১৯৭১ সাল থেকেই ভারত বাংলাদেশকে দখল করছে?
স্বাধীনতার পর থেকে বিগত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যারেটিভ’ বা প্রচারণামূলক কৌশল আমরা অবলোকন করে আসছি। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের পেইড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং হাজার হাজার ‘বট আইডি’ (Bot Accounts) থেকে প্রতিনিয়ত একটি অপপ্রচার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়: “ভারত বাংলাদেশকে গ্রাস করছে, বাংলাদেশ ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের সাহায্য করেনি বরং পাকিস্তান ভেঙে পূর্ব পাকিস্তানকে দখল করার জন্য যুদ্ধ করেছিল।”

TruthBangla

Jul 11, 2026
ডিজিটাল যুগের অন্যতম বড় অভিশাপ হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে পুঁজি করে যেকোনো মিথ্যা বা প্রোপাগান্ডাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুসংগঠিত অপচেষ্টা। বর্তমান ২০২৬ সালে এসে আমরা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা আর প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ লক্ষ্য করছি, ঠিক তখনই আমাদের দেশের একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও উগ্রবাদী চক্র এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উদ্দেশ্যে। সেটি হলো বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিকৃত করা এবং জনমনে সার্বক্ষণিক এক কৃত্রিম ভীতি ও বিভ্রান্তি জিইয়ে রাখা।
স্বাধীনতার পর থেকে বিগত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যারেটিভ’ বা প্রচারণামূলক কৌশল আমরা অবলোকন করে আসছি। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের পেইড অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এবং হাজার হাজার ‘বট আইডি’ (Bot Accounts) থেকে প্রতিনিয়ত একটি অপপ্রচার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়: “ভারত বাংলাদেশকে গ্রাস করছে, বাংলাদেশ ভারতের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের সাহায্য করেনি বরং পাকিস্তান ভেঙে পূর্ব পাকিস্তানকে দখল করার জন্য যুদ্ধ করেছিল।”
একজন সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে যখন আমি এই প্রোপাগান্ডা এবং তার পেছনের ঐতিহাসিক সত্যগুলোকে মেলাই, তখন এই তথাকথিত ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’ দলটির চরম ভণ্ডামি, দ্বিমুখী নীতি এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের কুৎসিত চেহারাটি উন্মোচিত হয়ে পড়ে। আজ সময় এসেছে এই মনগড়া ‘ভারত জুজু’র ব্যবচ্ছেদ করার এবং ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাদের এই রাজনৈতিক মিথ্যাচারের ধারাবাহিকতা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার।
১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর এবং 'দৈনিক সংগ্রাম'
জামায়াতে ইসলামীর প্রোপাগান্ডা কিন্তু নতুন কিছু নয়। এটি কোনো সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ফসল নয়; বরং এটি তাদের সেই ১৯৭১ সালের পরাজয়ের গ্লানি এবং পাকিস্তানপ্রেমের এক অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর যখন বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ডের চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়, যখন বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে চারদিক থেকে পরাস্ত করতে শুরু করেন, ঠিক তখনই জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র ‘দৈনিক সংগ্রাম’ একটি চরম উস্কানিমূলক ও মিথ্যা নিবন্ধ প্রকাশ করে।
১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত নিবন্ধের শিরোনাম ছিল: “ভারত পূর্ব পাকিস্তান দখল করতে চাচ্ছে”

সেই সময় জামায়াতের মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা দেওয়া যে বাঙালিরা কোনো স্বাধীনতার যুদ্ধ করছে না, বরং ভারত পূর্ব পাকিস্তান দখল করার জন্য আগ্রাসন চালাচ্ছে। তারা আল-বদর, আল-শামস এবং রাজাকার বাহিনী গঠন করে যে ৩০ লক্ষ মানুষের রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিল, তার মূল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বৈধতা তৈরি করা হতো এই ‘দৈনিক সংগ্রাম’ পত্রিকার মিথ্যা সংবাদের মাধ্যমে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বরের সেই একই ভাঙা রেকর্ড তারা আজও, অর্থাৎ ২০২৬ সালেও বাজিয়ে চলেছে। বিগত ৫৫ বছর ধরে তাদের নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া, ছদ্মবেশী ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল এবং এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলগুলো থেকে প্রতিনিয়ত একই প্রচার চালানো হচ্ছে যে, "ভারত বাংলাদেশ দখল করতে চাচ্ছে।"
এখানেই একটি অত্যন্ত সাধারণ এবং যৌক্তিক প্রশ্ন সামনে চলে আসে: ভারত কি এতটাই দুর্বল বা অক্ষম একটি রাষ্ট্র যে, বিগত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা একটি দেশকে দখল করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারল না? নাকি এই প্রচারণাটি আসলে স্রেফ পাকিস্তান সমর্থিত উগ্রবাদী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর একটি সুদূরপ্রসারী অপপ্রচার ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ (Psychological Warfare)? উত্তরটি অত্যন্ত পরিষ্কার এটি তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এবং এদেশের একটি বড় অংশের ধর্মীয় আবেগকে উস্কে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার একটি সস্তা হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়।
১৯৭১ এর খুনে স্কোয়াড: আল-বদর গঠন
জামায়াতে ইসলামী কেবল মুখেই পাকিস্তানের দালালি বা ভারতের বিরোধিতা করেনি, তারা সরাসরি মাঠে নেমে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল। ১৯৭১ সালের মে মাসে জামায়াতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ‘ইশআতে ইসলাম’ (যা পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্র সংঘ এবং বর্তমানে ইসলামী ছাত্র শিবির) এর কর্মীদের নিয়ে গঠন করা হয় ‘আল-বদর’ বাহিনী।
দৈনিক সংগ্রামের ফতোয়া: ১৯৭১ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকাগুলো ঘাঁটলে দেখা যায়, তারা প্রায় প্রতিদিনই দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের ‘ভারতের দালাল’ বা ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বিষোদগার করতো।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: এই প্রোপাগান্ডার ওপর ভিত্তি করেই ১৪ই ডিসেম্বর আল-বদর বাহিনী মিরপুর ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। জামায়াত আজ নিজেদের ‘গণতান্ত্রিক দল’ দাবি করলেও, তাদের ইতিহাসের গায়ে এই বুদ্ধিজীবী হত্যার রক্তের দাগ কোনোদিন মুছে যাবে না।
ইতিহাস গায়েব করার কুৎসিত চক্রান্ত (১৯৭০-১৯৮০)
একটি চোরের মন যেমন সবসময় পুলিশি আতঙ্কে থাকে, তেমনি জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও খুব ভালো করে জানেন যে তাদের অতীত কতটা কুৎসিত, কলঙ্কিত এবং দেশবিরোধী ছিল। আর এই কারণেই তারা স্বাধীনতার পর থেকে একটি সুনির্দিষ্ট চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে তা হলো ইতিহাসের পাতা থেকে নিজেদের অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলা।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যখন জামায়াত এদেশে পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ পায়, তখন থেকে শুরু করে ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত তারা একটি বিশেষ মিশন পরিচালনা করে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক লাইব্রেরি, সরকারি আর্কাইভ, এমনকি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংবাদপত্রের কার্যালয় থেকে তারা ১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যবর্তী সময়ের ‘দৈনিক সংগ্রাম’ এবং তাদের সমমনা অন্যান্য পত্রিকার মূল সংখ্যাগুলো (Physical Copies) সুকৌশলে গায়েব বা ধ্বংস করে দেয়।
কেন তারা এই সংখ্যাগুলো গায়েব করেছিল?
গণহত্যার সরাসরি সমর্থন: ১৯৭১ সালের সেই ৯ মাসে দৈনিক সংগ্রামের পাতায় পাতায় লেখা ছিল কীভাবে মুক্তিযোদ্ধারা ‘ভারতের দালালি’ করছে, কীভাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘ইসলামের রক্ষক’ হিসেবে বীরত্ব দেখাচ্ছে।
টিক্কা খান ও নিয়াজির প্রশংসা: জামায়াত নেতাদের তৎকালীন বিবৃতিগুলোতে জেনারেল টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী এবং জেনারেল নিয়াজির মতো জল্লাদদের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছিল।
স্বাধীনতার বিরোধিতা: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে তারা সরাসরি ‘কুফরি’ এবং ‘ইসলামের বিনাশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।
তারা ভেবেছিল, লাইব্রেরি থেকে পত্রিকার পাতা ছিঁড়ে ফেললে বা পুড়িয়ে ফেললে হয়তো বাঙালি জাতি তাদের এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার কথা ভুলে যাবে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিল যে, সত্যকে কখনো চাপা দিয়ে রাখা যায় না।
এদেশের লাখো মুক্তিকামী মানুষের ব্যক্তিগত সংগ্রহে, অনেক প্রবীণ সাংবাদিক, ইতিহাসবিদ এবং দেশপ্রেমিক নাগরিকের ব্যক্তিগত আর্কাইভে সেই সময়কার পত্রিকার সংখ্যাগুলো অত্যন্ত যত্নসহকারে সংরক্ষিত আছে। বর্তমান এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে যখনই জামায়াত-শিবির নিজেদের ‘দেশপ্রেমিক’ বা ‘গণতান্ত্রিক দল’ হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করে, তখনই সেই সংরক্ষিত ঐতিহাসিক দলিলের ডিজিটাল স্ক্যান কপি ইন্টারনেটে প্রকাশিত হয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে তাদের সেই পুরনো অপকর্ম, রাজাকারদের তালিকা এবং আল-বদর বাহিনীর নৃশংসতার প্রমাণ দেশবাসীর সামনে চলে আসে, যা তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দেয়।
জামায়াতের ভণ্ডামি: প্রচার বনাম বাস্তবতার চালচিত্র
জামায়াতে ইসলামী মুখে যে সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার কথা বলে, বাস্তবে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ এবং মিত্রদের অবস্থান তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে জামায়াত-শিবিরের মূল প্রোপাগান্ডা এবং তার বিপরীতে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সত্যগুলো নিচে একটি বিস্তারিত ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
জামায়াত-শিবিরের মূল অপপ্রচার ও ন্যারেটিভ | ঐতিহাসিক সত্য ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা | প্রোপাগান্ডের নেপথ্য উদ্দেশ্য |
১৯৭১ সালে ভারত বাংলাদেশকে দখল করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান ভেঙেছিল। | ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের পর ভারতীয় সেনাবাহিনী ১৯৭২ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। | বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে একটি আন্তর্জাতিক 'ষড়যন্ত্র' হিসেবে দেখিয়ে পাকিস্তানের প্রতি নিজেদের আনুগত্যের বৈধতা দেওয়া। |
বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য বা 'পাপেট স্টেট'। | বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র যার নিজস্ব সংবিধান, শক্তিশালী সেনাবাহিনী এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বাধীন ভোটাধিকার রয়েছে। | জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি চরম অবিশ্বাসের জন্ম দেওয়া এবং উগ্র জাতীয়তাবাদ উস্কে দেওয়া। |
জামায়াত বাংলাদেশকে ভারতের হাত থেকে রক্ষা করার একমাত্র রক্ষাকর্তা। | জামায়াত সবসময়ই বাংলাদেশ অপেক্ষা পাকিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা করেছে। | ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক পুঁজি বানিয়ে নিজেদের ক্ষমতা দখলের পথ সুগম করা। |
পাকিস্তান, আমেরিকা ও তুরস্কের সহায়তায় জামায়াত দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছে। | ১৯৭১ সালে আমেরিকা ও পাকিস্তান সরাসরি বাংলাদেশের গণহত্যার পক্ষে ছিল। কোনো বিদেশী রাষ্ট্রই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জামায়াতের ভণ্ডামিকে নিঃস্বার্থ সমর্থন করে না। | নিজেদের একটি আন্তর্জাতিক বলয় বা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আছে এমন ভুয়ো ইমেজ তৈরি করে কর্মীদের চাঙ্গা রাখা। |
১৯৭১ সালের দৈনিক সংগ্রামের ফাইলগুলো হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে। | জামায়াত সুপরিকল্পিতভাবে তাদের অতীত যুদ্ধাপরাধ ও দেশবিরোধী বিবৃতির প্রমাণ ঢাকতে আর্কাইভ থেকে পত্রিকা গায়েব করেছে, যা এখনো ব্যক্তিগত সংগ্রহে সংরক্ষিত আছে। | নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের ‘গণতান্ত্রিক’ ও ‘স্বচ্ছ’ দল হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা। |
জামায়াতের ‘ভারত দখল’ তত্ত্বের যৌক্তিক দেউলিয়াত্ব
আসুন এবার একটু ঠাণ্ডা মাথায়, রাজনৈতিক বিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নিরিখে জামায়াতের এই ‘ভারত দখল’ তত্ত্বের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করি।
যদি কোনো রাষ্ট্র অন্য কোনো রাষ্ট্রকে দখল করতে চায়, তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ থাকে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যখন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য আত্মসমর্পণ করে, তখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মাটিতে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর প্রায় ১ লক্ষের বেশি সশস্ত্র সৈন্য উপস্থিত ছিল।
একটি ঐতিহাসিক সত্য যা জামায়াত সবসময় এড়িয়ে যায়:
যদি ভারতের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে ‘দখল’ করাই হতো, তবে সেই সময় সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং সেনাবাহিনীবিহীন একটি দেশকে গ্রাস করা ভারতের জন্য ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে, ১৯৭২ সালের ১২ মার্চ অর্থাৎ স্বাধীনতার মাত্র তিন মাসের মাথায় ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের দেশে ফিরে যায়। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো বিজয়ী বা দখলদার বাহিনী এত দ্রুত বিজিত অঞ্চল ছেড়ে চলে গেছে এমন উদাহরণ দ্বিতীয়টি নেই।
তাছাড়া বর্তমান ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় কোনো দেশ অন্য কোনো সার্বভৌম দেশকে সরাসরি সামরিকভাবে দখল করতে পারে না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আমাদের দেখিয়েছে যে, একটি সার্বভৌম দেশের ওপর আগ্রাসন চালালে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক ধস কীভাবে একটি দেশকে পঙ্গু করে দেয়। ভারত একটি উদীয়মান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তি। তারা কেন নিজেদের শত কোটি ডলারের অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলে ১৭ কোটি মানুষের একটি স্বাধীন দেশকে সামরিকভাবে দখল করতে যাবে?
জামায়াত এই সাধারণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সত্যগুলো খুব ভালো করেই জানে। কিন্তু তারা এটিও জানে যে, যদি সমাজ থেকে ‘ভারত ভীতি’ দূর হয়ে যায়, তবে তাদের উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দোকান চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা এই অবাস্তব, যুক্তিহীন এবং কাল্পনিক ‘দখল’ তত্ত্বকে প্রতিনিয়ত বাঁচিয়ে রাখে।
জামায়াতের রূপান্তর: ১৯৭১ থেকে ২০২৬ (টাইমলাইন)
জামায়াতে ইসলামী কীভাবে একটি নিষিদ্ধ যুদ্ধাপরাধী সংগঠন থেকে আজকের এই অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা মেশিনে রূপান্তরিত হলো, তা বুঝতে নিচের টাইমলাইনটি লক্ষ্য করুন:
১৯৭২: স্বাধীন বাংলাদেশে নিষিদ্ধকরণ
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার ফলে জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষিত হয় এবং এর শীর্ষ নেতারা পাকিস্তানে পালিয়ে যায়।
১৯৭৮: পাকিস্তানি পাসপোর্টে গোলাম আযমের প্রত্যাবর্তন
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে জামায়াতের তৎকালীন আমীর গোলাম আযম নাগরিকত্ব ছাড়া, স্রেফ পাকিস্তানি পাসপোর্ট এবং ৩ মাসের তিনমাসের ভিসায় বাংলাদেশে আসেন এবং অবৈধভাবে দেশে থেকে রাজনীতি শুরু করেন।
১৯৮০-এর দশক: অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য ও 'শিবির' এর আত্মপ্রকাশ
ইসলামী ছাত্র সংঘের নাম বদলে 'ইসলামী ছাত্র শিবির' নামে উগ্র ক্যাডার রাজনীতি শুরু হয়। একই সাথে ব্যাংক, কোচিং সেন্টার এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজস্ব 'অর্থনৈতিক মৌলবাদ' এর ভিত্তি স্থাপন করা হয়।
২০১৩: সাইবার যুদ্ধ ও 'বাঁশেরকেল্লা' মডেল
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে জামায়াত তাদের প্রথম সুসংগঠিত অনলাইন প্রোপাগান্ডা প্ল্যাটফর্ম 'বাঁশেরকেল্লা' চালু করে। এর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল, পুলিশ এবং বিচারকদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ ভুয়ো খবর ও ধর্মীয় উস্কানি ছড়ানো হয়।
২০২০-২০২৬: অটোমেটেড বট নেটওয়ার্ক ও ছদ্মবেশ
ফেসবুক ও এক্স (টুইটার) প্ল্যাটফর্মে হাজার হাজার ফেক আইডি এবং এআই-চালিত (AI-powered) বট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সাধারণ রাজনৈতিক দল বা নিরপেক্ষ পেজের ছদ্মবেশে ২৪ ঘণ্টা 'ভারত জুজু' এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর আধুনিক কৌশল গ্রহণ।
২০২৬ সালে জামায়াতের প্রোপাগান্ডা ছদ্মবেশী মিত্ররা
জামায়াতে ইসলামী আজ ২০২৬ সালেও তাদের সেই পুরনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এক নতুন রূপ ধারণ করেছে। তারা এখন দাবি করে যে তারা তাদের বন্ধু রাষ্ট্র পাকিস্তান, আমেরিকা এবং তুরস্কের সহযোগিতায় বাংলাদেশকে ভারতের হাত থেকে রক্ষা করেই চলেছে! এটি তাদের ভণ্ডামির সবচেয়ে বড় ও হাস্যকর দিক।
ক) আমেরিকার সাথে তাদের তথাকথিত সখ্যতা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর পাকিস্তানের পক্ষে এবং বাঙালিদের স্বাধীনতার বিপক্ষে বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা হয়েছিল এটি ইতিহাসের এক অকাট্য সত্য। আজ জামায়াত নিজেদের ক্ষমতার লোভে সেই আমেরিকার লবিস্টদের পেছনে কোটি কোটি ডলার ঢালছে, যেন তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে জামায়াতকে ক্ষমতায় বসাতে সাহায্য করে। যে আমেরিকা নিজের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ছাড়া এক চুলও নড়ে না, তারা নাকি জামায়াতের মাধ্যমে বাংলাদেশের ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষা’ করছে! এর চেয়ে বড় কৌতুক আর কী হতে পারে?
খ) পাকিস্তানের প্রতি অবিচ্ছন্ন প্রেম
জামায়াতের হৃদয়ে যে এখনো পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি বাস করে, তা তাদের যেকোনো নেতার বক্তব্য শুনলেই বোঝা যায়। পাকিস্তান নিজেই আজ অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া, রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদে জর্জরিত একটি রাষ্ট্র। যে দেশ নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আইএমএফ (IMF)-এর দোরগোড়ায় ভিক্ষা করছে, সেই পাকিস্তান নাকি জামায়াতকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশকে ভারতের হাত থেকে রক্ষা করবে! এই ধরণের রূপকথা কেবল জামায়াতের অন্ধ এবং মগজ ধোলাই হওয়া কর্মীরাই বিশ্বাস করতে পারে।
গ) তুরস্ক কার্ডের অপব্যবহার
জামায়াত তাদের উগ্র রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে জাস্টিফাই করতে মাঝেমধ্যেই তুরস্কের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর উদাহরণ টানে। তারা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বোঝাতে চায় যে, তারা তুরস্কের মতো একটি আধুনিক অথচ ইসলামী ভাবধারার রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চায়। কিন্তু বাস্তবে তুরস্কের রাজনীতি আর জামায়াতের উগ্র, রগকাটা এবং যুদ্ধাপরাধী রাজনীতির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে।
জাতীয় স্বার্থে এই অপপ্রচারের ক্ষতিকর প্রভাব
জামায়াত-শিবিরের এই সার্বক্ষণিক ‘ভারত জুজু’র রাজনীতি এদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের এবং জাতীয় স্বার্থের যে কত বড় ক্ষতি করছে, তা আমাদের গভীরভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশের সাথে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক সমস্যা থাকতেই পারে যেমন আমাদের তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা, কিংবা বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে হয় অত্যন্ত সুদৃঢ়, পেশাদার এবং কূটনৈতিক দরকষাকষির মাধ্যমে।
কিন্তু জামায়াত-শিবির যখনই কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা চুক্তি হয়, তখনই দেশের সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে "দেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে।" এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে এমন এক ধরণের উগ্র ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়, যার কারণে রাষ্ট্রীয় স্তরে প্রতিবেশী দেশের সাথে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক অর্থনৈতিক চুক্তি বা আলোচনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। আলটিমেটলি এতে ক্ষতি হয় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের এবং আমাদের জাতীয় অর্থনীতির। তারা মূলত আমাদের পররাষ্ট্রনীতিকে একটি সাম্প্রদায়িক ও আবেগসর্বস্ব খাতার মধ্যে বন্দী করে রাখতে চায়।
মুখে মদিনা সনদ, অন্তরে ক্ষমতা
জামায়াত ইসলামের কথা বললেও তাদের পুরো ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ক্ষমতার স্বার্থে তারা যেকোনো সময় ইসলামের মৌলিক নীতিকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।
জামায়াতের স্লোগান/দাবি | বাস্তব রাজনৈতিক চরিত্র ও ভণ্ডামি |
তারা আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন চায়। | ক্ষমতার জন্য তারা ১৯৯৬ সালে এবং পরবর্তীতে ২০০১ সালে জাতীয়তাবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সাথে সরাসরি রাজনৈতিক জোট গঠন করেছিল। |
তারা পশ্চিমা ও সাম্রাজ্যবাদী সংস্কৃতির ঘোর বিরোধী। | নিজেদের যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি আটকাতে তারা আমেরিকার লবিস্ট ফার্ম ‘Cassidy & Associates’ কে কোটি কোটি ডলার দিয়ে নিয়োগ করেছিল পশ্চিমা দেশগুলোর করুণা পাওয়ার জন্য। |
তারা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের কথা বলে। | ১৯৭১ সালে তৎকালীন বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখার নামে তারা নিজ দেশের লক্ষ লক্ষ বাঙালি মুসলমানকে হত্যা ও নারীদের ওপর নির্যাতনকে জায়েজ বলেছিল। |
জামায়াতের ‘অর্থনৈতিক মৌলবাদ’ ও সাম্রাজ্য
জামায়াতে ইসলামী টিকে থাকার জন্য কেবল সাধারণ মানুষের ১০০ বা ২০০ টাকার ‘ইয়ানত’ বা চাঁদার ওপর নির্ভর করে না। ড. আবুল বারাকাতের একটি গবেষণায় উঠে এসেছিল যে, জামায়াত বাংলাদেশে একটি সমান্তরাল অর্থনীতি বা ‘Economic Fundamentalism’ তৈরি করেছে। তাদের এই অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের মূল স্তম্ভগুলো হলো:
কোচিং সেন্টার ও শিক্ষা বাণিজ্য: রেটিনা (Retina), ফোকাস (Focus)-এর মতো মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলো জামায়াত-শিবিরের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস এবং নতুন কর্মী রিক্রুটমেন্টের (Recruitment) উর্বর ক্ষেত্র। প্রতি বছর হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সেই অর্থের একটি বড় অংশ দলীয় প্রোপাগান্ডা ও ক্যাডার পালনের পেছনে ব্যয় করা হয়।
ছদ্মবেশী এনজিও ও রিয়েল এস্টেট: বিভিন্ন নামে বেনামে গড়ে ওঠা এনজিও (NGO), সমবায় সমিতি এবং আবাসন ব্যবসায়ের মাধ্যমে তারা মধ্যপ্রাচ্য ও তুরস্ক থেকে আসা অনুদানকে বৈধ বা হোয়াইট মানি (White Money) হিসেবে রূপান্তর করে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থই বর্তমান ২০২৬ সালেও তাদের আইটি সেল (IT Cell) এবং লবিস্ট ফার্মগুলোকে সচল রাখছে।
প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে আমাদের করণীয়
জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্র শিবির ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, এদেশের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানিতে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং তারা আজ ২০২৬ সালেও আমাদের সার্বভৌমত্ব ও মনস্তাত্ত্বিক স্বাধীনতার প্রধান শত্রু হিসেবে কাজ করছে। তাদের এই ছদ্মবেশী রাজনীতি, তথ্য বিকৃতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বট আর্মি’র মাধ্যমে ছড়ানো গুজবের বিরুদ্ধে আমাদের একতাবদ্ধ হতে হবে।
জামায়াত-শিবির এদেশের যতটুকু ক্ষতি বৈখিকভাবে করেছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে আমাদের সমাজব্যবস্থার এবং মানুষের মনস্তত্ত্বের। তাই এদের ছড়ানো প্রতিটি মিথ্যার জবাব দিতে হবে অকাট্য ঐতিহাসিক সত্য, যুক্তি এবং প্রজ্ঞা দিয়ে। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বরের দৈনিক সংগ্রামের সেই হলুদ সাংবাদিকতা এবং আজকের ২০২৬ সালের ফেসবুক লাইভ বা টুইটার প্রোপাগান্ডা একই সুতোয় গাঁথা।
আমাদের নতুন প্রজন্মকে এই সত্যটি অনুধাবন করতে হবে যে বাংলাদেশ কোনো দেশের দয়ায় বা কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্বাধীন হয়নি; বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত আর ২ লক্ষ মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে। এই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য কোনো জামায়াত বা তাদের বিদেশী প্রভুদের প্রয়োজন নেই; এদেশের সাধারণ জনগণই এর সার্বভৌমত্বের সবচেয়ে বড় পাহারাদার। আসুন, আমরা জামায়াতি ভণ্ডামির এই ভাঙা রেকর্ডকে চিরতরে বর্জন করি এবং সত্যের আলোয় একটি প্রগতিশীল ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলি।














