>

>

শহীদ জুয়েল – ক্রিকেটার থেকে রণাঙ্গনে এক কিংবদন্তীর আত্মত্যাগ

শহীদ জুয়েল – ক্রিকেটার থেকে রণাঙ্গনে এক কিংবদন্তীর আত্মত্যাগ

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এমন এক নাম আছে, যিনি ব্যাট হাতে সবুজ মাঠের ওপেনিংয়ে নামার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু দেশমাতৃকার আহ্বানে স্টেনগান হাতে নেমেছিলেন জীবনের ওপেনিংয়ে - সেই নাম হলো শহীদ আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল, বীর বিক্রম। ঢাকা স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে নয়, বরং একাত্তরের রণাঙ্গন তাঁকে দিয়েছে অমরত্বের খেতাব।

TruthBangla

“আঙ্গুল তিনটা রাইখেন স্যার, দেশ স্বাধীন হইলে ন্যাশনাল টিমের হইয়া ওপেনিংয়ে নামুম!” ~ শহিদ আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল বীর বিক্রম।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে এমন এক নাম আছে, যিনি ব্যাট হাতে সবুজ মাঠের ওপেনিংয়ে নামার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু দেশমাতৃকার আহ্বানে স্টেনগান হাতে নেমেছিলেন জীবনের ওপেনিংয়ে - সেই নাম হলো শহীদ আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল, বীর বিক্রম। ঢাকা স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে নয়, বরং একাত্তরের রণাঙ্গন তাঁকে দিয়েছে অমরত্বের খেতাব। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে চরম নির্যাতনের শিকার হয়েও, শাহাদাত বরণের ঠিক আগে তিনি যে শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন - তা কেবল একজন ক্রীড়াবিদের স্বপ্ন ছিল না, ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতি এক দুরন্ত তারুণ্যের অটুট অঙ্গীকার। আজ এই মহান বীরের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা, যাঁর স্বপ্ন আমাদের জাতীয় চেতনাকে আজও পথ দেখায়।

ক্রিকেট মাঠের স্বপ্ন থেকে রণাঙ্গনের অঙ্গীকার

শহীদ আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল (ডাকনাম জুয়েল) ছিলেন ষাট এবং সত্তরের দশকের প্রথম দিকে উদীয়মান এক সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার। তাঁর ক্রিকেট জীবন সবেমাত্র পাখা মেলতে শুরু করেছিল। জুয়েল তাঁর সময়ের সেরা ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যাঁর হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল ক্রীড়ামোদীরা।

কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাত্রি সেই স্বপ্নগুলোকে এক নতুন পথে চালিত করে। ব্যক্তিগত স্বপ্নকে ছাপিয়ে যায় জাতীয় মুক্তি ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। জুয়েল ব্যাট-বল ছেড়ে হাতে তুলে নেন স্টেনগান, যোগ দেন ঢাকা শহরের বুকে ত্রাস সৃষ্টিকারী দুর্ধর্ষ ‘ক্র্যাক প্লাটুন’-এ। জুয়েলের এই রূপান্তর কেবল একজন ক্রীড়াবিদের আত্মত্যাগ ছিল না, এটি ছিল লক্ষ কোটি বাঙালির দেশপ্রেমের এক মূর্ত প্রতীক।

ক্রিকেট জীবনের উন্মেষ – স্বপ্নীল ওপেনার

আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েলের জন্ম ১৯৫০-এর দশকে ঢাকাতে। খুব দ্রুতই তিনি ক্রিকেট মাঠে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করেন।

ক্রিকেট ক্যারিয়ার: জুয়েল ছিলেন একজন ডানহাতি ওপেনিং ব্যাটসম্যান এবং মাঝে মাঝে উইকেটকিপিংও করতেন। তৎকালীন সময়ে ঢাকা স্টেডিয়াম (বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) ছিল তাঁর প্রিয় বিচরণক্ষেত্র।

ঢাকার ক্রিকেট: তিনি ঢাকা লীগে আজাদ বয়েজ ক্লাব ও ইস্ট এন্ড ক্লাবের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের হয়ে নিয়মিত খেলতেন। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং নির্ভরযোগ্যতা তাকে খুব দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।

স্বপ্নের যাত্রা: জুয়েল ছিলেন সেই প্রজন্মের তরুণদের প্রতিনিধি, যারা আশা করেছিল একদিন স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দল হবে, আর তিনি সেই দলের ওপেনিং ব্যাটসম্যান হবেন। তাঁর দক্ষতা ও পারফরম্যান্স ছিল এমন যে, তাঁর এই স্বপ্ন পূরণ হওয়া ছিল প্রায় সুনিশ্চিত।

ক্রিকেট মাঠে যেমন ছিল তাঁর ব্যাটিংয়ের দক্ষতা, তেমনি ছিল তাঁর চরিত্রে তারুণ্যের দুর্বার সাহস ও দৃঢ়তা। এই দৃঢ়তা এবং ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতাই তাঁকে পরবর্তীতে ক্র্যাক প্লাটুনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দলের সদস্য হতে সাহায্য করে। জুয়েল তাঁর বন্ধুদের কাছে ছিলেন একজন প্রাণবন্ত, আদর্শবাদী এবং অসম্ভব দেশপ্রেমিক তরুণ।

খেলার মাঠে (বাঁ থেকে) রাকিবুল হাসান, বাসিল ডি’অলিভেরা এবং শহীদ জুয়েল; ছবিসুত্র: cricketcountry.com

ক্র্যাক প্লাটুন – ঢাকার বুকে জুয়েলের দুঃসাহসিক অভিযান

২৫শে মার্চের পর যখন পাকিস্তানি বাহিনী সারাদেশে গণহত্যা শুরু করে, তখন অনেক তরুণই সশস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে চলে যান। জুয়েলও তাদের মধ্যে অন্যতম। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ফিরে আসেন ঢাকা শহরে, যে শহরে চলছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার ত্রাসের রাজত্ব।

ক্র্যাক প্লাটুন ও জুয়েলের ভূমিকা

দুর্ধর্ষ গেরিলা দল: জুয়েল যোগ দেন বিশেষ গেরিলা দল ‘ক্র্যাক প্লাটুন’-এ। এই দলের সদস্যরা ঢাকা শহরের অভ্যন্তরে ছোট ছোট দুঃসাহসিক অপারেশন চালিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে অস্থির করে তুলেছিল। ক্র্যাক প্লাটুন ছিল বাঙালি তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিরোধের প্রতীক।

ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যরা; ছবিসুত্র: bdlive24.com

জুয়েলের অভিযান: জুয়েল তাঁর অন্যান্য বন্ধু, যেমন - শহীদ বদিউল আলম, শহীদ রুমী, শহীদ আজাদদের সাথে মিলে অসংখ্য অপারেশনে অংশ নেন। এই অপারেশনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ঢাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করা, বিদেশি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমান শেরাটন) বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো, এবং ঢাকার বুকে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার মনোবল ভেঙে দেওয়া।

মানসিক যুদ্ধ: জুয়েল ও তাঁর সঙ্গীরা প্রমাণ করেছিলেন যে, ঢাকা শহর পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নেই। প্রতিটা সফল অপারেশন শুধু সামরিক ক্ষতি করত না, বরং পাকিস্তানি বাহিনীর মানসিক ভিত্তিকেও দুর্বল করে দিত।

গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট

ক্র্যাক প্লাটুনের একের পর এক সফল অপারেশনে পাকিস্তানি বাহিনী বেসামাল হয়ে পড়ে এবং মরিয়া হয়ে তাদের ধরার চেষ্টা করতে থাকে। ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যদের ধরতে বিশাল অভিযান শুরু করে।

জুয়েল ও তাঁর কয়েকজন সহযোদ্ধা ধানমন্ডির একটি বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। বিশ্বাসঘাতকতা বা দুর্ভাগ্যবশত সেই খবর পৌঁছে যায় পাকিস্তানি হানাদারদের কাছে। ৩০শে আগস্ট, ১৯৭১ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ধানমন্ডির সেই বাসা থেকে জুয়েল, শহীদ শফি ইমাম রুমীসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।

বন্দিশালায় অমানুষিক নির্যাতন

গ্রেপ্তারের পর জুয়েলকে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রধান নির্যাতন কেন্দ্র রমনা থানা সংলগ্ন আর্মি ইন্টেলিজেন্স সেলে (আর্মি টর্চার সেল)। সেখানে তাঁর উপর চালানো হয় অমানুষিক ও বর্বর নির্যাতন।

টর্চার সেলের বিভীষিকা: টর্চার সেলে জুয়েলের উপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে নিষ্ঠুর অত্যাচার করেছিল, তার বিবরণ শুনলে গা শিউরে ওঠে। তাঁর দেহ ক্ষতবিক্ষত করা হয়, নির্মমভাবে প্রহার করা হয় এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়।

নির্যাতনের উদ্দেশ্য: এই নির্যাতনের প্রধান লক্ষ্য ছিল জুয়েলের কাছ থেকে ক্র্যাক প্লাটুনের অন্যান্য সদস্য ও তাদের গোপন আস্তানাগুলোর তথ্য বের করে আনা। পাকিস্তানি বাহিনী চেয়েছিল, জুয়েল যেন মুখ খুলে স্বাধীনতার স্বপ্নকে ভঙ্গ করে দেয়।

নীরব প্রতিরোধ

কিন্তু জুয়েল ছিলেন ইস্পাত-কঠিন মনোবলের অধিকারী। তাঁর শারীরিক শক্তি হয়তো নির্যাতনের কাছে হার মেনেছিল, কিন্তু তাঁর মানসিক দৃঢ়তা ও দেশপ্রেম ছিল অটুট।

তথ্য গোপন: অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করেও তিনি ক্র্যাক প্লাটুন বা অন্য কোনো মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে একটিও তথ্য প্রকাশ করেননি। নীরবতা ছিল তাঁর প্রতিরোধের ভাষা। এই নীরব প্রতিরোধই তাঁর শেষ সামরিক কৌশল ছিল, যার মাধ্যমে তিনি শত শত সহযোদ্ধাকে রক্ষা করেছিলেন।

শহীদ জুয়েলের জার্সি হাতে মুশফিক, মাশরাফি এবং সাকিব; ছবিসুত্র: ntvbd.com

শেষ ইচ্ছা: ক্রিকেটারের স্বপ্ন, বীরের অঙ্গীকার

ইতিহাসের সেই মর্মান্তিক মুহূর্তটি এসেছিল যখন পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তারা জুয়েলকে শহীদ করার আগে তাঁর কাছে তাঁর শেষ ইচ্ছা জানতে চেয়েছিল। সামরিক বর্বরতার মুখে দাঁড়িয়েও একজন তরুণ কীভাবে জাতীয় স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, জুয়েলের সেই জবাবই তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সেই কালজয়ী উক্তি

একদম শেষ মুহূর্তে, যখন তাঁর উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং শাহাদাতের ক্ষণ আসন্ন, তখন জুয়েল শান্তভাবে তাদের উত্তর দেন:

“আঙ্গুল তিনটা রাইখেন স্যার, দেশ স্বাধীন হইলে ন্যাশনাল টিমের হইয়া ওপেনিংয়ে নামুম!”

এই উক্তির গভীর তাৎপর্য

এই উক্তিটি কেবল একটি শেষ ইচ্ছা ছিল না, এটি ছিল:

অজেয় স্বপ্ন: এটি প্রমাণ করে, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা তাঁর শরীরকে ভেঙে দিলেও, তাঁর ভেতরের স্বাধীনতার স্বপ্নকে তারা স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি নিশ্চিত ছিলেন—দেশ স্বাধীন হবেই।

স্বাধীনতার প্রতীক: ‘ন্যাশনাল টিম’-এর ওপেনিংয়ে নামার স্বপ্নটি ছিল নতুন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতীক। জুয়েল যেন তাঁর জীবনের বিনিময়ে ভবিষ্যতের সেই স্বাধীন ক্রীড়াঙ্গনের উদ্বোধন করে যেতে চেয়েছিলেন।

মানসিক পরাজয়: জুয়েলের এই প্রত্যয়ী জবাব পাকিস্তানি হানাদারদের সামরিক বিজয়ের বিপরীতে ছিল তাদের মানসিক ও আদর্শিক পরাজয়। তারা একটি দেহকে হত্যা করতে পেরেছিল, কিন্তু একটি জাতির স্বপ্নকে হত্যা করতে পারেনি।

জুয়েলের এই অমর উক্তিটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাঁর আত্মত্যাগের গভীরতা এবং বাঙালি জাতির অদম্য স্পৃহাকে চিরকালের জন্য গেঁথে রেখেছে।

শাহাদাত ও জাতীয় স্বীকৃতি

শহীদ আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েলের আত্মত্যাগের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এবং তাঁর লাশ কোথায় গুম করা হয়েছিল, তা আজও জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, তাঁকে ৩০ আগস্ট ১৯৭১-এর পরে যেকোনো এক সময়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

বীর বিক্রম: স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ সরকার তাঁর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বের খেতাব ‘বীর বিক্রম’-এ ভূষিত করে। তিনি আমাদের ক্রীড়াঙ্গন ও রণাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

শহীদ জননী: জুয়েলের মা শাফিয়া খাতুন চৌধুরী শহীদ জননী হিসেবে পরিচিত হন। তাঁর আত্মত্যাগ শুধু জুয়েলকে হারিয়ে নয়, বরং জুয়েলের মতো অসংখ্য শহীদের মা হিসেবে তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যে মূল্য দিয়েছিলেন, তার প্রতীক।

আজ জুয়েল নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন ও আত্মত্যাগ বেঁচে আছে:

জুয়েল মেমোরিয়াল কাপ: তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে প্রতি বছর জুয়েল মেমোরিয়াল কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় প্রেরণা: তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণ ক্রীড়াবিদ ও মুক্তিযোদ্ধার জন্য অনুপ্রেরণার এক অফুরন্ত উৎস। যখনই কোনো বাঙালি ক্রীড়াবিদ জাতীয় দলের জার্সি পরে মাঠে নামেন, তাঁর অদম্য সাহসিকতা যেন সেই জার্সিটির মূল্য বাড়িয়ে দেয়।

স্বপ্ন, সংগ্রাম ও জুয়েলের অমর গাঁথা

শহীদ আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল, বীর বিক্রম - ছিলেন সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি তাঁর ব্যক্তিগত স্বপ্নকে জাতীয় স্বপ্নের সঙ্গে এক করে দিয়েছিলেন। তাঁর জীবনের ওপেনিং ইনিংস শেষ হয়েছিল অসময়ে, কিন্তু সেই অসমাপ্ত ইনিংসই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নকে জন্ম দিয়েছিল।

যে তিনটি আঙ্গুল দিয়ে তিনি একদিন স্বাধীন বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস ওপেন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই আঙ্গুলগুলো হয়তো বর্বরতার কাছে পরাজিত হয়েছিল, কিন্তু তাঁর মুখ নিঃসৃত শেষ বাক্যটি ইতিহাসের পাতায় এমনভাবে লেখা হয়ে গেল, যা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন ও স্বাধীনতা সংগ্রামকে একই সূত্রে গেঁথে দিয়েছে।

আজকের বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন বিশ্ব মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে, তখন সেই স্বপ্নময় যাত্রার প্রথম বীজটি যেন জুয়েলের শেষ ইচ্ছার মধ্যেই নিহিত ছিল। একজন তরুণ নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন - দেশপ্রেম, সাহস এবং স্বপ্নই হলো স্বাধীনতার ভিত্তি।

শহীদ জুয়েল আজও অমর হয়ে আছেন আমাদের হৃদয়ে, কারণ তিনি শুধু একজন ক্রীড়াবিদ ছিলেন না, ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বপ্নের এক অকুতোভয় সেনানী।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Apr 14, 2026

/

Post by

২৫ মার্চ, ১৯৭১। বাঙালির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় কালরাত। সেই রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক এক নৃশংস নিধনযজ্ঞের মাধ্যমে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। এই যজ্ঞের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালির জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র। সেই রাতে হানাদার বাহিনী কেবল সাধারণ মানুষকেই হত্যা করেনি, তারা বেছে বেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আমাদের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের ওপর চালিয়েছিল বর্বরোচিত আক্রমণ।

Apr 14, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ। পুরো বাংলাদেশ যখন এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে দাঁড়িয়ে, তখন চট্টগ্রামের পাহাড় ঘেরা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে রচিত হচ্ছিল ইতিহাসের এক পৈশাচিক ট্র্যাজেডি। সেদিন রাতে অপারেশন সার্চলাইটের অংশ হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনী তাদেরই সহকর্মী, নিরস্ত্র এবং ঘুমন্ত বাঙালি সেনাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সমরাস্ত্রের গর্জনে কেঁপে উঠেছিল চট্টগ্রামের আকাশ, আর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ইবিআরসির পবিত্র মাটি।

Mar 23, 2026

/

Post by

দায়িত্ব কাকে বলে? ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের ঈদের দিনে রৌমারী সীমান্তে এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধার। হাতে রাইফেল ও গামছা কাঁধে অচেনা এই তরুণ মুক্তিযোদ্ধা দাঁড়িয়ে আছেন সতর্ক পাহারায়। আমাদের জাতীয় জীবনে যে ঈদটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। একাত্তরের ঈদের দিনটি এসেছিলো ভীষণ অচেনা রূপে। চিরায়ত আনন্দ উচ্ছ্বাসের বদলে ঈদের দিনটি ছিল উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগের। রণাঙ্গনে এই দিনটি ছিল লড়াইয়ের।

Feb 4, 2026

/

Post by

ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।

Feb 2, 2026

/

Post by

গাবতলী-আমিনবাজারের সেই পুরনো লোহার ব্রিজ আজ আর নেই। কয়েক বছর আগে একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি ভেঙে সেখানে তৈরি হয়েছে আধুনিক ছয় লেনের প্রসস্থ সেতু। কিন্তু আধুনিকতার এই প্রলেপ কি মুছে দিতে পেরেছে সেই মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা আর্তনাদ? সেই নদীর জলে মিশে থাকা হাজারো প্রাণের রক্ত? ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই একটি মাত্র ব্রিজে যে বীভৎসতা ঘটেছিল, তা শুনলে আজও শিউরে ওঠে মানুষের হৃদয়।

Feb 1, 2026

/

Post by

একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোতে যখন আপামর বাঙালি স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাক-হানাদার বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করতে গড়ে উঠেছিল কয়েকটি কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী। যাদের নাম শুনলে আজও বাংলার মানুষের মনে ঘৃণা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রাজাকার, আলবদর ও আলশামস নামগুলো আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন: মুক্তিকামী বাঙালিদের দমানো এবং পাকিস্তানিদের অখণ্ডতা রক্ষা করা।

Apr 14, 2026

/

Post by

২৫ মার্চ, ১৯৭১। বাঙালির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় কালরাত। সেই রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক এক নৃশংস নিধনযজ্ঞের মাধ্যমে বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। এই যজ্ঞের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালির জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র। সেই রাতে হানাদার বাহিনী কেবল সাধারণ মানুষকেই হত্যা করেনি, তারা বেছে বেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান আমাদের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের ওপর চালিয়েছিল বর্বরোচিত আক্রমণ।

Apr 14, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ। পুরো বাংলাদেশ যখন এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে দাঁড়িয়ে, তখন চট্টগ্রামের পাহাড় ঘেরা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে রচিত হচ্ছিল ইতিহাসের এক পৈশাচিক ট্র্যাজেডি। সেদিন রাতে অপারেশন সার্চলাইটের অংশ হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনী তাদেরই সহকর্মী, নিরস্ত্র এবং ঘুমন্ত বাঙালি সেনাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সমরাস্ত্রের গর্জনে কেঁপে উঠেছিল চট্টগ্রামের আকাশ, আর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ইবিআরসির পবিত্র মাটি।

Mar 23, 2026

/

Post by

দায়িত্ব কাকে বলে? ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের ঈদের দিনে রৌমারী সীমান্তে এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধার। হাতে রাইফেল ও গামছা কাঁধে অচেনা এই তরুণ মুক্তিযোদ্ধা দাঁড়িয়ে আছেন সতর্ক পাহারায়। আমাদের জাতীয় জীবনে যে ঈদটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। একাত্তরের ঈদের দিনটি এসেছিলো ভীষণ অচেনা রূপে। চিরায়ত আনন্দ উচ্ছ্বাসের বদলে ঈদের দিনটি ছিল উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগের। রণাঙ্গনে এই দিনটি ছিল লড়াইয়ের।

Feb 4, 2026

/

Post by

ঢাকা যখন ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা, মিরপুর তখনো ছিল এক অবরুদ্ধ জল্লাদখানা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে এই জনপদ মুক্ত হতে সময় লেগেছিল আরও দেড় মাস। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের মুসলিম বাজারে অবস্থিত শহীদ বুদ্ধিজীবী জামে মসজিদ। মসজিদের বাকি সবগুলো পিলারই সাদা, শুধু এই পিলারটিই কালো। কিন্তু এই পিলারটি কালো কেন? কারণ এই পিলারটির নিচেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের এক ভয়ঙ্কর এক বধ্যভূমি।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.