>

>

আজ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নাম হবে বাংলাদেশ

আজ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নাম হবে বাংলাদেশ

সেই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন, "আজ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নাম হবে বাংলাদেশ"। এই ঘোষণাটি ছিল স্বাধীনতার পথে এক অমোঘ নির্দেশ, যা কেবল একটি নাম পরিবর্তন নয়, বরং একটি পরাধীন জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যতের সার্বভৌমত্বকে সুনির্দিষ্ট করেছিল।

TruthBangla

১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর। দিনটি ছিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। কিন্তু সেদিন ঢাকার রাজনৈতিক মঞ্চে যে ঘোষণাটি এসেছিল, তা কেবল এক নেতার স্মরণসভায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা ছিল হাজার বছরের বাঙালি ইতিহাসে এক নতুন সূর্যের উদয়। সেই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন, "আজ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নাম হবে বাংলাদেশ"। এই ঘোষণাটি ছিল স্বাধীনতার পথে এক অমোঘ নির্দেশ, যা কেবল একটি নাম পরিবর্তন নয়, বরং একটি পরাধীন জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যতের সার্বভৌমত্বকে সুনির্দিষ্ট করেছিল।

নামকরণের জন্ম ও স্বপ্নের স্ফুরণ

একটি দেশের নাম কেবল কয়েকটি অক্ষরের সমষ্টি নয়; তা বহন করে তার ইতিহাস, সংগ্রাম, সংস্কৃতি এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্মিলিত স্বপ্ন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, 'বাংলাদেশ' নামটি ছিল ৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৪৭ সালে সৃষ্ট 'পূর্ব পাকিস্তান' নামটি বাঙালির আত্মপরিচয়কে ক্ষুণ্ণ করেছিল। বাঙালি সংস্কৃতি, ভাষা ও ইতিহাসের সঙ্গে এই নামের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা: ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক নাম ঘোষণার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমাণ করেন যে, তিনি কেবল স্বাধিকারের আন্দোলনকারী নন, তিনি ছিলেন একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি। এই প্রবন্ধ সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত, নামকরণের পেছনের গভীর তাৎপর্য এবং বাঙালির জীবনে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করবে।

কেন ৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯? গণঅভ্যুত্থানের ঢেউ

১৯৬৯ সাল ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে এক টার্নিং পয়েন্ট। এই বছরটিই স্বাধিকার আন্দোলনকে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ দিয়েছিল।

১৯৬৯ সালের শুরুতে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এক প্রবল ছাত্র ও গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়। এই অভ্যুত্থান আইয়ুব সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাধ্য করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান তখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দি। জনগণের তীব্র দাবির মুখে তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান।

মুক্তি ও গণসংবর্ধনা: ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাঁকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করে। এই সময় বাঙালি জাতি এক নতুন আত্মবিশ্বাস ও চেতনার শিখরে আরোহণ করে।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মরণসভা

৫ ডিসেম্বর ছিল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী। সোহরাওয়ার্দী ছিলেন যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু। তাঁর স্মরণসভাটি ছিল একটি জনসভার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। এই ঐতিহাসিক দিনে এমন একটি রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে নাম ঘোষণা করা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং সেই সময়ের বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্যকে সবার সামনে তুলে ধরেন।

নামকরণের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা। এটি ছিল আওয়ামী লীগের নেতাদের এবং জনগণের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ।

আওয়ামী লীগের নেতারা যখন সভার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তারা সকলেই জানতেন যে, স্বাধিকার আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ হবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু রাষ্ট্রের নাম কী হবে—তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল।

বিভিন্ন নাম প্রস্তাব: ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন। অনেকের মনে ছিল 'পূর্ব বাংলা' বা 'বাংলাদেশ' এর মতো কিছু নাম।

বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাব ও ঐকমত্য: চূড়ান্তভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সুচিন্তিত ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা থেকে "বাংলাদেশ" নামটি প্রস্তাব করেন। এই নামটি এতটাই আবেগপ্রবণ ও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল যে, তাতে উপস্থিত সবাই একবাক্যে সায় দেন। এরপরই বঙ্গবন্ধু জনসমক্ষে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন:

"আজ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নাম হবে বাংলাদেশ।"

বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণাটি তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত হয়। যদিও তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নথিপত্রে 'পূর্ব পাকিস্তান' লিখতে হতো, কিন্তু এই ঘোষণার পর থেকে সাধারণ মানুষ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আর মুখে 'পূর্ব পাকিস্তান' উচ্চারণ করতেন না। সবাই মনে-প্রাণে এবং মুখে 'বাংলাদেশ' নামটিকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

'বাংলাদেশ' নামকরণের পেছনের কারণ ও তাৎপর্য

বঙ্গবন্ধু কেন 'পূর্ব বাংলা' বা অন্য কোনো নাম নয়, বরং 'বাংলাদেশ' নামটি বেছে নিলেন? এর পেছনে ছিল গভীর ইতিহাসচেতনা, আত্মত্যাগ এবং সংগ্রামকে এক সুতোয় গাঁথার প্রচেষ্টা।

ভাষা ও ভূখণ্ডের সমন্বয়

বঙ্গবন্ধু নিজেই এই নাম দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন:

বাংলা: ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত বাংলা ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে "বাংলা" শব্দটি। এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে।

দেশ: এরপর স্বাধীন দেশের আন্দোলন-সংগ্রাম, জনগণের মুক্তি ও স্বাধীনতা থেকে নেওয়া হয়েছে "দেশ" শব্দটি।

ইতিহাস ও সংগ্রামের মেলবন্ধন

সংগ্রামের স্বীকৃতি: এই দুটো ইতিহাস ও সংগ্রামকে এক করে "বাংলাদেশ" নামকরণ করা হয়। এই নামটি একাধারে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের রক্তক্ষয়কে স্বীকৃতি দেয়।

ঐতিহাসিক সংযোগ: 'বাংলা' শব্দটি প্রাচীনকাল থেকেই এই অঞ্চলের নামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। মধ্যযুগেও বিভিন্ন শাসক 'বাঙ্গালাহ' বা 'সুবে বাংলা' নাম ব্যবহার করতেন। বঙ্গবন্ধু সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাকেও পুনরুদ্ধার করেন।

'বাংলাদেশ' নামটি ছিল পাকিস্তানি সামরিক জান্তার চাপিয়ে দেওয়া 'পূর্ব পাকিস্তান' নামের বিরুদ্ধে বাঙালির মনস্তাত্ত্বিক বিজয়। এটি জনগণকে মনে করিয়ে দেয় যে, তারা কোনো পশ্চিমের উপনিবেশ নয়, বরং নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অধিকারী একটি স্বতন্ত্র জাতি।

রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রভাব – স্বাধীনতার পথে চূড়ান্ত প্রস্তুতি

'বাংলাদেশ' নামকরণের ঘোষণাটি ছিল স্বাধীনতার বীজ বপন। এটি কেবল আবেগ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক কৌশল ছিল, যা জাতিকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করে।

দ্বিজাতিতত্ত্বের চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান: বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণাটি ছিল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্বের চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যান। ধর্মভিত্তিক জাতিসত্তার ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে, বঙ্গবন্ধু ভাষাকেন্দ্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার ভিত্তিতে একটি আধুনিক জাতিরাষ্ট্র গঠনের বার্তা দেন।

৬ দফার চূড়ান্ত পরিণতি: ১৯৬৬ সালের ছয় দফার আন্দোলন ছিল স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে। 'বাংলাদেশ' নামকরণের ঘোষণার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু সেই স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে এক ধাপ এগিয়ে স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যান। এটি প্রমাণ করে, ছয় দফার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল স্বাধীনতা।

আন্তর্জাতিক বৈধতা: একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাম আন্তর্জাতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা অত্যন্ত জরুরি। যদিও আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা আসে ১৯৭১ সালে, কিন্তু ১৯৬৯ সালে এই নাম ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে এই বার্তা পৌঁছে দেয় যে, বাঙালি জাতি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রস্তুত এবং এর নামও নির্ধারিত।

ঘোষণার পর গণমানুষের স্বীকৃতি ও জাতীয় চেতনা

বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণার পর পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়। সেই থেকে এই দেশকে আর কেউ 'পূর্ব পাকিস্তান' বলেনি। সবাই মনে-প্রাণে এবং মুখে 'বাংলাদেশ' হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছিল। 'জয় বাংলা' স্লোগানের সঙ্গে 'বাংলাদেশ' নামটি অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত হয়ে যায়। প্রতিটি সভা, মিছিল, এবং আন্দোলনে 'বাংলাদেশ' নামটি ব্যবহৃত হতে থাকে।

ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং তৎকালীন ছাত্রনেতারা বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণাকে লুফে নেন। তারা এই নামটিকে তাঁদের আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেন। প্রতিটি প্রচারপত্রে, দেয়ালে, এবং মিছিলে 'বাংলাদেশ' নামটি লেখা হতো, যা তরুণ প্রজন্মকে স্বাধীনতার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল।

১৯৭১ সালে যখন সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়, তখন মুক্তিযোদ্ধারা তাদের দেশের নাম কী হবে তা নিয়ে কোনো দ্বিধায় ছিলেন না। তাঁদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ছিল 'বাংলাদেশের' স্বাধীনতার জন্য। এই নামই তাঁদের চূড়ান্ত প্রেরণা ও শপথ ছিল।

বাংলাদেশ এক নামের মহাকাব্য

১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর দেওয়া বঙ্গবন্ধুর "আজ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নাম হবে বাংলাদেশ"—এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি বাঙালির ইতিহাসে এক অমোঘ দলিল। এটি কেবল একটি নতুন দেশের নামের জন্ম দেয়নি, বরং এটি ছিল একটি জাতির দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের চূড়ান্ত স্বীকৃতি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল বাংলাদেশের স্থপতি নন, তিনি এই দেশের নামেরও স্থপতি। তাঁর দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞাই প্রমাণ করে, তিনি ইতিহাসের গতির সঙ্গে নয়, বরং ইতিহাসকে নেতৃত্ব দিতে জানতেন। আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশে বসবাস করি। এই স্বাধীনতা, এই সার্বভৌমত্ব এবং এই 'বাংলাদেশ' নামটি অর্জিত হয়েছে বহু রক্ত, ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে। আমাদের প্রজন্মের দায়িত্ব হলো, এই নাম ঘোষণার পেছনের ইতিহাস এবং এর গভীর তাৎপর্যকে হৃদয়ে ধারণ করা।

৫ ডিসেম্বরের সেই ঘোষণার মধ্যেই নিহিত ছিল ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১-এর চূড়ান্ত বিজয়ের বীজমন্ত্র। 'বাংলাদেশ' এই নামটি আমাদের কাছে কেবল একটি পরিচয় নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের ভাষা এবং আমাদের অবিচল সংগ্রামের প্রতীক।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Jan 4, 2026

/

Post by

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালটি নিয়ে দুটি বিপরীতমুখী বয়ান পাওয়া যায়। একদল একে দেখেন ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচারের’ কাল হিসেবে, আর অন্যদল একে দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে রাষ্ট্র গড়ার মহাবীরত্বগাথা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা এই সময়কালকে কেবল ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচার’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসবিদরা দেখেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি জাতিকে টেনে তোলার প্রাণপণ লড়াই।

Jan 2, 2026

/

Post by

শ্রাবণের সেই কালরাত ও স্তব্ধ বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। বাংলার আকাশে সেদিন সূর্য উঠেছিল এক বিভীষিকাময় বার্তা নিয়ে। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটি, যা ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু, তা তখন নিথর, নিস্তব্ধ এবং রক্তে রঞ্জিত। জাতির গাদ্দার বিশ্বাসঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সপরিবারে তাঁকে হত্যার মাধ্যমে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা হয়। কিন্তু রাজনীতির এই মহানায়কের পার্থিব শরীরের শেষ গন্তব্য কোথায় হবে? ঘাতকরা চেয়েছিল তাঁকে লোকচক্ষুর অন্তরালে কোথাও ফেলে দিতে, কিন্তু বিধাতার লিখন ছিল তাঁর জন্মভূমি সবুজ ঘাসে ঘেরা নিভৃত পল্লী টুঙ্গীপাড়ায়।

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.