাজনৈতিক নির্দেশনায়ই অন্যান্য সহযোগী বাহিনীগুলো গঠিত হয়েছিল।

আল-বদর – বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘাতক

আল-বদর ছিল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের (বর্তমান ইসলামী ছাত্রশিবির) সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ ঘাতক বাহিনী।

ভয়ঙ্কর ভূমিকা: আল-বদর কেবল মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কাজ করত না, তারা বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার সহ দেশের মেধাবী সন্তানদের খুঁজে খুঁজে বের করে হত্যা করত।

গেজেট বাস্তবায়নে ভূমিকা: গেজেট প্রকাশের পর আল-বদর বাহিনীই সবচেয়ে সুসংগঠিতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংগ্রহ করত। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোস্টেল এবং অন্যান্য গোপন স্থান থেকে দেশপ্রেমিক যুবকদের তথ্য বের করে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে পৌঁছে দিত।

আল-শামস ও রাজাকার বাহিনী

আল-শামস: আল-শামস ছিল মূলত অন্যান্য ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর যুবকদের নিয়ে গঠিত একটি সহযোগী বাহিনী। এদের প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংগ্রহ করা, তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

রাজাকার: স্থানীয়ভাবে গঠিত রাজাকার বাহিনী ছিল সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এটি সাধারণ গ্রাম্য অপরাধী, লোভী ও পাকিস্তানপন্থী ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এই রাজাকাররাই গেজেট অনুযায়ী পুরস্কারের লোভে পড়ে নিজেদের গ্রাম ও অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দেওয়ার কাজে বেশি তৎপর ছিল।

বিশ্বাসঘাতকতার পদ্ধতি – সামাজিক বিভাজন ও আতঙ্ক

এই গেজেট প্রকাশের পর বাংলাদেশের সমাজজীবনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। এটি কেবল সরকারি ঘোষণা ছিল না, বরং ছিল সামাজিক কাঠামোতে অবিশ্বাস ও ভয়ের বীজ বপন করার একটি প্রক্রিয়া।

নগদ পুরস্কারের লোভ: গেজেটে ঘোষিত নগদ পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী স্থানীয় দরিদ্র ও স্বার্থপর মানুষকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিল।

গুপ্তচরবৃত্তি: রাজাকার ও আল-বদর সদস্যরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াত, সন্দেহভাজনদের ওপর নজর রাখত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন আস্তানা সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করত। এই তথ্যের ভিত্তিতেই পাকিস্তানি সেনারা সাঁড়াশি অভিযান চালাত।

আতঙ্ক সৃষ্টি ও ভীতি প্রদর্শন

পুরস্কারের ঘোষণা মূলত আতঙ্ক সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করেছিল। জনগণ যাতে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিতে সাহস না পায় এবং তাদের সহযোগিতা না করে—সেই উদ্দেশ্যে এই গেজেট ব্যবহৃত হয়েছিল। যারা মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করত, তাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হতো।

আত্মসমর্পণের প্রলোভন

নগদ পুরস্কার ঘোষণা করার পাশাপাশি, এই গেজেট এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টিরও চেষ্টা করেছিল - যে, যদি তোমরা ধরা না দাও, তবে তোমাদেরই কোনো স্বজন বা প্রতিবেশী পুরস্কারের লোভে তোমাদের ধরিয়ে দেবে।

পুরস্কারের ঘোষণা – এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা

পাকিস্তানি সামরিক জান্তার এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। কারণ, পুরস্কারের লোভের চেয়ে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী।

ঐক্য: পুরস্কারের ঘোষণা সত্ত্বেও, বাঙালি জনগণের সিংহভাগ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখে। গ্রামের সাধারণ মানুষ, কৃষক, দিনমজুররা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার, আশ্রয় এবং তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে।

আদর্শিক প্রতিরোধ: জনগণের কাছে মুক্তিযোদ্ধা ধরিয়ে দেওয়ার ৫০০ টাকার চেয়েও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও স্বাধীনতার মূল্য ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দুঃখজনকভাবে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এই জামায়াত, আল-বদর ও রাজাকারদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব স্বাধীনতার পরও সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। এই গেজেটটি সেই ঐতিহাসিক সত্যের প্রমাণ যে, এই গোষ্ঠী স্বাধীনতা সংগ্রামে কেবল বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা ছিল দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক বাহিনীর সহযোগী।

ইতিহাসের শিক্ষা ও জাতির শপথ

মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারি গেজেট প্রকাশ ছিল ১৯৭১ সালের সবচেয়ে জঘন্য চক্রান্তগুলোর মধ্যে একটি। এই দলিলটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়:

বিশ্বাসঘাতকতার স্বরূপ: আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশপ্রেমিক ও বিশ্বাসঘাতকদের মধ্যেকার এক আদর্শিক লড়াই। এই গেজেট প্রমাণ করে, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী কীভাবে লোভ ও আদর্শিক অন্ধত্বের বশবর্তী হয়ে একটি জাতির বিরুদ্ধে কাজ করেছিল।

শপথ: এই ইতিহাসকে ভুলে গেলে চলবে না। নতুন প্রজন্মের দায়িত্ব হলো, এই গেজেট ও এর সহযোগী আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকারদের ঘৃণ্য ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে সকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।

আজ যখন আমরা স্বাধীনতার সুফল ভোগ করছি, তখন আমাদের অবশ্যই সেই সকল দেশপ্রেমিকদের স্মরণ করতে হবে, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য লড়াই করেছিলেন, এবং সেই সাথে ঘৃণা জানাতে হবে সেই গাদ্দারদের, যারা ৫০০ টাকার লোভে নিজেদের ভাই-বোনদের শত্রুর হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল। এই ঐতিহাসিক সত্যই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Feb 4, 2026

/

Post by

ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।

Feb 2, 2026

/

Post by

গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।

Feb 1, 2026

/

Post by

একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।

Jan 29, 2026

/

Post by

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জনপদ গোপালগঞ্জ। এই জনপদ কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর পলিবিধৌত এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছিলেন বাঙালির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এই মাটি ভিজেছে বীর সন্তানদের রক্তে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের ত্যাগ, লড়াই এবং বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

Dec 18, 2025

/

Post by

একাত্তরের রণাঙ্গনে যে কজন বীরের নাম শুনলে পাকিস্তানি বাহিনীর বুক কেঁপে উঠত, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ভাটি বাংলার বাঘ হিসেবে পরিচিত জগৎজ্যোতি দাস। তিনি ছিলেন অকুতোভয় 'দাস পার্টি'র অধিনায়ক। তাঁর বীরত্বগাথা যেমন মহাকাব্যিক, তাঁর মৃত্যু পরবর্তী লাঞ্ছনা তেমনি হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটানো এক ট্র্যাজেডি।

Dec 16, 2025

/

Post by

একাত্তরের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে সাত সমুদ্র তেরো নদী ওপার থেকে আসা একজন ভিনদেশি নাগরিক যেভাবে নিজের জীবন বিপন্ন করে বাঙালির মুক্তির নেশায় মত্ত হয়েছিলেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তিনি আর কেউ নন - আমাদের পরম বন্ধু, মহান মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র বিদেশি ‘বীর প্রতীক’ উইলিয়াম এ. এস. ওডারল্যান্ড।

Feb 4, 2026

/

Post by

ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।

Feb 2, 2026

/

Post by

গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।

Feb 1, 2026

/

Post by

একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।

Jan 29, 2026

/

Post by

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জনপদ গোপালগঞ্জ। এই জনপদ কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর পলিবিধৌত এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছিলেন বাঙালির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এই মাটি ভিজেছে বীর সন্তানদের রক্তে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের ত্যাগ, লড়াই এবং বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

Feb 4, 2026

/

Post by

ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।

Feb 2, 2026

/

Post by

গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।

Feb 1, 2026

/

Post by

একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।

Jan 29, 2026

/

Post by

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জনপদ গোপালগঞ্জ। এই জনপদ কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর পলিবিধৌত এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছিলেন বাঙালির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এই মাটি ভিজেছে বীর সন্তানদের রক্তে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের ত্যাগ, লড়াই এবং বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.