>

>

তৌহিদি জনতার আড়ালে কারা? তাদের উদ্দেশ্য কী?

তৌহিদি জনতার আড়ালে কারা? তাদের উদ্দেশ্য কী?

মব জাস্টিসের এই নতুন সংস্করণের নাম দেওয়া হয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’। হঠাৎ করেই দেশজুড়ে একদল মানুষকে ধর্মীয় লেবাস পরে, ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ পণ্ড করতে, মাজার ভাঙতে, নারী ফুটবলারদের ওপর চড়াও হতে এবং সুস্থ সংস্কৃতির টুঁটি চেপে ধরতে দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে এই ‘তৌহিদি জনতা’ আসলে কারা? তাদের আসল উদ্দেশ্য কী? তারা কি সত্যিই ধর্মের বাণী প্রচার করছে, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা?

TruthBangla

তৌহিদি জনতার আড়ালে কারা? তাদের উদ্দেশ্য কী?

"ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিহাস হলো, যারা নিজেদের ধর্মের একমাত্র রক্ষক মনে করে, অধিকাংশ সময় তারাই ধর্মের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটি করে যায়।"

বাংলাদেশ আজ এক ক্রান্তিকাল পার করছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের প্রতিটি স্তরে যে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, তার ইতিবাচক দিকগুলোর পাশাপাশি কিছু অন্ধকার দিকও ক্রমশ দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও বিশৃঙ্খল যে বিষয়টি আমাদের প্রতিনিয়ত শঙ্কিত করছে, তা হলো ‘মব জাস্টিস’ (Mob Justice) বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা।

শুরুতে এটি দলীয় প্রতিশোধ বা আওয়ামী লীগের পলায়নপর নেতা-কর্মীদের সম্পত্তি দখল, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে এটি এক নতুন রূপ ধারণ করেছে। মব জাস্টিসের এই নতুন সংস্করণের নাম দেওয়া হয়েছে ‘তৌহিদি জনতা’

হঠাৎ করেই দেশজুড়ে একদল মানুষকে ধর্মীয় লেবাস পরে, ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ পণ্ড করতে, মাজার ভাঙতে, নারী ফুটবলারদের ওপর চড়াও হতে এবং সুস্থ সংস্কৃতির টুঁটি চেপে ধরতে দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে এই ‘তৌহিদি জনতা’ আসলে কারা? তাদের আসল উদ্দেশ্য কী? তারা কি সত্যিই ধর্মের বাণী প্রচার করছে, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা?

আজ আমরা এই ফেনোমেননটির মনস্তত্ত্ব, এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, সমাজের ওপর এর প্রভাব এবং ইসলামের ইতিহাসের আলোতে এর গভীর ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি নিয়ে এক নির্মোহ বিশ্লেষণ করব।

তৌহিদি জনতা আসলে কারা? নেপথ্যের কুশীলব ও তাদের রাজনৈতিক অভিলাষ

সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যারা ‘তৌহিদি জনতা’র নামে রাস্তাঘাটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তারা কোথা থেকে এলো? একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যায়, এদের কোনো একক বা সুনির্দিষ্ট পরিচয় নেই। পরিস্থিতি ও স্থানভেদে এদের পেছনে কখনো দেখা যায় জামায়াত-শিবিরের দলীয় নেতা-কর্মীদের, কখনো কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের, আবার কখনো বা বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের।

তৌহিদি জনতার ভিন্ন রূপ

├── রাজনৈতিক ধারা (জামায়াত-শিবির ও তাদের সমর্থক গোষ্ঠী)

├── কট্টরপন্থী সামাজিক ধারা (কওমি মাদ্রাসা ও চরমপন্থী গ্রুপ)

└── সুযোগসন্ধানী চক্র (মব জাস্টিস ও দখলবাজিতে লিপ্ত অপরাধী গোষ্ঠী)

৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যে আইনি ও প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তাকে পুঁজি করে এই গোষ্ঠীগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে, ধর্মের নামে যেকোনো কাজ করলে এদেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ সহজে প্রতিবাদ করতে সাহস পাবে না। এই ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা মূলত নিজেদের ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

‘গভর্নমেন্টালিটি’ এবং সামাজিক স্তরবিন্যাসের রাজনীতি

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এই সহিংসতা ও সহিংসতার সমর্থনে তৈরি করা বয়ানগুলোর একটি স্পষ্ট ও সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এগুলো কেবল আকস্মিক কোনো ধর্মীয় উত্তেজনা নয়; বরং এটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর ‘গভর্নমেন্টালিটি’ (Governmentality) প্রকল্পের অংশ।

সামাজিক স্তরবিন্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা: এই গোষ্ঠীগুলো চায় সমাজের বর্তমান প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক কাঠামোটিকে ভেঙে ফেলে তাদের নিজস্ব মনগড়া কঠোর কাঠামো চাপিয়ে দিতে। তারা ঠিক করতে চায় সমাজে কে ‘গ্রহণযোগ্য মুসলিম’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কে হবে না। কার নাগরিকত্ব এবং নাগরিক অধিকার স্বীকৃত হবে, আর কাকে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে একঘরে করে দেওয়া হবে।

এটি আসলে এক ধরনের সামাজিক ফ্যাসিবাদ। এখানে আইনের কোনো স্থান নেই, আদালতের কোনো প্রয়োজন নেই। একদল মানুষ লাঠিসোঁটা হাতে রাস্তাঘাটে দাঁড়িয়েই রায় ঘোষণা করবে এবং সেই রায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করবে। এটি কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক বা ইসলামী রাষ্ট্রের লক্ষণ হতে পারে না।

দ্বি-ধারার কৌশল: গণতান্ত্রিক খোলস বনাম চরমপন্থী আস্ফালন

তৌহিদি জনতার আড়ালে সক্রিয় এই শক্তিগুলোকে প্রধানত দুটি ধারায় বিভক্ত করা যায়। তাদের কাজের ধরন আলাদা হলেও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য কিন্তু একই রাষ্ট্র ও সমাজের একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

প্রথম ধারা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভেতরে থেকে কাজ করা

এই ধারাটি মূলত বিভিন্ন নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও তাদের ছাত্র-যুব সংগঠনের মাধ্যমে কাজ করে। এদের একটি নিজস্ব বিশাল প্রচারমাধ্যম, বুদ্ধিজীবী সমাজ এবং সুসংগঠিত প্রোপাগান্ডা নেটওয়ার্ক রয়েছে। তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রথমে সমাজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের জন্য ‘শত্রু’ চিহ্নিত করে। এরপর সেই শত্রুর বিরুদ্ধে জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে শক্তি প্রয়োগকে ‘ন্যায়সংগত’ বলে বয়ান তৈরি করে।

সম্প্রতি প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কিংবা ছায়ানটের ওপর যে হামলার ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার আগে ও পরে এই রাজনৈতিক ধারাটির ছাত্রনেতাদের প্রকাশ্যে হামলার উসকানি দিতে দেখা গেছে। মজার বিষয় হলো, যখন এই হামলাগুলোর তীব্র সমালোচনা হয়, তখন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবির এক চতুর বিবৃতিতে দাবি করে যে উসকানি দেওয়া নেতাদের বক্তব্য নাকি তাদের ‘ব্যক্তিগত দায়’, সংগঠনের নয়! এটি মূলত দায় এড়ানোর এবং নিজেদের ‘গণতান্ত্রিক’ ইমেজ ধরে রাখার এক নোংরা কৌশল।

দ্বিতীয় ধারা: কট্টরপন্থী সামাজিক গ্রুপ

এই ধারাটি আরও বেশি বিপজ্জনক। তারা কোনো আইনি বা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার তোয়াক্কা করে না। তারা সরাসরি ভাঙচুর ও সশস্ত্র হামলার নেতৃত্ব দেয়। কখনো ‘তৌহিদি জনতা’ আবার কখনো ‘জাগ্রত মুসলিম জনতা’র ব্যানারে তারা সুফীকেন্দ্র বা মাজারগুলো ধ্বংস করে, নারীদের খেলাধুলা বন্ধ করে দেয় এবং সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে হামলা চালায়।

এই ধ্বংসাত্মক কাজের মাধ্যমে তারা মূলত রাষ্ট্র ও সমাজকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় "আমরা যে সমাজ চাই, সেটি এমনই হবে এবং আমাদের কথার বাইরে গেলে তোমাদেরও এই পরিণতি ভোগ করতে হবে।"

আক্রমণের প্রধান লক্ষ্যবস্তু: নারী স্বাধীনতা ও বাঙালি সংস্কৃতি

এই তথাকথিত তৌহিদি জনতার আক্রমণগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, এদের প্রধান টার্গেট দুটি নারী স্বাধীনতা এবং হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি

নারী স্বাধীনতার ওপর খড়্গহস্ত

তৌহিদি জনতার প্রথম সফল আঘাতটি এসেছিল মেয়েদের ফুটবল খেলা বন্ধ করার মাধ্যমে। এরপর আমরা দেখেছি, পবিত্র রমজান মাসে সম্পূর্ণ বেড়া দেওয়া একটি ঘরে কয়েকজন মানুষ খাচ্ছিল, অথচ একদল মানুষ সেখানে হানা দিয়ে তাদের টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে এসে কান ধরে ওঠবস করিয়ে চরম অপমান করল।

তাদের সমস্ত ক্ষোভ যেন নারীর পোশাক, নারীর চলাফেরা এবং নারীর স্বাধীন মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে। তারা নারীকে ঘরের কোণে বন্দি করে রাখতে চায়, যা ইসলামের উদার ও প্রগতিশীল নারী অধিকারের ধারণার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

বাঙালি সংস্কৃতির টুঁটি চেপে ধরা

বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সুস্থ ধারার গানবাজনা, জারিসারি গান, গ্রামীণ যাত্রা, নাটক এবং বিভিন্ন লোকজ উৎসবকে এই গোষ্ঠীটি ‘নন-ইসলামিক’ বা ‘কুফরি’ বলে আখ্যায়িত করে। তারা রামদা, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মারমুখী ভঙ্গিতে এই অনুষ্ঠানগুলো বন্ধ করতে যায়।

সাধারণ মানুষ তাদের হিংস্রতার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর যখন তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে, তখন তারা লোকদেখানো ক্ষমা চাওয়ার নাটক সাজায়। কিন্তু ভেতরের বিষাক্ত পরিবেশটির কোনো পরিবর্তন হয় না।

ওয়াজ মাহফিলের গালগল্প বনাম নীরব তৌহিদি জনতা

যে তৌহিদি জনতা সামান্য একটি গানের অনুষ্ঠান বা নারীর পোশাক নিয়ে রণক্ষেত্রের সৃষ্টি করে, তাদের আসল ধর্মীয় জ্ঞান এবং নৈতিকতা কতটুকু, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।

আজকাল আমাদের দেশের বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে ইসলামের মূল বাণী বাদ দিয়ে যেভাবে ডাহা মিথ্যা, বিজ্ঞানহীন এবং আজগুবি গালগল্প ছড়ানো হচ্ছে, তা সত্যি সেলুকাস! অথচ এই তথাকথিত তৌহিদি জনতা সেইসব বানোয়াট কথার বিরুদ্ধে কখনোই কোনো টু-শব্দটি করে না।

ওয়াজের নামে ছড়ানো কিছু আজগুবি বয়ান

ইতালির জন্মহার: এক নামী ইসলামিক বক্তা ওয়াজ করলেন, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইতালিতে নাকি কোনো সন্তানই জন্ম নেয়নি!

জিন দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ: একজন বক্তা দাবি করলেন, দেশের বড় বড় সেতু নাকি মানুষ বানায়নি, এগুলো তৈরি করেছে জিনেরা!

পানি পড়া দিয়ে কিডনি ভালো করা: কোনো কোনো বক্তা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দাবি করেন, কিডনি নষ্ট হওয়া রোগীকে নাকি পানি পড়া দিয়ে পুরোপুরি সুস্থ করে দেওয়া সম্ভব।

করোনার ফর্মুলা ও কাল্পনিক কান্না: কেউ কেউ করোনার আজগুবি ওষুধ আবিষ্কারের দাবি করেন, আবার কেউ বলেন সাইবেরিয়ার জঙ্গলের ১২০০ কিলোমিটার গভীরে নাকি মানুষের কান্নার আওয়াজ শোনা যায়, কিংবা আটলান্টিক মহাসাগরের নিচে মানুষের ফিসফিসানি শোনা যায়!

এইসব আজগুবি ও ভিত্তিহীন গালগল্পের সাথে ইসলামের পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ওয়াজ মঞ্চের সামনে বসে থাকা হাজার হাজার মানুষ এগুলো শুনে কোনো প্রতিবাদ তো করেই না, উল্টো ‘মারহাবা’, ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে চিৎকার করে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের সঠিক ও যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যার জন্য বা দ্বীনের প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য এই তৌহিদি জনতাকে কখনো কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এটি তাদের চরম অবক্ষয় ও ধর্মীয় দেউলিয়াত্বকে প্রমাণ করে।

রাষ্ট্র যখন অকার্যকর হওয়ার ঝুঁকিতে

আইন ও বিচারহীনতার এই পরিবেশ একটি রাষ্ট্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। কোনো সভ্য সমাজে মব জাস্টিস বা তৌহিদি জনতার নামে সমান্তরাল শাসন চলতে পারে না।

যদি এভাবে কোনো রকম আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই একদল মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের ওপর চড়াও হতে থাকে, বিচারকের ভূমিকা নিজে কাঁধে তুলে নেয়, তবে বাংলাদেশ দ্রুতই একটি ‘অকার্যকর রাষ্ট্র’ (Failed State) হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে চিহ্নিত হবে।

ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশকে নিয়ে তীব্র নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। বিদেশী বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী এবং পর্যটকেরা বাংলাদেশে আসতে ভয় পাচ্ছেন। এখনই যদি রাষ্ট্র ও বর্তমান প্রশাসন এই স্বঘোষিত তৌহিদি জনতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মেরুদণ্ড অচিরেই ভেঙে পড়বে।

তৌহিদি জনতার কার্যক্রম, প্রভাব এবং সমাধানকল্পে করণীয়

নিচের টেবিলটিতে আজকের তথাকথিত তৌহিদি জনতার কার্যক্রম, সমাজের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব এবং এর হাত থেকে রাষ্ট্রকে বাঁচাতে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:

বিষয়

তৌহিদি জনতার বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড

সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব

রাষ্ট্র ও প্রশাসনের করণীয় (সমাধান)

১. মব জাস্টিস ও বিচারহীনতা

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, গুজব ছড়িয়ে কোনো ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে আঘাত বা পিটিয়ে হত্যা করা।

আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়া এবং সমাজে চিরস্থায়ী নৈরাজ্য সৃষ্টি।

দ্রুততম সময়ে মব জাস্টিসে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা।

২. নারী স্বাধীনতার ওপর আঘাত

মেয়েদের ফুটবল বা খেলাধুলা বন্ধ করা, পোশাক ও চলাফেরা নিয়ে হেনস্তা করা, কান ধরে ওঠবস করানো।

অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে (নারী) ঘরে বন্দি করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে স্থবির করে দেওয়া।

নারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং নারীদের ওপর আঘাতকারীদের অবিলম্ব গ্রেপ্তার করা।

৩. সংস্কৃতির টুঁটি চেপে ধরা

লালনগীতি, বাউল গান, জারিসারি, নাটক, ছায়ানট ও উদীচীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা চালানো।

বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও সুস্থ চিন্তা বিকাশের পথ রুদ্ধ হওয়া।

প্রতিটি জেলা-উপজেলায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানো এবং উগ্রবাদীদের কঠোর দমন।

৪. মাজার ও সুফি কেন্দ্র ধ্বংস

সুফি ঘরানার ধর্মীয় স্থান ও মাজারগুলোতে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা।

আন্তঃধর্মীয় ও ধর্মীয় উপদলের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি হওয়া এবং ঐতিহ্যবাহী প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ ধ্বংস হওয়া।

প্রতিটি ধর্মীয় মাজার ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ধর্মীয় সহনশীলতা প্রচার করা।

৫. ওয়াজের নামে অপপ্রচার

বিজ্ঞানহীন ও ভিত্তিহীন গালগল্প ছড়ানো, মানুষকে সাময়িকভাবে উত্তেজিত করা এবং মিথ্যা প্রচার করা।

সাধারণ মানুষের যৌক্তিক চিন্তা ও বিজ্ঞানের প্রতি অনীহা তৈরি হওয়া এবং ধর্মের নামে গোঁড়ামি বৃদ্ধি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ওয়াজ মাহফিলে সঠিক কোরআন-হাদিসের প্রচার নিশ্চিত করা এবং মিথ্যাচার রুখে দেওয়া।

৬. রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন

ধর্মের খোলসে নিজেদের রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে উসকানি ও আধিপত্য বিস্তার করা।

রাষ্ট্রকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।

ধর্মভিত্তিক সহিংস রাজনীতিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা এবং উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনা।

ইসলাম বনাম স্বঘোষিত ‘তৌহিদি’ জাস্টিস

তৌহিদ (আল্লাহর একত্ববাদ) ইসলামের মূল ভিত্তি। কিন্তু ‘তৌহিদি জনতা’ নামধারী উগ্রবাদীরা এই পবিত্র শব্দটির অপব্যবহার করছে। ইসলামের শাস্ত্রীয় বিধি এবং শাস্ত্রজ্ঞ আলেমদের (Jurisprudence) মতামতের আলোকে তাদের এই কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অবৈধ।

‘আমর বিল মারুফ’ (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ)

উগ্রপন্থীরা প্রায়ই একটি হাদিসের অপব্যাখ্যা করে থাকে, যেখানে বলা হয়েছে "তোমাদের কেউ অন্যায় দেখলে তা হাত দিয়ে (শক্তি প্রয়োগে) প্রতিরোধ করো।" কিন্তু ইসলামি আইনশাস্ত্রে (Fiqh) এই হাদিসের প্রয়োগের একটি সুনির্দিষ্ট বিন্যাস রয়েছে:

রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব (হাত দিয়ে প্রতিরোধ): সমাজে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তা হাত দিয়ে বা শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিরোধ করার অধিকার কেবল রাষ্ট্র, প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার। সাধারণ জনগণের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো অধিকার ইসলাম দেয়নি।

আলেম ও বুদ্ধিজীবীদের দায়িত্ব (মুখ দিয়ে প্রতিরোধ): অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা, নসিহত করা এবং সচেতনতা তৈরি করা আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের কাজ।

সাধারণ মানুষের দায়িত্ব (মন থেকে ঘৃণা করা): যদি শক্তি বা মুখ দিয়ে প্রতিরোধের সামর্থ্য না থাকে, তবে তা মন থেকে ঘৃণা করা।

‘ফাওদা’ বা নৈরাজ্য সৃষ্টি ইসলামে হারাম

ইসলামি আইনশাস্ত্রে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাকে ‘ফাওদা’ (Anarchy) বলা হয়। ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ এবং ইমাম গাজালির মতো শীর্ষস্থানীয় ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে:

"একজন অত্যাচারী শাসকের অধীনে ৬০ বছর বাস করাও ভালো, কিন্তু সমাজে এক রাতের জন্য কোনো নৈরাজ্য বা আইনহীনতা (ফাওদা) চলতে দেওয়া জায়েজ নয়।"

কারণ, নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ভেঙে পড়ে এবং নিরীহ মানুষের জীবন ও সম্পদ হুমকির মুখে পড়ে। সুতরাং, ‘তৌহিদি জনতা’র নামে যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, তারা মূলত ইসলামের নামে ‘ফাওদা’ বা চরম পাপের কাজে লিপ্ত রয়েছে।

মব মনস্তত্ত্ব (Mob Psychology)

কেন একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ যখন ‘তৌহিদি জনতা’র দলে মেশে, তখন সে হিংস্র হয়ে ওঠে? সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানে এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে:

ব্যক্তিত্ব বিলোপ (Deindividuation): যখন কোনো ব্যক্তি একটি বড় ভিড়ের অংশ হয়, তখন সে তার ব্যক্তিগত নৈতিকতা, পারিবারিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা হারিয়ে ফেলে। সে মনে করে, "আমি একা তো এই অপরাধ করছি না, সবাই করছে। সুতরাং পুলিশ বা সমাজ আমাকে এককভাবে দায়ী করতে পারবে না।" এই ভাবনা তাকে চরম অপরাধ করতে সাহস দেয়।

যৌথ অহংকার (Collective Narcissism): এই দলগুলোর মধ্যে একটি মনস্তত্ত্ব কাজ করে যে, "আমরাই একমাত্র খাঁটি পক্ষ এবং বাকি সমাজ বিভ্রান্ত।" তারা নিজেদের এক ধরনের ‘পবিত্র রক্ষাকর্তা’ মনে করে। এই যৌথ অহংকার তাদের যেকোনো ভিন্নমতকে হিংস্রভাবে দমন করার লাইসেন্স দেয়।

ভার্চুয়াল ইকো চেম্বার (Social Media Algorithms): ফেসবুক, ইউটিউব এবং টিকটকের অ্যালগরিদম উগ্র ও সংবেদনশীল কনটেন্টকে বেশি ছড়িয়ে দেয়। যখন একজন সাধারণ তরুণ প্রতিনিয়ত তার ওয়ালে দেখে যে অমুক মাজার বা অমুক ব্যক্তি ইসলামের ক্ষতি করছে, তখন তার মধ্যে এক ধরনের কাল্পনিক শত্রু তৈরি হয়। এই ভার্চুয়াল ক্ষোভেরই বাস্তব বহিঃপ্রকাশ ঘটে মব জাস্টিসের মাধ্যমে।

ভূ-রাজনৈতিক ফাঁদ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সংকট

এই ‘তৌহিদি জনতা’র কর্মকাণ্ড কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে না, বরং বাংলাদেশকে এক গভীর ভূ-রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলছে।

অভ্যন্তরীণ উগ্রতা ও মব জাস্টিস

▼ (ভিডিও ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো)

আন্তর্জাতিক মহলে 'মৌলবাদী রাষ্ট্র' তকমা

▼ (অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ)

বিদেশী বিনিয়োগ হ্রাস ও নিষেধাজ্ঞা] ──► [সার্বভৌমত্ব দুর্বল হওয়া

মৌলবাদী রাষ্ট্র তকমা দেওয়ার অপচেষ্টা: বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু মূলধারার মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক লবিস্টরা এই মব জাস্টিস ও মাজার ভাঙার ভিডিওগুলোকে ব্যাপকভাবে প্রচার করছে। তাদের উদ্দেশ্য বিশ্বকে বোঝানো যে, বাংলাদেশ একটি অনিরাপদ ও উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

সংখ্যালঘু ও ঐতিহ্য কার্ড: যখনই তৌহিদি জনতার ব্যানারে কোনো মাজার, মন্দির বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা হয়, তখন বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে বিদেশী বিনিয়োগ ব্যাহত হয়, পর্যটন খাত ধ্বংস হয় এবং দেশের গার্মেন্টস পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসার ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রকারান্তরে, এই উগ্রপন্থীরা নিজেদের ‘দেশপ্রেমিক’ দাবি করলেও, তারা দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।

বাঙালি পরিচয় ও ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার চেষ্টা

তৌহিদি জনতার কার্যক্রমগুলো এলোমেলো মনে হলেও এর মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নকশা (Pattern) রয়েছে:

বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি বিদ্বেষ: লালনগীতি, বাউল গান, জারি-শারি কিংবা মঙ্গল শোভাযাত্রা যা এদেশের মানুষের হাজার বছরের হাজারো ধর্মের মেলবন্ধনের প্রতীক, সেগুলোকে ‘কুফরি’ বা ‘নন-ইসলামিক’ বলে আক্রমণ করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য বাঙালির হাজার বছরের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে মুছে ফেলে এদেশকে মধ্যপ্রাচ্যের ওহাবীবাদী বা কট্টরপন্থী ধারায় রূপান্তর করা।

মাজার ও সুফীবাদের ওপর আঘাত: বাংলাদেশে ইসলামের আগমন ঘটেছিল মূলত সুফী-সাধক ও অলি-আউলিয়াদের হাত ধরে, তরবারির জোরে নয়। এদেশের ইসলাম সবসময়ই ছিল উদার ও পরমতসহিষ্ণু। মাজারগুলোতে হামলা চালিয়ে উগ্রপন্থীরা মূলত এদেশের ঐতিহ্যবাহী উদারপন্থী ও মডারেট ইসলামকে ধ্বংস করে কট্টর ও সহিংস ইসলামের আধিপত্য তৈরি করতে চায়।

প্রশাসনের ‘নীরব দর্শক’ ভূমিকা ও এর কারণ

অনেক সময় দেখা যায়, তৌহিদি জনতা যখন কোনো মাজার বা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাতে যায়, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে উপস্থিত থাকলেও কঠোর ব্যবস্থা নেয় না। এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে:

আদর্শিক শূন্যতা ও ভীতি: ৫ই আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের ভীতি কাজ করছে। তারা ভাবেন, যদি তারা এই ‘ধর্মীয় লেবাসধারী’ মবদের ওপর বলপ্রয়োগ করেন, তবে তাদের ওপর ‘ইসলামবিরোধী’ তকমা দিয়ে পুনরায় হামলা হতে পারে।

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সংশয়: প্রশাসনের কর্তারা অনেক সময় দ্বিধায় থাকেন যে, এই উগ্রপন্থী দলগুলোর পেছনে বর্তমান সরকারের কোনো অংশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে কি না। এই রাজনৈতিক অস্পষ্টতার কারণে তারা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন।

হজরত উসমান (রা.)-এর হত্যাকাণ্ড এবং তৌহিদি জনতার আদি রূপ

আজকে যারা ‘তৌহিদি জনতা’ বা ধর্মের মহান রক্ষক সেজে মব জাস্টিস কায়েম করতে চাইছে, তারা কি জানে তাদের এই বিকারগ্রস্ত মনস্তত্ত্বের পূর্বপুরুষেরা ইসলামের ইতিহাসে কত বড় জঘন্য তাণ্ডব চালিয়েছিল?

ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর এবং সত্যবাদী। আমরা যদি একটু পেছনে তাকাই, তবে দেখতে পাব আজকের এই উত্তেজিত তৌহিদি জনতার আদি রূপটিই একদিন ইসলামের তৃতীয় খলিফা, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দুই কন্যার জামাতা, এবং পবিত্র আল-কোরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সংকলক হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-কে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও তরবারি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিল!

"কারা ছিল সেই খুনিরা? তারা কোনো কাফের বা অমুসলিম ছিল না। তারা ছিল সেই সময়ের চরম উত্তেজিত, বিভ্রান্ত ও স্বঘোষিত ‘তৌহিদি জনতা’, যারা মনে করেছিল তারা খলিফা উসমানের চেয়েও বেশি দ্বীন বোঝে!"

উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে উত্তেজিত জনতার অভিযোগ

হযরত উসমান (রা.) যখন খিলাফতের দায়িত্বে ছিলেন, তখন একদল উগ্র, উত্তেজিত মানুষ কুফা, বসরা ও মিশর থেকে এসে মদিনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাদের দাবি ছিল খলিফা নাকি আল্লাহর আইন অনুযায়ী খিলাফত চালাতে পারছেন না, তিনি স্বজনপ্রীতি করছেন এবং কোরআনের বিধান থেকে বিচ্যুত হয়েছেন! কী ঐতিহাসিক পরিহাস, আজকে আমরা যে সংকলিত কোরআন বুকে নিয়ে নামাজ পড়ি, তার সংকলককে তারা কোরআনের আইন না মানার অপবাদ দিয়েছিল!

নির্মম অবরোধ ও অবমাননা

খলিফা উসমান (রা.)-কে হত্যার আগে দীর্ঘ ৪০ দিন তাঁর নিজের ঘরে সপরিবারে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তাঁকে জুম্মার নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে নববীতে যেতে দেওয়া হয়নি। অথচ এই মসজিদে নববীর পরিবর্ধন ও সংস্কারের জন্য তিনি নিজের সমস্ত সম্পত্তি দান করেছিলেন!

যে সাহাবীকে মহানবী (সা.) ‘জুন্নুরাইন’ বা দুই আলোর মালিক (যেহেতু তিনি রাসূলের দুই কন্যা রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করেছিলেন) উপাধি দিয়েছিলেন, তাঁকে এক ফোঁটা পানি পর্যন্ত পান করতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে পাহারা দিচ্ছিলেন রাসূলের দুই আদরের নাতি ইমাম হাসান (রা.) এবং ইমাম হোসেন (রা.)। আর রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে তাঁর ঘরে পানি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রাসূলের আরেক জামাতা হযরত আলী (রা.)।

উগ্র বিদ্রোহীদের মদিনা ঘেরাও ─► ৪০ দিনের কঠোর অবরোধ ─► পানি ও নামাজে বাধা ─► কোরআন পাঠরত অবস্থায় হত্যা

কোরআন পাঠরত খলিফার রক্তে লাল কোরআনের পাতা

বিদ্রোহী উগ্র জনতা যখন দেয়াল টপকে খলিফার ঘরে প্রবেশ করে, তখন বৃদ্ধ খলিফা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করছিলেন। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী নায়েলা (রা.)-এর হাতের আঙুল কেটে যায়।

কিন্তু সেই পিশাচদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া হয়নি। তারা খলিফাকে আঘাতের পর আঘাত করে হত্যা করে। তাঁর পবিত্র রক্ত গিয়ে পড়েছিল কোরআনের সেই পৃষ্ঠার ওপর "ফাসায়াক ফিকাহুমুল্লাহ" (অর্থ: "অনতিবিলম্বে আল্লাহই তাদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য যথেষ্ট হবেন")

আমর বিন হামকের ৯টি আঘাত

খলিফা উসমান (রা.) যখন নিস্তেজ হয়ে মাটিতে পড়ে আছেন, তখন খুনিদের অন্যতম প্রধান এবং উত্তেজিত জনতার প্রতিনিধি আমর বিন হামক খলিফার মৃতদেহের বুকের ওপর উঠে বসে। সে খলিফার নিস্তেজ বুকে তরবারি দিয়ে নয়বার আঘাত করে!

পরবর্তীতে তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তুমি একজন মৃত মানুষের বুকে কেন নয়বার আঘাত করলে? তখন সে বলেছিল:

"এই আঘাতগুলোর মধ্যে তিনটি আঘাত ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, আর বাকি ছয়টি আঘাত ছিল আমার নিজের মনের ভেতরের ক্ষোভ ও রাগের কারণে!"

এই একটি বাক্যই উন্মোচন করে দেয় সমস্ত ধর্মীয় উন্মাদনা ও মব জাস্টিসের আসল সত্য। এই উত্তেজিত জনতার সামনে কোনো ধর্ম থাকে না; থাকে কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ক্রোধ এবং পৈশাচিক রক্তগরম বুনো উল্লাস।

তারা নিজেদের নামাজী বলে দাবি করেছিল, কোরআনের হাফেজ বলে দাবি করেছিল, কিন্তু তাদের ভেতরের পৈশাচিকতা তাদের খলিফাতুল মুসলিমিনকে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করায়নি। আর এই বিষাক্ত ছোবল থেকে ইসলাম ও ঈমানদার মুসলমানেরা আজ দেড় হাজার বছরেও মুক্ত হতে পারেনি।

খারিজি ফিতনাহ: ইতিহাস থেকে আরেকটি বড় শিক্ষা

ইসলামের ইতিহাসে এই ‘তৌহিদি জনতা’ বা উগ্রপন্থী মানসিকতার প্রথম দলটিকে বলা হতো ‘খারিজি’ (Kharijites)। তাদের মনস্তত্ত্ব আজকের উগ্রপন্থীদের সাথে হুবহু মিলে যায়।

কারা ছিল তারা? তারা ছিল অত্যন্ত কড়া নামাজী, রোজাদার এবং কোরআনের হাফেজ। তাদের কপালে সিজদার দাগ পড়ে গিয়েছিল।

তাদের স্লোগান কী ছিল? তাদের স্লোগান ছিল "ইনিল হুকমু ইল্লা লিল্লাহ" (আল্লাহর আইন ছাড়া কোনো আইন চলবে না)।

তাদের পরিণতি: তারা নিজেদের ছাড়া পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানকে ‘কাফের’ মনে করত। এই উগ্রতার বশবর্তী হয়েই তারা ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (রা.)-কে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে শহীদ করেছিল। হযরত আলী (রা.) তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন:

"তাদের স্লোগানটি সত্য (আল্লাহর আইন ছাড়া কোনো আইন নেই), কিন্তু এর পেছনে তাদের উদ্দেশ্য অত্যন্ত বাতিল ও অসৎ।"

আজকের ‘তৌহিদি জনতা’ও একই কাজ করছে। তারা মুখে ইসলামের কথা বললেও, তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা মূলত ইসলামের উদার রূপটিকে কলঙ্কিত করছে এবং সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বা কোনো নির্দিষ্ট উগ্র গোষ্ঠীর একার সম্পত্তি নয়। এদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও বাউল-সুফীদের পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে।

এখনই সময় সমস্বরে ‘না’ বলার

ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা এবং বর্তমানের নগ্ন বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে আজ আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। আমরা কি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আইনের শাসনে পরিচালিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বাস করব, নাকি একদল লাঠিয়াল বাহিনীর মব জাস্টিসের নিচে নিজেদের ভবিষ্যৎ সঁপে দেব?

এই তথাকথিত তৌহিদি জনতা ধর্মের নাম করে যা করছে, তা ইসলামের মূল শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। জোর করে, ভয় দেখিয়ে বা নির্যাতন করে কখনো ইসলামকে সমুন্নত করা যায় না। মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে স্পষ্ট করে বলে গেছেন "তোমরা ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না, ধর্মের বাড়াবাড়ির কারণেই তোমাদের পূর্ববর্তী বহু জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।"

আমাদের আজ সবাইকে মিলে সমস্বরে বলতে হবে- আমরা কোনো মব জাস্টিস মানব না। ধর্মের নামে কোনো অরাজকতা বরদাশত করা হবে না। যেকোনো অনিয়ম, অন্যায় ও অপরাধের বিচার হবে কেবল এবং কেবলই রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন কাঠামোর মধ্য দিয়ে।

প্রশাসনকে এখনই জেগে উঠতে হবে। এই মুখোশধারী স্বঘোষিত তৌহিদি জনতাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে না পারলে, কিছুদিন পর আর কোনো রাষ্ট্রই অবশিষ্ট থাকবে না। আসুন, আমরা একটি সুস্থ, সুন্দর, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জান-মাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেবে রাষ্ট্র স্বয়ং।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jul 14, 2026

/

Post by

২০২৪ সালের রক্তাক্ত ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতনের পর যখন সাধারণ মানুষ একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং নিরাপদ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে এক ভয়াবহ অন্ধকার অধ্যায়ের জাল বুনে চলেছে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ পাওয়া একটি ঘটনা পুরো দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে বহুল পরিচিত ‘মার্শাল আর্ট’ শেখানোর আড়ালে দেশের তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদী ও সশস্ত্র সামরিক (Militant) প্রশিক্ষণের আওতায় আনার এক মারাত্মক চক্রান্ত উন্মোচিত হয়েছে।

Jul 13, 2026

/

Post by

রাজনীতিতে বয়ান বা ন্যারেটিভের একটি নিজস্ব খেলা আছে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যখন কোনো নেতা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির পুতুল হতে অস্বীকার করেন, নিজের দেশের সার্বভৌমত্বকে কোনো পরাশক্তির কাছে বন্ধক দিতে রাজি হন না, তখন তাঁর বিরুদ্ধে খুব সুপরিকল্পিতভাবে শব্দার্থের যুদ্ধ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশীয় সুবিধাভোগী চক্র সবাই মিলে নির্দিষ্ট কিছু নেতিবাচক তকমা বা লেবেল তৈরি করে সেই নেতার গায়ে সেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করে।

Jul 12, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের চরম ক্রান্তিকালে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছিল একটি বিশেষায়িত বাহিনী জাতীয় রক্ষীবাহিনী (Jatiyo Rakkhi Bahini - JRB)। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বিকৃত এবং প্রোপাগান্ডার শিকার হওয়া অধ্যায়গুলোর একটি এই রক্ষীবাহিনী।

Jul 7, 2026

/

Post by

লোকরঞ্জনবাদী (Populist) এবং আবেগসর্বস্ব বক্তব্য শুনতে যতই বীরত্বপূর্ণ মনে হোক না কেন, বাস্তবতার ধূলিকণায় এর বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও ভূ- geopolitical মূল্য একদম শূন্য। পারমাণবিক বোমার কার্যকারিতা, এর দীর্ঘমেয়াদী আফটার ইফেক্ট, আকাশচুম্বী রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কারিগরি ব্লু-প্রিন্ট এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক পরাশক্তিদের অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল সম্পর্কে এই সমস্ত স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবীদের জ্ঞান আসলেই তলানিতে।

Jul 6, 2026

/

Post by

বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিশ্ব রাজনীতিতে এমন দুটি অন্যতম উদাহরণ হলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) বা আইআরজিসি এবং সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় রক্ষীবাহিনী (JRB)। এই নিবন্ধে প্রদত্ত উপাত্তসমূহ এবং গভীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই দুটি বাহিনীর গঠন, উদ্দেশ্য, তাদের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক মিল-অমিল এবং ইতিহাসের গতিপথে তাদের প্রভাব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

Jun 27, 2026

/

Post by

স্বাধীনতার পর থেকে বিগত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যারেটিভ’ বা প্রচারণামূলক কৌশল আমরা অবলোকন করে আসছি। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের পেইড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং হাজার হাজার ‘বট আইডি’ (Bot Accounts) থেকে প্রতিনিয়ত একটি অপপ্রচার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়: “ভারত বাংলাদেশকে গ্রাস করছে, বাংলাদেশ ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের সাহায্য করেনি বরং পাকিস্তান ভেঙে পূর্ব পাকিস্তানকে দখল করার জন্য যুদ্ধ করেছিল।”

Jul 14, 2026

/

Post by

২০২৪ সালের রক্তাক্ত ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতনের পর যখন সাধারণ মানুষ একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং নিরাপদ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে এক ভয়াবহ অন্ধকার অধ্যায়ের জাল বুনে চলেছে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ পাওয়া একটি ঘটনা পুরো দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে বহুল পরিচিত ‘মার্শাল আর্ট’ শেখানোর আড়ালে দেশের তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদী ও সশস্ত্র সামরিক (Militant) প্রশিক্ষণের আওতায় আনার এক মারাত্মক চক্রান্ত উন্মোচিত হয়েছে।

Jul 13, 2026

/

Post by

রাজনীতিতে বয়ান বা ন্যারেটিভের একটি নিজস্ব খেলা আছে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যখন কোনো নেতা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির পুতুল হতে অস্বীকার করেন, নিজের দেশের সার্বভৌমত্বকে কোনো পরাশক্তির কাছে বন্ধক দিতে রাজি হন না, তখন তাঁর বিরুদ্ধে খুব সুপরিকল্পিতভাবে শব্দার্থের যুদ্ধ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশীয় সুবিধাভোগী চক্র সবাই মিলে নির্দিষ্ট কিছু নেতিবাচক তকমা বা লেবেল তৈরি করে সেই নেতার গায়ে সেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করে।

Jul 12, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের চরম ক্রান্তিকালে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছিল একটি বিশেষায়িত বাহিনী জাতীয় রক্ষীবাহিনী (Jatiyo Rakkhi Bahini - JRB)। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বিকৃত এবং প্রোপাগান্ডার শিকার হওয়া অধ্যায়গুলোর একটি এই রক্ষীবাহিনী।

Jul 7, 2026

/

Post by

লোকরঞ্জনবাদী (Populist) এবং আবেগসর্বস্ব বক্তব্য শুনতে যতই বীরত্বপূর্ণ মনে হোক না কেন, বাস্তবতার ধূলিকণায় এর বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও ভূ- geopolitical মূল্য একদম শূন্য। পারমাণবিক বোমার কার্যকারিতা, এর দীর্ঘমেয়াদী আফটার ইফেক্ট, আকাশচুম্বী রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কারিগরি ব্লু-প্রিন্ট এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক পরাশক্তিদের অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল সম্পর্কে এই সমস্ত স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবীদের জ্ঞান আসলেই তলানিতে।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.