>

>

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম: বাংলাদেশে কি জঙ্গিবাদ ফিরে আসছে?

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম: বাংলাদেশে কি জঙ্গিবাদ ফিরে আসছে?

২০২৪ সালের রক্তাক্ত ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতনের পর যখন সাধারণ মানুষ একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং নিরাপদ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে এক ভয়াবহ অন্ধকার অধ্যায়ের জাল বুনে চলেছে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ পাওয়া একটি ঘটনা পুরো দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে বহুল পরিচিত ‘মার্শাল আর্ট’ শেখানোর আড়ালে দেশের তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদী ও সশস্ত্র সামরিক (Militant) প্রশিক্ষণের আওতায় আনার এক মারাত্মক চক্রান্ত উন্মোচিত হয়েছে।

TruthBangla

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম: বাংলাদেশে কি জঙ্গিবাদ ফিরে আসছে?

২০২৪ সালের রক্তাক্ত ও ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতনের পর যখন সাধারণ মানুষ একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং নিরাপদ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে এক ভয়াবহ অন্ধকার অধ্যায়ের জাল বুনে চলেছে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ পাওয়া একটি ঘটনা পুরো দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে বহুল পরিচিত ‘মার্শাল আর্ট’ শেখানোর আড়ালে দেশের তরুণ প্রজন্মকে উগ্রবাদী ও সশস্ত্র সামরিক (Militant) প্রশিক্ষণের আওতায় আনার এক মারাত্মক চক্রান্ত উন্মোচিত হয়েছে।

এই চরমপন্থী নেটওয়ার্কের মূল হোতা হিসেবে সামনে এসেছে ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ (FCS) নামক একটি সংগঠন। আপাতদৃষ্টিতে একটি সাধারণ মার্শাল আর্ট একাডেমি মনে হলেও, এর ভেতরে চলছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং বিপজ্জনক উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড। ঢাকা, খুলনা এবং চাঁদপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এই নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্য কেবল শারীরিক কসরত শেখানো ছিল না; বরং তরুণদের মগজধোলাই (Brainwashing) করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাম্প্রতিক অভিযানে এই চক্রের পর্দা উন্মোচিত হওয়ার পর যে তথ্যগুলো বেরিয়ে এসেছে, তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য এক চরম সতর্কবার্তা।

কে এই শাহ আমানত সাবির? ‘আমির-ই-মুজাহিদ’

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (এফসিএস)-এর এই পুরো নেটওয়ার্ক ও সামরিক কার্যক্রমের মূল রূপকার হলেন শাহ আমানত সাবির। একজন উগ্রবাদী নেতার যেভাবে মতাদর্শিক রূপান্তর ঘটে, সাবিরের জীবনবৃত্তান্ত তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

রাজনৈতিক পটভূমি ও মতাদর্শিক বিবর্তন

অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহ আমানত সাবির একসময় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রশিবির’-এর রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ছাত্রশিবিরের ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি ও সাংগঠনিক কাঠামো তাকে তরুণদের সংগঠিত করার প্রাথমিক কৌশল রপ্ত করতে সাহায্য করে। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নতুন কৌশল অবলম্বন করেন। গণআন্দোলন পরবর্তী সময়ে তিনি সরাসরি যুক্ত হন এনসিপি-এর রাজনীতির সাথে। এই রাজনৈতিক লেবাসকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেই তিনি তার মূল এজেন্ডা অর্থাৎ উগ্রবাদী সশস্ত্র নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ পুরোদমে শুরু করেন।

‘আমির-ই-মুজাহিদ’ ও শরিয়াহভিত্তিক মার্শাল আর্টের ধোঁয়াশা

গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদে সাবির কোনো সুনির্দিষ্ট বা আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সাথে তার সরাসরি আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার কথা কৌশলে অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি নিজেকে “আমির-ই-মুজাহিদ” বা ধর্মযোদ্ধাদের নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন।

সাবির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে তার এই উগ্র মতাদর্শ প্রচারের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন। ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে তিনি ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমকে প্রচার করতেন এক অভিনব ও আকর্ষণীয় বয়ান (Narrative) দিয়ে। তার দাবি ছিল, এটি:

“বিশ্বের প্রথম শিরকমুক্ত, কুফরমুক্ত, মিউজিকমুক্ত এবং পরিপূর্ণ শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী মার্শাল আর্ট কেন্দ্র।”

এই ধরনের আকর্ষণীয় ও ধর্মীয় আবেগে ঠাসা স্লোগান ব্যবহার করে তিনি মূলত সাধারণ ধার্মিক তরুণদের আকৃষ্ট করতেন। যে তরুণরা সুস্থ ও নৈতিক জীবনের খোঁজে মার্শাল আর্ট শিখতে আসত, তাদেরকেই ধীরে ধীরে উগ্রবাদের বিষবাষ্পে দীক্ষিত করা হতো।

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম: বাংলাদেশে কি জঙ্গিবাদ ফিরে আসছে?

‘সারিয়া’র নামে ডাকাতি

যেকোনো উগ্রবাদী বা সন্ত্রাসী সংগঠনের টিকে থাকা এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন বা ফান্ডিং। অতীতের জঙ্গি সংগঠনগুলো যেভাবে ব্যাংক ডাকাতি, জাল টাকার ব্যবসা বা প্রবাসীদের কাছ থেকে অনুদান নিয়ে চলত, ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম একটু ভিন্ন ও ধর্মীয় লেবাসধারী পথ বেছে নিয়েছে। শাহ আমানত সাবির ও তার অনুসারীরা সংগঠনের তহবিল গঠনে বেছে নেয় সরাসরি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের পথ। আর এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে ধর্মীয় বৈধতা দিতে তারা একে আখ্যায়িত করেছে ‘সারিয়া’ নামে।

সাবিরের জবানবন্দিতে ‘সারিয়া’র অপব্যাখ্যা

গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে শাহ আমানত সাবির যেভাবে ডাকাতিকে ইসলামের ইতিহাসের সাথে মিলিয়ে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তার নিজের ভাষায়:

“সারিয়া একটি আরবি পরিভাষা। এর অর্থ হইতেসে অভিযান। ছোট অভিযান। সারিয়ার মূল ইতিহাস আসছে বদরের আগের ইতিহাস থেকে। যেমন বদরের আগে সাহাবারা অমুসলিমদের যে বাণিজ্যিক কাফেলা, এটা লুট করতো। কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আছে। সেটা হচ্ছে যার-তার উপর সারিয়া করা জায়েজ নাই, সারিয়া কোন মুসলিমের উপর হইতে পারবে না। সারিয়া হইতে হবে এমন লোকের উপর যে মুসলিমদের ক্ষতি করতেছে, মুসলিমদের উপর যারা আক্রোশ রাখে, হামলার উদ্দেশ্য রাখে এমন লোকের উপর করা যাবে। এবং সারিয়ার আরো উসূল আছে, সেটা হইলো, সারিয়া অত্যন্ত অভাবে পড়লে করা যাবে, সাহাবারা অত্যন্ত অভাবে না পড়লে সারিয়া করেনি। ওই যে পরের ক্রাইটেরিয়া, তাদের উপর করতে হবে যারা ইসলামের ক্ষতি করে।”

যশোরে কমল বিশ্বাসের ওপর হামলা

সাবিরের এই মনগড়া ও চরমপন্থী তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগ ঘটে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, যশোর জেলায়। সেখানে কমল বিশ্বাস (মতান্তরে কমল দে) নামে এক সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তির ইজিবাইক ও নগদ টাকা সাবির ও তার সহযোগীরা মিলে ডাকাতি করে।

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম: বাংলাদেশে কি জঙ্গিবাদ ফিরে আসছে?

পরবর্তীতে এই ডাকাতির সপক্ষে সাবির যে যুক্তি হাজির করেন, তা যেকোনো সভ্য সমাজের জন্য শিউরে ওঠার মতো। সাবির বলেন:

“ওই সময় বেশ অভাবে ছিলাম। অভাবের সময় সারিয়া জায়েজ হয়। সারিয়া করতে হলে মুসলিম হইলে তো হবেই না, অমুসলিম হইলেও হবে না, ইসলামের ক্ষতি করতে হবে। তো আমরা কনফার্মলি জানি ইস্কন ইসলামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করতেছে। এবং কমল দে সক্রিয় ইস্কনের সদস্য। সে নিয়মিত ইস্কনের আশ্রমে যায়। তার অনেক গুপ্ত বিষয় আছে। তার অনেক সম্পদ আছে কিন্তু সে ইজিবাইক চালায়। এটা সাধারণ কোন বিষয় না। আমাদের সন্দেহ যে সে র’ এর এজেন্ট। এজন্য তাকে টার্গেট করা হয়। তার ইনফরমেশন পাইসিলাম আবু উসামা ফয়সালের কাছে। তার বাড়ির পাশে যেহেতু। ওই সময় অনেক অভাবে ছিলাম, বাসা ভাড়াও দিতে পারছিলাম না। এর মধ্যে আবু উসামা বলল ভাই সারিয়ার বিষয়ে কী করা যায়। আমি বললাম যে সারিয়া করতে গেলে তো প্রপার লোক লাগবে। সে বললো যে এরকম কমল দে আছে বাড়ির পাশে। আশ্রমে যাতায়াত করে, ব্যাপক সম্পদ আছে, ইজিবাইক চালায়। এরপর ওকে টার্গেট করা হয়।”

এই জবানবন্দি থেকে স্পষ্ট যে, তারা যেকোনো সংখ্যালঘু নাগরিককে ‘ইস্কন সদস্য’ বা ‘র (RAW)-এর এজেন্ট’ ট্যাগ দিয়ে তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করাকে নিজেদের পবিত্র দায়িত্ব মনে করত।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে পদ্ধতির মিল

ফাতাহ কমব্যাটের এই ‘সারিয়া’ বা ডাকাতির মডেলটি কিন্তু নতুন কিছু নয়। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন যেমন আইএসআইএস (ISIS), আল-কায়েদা (Al-Qaeda) এবং তালেবান যুগের পর যুগ ধরে তাদের খেলাফত বা মিশন টিকিয়ে রাখতে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। তারা ডাকাতি, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, এবং অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়কে ধর্মীয় যুদ্ধ বা ‘গনিমতের মাল’ হিসেবে জায়েজ করে নেয়। বাংলাদেশের নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবি (JMB) এবং হুজি-বি (HuJI-B)-ও অতীতে এই একই কায়দায় এনজিও এবং ব্যাংকে ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ করেছিল।

আইইডি (IED) বিস্ফোরণ ও ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ এর প্রস্তুতি

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম যে কেবল লাঠিখেলা কিংবা কুংফু-কারাতে শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, তার সবচেয়ে বড় অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে ডিজিটাল ফরেনসিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া ভিডিও থেকে। প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন শায়ের সামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করার পর পুরো নেটওয়ার্কের নাশকতামূলক চেহারার বাস্তব রূপ উন্মোচিত হয়।

বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে আটককৃত অপরাধীদের মোবাইল ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যে দেখা যায়, শাহ আমানত সাবিরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্জন, প্রত্যন্ত এলাকায় ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) বা হাতে তৈরি বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছিল। আইইডি হচ্ছে এমন এক ধরনের বোমা যেখানে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য প্রাথমিক শক্তির উৎস হিসেবে সাধারণত ব্যাটারি এবং সাধারণ রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

সাবির নিজেই স্বীকার করেছে যে, এই পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ বা বোমার টেস্টের ভিডিও ধারণ করে দেশের বাইরে তাদের উগ্রবাদী মেন্টর বা সহযোগীদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক লিংকের দিকে সরাসরি নির্দেশ করে।

আইএস-এর নাশিদ ও রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাসরি হুমকি

ভিডিওতে দেখা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওই রাস্তায় বোমাটি সফলভাবে বিস্ফোরিত হওয়ার সাথে সাথে চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং সাবিরসহ তার সহযোগীরা উল্লাসে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবীর ধ্বনি দিতে থাকে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি নাশিদ (ইসলামী গান) বাজছিল। গ্রেফতারের পর সাবির নিজেই পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকা গানটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামী স্টেট (আইএস/ISIS)-এর প্রাতিষ্ঠানিক রণসংগীত বা নাশিদ।

বিস্ফোরণের রেশ কাটতে না কাটতেই ভিডিওতে শাহ আমানত সাবিরকে হাতে একটি ধারালো দা নিয়ে কোপানোর ভঙ্গি করতে দেখা যায়। তিনি সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হুমকি দিয়ে বলতে থাকেন:

“হে কুফররা তোমরা তৈরি থাকো। দ্রুতই আমরা তোমাদের ওপর বজ্রের মতো আঘাতের জন্য প্রস্তুতি…। ইউনূস তুই তৈরি থাক।”

এখানে সরাসরি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নাম ধরে হুমকি দেওয়া এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার প্রকাশ্য ঘোষণা তাদের চরম ঔদ্ধত্য ও মারাত্মক নাশকতার পরিকল্পনার কথাই প্রমাণ করে। এছাড়াও, যশোরের সোনাপট্টি বা বিভিন্ন স্বর্ণের দোকানেও ‘সারিয়া’র দোহাই দিয়ে বড় ধরনের ডাকাতি ও নাশকতার ছক তারা কষেছিল।

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম: বাংলাদেশে কি জঙ্গিবাদ ফিরে আসছে?

টিটিপি, আফগান তালেবান ও পাকিস্তানের নেটওয়ার্ক

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের শিকড় কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক।

আতাউর রহমান বিক্রমপুরী ও আফগান লিংক

তদন্তে জানা গেছে, দেশের আলোচিত উগ্রপন্থী বক্তা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর সাথে শাহ আমানত সাবিরের নিয়মিত ও নিবিড় যোগাযোগ ছিল। এই ধরনের বক্তারা মূলত তরুণদের মগজধোলাইয়ের জন্য তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় বয়ান তৈরি করে দেয়। এর পাশাপাশি, এই সংগঠনের সাথে আফগান তালেবানদের গভীর আদর্শিক ও কৌশলগত যোগসাজশ পাওয়া গেছে। সাবির তার ফেসবুক আইডিতে নিয়মিত গণতন্ত্রকে ‘কুফরি ব্যবস্থা’ বলে প্রচার করতেন এবং সম্প্রতি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বর্ষপঞ্জির সাথে মিল রেখে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর পালন করে চরমপন্থার প্রকাশ্য জানান দিয়েছিলেন।

‘টিটিবি’ (Tehreek-e-Taliban Bangladesh) গঠনের চক্রান্ত

সবচেয়ে বিপজ্জনক তথ্যটি হচ্ছে, ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের পেছনে পাকিস্তানের কুখ্যাত সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর সরাসরি যোগসাজশ ও মডেলিঙের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এই চক্রটি পাকিস্তানের টিটিপি-এর আদলে বাংলাদেশে ‘তেহরিক-ই-তালেবান বাংলাদেশ’ (TTB) বা টিটিবি প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠপর্যায়ে কাজ করছিল।

হুজি-বি, জেএমবি এবং আইএসআই (ISI)

বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০ সালের শুরুতে এই দেশে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি-বি) এবং জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) চরম ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে তারা নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল।

পরবর্তীতে প্রমাণিত হয় যে, এই সংগঠনগুলোর পেছনে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জামায়াতে ইসলামীর একটি বড় অংশের মদদ ছিল। পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই হলো কাশ্মীর এবং বাংলাদেশকে সবসময় অশান্ত ও উগ্রবাদের চারণভূমি বানিয়ে রাখা, যাতে ভারতের ওপর কৌশলগত চাপ বজায় রাখা যায়।

আজ যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিজেরা চরম অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত, নিজেদের দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যর্থ, তখনো তাদের মদদপুষ্ট উগ্রপন্থীরা বাংলাদেশে সাম্রাজ্য বিস্তারে ব্যস্ত। প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশ কি আবারও সেই হুজি ও জেএমবি-এর অন্ধকার যুগে ফিরে যাচ্ছে?

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (FCS)-এর সাংগঠনিক কাঠামো

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের কার্যক্রমকে সহজে বোঝার জন্য নিচে একটি তথ্যসমৃদ্ধ টেবিল বা ছক দেওয়া হলো:

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (FCS) নেটওয়ার্কের বিবরণী

প্রধান সূচক/বৈশিষ্ট্য

বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ

নিরাপত্তা ও সামাজিক প্রভাব

মূল নেতা/প্রধান প্রশিক্ষক

শাহ আমানত সাবির (নিজেকে ‘আমির-ই-মুজাহিদ’ হিসেবে দাবি করেন)।

উগ্র মতাদর্শের প্রচার এবং সামরিক প্রশিক্ষণের প্রধান চালিকাশক্তি।

পূর্বতন রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

সাবেক কর্মী, ইসলামী ছাত্রশিবির; পরবর্তীতে এনসিপি (NCP)-এর রাজনীতি।

মূলধারার রাজনৈতিক লেবাস ব্যবহার করে উগ্রবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন।

ঘোষিত কভার/আড়াল

বিশ্বের প্রথম শিরকমুক্ত, কুফরমুক্ত, মিউজিকমুক্ত শরিয়াহভিত্তিক মার্শাল আর্ট।

সাধারণ তরুণ ও ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের আকৃষ্ট করার ফাঁদ।

সক্রিয় শাখা বা উইং

খুলনা, চাঁদপুর এবং ঢাকা।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক বিস্তার।

অর্থায়নের পদ্ধতি (সারিয়া)

অমুসলিম ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করে ডাকাতি, ছিনতাই ও সম্পদ লুণ্ঠন।

ধর্মীয় উস্কানি ও আইন-শৃঙ্খলার চরম অবণতি ঘটানো।

সামরিক প্রস্তুতি ও অস্ত্র

আইইডি (IED) বা হাতবোমা তৈরি ও সফল বিস্ফোরণ পরীক্ষা। ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনায় বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি।

ডিজিটাল প্রচারক

মাহফুজুর রহমান (পরিচালিত পেজ: ‘বাংলাস্তানের জঙ্গি’)।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোর ও তরুণদের অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশন।

আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও যোগসাজশ

আফগান তালেবান, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP), এবং আইএসআইএস (ISIS)।

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের নতুন ট্রানজিট পয়েন্ট বানানোর চেষ্টা।

প্রধান টার্গেট/হুমকি

ড. মুহাম্মদ ইউনূস (প্রধান উপদেষ্টা), অমুসলিম নাগরিক, রাষ্ট্রীয় কাঠামো।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত ও দেশে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি।

‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ (FCS) এবং এর প্রধান হোতা শাহ আমানত সাবিরের এই নেটওয়ার্কটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধী চক্র নয়, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী ও সুপরিকল্পিত উগ্রবাদী মডেল। গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্লেষণ, আসামিদের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল এবং মাঠপর্যায়ের অপরাধের ধরন পর্যালোচনা করলে এই সংগঠনের কার্যপদ্ধতি, কৌশলগত লক্ষ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এর গভীরতা সম্পর্কে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর দিক উন্মোচিত হয়।

রিক্রুটমেন্ট ও মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরের ধাপ

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম সরাসরি কোনো তরুণকে জিহাদ বা বোমার ট্রেনিংয়ে নিত না। তারা একটি অত্যন্ত সুক্ষ্ম ‘থ্রি-স্টেপ পাইপলাইন’ বা তিন ধাপের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ব্যবহার করত:

আকর্ষণ ও বৈধতা (The Bait): প্রথমে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘মিউজিকমুক্ত’ ও ‘শরিয়াহভিত্তিক’ মার্শাল আর্টের বিজ্ঞাপন দিয়ে সুস্থ ধারার তরুণ ও কিশোরদের আকর্ষণ করত। অভিভাবকরাও ভাবতেন, সন্তান এখানে শারীরিক কসরত শিখবে এবং দ্বীনদার পরিবেশে থাকবে।

মগজধোলাই ও গণতন্ত্রবিরোধী বয়ান (Ideological Indoctrination): মার্শাল আর্ট ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে শুরু হতো তাত্ত্বিক ক্লাস। শাহ আমানত সাবির ও তার সহযোগীরা তরুণদের বোঝাত যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা একটি ‘কুফরি ব্যবস্থা’ এবং এই ব্যবস্থায় বাস করা গুনাহ। এরপর তাদের ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক খেলাফত এবং সশস্ত্র সংগ্রামের অপরিহার্যতার দিকে ধাবিত করা হতো।

অপরাধ ও সামরিক দীক্ষা (Operationalization): যখন একজন তরুণের মগজধোলাই সম্পূর্ণ হতো, তখন তাকে গোপন গ্রুপে যুক্ত করা হতো। এরপর তাকে দিয়ে ‘সারিয়া’ বা ডাকাতি করানো হতো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে আইইডি (IED) তৈরির প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং দেওয়া হতো।

‘সারিয়া’র অপব্যাখ্যা: সংখ্যালঘু ও সামাজিক নিরাপত্তা বিপন্নকরণ

সাবির যেভাবে ‘সারিয়া’ শব্দটির অপব্যাখ্যা দিয়ে ডাকাতিকে জায়েজ করেছে, তা সামাজিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য এক চরম হুমকি। যশোরে কমল বিশ্বাসের (বা কমল দে) ওপর হামলার ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে তাদের বিপজ্জনক কৌশলটি স্পষ্ট হয়:

‘ট্যাগিং’ বা লেবেলিং কৌশল: তারা যেকোনো অমুসলিম নাগরিকের সম্পদ লুণ্ঠন করার আগে তাকে ‘ইস্কন সদস্য’ কিংবা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর এজেন্ট হিসেবে সাব্যস্ত করত। এর উদ্দেশ্য ছিল, যেন সংগঠনের তরুণ সদস্যরা কোনো অপরাধবোধে না ভোগে এবং ডাকাতিকে একটি ‘পবিত্র যুদ্ধ’ বা ‘দেশপ্রেমের কাজ’ মনে করে।

আর্থিক দূরবস্থা ও অপরাধের সংযোগ: সাবির নিজেই স্বীকার করেছে যে, বাসা ভাড়া দিতে না পারা এবং চরম অভাবের সময় তারা এই ডাকাতি করে। অর্থাৎ, নিজেদের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও অপরাধমূলক লালসাকে ঢাকতে তারা ধর্মের অপব্যবহার করেছে, যা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদা বা আইএসের চিরচেনা কৌশল।

পাকিস্তানের ‘টিটিপি’ এবং বাংলাদেশের ‘টিটিবি’ মডেল

ফাতাহ কমব্যাটের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিক হলো পাকিস্তানের উগ্রবাদী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর সাথে এর কাঠামোগত মিল।

টিটিবি (Tehreek-e-Taliban Bangladesh) গঠনের রূপরেখা: পাকিস্তানের টিটিপি যেভাবে দেশটির সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, ফাতাহ কমব্যাটও ঠিক সেই আদলে বাংলাদেশে একটি সশস্ত্র উইং খাড়া করার চেষ্টা করছিল।

ফেলিং স্টেটের প্রক্সি ওয়ার: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বর্তমানে নিজেরা চরম অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা। তা সত্ত্বেও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা (ISI) এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশে তাদের ‘প্রক্সি’ বা দোসর তৈরি করতে অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা তৈরি করা।

সাইবার প্রোপাগান্ডা ও আন্তর্জাতিক কানেকশন

আসামিদের মোবাইল ডিভাইস এবং প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন শায়ের সামির ভিডিও থেকে প্রমাণিত হয় যে, এই গোষ্ঠীটি বৈশ্বিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে মরিয়া ছিল।

আন্তর্জাতিক মেন্টরশিপ: প্রত্যন্ত অঞ্চলে বোমা বিস্ফোরণের ভিডিওগুলো দেশের বাইরে পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল দুটি: প্রথমত, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর (যেমন আইএস বা আল-কায়েদা) দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের কাছ থেকে স্বীকৃতি (Bay'ah) পাওয়া। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্য বা পাকিস্তান থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা হুন্ডির মাধ্যমে বড় অঙ্কের ফান্ড কালেকশন করা।

আইএস নাশিদের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে আইএসের অফিশিয়াল নাশিদ (রণসংগীত) বাজানো এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি নাম ধরে দা উঁচিয়ে হুমকি দেওয়া প্রমাণ করে যে, তারা স্রেফ স্থানীয় ডাকাত দল নয়; তারা আন্তর্জাতিক জঙ্গি আদর্শে অনুপ্রাণিত একটি সেল (Sleeper Cell)।

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম (FCS) এর কৌশলগত ম্যাট্রিক্স

সংগঠনটির সামগ্রিক নেটওয়ার্ক, মোডাস অপারেন্ডি (কার্যপদ্ধতি) এবং নিরাপত্তার হুমকিগুলোকে একনজরে বোঝার জন্য নিচের ছকটি অত্যন্ত সহায়ক:

এফসিএস (FCS) নেটওয়ার্কের অপারেশনাল ও কৌশলগত বিশ্লেষণ

বিষয়ের ক্ষেত্র

কৌশলগত বিন্যাস ও বাস্তব রূপ

জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব

টার্গেট অডিয়েন্স

১২ থেকে ২৫ বছর বয়সী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষার্থী।

তরুণ প্রজন্মের একটি অংশকে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দিয়ে ভবিষ্যৎ জনশক্তি ধ্বংস করা।

লজিস্টিকস ও টেকনোলজি

আইইডি (IED) তৈরিতে সাধারণ ব্যাটারি, সালফার ও সারাক্ষণ ইন্টারনেটে ডার্ক ওয়েব ঘাঁটার প্রমাণ।

প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ঘরে বসেই দূরনিয়ন্ত্রিত ও মারাত্মক বিস্ফোরক তৈরির ঝুঁকি বৃদ্ধি।

তাত্ত্বিক নেটওয়ার্ক

আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর মতো উগ্র বক্তাদের বয়ান এবং ‘বাংলাস্তানের জঙ্গি’ পেজের কনটেন্ট।

ইন্টারনেটে বিভ্রান্তিকর ধর্মীয় প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সামাজিক মেরুকরণ তৈরি করা।

আর্থিক অপরাধের জোন

যশোর, খুলনা এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলো।

সীমান্ত এলাকায় অপরাধ চক্রের সাথে আঁতাত করে অস্ত্র ও চোরাচালানের পথ সুগম করা।

রাজনৈতিক ঢাল

২০২৪ সালের গণআন্দোলন পরবর্তী বিশৃঙ্খল সময়ে এনসিপি (NCP)-র লেবাস ধারণ।

মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে উগ্রপন্থীদের ছদ্মবেশে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ তৈরি।

৫ই আগস্ট পরবর্তী সামাজিক ব্লাইন্ড স্পট

২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সমাজে একটি বিপজ্জনক ‘অস্বীকৃতির সংস্কৃতি’ (Denial Culture) তৈরি হয়েছে।

‘জঙ্গি নাটক’ বয়ানের অপব্যবহার: বিগত সরকারের রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মনে একটি ধারণা জন্মেছে যে, দেশে যেকোনো জঙ্গি ধরার ঘটনাই সাজানো নাটক। উগ্রপন্থীরা এই জনমানসের ক্ষোভ ও অবিশ্বাসকে চমৎকারভাবে নিজেদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

আইনি ও প্রশাসনিক শিথিলতা: গত ২২ মাসে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত এবং বিচারাধীন চিহ্নিত উগ্রবাদীদের জেল থেকে মুক্তি এবং ‘হিযবুত তাহরীর’-এর মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্য তৎপরতা রাষ্ট্রযন্ত্রের এক চরম দুর্বলতাকে প্রকাশ করে। এই প্রশাসনিক শূন্যতার সুযোগ নিয়েই ফাতাহ কমব্যাটের মতো গ্রুপগুলো ঢাকা, চাঁদপুর ও খুলনায় তাদের গোপন আস্তানা গেড়েছে এবং নেটওয়ার্ক মজবুত করেছে।

৫ই আগস্টের পরবর্তী পটভূমি: উগ্রবাদ ও ছদ্মবেশী ন্যারেটিভ

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহল থেকে খুব সুপরিকল্পিতভাবে একটি ‘ন্যাারেটিভ’ বা বয়ান পপুলার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

"দেশে কোনো জঙ্গি নেই"

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি অংশ, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, এনসিপি এবং জুলাই আন্দোলনের সুযোগসন্ধানী একাংশ অত্যন্ত জোরেশোরে প্রচার করছে যে বাংলাদেশে আসলে কোনো জঙ্গি বা উগ্রবাদী নেই। তাদের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নাকি স্রেফ রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ‘জঙ্গি ধরার নাটক’ করত এবং সহজ-সরল মাদ্রাসার ছাত্র ও ইসলামী লেবাসধারী মুমিনদের বিনা দোষে জেলে পুরে রাখত।

এই বয়ানটি সমাজের সর্বস্তরে এতটাই গভীরভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এর ফলে উগ্রপন্থীরা এক ধরনের সামাজিক ও আইনি দায়মুক্তি (Impunity) পেয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ: নেত্রকোনায় যখন এক ১০-১১ বছরের শিশুকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়, তখন হাজার হাজার ইসলামী লেবাসধারী মানুষ ও সোশ্যাল মিডিয়া সেলেব্রিটিরা ওই অপরাধী শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গেয়ে রাজপথে ও অনলাইনে দাঁড়িয়েছিল। ঠিক একইভাবে, ফাতাহ কমব্যাটের এই সশস্ত্র সদস্যদের গ্রেফতারের পরও ফেসবুক-ইউটিউবে লাখ লাখ মানুষ প্রচার করছে: “ইসলামী লেবাস পরলে কি মার্শাল আর্ট শেখা যাবে না? এটা ইসলামের ওপর আঘাত!” অপরাধকে ধর্মীয় মোড়কে ঢেকে দেওয়ার এই সংস্কৃতি দেশকে এক ভয়াবহ খাদের কিনারে নিয়ে যাচ্ছে।

কারাগার থেকে জঙ্গিদের মুক্তি ও হিযবুত তাহরীর-এর প্রকাশ্য তৎপরতা

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চরম বিশৃঙ্খল সময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে সাজাপ্রাপ্ত এবং বিচারাধীন বহু চিহ্নিত ও বিপজ্জনক জঙ্গি পালিয়ে যায় অথবা পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরম শিথিলতার সুযোগে জামিনে বের হয়ে আসে। গত ২২ মাসে এই মুক্ত হওয়া চিহ্নিত উগ্রবাদীরা বর্তমান সরকার ও কিছু ছাত্র সমন্বয়কদের পরোক্ষ সমর্থন ও প্রশ্রয়ে মাঠপর্যায়ে তাদের নেটওয়ার্ক রীতিমতো পাথর শক্ত করে ফেলেছে।

আজকের বাস্তবতা হলো, নিষিদ্ধ ঘোষিত আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীর’ ঢাকার বুকে প্রকাশ্য জনসভা ও মিছিল করছে, এমনকি তারা দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে গিয়ে সরাসরি স্মারকলিপি দেওয়ার মতো ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের এই চরম নমনীয়তা ও উদাসীনতারই একটি ক্ষুদ্র ও দৃশ্যমান অংশ হলো এই “ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম”

উপসংহার

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের এই ঘটনাটি কেবল হিমশৈলের চূড়া (Tip of the iceberg) মাত্র। মার্শাল আর্টের আড়ালে দাওয়াতি কার্যক্রম, কিশোর-তরুণদের জিহাদি চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং বোমা তৈরির এই যে কারখানা তা প্রমাণ করে যে আমাদের অজান্তে আরও কত শত গ্রুপ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের শিকড় গেড়ে বসে আছে।

গত দুই বছরে রাষ্ট্র যেভাবে উগ্রবাদী ও মৌলবাদী শক্তিগুলোকে ক্ষমতায়ন ও বিশেষ সুবিধা দিয়েছে, তার মাশুল এখন পুরো দেশকে দিতে হচ্ছে। উগ্রবাদ কখনো কোনো দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ আজকের পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

যদি এখনই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাধারণ জনগণ এই ছদ্মবেশী জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও আপোষহীন অবস্থান না নেয়, তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের সমস্ত অর্জন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। ‘ইসলামী লেবাস’ বা ‘বিপ্লবের চেতনা’ কোনো কিছুই যেন উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসীদের ঢাল হতে না পারে। বাংলাদেশকে একটি প্রগতিশীল, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হলে এই ফাতাহ কমব্যাটের মতো প্রতিটি বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলতে হবে। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই রাষ্ট্রকে তার চোখ খুলতে হবে।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Jul 12, 2026

/

Post by

লোকরঞ্জনবাদী (Populist) এবং আবেগসর্বস্ব বক্তব্য শুনতে যতই বীরত্বপূর্ণ মনে হোক না কেন, বাস্তবতার ধূলিকণায় এর বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও ভূ- geopolitical মূল্য একদম শূন্য। পারমাণবিক বোমার কার্যকারিতা, এর দীর্ঘমেয়াদী আফটার ইফেক্ট, আকাশচুম্বী রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কারিগরি ব্লু-প্রিন্ট এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক পরাশক্তিদের অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল সম্পর্কে এই সমস্ত স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবীদের জ্ঞান আসলেই তলানিতে।

Jul 11, 2026

/

Post by

রাজনীতিতে বয়ান বা ন্যারেটিভের একটি নিজস্ব খেলা আছে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যখন কোনো নেতা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির পুতুল হতে অস্বীকার করেন, নিজের দেশের সার্বভৌমত্বকে কোনো পরাশক্তির কাছে বন্ধক দিতে রাজি হন না, তখন তাঁর বিরুদ্ধে খুব সুপরিকল্পিতভাবে শব্দার্থের যুদ্ধ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশীয় সুবিধাভোগী চক্র সবাই মিলে নির্দিষ্ট কিছু নেতিবাচক তকমা বা লেবেল তৈরি করে সেই নেতার গায়ে সেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করে।

Jul 11, 2026

/

Post by

স্বাধীনতার পর থেকে বিগত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যারেটিভ’ বা প্রচারণামূলক কৌশল আমরা অবলোকন করে আসছি। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের পেইড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং হাজার হাজার ‘বট আইডি’ (Bot Accounts) থেকে প্রতিনিয়ত একটি অপপ্রচার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়: “ভারত বাংলাদেশকে গ্রাস করছে, বাংলাদেশ ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের সাহায্য করেনি বরং পাকিস্তান ভেঙে পূর্ব পাকিস্তানকে দখল করার জন্য যুদ্ধ করেছিল।”

Jul 10, 2026

/

Post by

বাংলাদেশী রাজনীতির পটভূমি সবসময়ই নাটকীয়তা, সংঘাত এবং অপ্রত্যাশিত মোড় দিয়ে ঘেরা। কিন্তু ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে’র প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা-৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী ওসমান হাদীর ওপর ঘটে যাওয়া গুলির ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনামাত্র নয়; বরং এটি আমাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব, সাংগঠনিক শিথিলতা এবং ক্ষমতার অন্ধত্বের এক জ্বলন্ত দলিল। ওসমান হাদীর ট্র্যাজেডির নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক সত্য কথন।

Jul 7, 2026

/

Post by

বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বিশ্ব রাজনীতিতে এমন দুটি অন্যতম উদাহরণ হলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) বা আইআরজিসি এবং সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় রক্ষীবাহিনী (JRB)। এই নিবন্ধে প্রদত্ত উপাত্তসমূহ এবং গভীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই দুটি বাহিনীর গঠন, উদ্দেশ্য, তাদের মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক মিল-অমিল এবং ইতিহাসের গতিপথে তাদের প্রভাব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

Jul 2, 2026

/

Post by

২০১৮ সালে বিমানবন্দর সড়কে দুই বাসের রেষারেষিতে রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীবের মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো দেশের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল। সেই উত্তপ্ত ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ঘি ঢালার কাজটি করেছিলেন অভিনয়শিল্পী কাজী নওশাবা আহমেদ। উত্তরার একটি শুটিং স্পটে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি যে ভয়াবহ ও লোমহর্ষক গুজব ছড়িয়েছিলেন তা তৎকালীন সময়ে পুরো ঢাকাসহ সারা দেশকে এক চরম নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

Jul 12, 2026

/

Post by

লোকরঞ্জনবাদী (Populist) এবং আবেগসর্বস্ব বক্তব্য শুনতে যতই বীরত্বপূর্ণ মনে হোক না কেন, বাস্তবতার ধূলিকণায় এর বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও ভূ- geopolitical মূল্য একদম শূন্য। পারমাণবিক বোমার কার্যকারিতা, এর দীর্ঘমেয়াদী আফটার ইফেক্ট, আকাশচুম্বী রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কারিগরি ব্লু-প্রিন্ট এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক পরাশক্তিদের অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল সম্পর্কে এই সমস্ত স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবীদের জ্ঞান আসলেই তলানিতে।

Jul 11, 2026

/

Post by

রাজনীতিতে বয়ান বা ন্যারেটিভের একটি নিজস্ব খেলা আছে। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে যখন কোনো নেতা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির পুতুল হতে অস্বীকার করেন, নিজের দেশের সার্বভৌমত্বকে কোনো পরাশক্তির কাছে বন্ধক দিতে রাজি হন না, তখন তাঁর বিরুদ্ধে খুব সুপরিকল্পিতভাবে শব্দার্থের যুদ্ধ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশীয় সুবিধাভোগী চক্র সবাই মিলে নির্দিষ্ট কিছু নেতিবাচক তকমা বা লেবেল তৈরি করে সেই নেতার গায়ে সেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করে।

Jul 11, 2026

/

Post by

স্বাধীনতার পর থেকে বিগত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যারেটিভ’ বা প্রচারণামূলক কৌশল আমরা অবলোকন করে আসছি। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের পেইড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং হাজার হাজার ‘বট আইডি’ (Bot Accounts) থেকে প্রতিনিয়ত একটি অপপ্রচার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়: “ভারত বাংলাদেশকে গ্রাস করছে, বাংলাদেশ ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের সাহায্য করেনি বরং পাকিস্তান ভেঙে পূর্ব পাকিস্তানকে দখল করার জন্য যুদ্ধ করেছিল।”

Jul 10, 2026

/

Post by

বাংলাদেশী রাজনীতির পটভূমি সবসময়ই নাটকীয়তা, সংঘাত এবং অপ্রত্যাশিত মোড় দিয়ে ঘেরা। কিন্তু ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে’র প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা-৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী ওসমান হাদীর ওপর ঘটে যাওয়া গুলির ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনামাত্র নয়; বরং এটি আমাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব, সাংগঠনিক শিথিলতা এবং ক্ষমতার অন্ধত্বের এক জ্বলন্ত দলিল। ওসমান হাদীর ট্র্যাজেডির নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক সত্য কথন।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.