>

>

পপগুরু ও প্লাটুন কমান্ডার আজম খান – গানের তালে স্বাধীনতা

পপগুরু ও প্লাটুন কমান্ডার আজম খান – গানের তালে স্বাধীনতা

বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান (১৯৫০-২০১১) ছিলেন সেই বিরল প্রতিভাদের একজন। একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে যখন তরুণ আজম খান তাঁর বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন, তখন তিনি ছিলেন মাত্র ২১ বছরের এক যুবক। তিনি শুধু অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি, বরং তাঁর বাটি-চামচের টুংটাং সুর আর গান হয়ে উঠেছিল সহযোদ্ধাদের চরম প্রেরণার উৎস।

TruthBangla

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এমন কিছু চরিত্র আছেন, যাঁদের জীবন একই সঙ্গে রণাঙ্গনের তেজ এবং শিল্পের মাধুর্যে ভরা। বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান (১৯৫০-২০১১) ছিলেন সেই বিরল প্রতিভাদের একজন। একাত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে যখন তরুণ আজম খান তাঁর বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন, তখন তিনি ছিলেন মাত্র ২১ বছরের এক যুবক। তিনি শুধু অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি, বরং তাঁর বাটি-চামচের টুংটাং সুর আর গান হয়ে উঠেছিল সহযোদ্ধাদের চরম প্রেরণার উৎস। তিনি রণাঙ্গনে ছিলেন একজন প্লাটুন কমান্ডার, আর যুদ্ধ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশে হলেন ‘পপগুরু’ - যিনি তাঁর সংগীতের মাধ্যমে শুরু করলেন সাংস্কৃতিক বিপ্লব।

একুশের তরুণ, রণাঙ্গনের অঙ্গীকার

আজম খানের জীবনী শুরুতেই আমাদের সামনে নিয়ে আসে এক সাধারণ বাঙালি পরিবারের অসাধারণ দেশপ্রেমের চিত্র। ১৯৭১ সালে যখন সারা দেশজুড়ে স্বাধীনতার দামামা বাজছে, তখন তিনি তাঁর বাবা-মায়ের কাছে অনুমতি চাইলেন, যা ছিল একটি তরুণ হৃদয়ের অদম্য অঙ্গীকার।

আম্মাকে বললাম, 'আম্মা, আমি যুদ্ধে যাচ্ছি।' আম্মা বললেন, 'যুদ্ধে যাবি, সে তো ভালো কথা; তোর আব্বাকেও বলে যা।'

আব্বা (সরকারি চাকরিজীবী, বেশ গম্ভীর মানুষ) আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মৃদু হেসে দিলেন। তারপর হাসিমুখেই বললেন, 'যা, তবে দেশটা স্বাধীন না করে ফিরিস না।'

– বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান, পপগুরু ও বাংলা ব্যান্ডের জনক।

এই কয়েকটি কথা শুধু আজম খানের পরিবারের নয়, এটি সেই সময়ের প্রতিটি দেশপ্রেমিক পরিবারের প্রতিচ্ছবি, যেখানে সরকারি চাকরিসূত্রে থাকা গম্ভীর বাবাটিও নির্দ্বিধায় ছেলেকে হাসিমুখে দেশের জন্য জীবন দিতে পাঠাচ্ছেন। এই পারিবারিক সমর্থনই আজম খানকে ২১ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানে অনুপ্রাণিত করেছিল। ভারতের মেঘালয়ের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে কখনও বাটি, চামচ, কৌটা, ডিব্বায় টুংটাং সুর তুলে গানের তালে সহযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করেছেন; কখনও অস্ত্র হাতে যোগ দিয়েছেন সাহসী গেরিলা অপারেশনে।

একাত্তরের ডাকে সাড়া – সামরিক জীবনের প্রস্তুতি

আজম খান, যার পুরো নাম মাহবুবুল হক খান, যুদ্ধের ডাক শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি।

প্রশিক্ষণ ও প্ল্যাটুন কমান্ডার

যাত্রা শুরু: যুদ্ধের শুরুতে তিনি ঢাকা থেকে হেঁটে বা বিভিন্ন যানবাহনে সীমান্ত পার হন। ভারতে পৌঁছানোর পর তিনি সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেন।

৩ নম্বর সেক্টর: আজম খান ৩ নম্বর সেক্টরের অধীনে গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ৩ নম্বর সেক্টরের প্রধান ছিলেন মেজর (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) কে এম সফিউল্লাহ। কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে একজন যোদ্ধা হিসেবে প্রস্তুত করেন।

প্লাটুন কমান্ডার: প্রশিক্ষণের পর তাঁর সামরিক দক্ষতা এবং নেতৃত্ব গুণের কারণে তাঁকে একটি প্লাটুন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি একজন সক্রিয় প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা তাঁর সাহসিকতা ও সাংগঠনিক ক্ষমতার প্রমাণ।

সামরিক অভিযান ও গেরিলা যুদ্ধ

আজম খানের প্লাটুন মূলত ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে গেরিলা হামলা পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নিয়োজিত ছিল। গেরিলা যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য ছিল শত্রুকে আঘাত করে দ্রুত অদৃশ্য হয়ে যাওয়া, তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা এবং তাদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করা।

সাফল্য: তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত গেরিলা দলগুলো বেশ কয়েকটি সফল অপারেশন পরিচালনা করে। এর মধ্যে রেললাইন ও সড়ক পথে মাইন পুঁতে পাকিস্তানি সেনাদের সরঞ্জাম পরিবহনে বাধা দেওয়া এবং ছোট ছোট ফায়ারিং অ্যাটাক চালানো অন্যতম। এই গেরিলা অপারেশনগুলো পাকিস্তানি বাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গানের শক্তি – রণাঙ্গনের সুর ও প্রেরণা

আজম খানের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী অবদান ছিল রণাঙ্গনে তাঁর শিল্পীসত্তা। গান যেখানে অস্ত্র হয়ে ওঠে, সেখানে সুরের ভূমিকা কেবল মনোরঞ্জন নয়, বরং তা টিকে থাকার এবং লড়ার প্রেরণা।

বাটি-চামচের জাদুকর

অনুপ্রেরণার উৎস: মেঘালয়ের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে বা যুদ্ধ শেষে বিশ্রাম শিবিরে, মুক্তিযোদ্ধারা প্রায়শই চরম মানসিক চাপের মধ্যে থাকতেন। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে আজম খান তাঁর সহজাত শিল্পীসত্তা দিয়ে সহযোদ্ধাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করতেন।

আদিম বাদ্যযন্ত্র: তাঁর কাছে তখন আধুনিক কোনো বাদ্যযন্ত্র ছিল না। তিনি বাটি, চামচ, কৌটা, ডিব্বায় টুংটাং সুর তুলে গানের তালে সহযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করতেন। গানের কথার মাধ্যমে তিনি তাঁদের স্বাধীনতার স্বপ্ন, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং বিজয়ের প্রত্যয়কে আরও দৃঢ় করতেন।

মানসিক চিকিৎসা: এই গানগুলো ছিল এক প্রকার মানসিক চিকিৎসা। এটি শুধু একঘেয়েমি কাটাত না, বরং সহযোদ্ধাদের মনে করিয়ে দিত - তারা কীসের জন্য লড়ছে এবং তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী।

মুক্তিযুদ্ধের গানে আজম খানের প্রভাব

মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর গাওয়া বা সুর করা গানগুলো (যদিও সেগুলো অপ্রকাশিত ছিল) মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এক ধরনের আবেগিক বন্ধন তৈরি করেছিল। এই গানগুলো পরবর্তীকালে তাঁর শিল্পীসত্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং স্বাধীন বাংলাদেশে তাঁর সংগীতে সেই সংগ্রামী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছিল। একজন যোদ্ধা যখন একই সঙ্গে সুরকার, গায়ক এবং প্লাটুন কমান্ডার হন, তখন তাঁর নেতৃত্ব বহুমাত্রিক হয়ে ওঠে।

স্বাধীনতা থেকে পপগুরু – সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা

দেশ স্বাধীন হলো। আব্বার কথামতো আজম খান তবেই দেশে ফিরলেন - যখন দেশটা স্বাধীন হলো। যুদ্ধ শেষে অস্ত্র হাতে আজম খান যেমন বিপ্লবী ছিলেন, ঠিক তেমনি স্বাধীন দেশে গিটার হাতে তিনি হলেন সাংস্কৃতিক বিপ্লবের জনক

বাংলা ব্যান্ড সংগীতের জন্ম

আখতারুজ্জামান ও অন্যান্যরা: ১৯৭২ সালে তিনি তাঁর বন্ধু আখতারুজ্জামান (লীড গিটার), সঞ্জয় (ড্রামস) এবং নেওয়াজ (বেস গিটার)-কে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম—উচ্চারণ

নতুন ধারার প্রবর্তন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের প্রাঙ্গণে প্রথম কনসার্ট দিয়ে যাত্রা শুরু করে এই ব্যান্ড। আজম খানের হাত ধরেই বাংলাদেশে জন্ম নেয় এক নতুন ধারার সংগীত - বাংলা পপ ও ব্যান্ড সংগীত

পরিবর্তন: পশ্চিমা রক ও পপ সুরের সঙ্গে দেশীয় আবেগ, মাটির গান এবং সহজ-সরল কথা মিশিয়ে তিনি তৈরি করেন এক ভিন্ন আঙ্গিক। এই সংগীতের মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের ভাবনার জগৎকে উন্মোচন করেন।

কালজয়ী সৃষ্টি এবং জনপ্রিয়তা

আজম খানের প্রথম গানগুলোই ছিল দেশের তরুণদের কাছে এক নতুন উন্মাদনা। এই গানগুলো ছিল সরল, কিন্তু তারুণ্যের বিদ্রোহ ও জীবনের প্রতি গভীর ভালোবাসায় ভরা।

প্রথম জনপ্রিয়তা: তাঁর প্রথম প্রকাশিত গান 'এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে' এবং 'ওরে সালেকা, ওরে মালেকা' তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। বিশেষ করে 'ওরে সালেকা, ওরে মালেকা' গানটি ছিল তৎকালীন সমাজ ও মধ্যবিত্ত জীবনের প্রতিচ্ছবি, যা সহজেই শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেয়।

পপগুরু উপাধি: তাঁর হাত ধরেই ব্যান্ড সংগীত যখন মূলধারার সংস্কৃতিতে জায়গা করে নেয়, তখন তাঁকে বাংলাদেশের পপ ও ব্যান্ড সংগীতের 'পপগুরু' বা 'গুরু' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সংগীতে আজম খানের বিপ্লবী চেতনা

আজম খানের সংগীত কেবল বিনোদন ছিল না। তাঁর গানে ছিল রণাঙ্গনের সেই অদম্য চেতনার প্রতিফলন।

গণমানুষের কণ্ঠস্বর

তাঁর গান ছিল সমাজের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কথা। 'বাংলাদেশ' বা 'হারিয়ে গেছে'-এর মতো গানগুলোতে তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী স্বাধীন দেশের দুঃখ-কষ্ট, হতাশা ও আশা-আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছেন।

মুক্তির চেতনা: তাঁর গান একাধারে মানুষকে নাচিয়েছে এবং একই সঙ্গে সমাজ সচেতনতা বাড়িয়েছে। তাঁর সংগীতে সেই মুক্তির চেতনা বজায় ছিল, যা তিনি একাত্তরের রণাঙ্গনে লালন করেছিলেন। তিনি জানতেন, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এলেও সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি এখনো বাকি।

আধুনিকতা ও দেশপ্রেম: আজম খান প্রমাণ করেন যে, আধুনিকতার মানে নিজের সংস্কৃতি ভুলে যাওয়া নয়। পশ্চিমা ধাঁচের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করেও দেশের মাটির গল্প বলা যায়, দেশের ঐতিহ্য ও ভাষাকে তুলে ধরা যায়।

আজম খানের ব্যান্ড সংগীতের ভিত্তি

আজম খান কেবল একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর হাতে গড়া 'উচ্চারণ' ব্যান্ডটি পরবর্তীকালে বাংলাদেশের অসংখ্য ব্যান্ডকে উৎসাহিত করেছিল। তাঁর সাহসিকতা, অনাড়ম্বর জীবনযাপন এবং মঞ্চে তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনা—সবকিছুই তরুণদের কাছে অনুসরণীয় ছিল।

তিনি সব সময় তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। তাঁর সরলতা, স্পষ্টবাদিতা এবং জীবনবোধ তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছে বারবার।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যোদ্ধা

বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত একজন যোদ্ধা ছিলেন - কখনও অস্ত্র হাতে, কখনও বা গিটার হাতে। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে, দেশপ্রেম কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমিত নয়, বরং তা প্রতিটি নাগরিকের কর্ম, শিল্প এবং জীবনবোধের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হওয়া উচিত।

তাঁর বাবা সেই যে বলেছিলেন, "যা, তবে দেশটা স্বাধীন না করে ফিরিস না," আজম খান সেই কথা রেখেছিলেন। তিনি কেবল দেশ স্বাধীন করেই ফেরেননি, তিনি তাঁর সংগীতের মাধ্যমে প্রজন্মকে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছেন। তিনি আজও অমর হয়ে আছেন প্রতিটি স্বাধীনচেতা বাঙালির হৃদয়ে - একাধারে একজন সাহসী প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে এবং চিরন্তন পপগুরু হিসেবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খানের এই অনন্য অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে দেশপ্রেম ও শিল্পকলার এক অদম্য শক্তি জুগিয়ে যাবে।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Feb 4, 2026

/

Post by

ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।

Feb 2, 2026

/

Post by

গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।

Feb 1, 2026

/

Post by

একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।

Jan 29, 2026

/

Post by

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জনপদ গোপালগঞ্জ। এই জনপদ কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর পলিবিধৌত এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছিলেন বাঙালির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এই মাটি ভিজেছে বীর সন্তানদের রক্তে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের ত্যাগ, লড়াই এবং বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

Dec 18, 2025

/

Post by

একাত্তরের রণাঙ্গনে যে কজন বীরের নাম শুনলে পাকিস্তানি বাহিনীর বুক কেঁপে উঠত, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ভাটি বাংলার বাঘ হিসেবে পরিচিত জগৎজ্যোতি দাস। তিনি ছিলেন অকুতোভয় 'দাস পার্টি'র অধিনায়ক। তাঁর বীরত্বগাথা যেমন মহাকাব্যিক, তাঁর মৃত্যু পরবর্তী লাঞ্ছনা তেমনি হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটানো এক ট্র্যাজেডি।

Dec 16, 2025

/

Post by

একাত্তরের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে সাত সমুদ্র তেরো নদী ওপার থেকে আসা একজন ভিনদেশি নাগরিক যেভাবে নিজের জীবন বিপন্ন করে বাঙালির মুক্তির নেশায় মত্ত হয়েছিলেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তিনি আর কেউ নন - আমাদের পরম বন্ধু, মহান মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র বিদেশি ‘বীর প্রতীক’ উইলিয়াম এ. এস. ওডারল্যান্ড।

Feb 4, 2026

/

Post by

ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।

Feb 2, 2026

/

Post by

গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।

Feb 1, 2026

/

Post by

একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।

Jan 29, 2026

/

Post by

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জনপদ গোপালগঞ্জ। এই জনপদ কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর পলিবিধৌত এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছিলেন বাঙালির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এই মাটি ভিজেছে বীর সন্তানদের রক্তে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের ত্যাগ, লড়াই এবং বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

Feb 4, 2026

/

Post by

ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।

Feb 2, 2026

/

Post by

গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।

Feb 1, 2026

/

Post by

একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।

Jan 29, 2026

/

Post by

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিধন্য এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য জনপদ গোপালগঞ্জ। এই জনপদ কেবল একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর পলিবিধৌত এই জনপদ থেকেই উঠে এসেছিলেন বাঙালির মহানায়ক শেখ মুজিবুর রহমান। একাত্তরের রণাঙ্গনে এই মাটি ভিজেছে বীর সন্তানদের রক্তে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের ত্যাগ, লড়াই এবং বীরত্বগাথা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.