>

>

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব - চাইলেও যাকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব - চাইলেও যাকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সেই মহান নেতা, যিনি একটি বর্বর পাকিস্তানি জাতি থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য জীবনের এক-তৃতীয়াংশ জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হওয়া ইতিহাস বিকৃতির ধারা আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে তাঁর অবমাননা বাংলাদেশে এক ধরনের 'নরমালাইজেশন' (স্বাভাবিকীকরণ) পেয়ে গেছে।

TruthBangla

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে বর্তমানে একটি ভয়ঙ্কর ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে যত নেতিবাচক কথা ছড়ানো যায়, তা এখন ব্যাপকভাবে স্বাভাবিক (Normalize) করে ফেলা হয়েছে। তাকে 'বঙ্গবল্টু' এমন কুরুচিপূর্ণ নামে ডাকা, তাকে 'বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরাচার' হিসেবে চিহ্নিত করা, তাঁর নাম বিকৃত করা, মিথ্যা গুজব ছড়ানো, কুশপুত্তলিকা দাহ করা, ভাস্কর্য ভাঙা, ভাস্কর্যের উপর মূত্র বিসর্জন - এমনকি ১৫ আগস্টের মতো শোকের দিনে গান-বাজনা করার মতো ঘৃণ্য অপকর্ম করা হচ্ছে। এই সব কিছুর লক্ষ্য একটিই: বাঙালি জাতির মহানায়ককে তাঁরই জাতির কাছে ছোট করে তোলা এবং ইতিহাস থেকে তাঁর অস্তিত্ব মুছে ফেলা।

অথচ তিনি সেই মহান নেতা, যিনি একটি বর্বর পাকিস্তানি জাতি থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য জীবনের এক-তৃতীয়াংশ জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন। এই প্রবন্ধে আমরা দেখব - বঙ্গবন্ধুর অবমাননা কিভাবে বাংলাদেশে স্বাভাবিক করা হলো, এর নেপথ্যের চক্রান্তকারী কারা এবং কেন বর্তমান প্রজন্মকে নতুন করে এই ইতিহাসের সত্যতা খুঁজে বের করতে হচ্ছে।

মহানায়কের প্রতি অবমাননার স্বাভাবিকীকরণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল বাংলাদেশের স্থপতি নন, তিনি একটি আদর্শ, একটি স্বপ্ন এবং একটি জাতির আত্মপরিচয়। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হওয়া ইতিহাস বিকৃতির ধারা আজ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে তাঁর অবমাননা বাংলাদেশে এক ধরনের 'নরমালাইজেশন' (স্বাভাবিকীকরণ) পেয়ে গেছে। যে জাতির জন্য তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ করলেন, সেই জাতিই আজ বিভক্ত তাঁর মূল্যায়নে।

অবমাননার ভয়াবহ চিত্র

অবমাননার এই স্বাভাবিকীকরণ কেবল রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে:

মিথ্যাচার ও গুজব: পরিকল্পিতভাবে তাঁর চরিত্র হনন করা হচ্ছে।

ভাস্কর্য ভাঙা ও অপবিত্রকরণ: সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক আক্রমণের মাধ্যমে তাঁর প্রতীকী অস্তিত্বকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শোকের দিনে উল্লাস: ১৫ আগস্টের মতো জাতীয় শোকের দিনে উল্লাস করা বা গান-বাজনা করা এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চূড়ান্ত প্রকাশ।

স্বাধীনতার শত্রুদের উদ্দেশ্য

এই ঘৃণ্য অপকর্মের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় শত্রু - জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দোসর ইসলামী ছাত্রশিবির, বিএনপি এবং অন্যান্য স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি (যেমন এনসিপি)। তাদের মূল লক্ষ্য হলো - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অস্তিত্বই এই দেশ থেকে মুছে ফেলা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চিরতরে কবর দেওয়া।

১৯৭৫ পরবর্তী চক্রান্ত – কিভাবে শুরু হলো ইতিহাসের বিকৃতি?

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার শুরু হয়। কিন্তু এই মিথ্যাচারকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল সামরিক শাসনের সময়।

সামরিক শাসকের সুবিধাভোগ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ছিল একটি সামরিক অভ্যুত্থান, যার প্রধান সুবিধাভোগী ছিলেন সামরিক শাসকরা।

ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এই শাসকরা (যেমন জিয়াউর রহমান) রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের জন্য মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেন এবং বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেন।

'প্রথম স্বৈরাচার' তকমা: মূলত খর্বিত গণতন্ত্র ও জরুরি অবস্থা জারি করার জন্য তাঁকে 'স্বৈরাচার' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়, যাতে সামরিক শাসনের বৈধতা পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁর শাসনকাল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে অর্থনৈতিক নৈরাজ্য, চরমপন্থীদের বিদ্রোহ (যেমন জাসদের গণবাহিনী) ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র (যেমন দুর্ভিক্ষ) থেকে রক্ষার এক মরিয়া প্রচেষ্টা।

জামায়াত-শিবিরের কৌশল

মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বিরোধী শক্তি জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল। জেনেভা বিহারী ক্যাম্প দেশের কিছু জায়গায় এরা আত্মগোপনে লুকিয়ে ছিল। সামরিক শাসনের সুযোগে তারা রাজনীতিতে ফিরে আসে এবং তাদের ছাত্র সংগঠন (ইসলামী ছাত্রশিবির) মিথ্যাচারের প্রধান অস্ত্র হিসেবে কাজ করে।

টার্গেট: তাদের টার্গেট ছিল মূলত শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা আসার পর থেকেই তারা সামাজিক মাধ্যমে সুসংগঠিতভাবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে মিথ্যা গল্প, বিকৃত তথ্য এবং ট্রল ছড়িয়ে যুব সমাজের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।

মিথ্যাচারের মূল বিষয়বস্তু: তাঁর পোশাক, খাদ্য-বিলাসিতা, পারিবারিক জীবন এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করা।

শেখ মুজিবের অবমাননার পেছনের গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননা কখনোই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক চক্রান্ত।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা

বঙ্গবন্ধু হলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক। তাঁকে মুছে ফেলা মানে—ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ - এই তিনটি মূল স্তম্ভকে দুর্বল করে দেওয়া। যদি জাতির স্থপতিই বিতর্কিত হন, তবে তাঁর আদর্শিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রটিও আদর্শিকভাবে দুর্বল হয়ে যায়।

রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লুটা

একটি সময়ে আওয়ামী লীগের প্রধান বিরোধী দলগুলো (যেমন বিএনপি) সরাসরি জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক কৌশলকে গ্রহণ করে। তারা বুঝতে পারে, শেখ মুজিবকে আক্রমণ করা মানে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকে আদর্শিক ফাটল ধরানো। এই সুযোগে, একটি 'মেটিকুলাস প্ল্যানের আন্দোলনের মাধ্যমে' বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়।

পারিবারিক টার্গেট – প্রতিহিংসার রাজনীতি

মিথ্যাচারের এই চক্রান্ত কেবল বঙ্গবন্ধুতেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা এবং নাতি সজীব ওয়াজেদ জয়কেও টার্গেট করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চক্রান্ত: শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরতে না দেওয়ার প্রচেষ্টা এবং পরবর্তীতে তাঁর জীবননাশের অসংখ্য প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, এই অপশক্তির প্রতিহিংসা কতটা গভীর।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অপপ্রচার: তাঁকে ২১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী বানানো হয়েছে - এমন গুজব ছড়ানো হয়েছে। এই ধরনের মিথ্যাচার পরিবারটিকে দেশের বাইরে রাখতে এবং রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার একটি কৌশল। তারা চায়, বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার এই দেশ থেকে বিলীন হয়ে যাক।

নতুন প্রজন্মের সন্ধিক্ষণ – ঘৃণা বনাম অনুসন্ধান

এই ভয়ানক অপপ্রচারের মধ্যে দিয়ে একটি কৌতূহলোদ্দীপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমান প্রজন্ম দুই ভাগে বিভক্ত:

বর্তমান জেনারেশনের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব, মিথ্যাচার এবং 'ট্রল কালচারে' প্রভাবিত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে ঘৃণা, দুয়োধ্বনি বা তিরস্কারের মাধ্যমে পরিচিত হচ্ছে। তাদের কাছে বঙ্গবন্ধু একজন বিতর্কিত চরিত্র।

তবে, একই জেনারেশনের আরেকটি অংশ এই তীব্র তিরস্কারের মুখে প্রশ্ন করতে শুরু করেছে: "বঙ্গবন্ধু আসলে কে? ইতিহাসের মহানায়ককে কেন এত তিরস্কার করা হচ্ছে?"

অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগার: তারা সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরের জগৎ থেকে সত্য অনুসন্ধান শুরু করেছে। তারা পরিবারের অজান্তেই 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী', 'কারাগারের রোজনামচা' বা 'আমার দেখা নয়া চীন'-এর মতো বইগুলো সংগ্রহ করছে। তারা ইতিহাসের মূল উৎসগুলোর কাছে ফিরে যেতে চাইছে।

আদর্শের পুনর্জন্ম: এই অনুসন্ধিৎসা প্রমাণ করে, কোনো চক্রান্তই একটি জাতির মহানায়কের অস্তিত্বকে চিরতরে মুছে দিতে পারে না। একজন মহানায়কের সারাজীবনের আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রচেষ্টা এভাবে বৃথা যেতে পারে না।

সোহরাওয়ার্দী ও মুজিবের কথোপকথন

নতুন প্রজন্ম যখন 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' পড়বে, তখন তারা এই মহানায়কের জীবনের সংগ্রাম, আত্মসম্মানবোধ ও প্রত্যয় নিয়ে অনেক কিছু জানতে পারবে। বিশেষ করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে তাঁর সেই বিখ্যাত কথোপকথনটি তাঁদের মনে গভীর প্রভাব ফেলবে:

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী শেখ মুজিবকে বললেন:

"Who are you? You're nobody." (তুমি কে? তুমি তো কেউ না।)

শেখ সাহেব তাৎক্ষণিক উত্তর দিলেন:

“If I am nobody, then why you have invited me? You have no right to insult me. I will prove that I am somebody. Thank you, Sir. I will never come to you again.” (যদি আমি কেউ না হই, তবে কেন আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন? আমাকে অপমান করার কোনো অধিকার আপনার নেই। আমি প্রমাণ করব যে আমি কেউ একজন। ধন্যবাদ স্যার। আমি আপনার কাছে আর কখনোই আসব না।)

এই কথোপকথনটি প্রমাণ করে:

  • আত্মসম্মানবোধ: বঙ্গবন্ধুর প্রবল আত্মসম্মানবোধ ছিল, যা তাঁকে কোনো বড় নেতার অধীনে থাকতে দেয়নি, বরং নিজের পথে হাঁটতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

  • প্রত্যয় ও দৃঢ়তা: তাঁর মধ্যে ছিল নিজেকে প্রমাণ করার অদম্য প্রত্যয়। তিনি কেবল মুখের কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

ইতিহাস ফিরবেই, বাঙালি আবারও চিনবে ত্রাতাকে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননার এই স্বাভাবিকীকরণ একটি সদ্য স্বাধীন দেশের জন্য এক গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক ট্র্যাজেডি। কিন্তু ইতিহাস বরাবরই শক্তিশালী। মিথ্যাচার ও গুজব যতই প্রবল হোক না কেন, সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হবেই।

আমাদের আশাবাদ হলো - বর্তমান জেনারেশন আবারও মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর সঠিক ইতিহাস জানবে এবং তাঁকে এই দেশের ত্রাতা হিসেবে মানবে। কারণ: 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'র মতো গ্রন্থগুলো আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত, যা তাঁর জীবনের সত্যতা তুলে ধরে। জীবনের এক-তৃতীয়াংশ জেল-জুলুম সহ্য করা কোনো 'স্বৈরাচার' বা 'বিচ্ছিন্নতাবাদী'র কাজ হতে পারে না; এটি কেবল একজন আপোসহীন মহানায়কের পক্ষেই সম্ভব।

নতুন প্রজন্মের অনুসন্ধিৎসা সেই অন্ধকার দূর করবে। তারা বুঝবে, তিরস্কার ও অবমাননা নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির একজন মহানায়ক - যাঁর হাত ধরেই এই ভূখণ্ডের জন্ম।

ইতিহাসের পথ ধরেই, বাঙালি জাতি আবারও সেই মহানায়ককে তাঁর প্রাপ্য শ্রদ্ধা ও মর্যাদা দেবে।

Explore Topics

Featured Posts

About

TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.

Related Post

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Jan 4, 2026

/

Post by

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালটি নিয়ে দুটি বিপরীতমুখী বয়ান পাওয়া যায়। একদল একে দেখেন ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচারের’ কাল হিসেবে, আর অন্যদল একে দেখেন একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে রাষ্ট্র গড়ার মহাবীরত্বগাথা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা এই সময়কালকে কেবল ‘ব্যর্থতা’ বা ‘স্বৈরাচার’ তকমা দিয়ে মুছে ফেলতে চায়। অন্যদিকে, সত্যনিষ্ঠ ইতিহাসবিদরা দেখেন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে একটি জাতিকে টেনে তোলার প্রাণপণ লড়াই।

Jan 2, 2026

/

Post by

শ্রাবণের সেই কালরাত ও স্তব্ধ বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। বাংলার আকাশে সেদিন সূর্য উঠেছিল এক বিভীষিকাময় বার্তা নিয়ে। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটি, যা ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু, তা তখন নিথর, নিস্তব্ধ এবং রক্তে রঞ্জিত। জাতির গাদ্দার বিশ্বাসঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সপরিবারে তাঁকে হত্যার মাধ্যমে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা হয়। কিন্তু রাজনীতির এই মহানায়কের পার্থিব শরীরের শেষ গন্তব্য কোথায় হবে? ঘাতকরা চেয়েছিল তাঁকে লোকচক্ষুর অন্তরালে কোথাও ফেলে দিতে, কিন্তু বিধাতার লিখন ছিল তাঁর জন্মভূমি সবুজ ঘাসে ঘেরা নিভৃত পল্লী টুঙ্গীপাড়ায়।

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Feb 2, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় একটি বিতর্ক প্রায়শই ডান-বাম বা বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে ছুড়ে দেওয়া হয় "মুজিব তো স্বাধীনতা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে।" এই একটি বাক্যকে কেন্দ্র করে গত পাঁচ দশকে বহু আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করি এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনের প্রকৃত জনআকাঙ্ক্ষা বিশ্লেষণ করি, তবে দেখা যাবে এই অভিযোগটি আসলে কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়, বরং এটি ছিল একটি আইনি ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত পর্যায়।

Jan 25, 2026

/

Post by

বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক-বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়, তা হলো 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' তথা বাকশাল গঠন। বঙ্গবন্ধু বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। একদলীয় এই শাসনব্যবস্থাকে কেউ দেখেন দেশ বাঁচানোর অন্তিম চেষ্টা হিসেবে, আবার কেউ দেখেন গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার একনায়কতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে।

Jan 10, 2026

/

Post by

ইতিহাসের মহাকাব্যিক ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১টা ৪১ মিনিট। তেজগাঁও বিমানবন্দরের আকাশে একটি ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমান দেখা যাচ্ছে। নিচে কয়েক লক্ষ মানুষের উত্তাল সমুদ্র। সেই বিমানে করে ফিরে আসছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর অনুপস্থিতিতে একটি দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাঁর নামে ৭ কোটি মানুষ (তৎকালীন সময়ে) জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ ৯ মাস পাকিস্তানের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে মৃত্যুর প্রহর গুনে তিনি ফিরছেন তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

Jan 8, 2026

/

Post by

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে যখন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে, তখন বাঙালির বিজয় পূর্ণতা পেলেও একটি অপূর্ণতা ছিল বিষাদের মতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনও পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে বন্দি। পুরো জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল তাদের প্রিয় নেতার ফেরার। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ৮ জানুয়ারি, ১৯৭২। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন সেটি কেবল একজন ব্যক্তির মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিক পদার্পণ।

Create a free website with Framer, the website builder loved by startups, designers and agencies.