>
>
জ্যাঁ কুয়ে – যে ফরাসি বীর একাত্তরে বাংলাদেশের জন্য বিমান ছিনতাই করেছিলেন
জ্যাঁ কুয়ে – যে ফরাসি বীর একাত্তরে বাংলাদেশের জন্য বিমান ছিনতাই করেছিলেন
এক অবিস্মরণীয় নজির সৃষ্টি করেছিলেন ফ্রান্সের এক সাধারণ নাগরিক, জ্যাঁ কুয়ে। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত লগ্নে, এই ফরাসি যুবক পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারওয়েজ (পিআইএ)-এর একটি বিমান ছিনতাই করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল একটাই - ছিনতাইকৃত বিমানের বিনিময়ে চাই অসহায় বাঙালি শরণার্থীদের জন্য ২০ টন ওষুধ ও খাদ্যসাহায্য।

TruthBangla
Dec 3, 2025
যারা একাত্তরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে চায়, যারা মুক্তিযুদ্ধের সর্বজনীন মানবিক আবেদনকে অস্বীকার করতে চায়, তাদের বলুন - 'একাত্তর' কীভাবে কেবল বাঙালির যুদ্ধ থাকেনি, বরং তা পরিণত হয়েছিল বিশ্ব মানবতার এক অগ্নিপরীক্ষায়। সেই পরীক্ষার এক অবিস্মরণীয় নজির সৃষ্টি করেছিলেন ফ্রান্সের এক সাধারণ নাগরিক, জ্যাঁ কুয়ে। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত লগ্নে, এই ফরাসি যুবক পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারওয়েজ (পিআইএ)-এর একটি বিমান ছিনতাই করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল একটাই - ছিনতাইকৃত বিমানের বিনিময়ে চাই অসহায় বাঙালি শরণার্থীদের জন্য ২০ টন ওষুধ ও খাদ্যসাহায্য। এই ঘটনা কেবল বিশ্বের বিমান ছিনতাইয়ের ইতিহাসে নয়, একইসঙ্গে মানবতার ইতিহাসে এক চিরস্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
মানবিকতার বিস্ফোরণ ও একাত্তরের বিশ্বজনীনতা
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তঝরা দিনগুলোতে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন, গণহত্যা, বাঙালিদের প্রতিরোধ সংগ্রাম, ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক কোটিরও অধিক শরণার্থীর করুণ অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করছিল। এই প্রতিবেদনগুলো বিশ্ব জনমতকে ধীরে ধীরে জাগিয়ে তুলছিল। হাজার হাজার মাইলের দূরত্ব সত্ত্বেও, বহু ভিনদেশি মানুষ এই সংগ্রামে নিজেদের একাত্ম করেছিলেন।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ঘটে যাওয়া জ্যাঁ কুয়ের ঘটনাটি প্রমাণ করে, মানুষের দুঃখ-কষ্টের কোনো জাতীয়তা বা ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। জ্যাঁ কুয়ে নামের এই যুবক তাঁর জীবন বাজি রেখে এক অজানা, অচেনা ও পরাধীন দেশের মানুষের জন্য যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাহসিকতা নয়, বরং তা ছিল বিশ্বজুড়ে মানবতার এক সম্মিলিত বিবেকবোধের চূড়ান্ত প্রকাশ।
একাত্তরের প্রেক্ষাপট – যখন বিশ্ব বিবেক জাগ্রত হচ্ছিল
১৯৭১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে শুরু হওয়া গণহত্যা পৃথিবীর অন্যতম ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এই সময়কালে বিশ্বজুড়ে তিনটি প্রধান দৃশ্যপট তৈরি হয়েছিল, যা জ্যাঁ কুয়ের মতো সংবেদনশীল মানুষকে প্রভাবিত করেছিল:
শরণার্থীর স্রোত ও মানবিক বিপর্যয়: পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম অত্যাচার এবং প্রাণভয়ে এক কোটিরও বেশি বাঙালি ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং আসামের শরণার্থী শিবিরগুলোতে খাদ্য, চিকিৎসা এবং মৌলিক স্বাস্থ্যবিধির অভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করছিল কোটি মানুষ। এই মানবিক বিপর্যয় বিশ্বের সকল সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছিল।
গণহত্যামূলক নৃশংসতার খবর: সাইমন ড্রিং, অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের মতো সাহসী সাংবাদিকরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গণহত্যার খবর বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। এই প্রতিবেদনগুলো জ্যাঁ কুয়ের মতো যুবকদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করে। তাঁরা বুঝতে পারেন, সাধারণ প্রতিবাদ বা কূটনৈতিক চাপ এই নৃশংসতা বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট নয়।
জ্যাঁ কুয়ের বিমান ছিনতাই: ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর, যখন জ্যাঁ কুয়ে বিমান ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। যুদ্ধ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই সময় দ্রুততম সময়ের মধ্যে শরণার্থীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া ছিল অত্যন্ত জরুরি।
পিআইএ বিমান ছিনতাই – প্যারিসের ঘটনা
১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর, যখন পূর্ব রণাঙ্গনে যৌথ বাহিনীর চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়েছে, তখন ফ্রান্সের প্যারিস থেকে পিআইএ (পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারওয়েজ)-এর একটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে।
পিআইএ'র বোয়িং ৭২০বি (Boeing 720B) উড়োজাহাজটি তখন প্যারিসের ওর্লি বিমানবন্দর (Orly Airport)-এ ছিল। সেই উড়োজাহাজটিতে যাত্রীবেশে প্রবেশ করেন ৩৮ বছর বয়সী এক ফরাসি তরুণ, যাঁর নাম জ্যাঁ কুয়ে (Jean Kay)।
ককপিটে প্রবেশ ও দাবি পেশ
বিমানে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্যাঁ কুয়ে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে ককপিটে ঢুকে পড়েন। পাইলট ও কো-পাইলটকে জানান, বিমানটি ছিনতাই হয়েছে। এই দুঃসাহসী পদক্ষেপের পেছনে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের অসহায় মানুষ।
এ সময় জ্যাঁ কুয়ের বুকে একটি ছোট ব্যাগ ছিল। সেটি দেখিয়ে তিনি জানান, এটি একটি শক্তিশালী টাইমবোমা। তাঁর দাবি মানা না হলে বোমাটি ফাটিয়ে ফেলা হবে, এতে যাত্রীসহ পুরো বিমান ধ্বংস হবে।
জ্যাঁ কুয়ের দাবি ছিল সম্পূর্ণ মানবিক। তিনি কোনো অর্থ, মুক্তিপণ বা রাজনৈতিক আশ্রয় চাননি। তিনি ফ্রান্স সরকারের কাছে ভারতে অবস্থানরত বাঙালি শরণার্থীদের জন্য ২০ টন উচ্চমানের মেডিকাল যন্ত্রপাতিসহ ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী পাঠানোর দাবি করেন।
বিশ্বজুড়ে আলোড়ন
বিমান ছিনতাইয়ের এই ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে ওর্লি বিমানবন্দরসহ পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এমন অভিনব দাবির কারণে এটি তৎকালীন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রধান শিরোনাম হয়। বিশ্বের মানুষ জানতে পারে, একজন ফরাসি নাগরিক বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছেন।
জ্যাঁ কুয়ের মনস্তত্ত্ব কি ছিল?
জ্যাঁ কুয়ে কেন এমন চরম ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন? কোনো রাজনৈতিক দল, সামরিক বাহিনী বা ব্যক্তিগত লাভের আশা তাঁর ছিল না। এর উত্তর নিহিত তাঁর মানবিকতা ও প্রবল সংবেদনশীলতায়।
জ্যাঁ কুয়ে সংবাদ মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন যে, পাকিস্তানি হানাদার আর তাদের দোসরদের ভয়ে বাংলাদেশ নামে একটি পরাধীন দরিদ্র দেশের এক কোটির অধিক মানুষ ভারতীয় শরণার্থী শিবিরে খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে হতাহতের খবর বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং অন্যান্য মিডিয়ার মাধ্যমে জেনে এই যুবকের প্রাণ বারবার কেঁদে উঠেছিল।
জীবন বাজি রাখার কারণ: তিনি এরপর অনবরত মানুষগুলোর মানবেতর জীবনের কথা ভেবেছেন, তাদের সাহায্য করার কথা ভেবেছেন। নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারেননি। হাজার মাইল দূরের এই ভিনদেশী ফরাসী যুবক, অজানা অচেনা এক পরাধীন বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন বাজি ধরলেন - যেন তিনি বলতে চেয়েছিলেন, মানবতা আজ সংকটে, এবং এর জন্য চরম মূল্য দিতেও তিনি প্রস্তুত।
নাটকের পরিসমাপ্তি ও জ্যাঁ কুয়ের আত্মসমর্পণ
বিমানটির দখল নেওয়ার পর জ্যাঁ কুয়েকে আশ্বস্ত করা হয় যে, তাঁর দাবি মেনে নেওয়া হবে এবং ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু এর পরই শুরু হয় কৌশলী খেলা।
এই আশ্বাস দিয়ে রেডক্রসের কর্মী এবং উড়োজাহাজের টেকনিশিয়ান পরিচয় দিয়ে দুজন ছদ্মবেশী পুলিশ বিমানে ঢুকে পড়ে। তারা কৌশলে জ্যাঁ কুয়েকে আলোচনার জন্য বিমান থেকে নামিয়ে আনেন। বিমান থেকে নামার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বোমার রহস্য: বুকে থাকা ছোট ব্যাগে 'বোমা'র বদলে পাওয়া গেল দুটো ডিকশনারি (অভিধান) ও একটি বাইবেল (Bible)। এটি জ্যাঁ কুয়েরের উদ্দেশ্যের স্বচ্ছতা প্রমাণ করে। তিনি আদতে কারো ক্ষতি করতে চাননি; তাঁর বোমা ছিল কেবল একটি প্রতীক—যা বিশ্ববাসীর বিবেককে জাগানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।
আইনি প্রক্রিয়া ও জনতার সমর্থন
ফ্রান্সের প্রচলিত আইনে জ্যাঁ কুয়েরের বিচার করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হলো। কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য এত মহৎ ছিল যে, তা সাধারণ জনতাকে নাড়া দিতে বাধ্য।
সে সময়ে এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রত্যেকে সাক্ষ্য দিলেন যে, জ্যাঁ কুয়ে যা করেছেন তা মানবতার জন্য, মানুষের জন্যই করেছেন। তিনি কারো ক্ষতি করেননি এবং আদতে তা করতেও চাননি, সে উদ্দেশ্য তাঁর ছিলও না।
তবুও শেষ রক্ষা হলো না। ফরাসি সরকার সেদেশের বিমান ছিনতাইয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
আন্তর্জাতিক প্রভাব – জ্যাঁ কুয়ের দাবির বাস্তবায়ন
জ্যাঁ কুয়ের বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারিত হয়েছিল এবং তাঁর এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়নি।
ত্রাণসামগ্রী প্রেরণ: ক্যুঁয়ের দাবি অনুযায়ী, ফ্রান্স সরকার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) শরণার্থী শিবিরগুলোর জন্য ২০ টন মেডিকাল সরঞ্জাম এবং অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছিল। তাঁর আত্মত্যাগ সরাসরি সেই অসহায় মানুষদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছিল।
কূটনৈতিক চাপ: এই ঘটনাটি পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিব্রত করে তুলেছিল এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবির প্রতি নৈতিক সমর্থন বৃদ্ধি করেছিল।
জ্যাঁ কুয়ে তাঁর মহৎ কাজের মাধ্যমে বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি প্রমাণ করে গেছেন যে, যখন মানবিকতা বিপন্ন হয়, তখন একজন সাধারণ মানুষও নিজের জীবন বাজি রেখে নৈতিক প্রতিবাদ করতে পারে।
তিনি হয়তো জানতেন না, যাদের জন্য তিনি এই ঝুঁকি নিচ্ছেন, তারা কারা, তাদের ভাষা কী, বা তাদের দেশ কোথায় - কিন্তু তিনি জানতেন, মানুষ হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো তাঁর নৈতিক কর্তব্য।
যে দেশ জানে না তার বিজয়ের গল্প
আজ ভাবি, কী বিচিত্র এই দেশ! এই দেশের মানুষ। এই দেশের অধিকাংশ মানুষ হয়তো জানেই না, জ্যাঁ কুয়ের মতো কত অসাধারণ ঘটনার মধ্য দিয়ে একাত্তরে বিজয় এসেছিল। এই বিজয় কেবল মুক্তিবাহিনীর সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল না, এটি ছিল আন্তর্জাতিক মানবিক সংহতির ফসল।
জ্যাঁ কুয়ে ছিলেন সেই নীরব বন্ধু, যিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনৈতিক লাভ ছাড়াই, কেবল মানবতার টানে, এক পরাধীন জাতির জন্য নিজের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করেছিলেন। প্রিয় ভাই, প্রিয় মুক্তিযোদ্ধা জ্যাঁ কুয়ের - আপনাকে কুর্নিশ, আপনাকে অভিবাদন, আপনাকে আমাদের প্রাণের ভালোবাসা। আপনার মতো বীরদের জন্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা কেবল একটি ভূখণ্ডের জন্ম নয়, বরং বিশ্বজুড়ে নৈতিক বিজয়ের প্রতীক।
জ্যাঁ কুয়ের মতো বীরদের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় - আমাদের স্বাধীনতা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এক বিশ্বজনীন নৈতিক সংগ্রাম। এই ইতিহাস আমাদের ভুললে চলবে না, কারণ এই গল্পগুলোই প্রমাণ করে, আমরা কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নই, আমরা বিশ্ব মানবতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের অকৃত্রিম বন্ধু জ্যঁ ক্যুয়ে ২০১২ সালের ২৩ ডিসেম্বরে প্রায় ৬৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তার মহৎ কাজের মাধ্যমে বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
Explore Topics
Featured Posts
About
TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.















