>

>

আমি বাঙালী, আমি মানুষ, আমি মুসলমান, একবার মরে দুইবার মরে না

আমি বাঙালী, আমি মানুষ, আমি মুসলমান, একবার মরে দুইবার মরে না

১০ জানুয়ারি, ১৯৭২। বাঙালির ইতিহাসের এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় দিন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রেখেছিলেন। সেই অপরাহ্ণে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা ছিল না; বরং তা ছিল একটি নবজাত রাষ্ট্রের আগামীর রূপরেখা এবং এক নেতার তাঁর জনগণের প্রতি ভালোবাসার চরম বহিঃপ্রকাশ।

TruthBangla

১০ জানুয়ারি, ১৯৭২। বাঙালির ইতিহাসের এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় দিন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার পূর্ণতা পেয়েছিল এই দিনে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রেখেছিলেন। সেই অপরাহ্ণে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা ছিল না; বরং তা ছিল একটি নবজাত রাষ্ট্রের আগামীর রূপরেখা এবং এক নেতার তাঁর জনগণের প্রতি ভালোবাসার চরম বহিঃপ্রকাশ।

এই প্রবন্ধে আমরা ১০ জানুয়ারির সেই মহাকাব্যিক ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের বীরত্বগাথা এবং বাঙালির আত্মপরিচয় নিয়ে তাঁর সেই কালজয়ী দর্শনের গভীরে প্রবেশ করার চেষ্টা করব।

১০ জানুয়ারি - একটি অপূর্ণ বিজয়ের পূর্ণতা প্রাপ্তি

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানেই পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। কিন্তু বাঙালির হৃদয়ে তখনো ছিল এক বিশাল শূন্যতা। কারণ, যাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুরো জাতি অস্ত্র তুলে নিয়েছিল, সেই অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান তখনো পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। বাঙালির কাছে বিজয় তখনো ছিল 'অপূর্ণ'।

১০ জানুয়ারি যখন ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করেন, তখন পুরো ঢাকা শহর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত আসতে তাঁর দীর্ঘ সময় লেগেছিল, কারণ পথের দুপাশে দাঁড়ানো লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় ঠেলে ট্রাকটি সামনে এগোতে পারছিল না। অবশেষে যখন তিনি মঞ্চে দাঁড়ালেন, তখন সেখানে কোনো নেতার দম্ভ ছিল না, ছিল এক পিতার তাঁর সন্তানদের কাছে ফিরে আসার আবেগ।

"বিশ্বকবি তুমি দেখে যাও" - বাঙালির বীরত্বের স্বীকৃতি

রেসকোর্সের সেই জনসভায় বঙ্গবন্ধু মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে শিশুর মতো কান্নায় ভেঙে পড়েন। যে মানুষটি পাকিস্তানের কারাগারে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অকুতোভয় ছিলেন, নিজ দেশের মাটিতে পা রেখে স্বদেশের ধ্বংসলীলা আর মানুষের আত্মত্যাগের কথা মনে করে তিনি চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। তাঁর ভাষণের একটি অংশ চিরদিনের জন্য বাঙালির হৃদয়ে গেঁথে আছে, যেখানে তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্বোধন করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু তাঁর বজ্রকণ্ঠে বলেছিলেন:

"বিশ্বকবি তুমি বলেছিলে ‘সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি’। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তুমি দেখে যাও, তোমার আক্ষেপকে আমরা মোচন করেছি। তোমার কথা মিথ্যা প্রমাণিত করে আজ ৭ কোটি বাঙালি যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে এই দেশ স্বাধীন করেছে। হে বিশ্বকবি তুমি আজ জীবিত থাকলে বাঙালির বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে নতুন কবিতা সৃষ্টি করতে।"

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'বঙ্গমাতা' কবিতায় আক্ষেপ করেছিলেন যে বাঙালি কেবল একটি জাতি হিসেবে টিকে আছে, কিন্তু বীরত্ব বা সাহসিকতায় বিশ্বমঞ্চে নিজেকে 'মানুষ' হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে বাঙালি এখন আর কেবল সাত কোটি সন্তান নয়, তারা এখন এমন এক জাতি যারা নিজেদের অধিকার আদায়ে রক্ত দিতে জানে। এটি ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রতি এক বিনম্র চ্যালেঞ্জ এবং বাঙালির সক্ষমতার এক বিশাল সার্টিফিকেট।

মিয়ানওয়ালি কারাগার - কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অটল হিমালয়

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সবচেয়ে রোমহর্ষক ও আবেগপ্রবণ অংশ ছিল তাঁর কারাজীবনের স্মৃতিচারণ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতা ঘোষণার পর তাঁকে ধানমন্ডির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি কারাগারে। সেখানে তাঁকে নিঃসঙ্গ সেলে বন্দি রাখা হয়েছিল এবং তাঁর ওপর চালানো হয়েছিল চরম মানসিক নির্যাতন।

বঙ্গবন্ধু ভাষণের এক পর্যায়ে বলেন:

"আমার সেলের পাশে আমার জন্য কবর খোঁড়া হয়েছিল। আমি প্রস্তুত হয়েছিলাম। বলেছিলাম, আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান, একবার মরে দুইবার মরে না। আমি বলেছিলাম, আমার মৃত্যু এসে থাকে যদি আমি হাসতে হাসতে যাব। আমার বাঙালি জাতকে অপমান করে যাব না। তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইব না এবং যাবার সময় বলে যাব, জয় বাংলা, স্বাধীন বাংলা, বাঙালি আমার জাতি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলার মাটি আমার স্থান।"

এই বক্তব্যটি একজন মানুষের অজেয় মানসিক শক্তির পরিচয় দেয়। পাকিস্তানের সামরিক আদালত তাঁকে ফাঁসিতে ঝোলানোর রায় দিয়েছিল। এমনকি জেলের ভেতরে তাঁর সেলের পাশেই একটি গর্ত খুঁড়ে তাঁকে দেখানো হয়েছিল যে এটিই তাঁর কবর। কিন্তু বঙ্গবন্ধু দমে যাননি। তিনি জানতেন, তাঁর মৃত্যু হলেও বাংলাদেশ স্বাধীন হবেই। তাঁর এই অটল সাহসই ছিল বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা।

ধর্ম, জাতি ও মনুষ্যত্ব - বঙ্গবন্ধুর অনন্য আত্মপরিচয়

বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনটি বিষয় উল্লেখ করেছিলেন: বাঙালি, মানুষ এবং মুসলমান। এই তিনটি শব্দের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং অর্থবহ।

১. আমি বাঙালি

এটি ছিল তাঁর জাতিগত পরিচয়। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে যে স্বাধিকার আন্দোলনের তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তার মূল ভিত্তি ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ। 'বাঙালি' পরিচয়টিই আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল।

২. আমি মানুষ

বঙ্গবন্ধু বিশ্ব মানবতার কথা বলতেন। তিনি জানতেন যে রাজনীতির ঊর্ধ্বে সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো মানবতা। অত্যাচারী শোষকের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই ছিল মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই।

৩. আমি মুসলমান

বঙ্গবন্ধু একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন, কিন্তু তাঁর ধর্মতত্ত্ব ছিল উদার। তিনি যখন 'আমি মুসলমান' বলতেন, তখন তিনি সেই ইসলামের কথা বলতেন যা সাম্য, ন্যায়বিচার এবং আত্মমর্যাদার শিক্ষা দেয়। পাকিস্তানের শাসকরা যখন ধর্মের দোহাই দিয়ে শোষণ চালাচ্ছিল, তখন বঙ্গবন্ধু বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে একজন প্রকৃত মুসলমান কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না এবং নিজের জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে না।

এই ত্রিমাত্রিক পরিচয়ই মূলত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের মূল ভিত্তি ছিল, যেখানে ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দীর্ঘ পথ - লন্ডন থেকে দিল্লি হয়ে ঢাকা

বঙ্গবন্ধুর ১০ জানুয়ারির ভাষণ বোঝার জন্য তাঁর প্রত্যাবর্তনের পেছনের কূটনৈতিক ঘটনাবলি জানাও জরুরি। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি ভোরে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড হিথ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক বিজয়।

লন্ডন থেকে তিনি ভারতের দিল্লিতে যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁকে বিপুল সংবর্ধনা দেন। দিল্লি সেনানিবাসের প্যারেড গ্রাউন্ডে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা ইংরেজি ও বাংলা মিশ্রিত ভাষণ দেন, যেখানে তিনি ভারতের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দ্রুততম সময়ে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেন। এরপরই তিনি ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করেন এবং ১০ জানুয়ারি সেই ঐতিহাসিক অপরাহ্ণে রেসকোর্সে ভাষণ দেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার নির্দেশনা

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু কেবল আবেগ প্রকাশ করেননি, তিনি আগামীর বাংলাদেশের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সামনে রয়েছে এক ধ্বংসস্তূপ।

ক্ষমা ও সংহতি: তিনি সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছিলেন আইন নিজের হাতে না তুলে নিতে। তিনি চেয়েছিলেন একটি সুশৃঙ্খল সমাজ।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান: তিনি বিশ্বের দেশগুলোর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন যেন তারা দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসে।

পাকিস্তানের প্রতি বার্তা: তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানের সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেছিলেন, "আপনারা সুখে থাকুন, আমাদের সুখে থাকতে দিন।"

একটি ভাষণের মহিমা

১০ জানুয়ারি ১৯৭২-এর ভাষণটি ছিল মূলত স্বাধীনতার পূর্ণতা ঘোষণার দলিল। বঙ্গবন্ধু যখন রেসকোর্সের মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি তখন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন সাত কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তাঁর সেই কান্নাজড়িত কণ্ঠ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কত মূল্যবান।

তিনি তাঁর জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছিলেন বাংলার মাটি ও মানুষকে। তাঁর সেই অমর বাক্য "বাঙালি আমার জাতি, বাংলা আমার ভাষা, বাংলার মাটি আমার স্থান" - আজও আমাদের হৃদয়ে দেশপ্রেমের অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে রাখে। রবীন্দ্রনাথের সেই আক্ষেপ তিনি রক্ত দিয়ে মুছে দিয়েছিলেন, আর আমাদের দায়িত্ব হলো সেই 'মানুষ' হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিরন্তর জারি রাখা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০ জানুয়ারির ভাষণটি কেবল ইতিহাসের অংশ নয়, এটি একটি জাতির পথপ্রদর্শক দর্শন। এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত 'সোনার বাংলা'

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Jan 4, 2026

/

Post by

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালটি নিয়ে দুটি বিপরীতমুখী বয়ান পাওয়া যায়। একদল একে দেখেন ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচারের’ কাল হিসেবে, আর অন্যদল একে দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে রাষ্ট্র গড়ার মহাবীরত্বগাথা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা এই সময়কালকে কেবল ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচার’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসবিদরা দেখেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি জাতিকে টেনে তোলার প্রাণপণ লড়াই।

Jan 2, 2026

/

Post by

শ্রাবণের সেই কালরাত ও স্তব্ধ বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। বাংলার আকাশে সেদিন সূর্য উঠেছিল এক বিভীষিকাময় বার্তা নিয়ে। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটি, যা ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু, তা তখন নিথর, নিস্তব্ধ এবং রক্তে রঞ্জিত। জাতির গাদ্দার বিশ্বাসঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সপরিবারে তাঁকে হত্যার মাধ্যমে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা হয়। কিন্তু রাজনীতির এই মহানায়কের পার্থিব শরীরের শেষ গন্তব্য কোথায় হবে? ঘাতকরা চেয়েছিল তাঁকে লোকচক্ষুর অন্তরালে কোথাও ফেলে দিতে, কিন্তু বিধাতার লিখন ছিল তাঁর জন্মভূমি সবুজ ঘাসে ঘেরা নিভৃত পল্লী টুঙ্গীপাড়ায়।

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.