একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্গের নাম মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গণহত্যা ও নারী নির্যাতনকে ‘হালাল’ করার ফতোয়া দিচ্ছিল, তখন বাংলার আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডল বা সুফি দরবারগুলো কি কেবল নীরব দর্শক ছিল? মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ ও এর অনুসারীরা সেই সময়ে গড়ে তুলেছিল এক অনন্য 'আধ্যাত্মিক ও লজিস্টিক ফ্রন্ট' যা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ছিল এক নিরাপদ দুর্গ, খাদ্যভাণ্ডার এবং মানসিক শক্তির উৎস।

TruthBangla
Dec 8, 2025
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যখন আমরা পাঠ করি, তখন আমাদের মনোযোগ সাধারণত কেন্দ্রীভূত থাকে রাজনৈতিক সংগঠন, সশস্ত্র গেরিলা বাহিনী, সেক্টর বিভাজন এবং সম্মুখ সমরের বীরত্বগাঁথার ওপর। নিঃসন্দেহে এগুলোই ছিল বিজয়ের প্রধান উপজীব্য। কিন্তু এই জনযুদ্ধের ক্যানভাসটি সত্যিকার অর্থে ছিল আরও অনেক বিস্তৃত যা ছড়িয়ে ছিল সমাজের প্রতিটি স্তরে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গণহত্যা ও নারী নির্যাতনকে ‘হালাল’ করার ফতোয়া দিচ্ছিল, তখন বাংলার আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডল বা সুফি দরবারগুলো কি কেবল নীরব দর্শক ছিল? ইতিহাসের গভীরে তাকালে দেখা যায়, সব দরবার বা পীর সাহেবরা পাকিস্তানি জান্তার সহযোগী ছিলেন না। বরং, মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ ও এর অনুসারীরা সেই সময়ে গড়ে তুলেছিল এক অনন্য 'আধ্যাত্মিক ও লজিস্টিক ফ্রন্ট' যা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ছিল এক নিরাপদ দুর্গ, খাদ্যভাণ্ডার এবং মানসিক শক্তির উৎস।
আধ্যাত্মিকতার মোড়কে জাতীয়তাবাদের বীজ
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ধর্ম ব্যবসায়ীরা যখন ইসলামের নামে বিভেদ ও হত্যার রাজনীতি করছিল, তখন মাইজভাণ্ডারী ঘরানার মতো সুফি ধারাগুলো প্রকৃত ইসলামের সহনশীলতা ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে বাঙালির পাশে দাঁড়ায়। এই দরবারগুলো স্টেনগানধারীদের রুটি, আশ্রয় এবং মানসিক সাহস জুগিয়ে মুক্তিযুদ্ধের এক শক্ত খুঁটি হিসেবে কাজ করেছে। মাইজভাণ্ডার দরবারের এই অবস্থান ছিল দীর্ঘদিনের লালিত এক আদর্শিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ।
পাকিস্তান ধারণার বিপরীতে 'বাংলাদেশ'
মাইজভাণ্ডার দরবারের একাত্তরের রাজনৈতিক অবস্থান বুঝতে হলে মুক্তিযুদ্ধেরও পেছনের ইতিহাসে চোখ বোলাতে হয়। যখন রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশটা ছিল 'পূর্ব পাকিস্তান', তখন এই দরবার সচেতনভাবে সেই নামটিকে এড়িয়ে চলত।
সুফি সাহিত্যে 'মুলকে বাঙ্গাল'
ড. মোহাম্মদ আবদুল আজিম শাহ্ এবং গবেষক মো. মাহবুব উল আলমের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ব্রিটিশ আমল থেকেই মাইজভাণ্ডারী সুফিগণ তাঁদের সাহিত্য ও বয়ানে এই ভূখণ্ডকে সচেতনভাবে 'মুলকে বাঙ্গাল' বা 'বাংলাদেশ' হিসেবে অভিহিত করতেন।
নামের রাজনীতি: হযরত শাহসুফি সৈয়দ আমিনুল হক ফরহাদাবাদী তো তাঁর পুস্তকে সরাসরি 'বাংলাদেশ' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি কেবল শব্দচয়ন মনে হলেও, এর গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।
পরিচয় নির্ধারণ: ভাষা ও ভূগোল দিয়ে মানুষ নিজেকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবে তা সুফি সাধকরা পাকিস্তানি দ্বিজাতিতত্ত্বের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। তাঁরা বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক পরিচয়কে আধ্যাত্মিকতার মোড়কেই লালন করেছিলেন।
আদর্শিক সংঘাতের ফল
ফলস্বরূপ, একাত্তরে যখন চূড়ান্ত লড়াই শুরু হলো, তখন এই দরবারের অনুসারীদের জন্য পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানো কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং এটি ছিল তাঁদের দীর্ঘদিনের লালিত চেতনারই স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। মাইজভাণ্ডারী দর্শন এই উপমহাদেশে অসাম্প্রদায়িক ও সমন্বয়বাদী চেতনার প্রচার করত, যা পাকিস্তানের গোঁড়া ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল।
৫ এপ্রিল ১৯৭১ - সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ
১৯৭১ সালের মার্চের শেষভাগ এবং এপ্রিলের শুরু ছিল বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ এক সময়। 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তখনো পুরো নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে, চারদিকে চলছে কারফিউ, হত্যা আর অগ্নিসংযোগ। ঠিক এই চরম অনিশ্চয়তার মুহূর্তে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ থেকে আসে এক ঐতিহাসিক ও সাহসী নির্দেশনা, যা ছিল পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে এক প্রকাশ্য বিদ্রোহ।
ঐতিহাসিক ওরশ শরীফ ও নির্দেশ
সাহসী সিদ্ধান্ত: দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল (২২ চৈত্র), হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান শাহ (বাবাভাণ্ডারী)-এর পবিত্র ওরশ শরীফ। তৎকালীন আধ্যাত্মিক নেতা বা গদিনশীন পীর ভক্তদের নির্দেশ দিলেন—পরাধীন দেশে থেকেও বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজ পতাকা তৈরি করে মিছিলসহকারে ওরশে আসতে হবে।
পতাকা উত্তোলন: সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা সেদিন হাতে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে মাইজভাণ্ডারে সমবেত হয়েছিলেন। দরবার প্রাঙ্গণে সেই পতাকা প্রকাশ্যে উত্তোলন করা হয়।
গণযুদ্ধে বার্তা
গবেষকদের মতে, এই ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যখন পাকিস্তানি সেনারা গ্রামে-গঞ্জে হানা দিচ্ছে, তখন একটি ধর্মীয় জমায়েতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো ছিল চরম সাহসের কাজ। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দরবার শরীফ তার হাজারো ভক্ত ও মুরিদকে পরিষ্কার বার্তা দিয়ে দিয়েছিল তাদের অবস্থান পাকিস্তানের পক্ষে নয়, বরং আসন্ন বাংলাদেশের পক্ষে। এই বার্তাটিই লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের নৈতিক বৈধতা দিয়েছিল।
প্রতিরোধের অবকাঠামো - 'সেফ হাউজ' ও লজিস্টিক ফ্রন্ট
মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ কেবল দোয়ার মাহফিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর বিশাল অবকাঠামো, যেমন বিভিন্ন খানকা, খামার এবং ভক্তদের বাড়িঘর একাত্তরে হয়ে উঠেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা 'সেফ হাউজ'।
ট্রানজিট ক্যাম্প ও রসদ যোগান
নিরাপদ আশ্রয়: ডকুমেন্টেশনে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি জেলার ময়ূরখিলে দরবারের খামারগুলো এবং ফটিকছড়ির খিরামের সৈয়দ লকিয়ত উল্লাহর খামারগুলো ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম ট্রানজিট ক্যাম্প।
খাদ্যের জোগান: যুদ্ধের ময়দানে রসদ বা লজিস্টিক সাপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাইজভাণ্ডার দরবারের নির্দেশে এসব খামারের পুকুরের মাছ, ক্ষেতের শাক-সবজি, হাঁস-মুরগি এবং গবাদিপশু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিরোধের ইনফ্রাস্ট্রাকচার: মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা অপারেশন শেষ করে এসব খামারে বা খানকায় আশ্রয় নিতেন, বিশ্রাম নিতেন এবং পরবর্তী অপারেশনের পরিকল্পনা করতেন। এই আশ্রয় ও খাবারের যোগান দিতে গিয়ে দরবারকে চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একাধিকবার এসব কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
অনুসারীদের আত্মত্যাগ
মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে বহু মাইজভাণ্ডারী ভক্ত ও মুরিদকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্যাতন সইতে হয়েছে, এমনকি অনেকে শহীদও হয়েছেন। তবুও এই 'ইনফ্রাস্ট্রাকচার অব রেজিস্ট্যান্স' বা প্রতিরোধের অবকাঠামো ভেঙে পড়েনি। এটি প্রমাণ করে, দরবারের নেতৃত্ব এবং অনুসারীরা স্বাধীনতার প্রশ্নে কতটা অবিচল ছিলেন।
মতিভাণ্ডার দরবার - একাত্তরের সাব-সেক্টর হেডকোয়ার্টার
মুক্তিযুদ্ধে মাইজভাণ্ডার ঘরানার প্রভাব বুঝতে হলে ফটিকছড়ির নাজিরহাটস্থ মতিভাণ্ডার দরবার শরীফের ভূমিকার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এই দরবারটি একাত্তরে কার্যত একটি সাব-সেক্টর হেডকোয়ার্টারের মতো ভূমিকা পালন করেছে।
সাজ্জাদানশীনদের ভূমিকা
সরাসরি সহায়তা: দরবারের তৎকালীন সাজ্জাদানশীন সুফি মওলানা আবুল ফয়েজ শাহ (রহ.) এবং মওলানা আবুল কাসেম মিয়া শাহ (রহ.) নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সার্বিক সহায়তা দিয়েছেন, যা ছিল এক অসম সাহসী পদক্ষেপ।
ভক্তদের সংযোগ: ফটিকছড়ি অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা জোনাল কমান্ডার মির্জা মনসুর ছিলেন এই দরবারের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত এবং ওরশ কমিটির সভাপতি। ফলে যুদ্ধের ময়দানের সঙ্গে আধ্যাত্মিক দরবারের এক সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়।
লঞ্চিং প্যাড হিসেবে মতিভাণ্ডার
মির্জা মনসুরের নেতৃত্বে অসংখ্য যুবক, এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এই দরবারের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
অপারেশন ও আশ্রয়: এখান থেকে দক্ষিণ দিকের বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা নিয়মিত অপারেশনে যেতেন এবং ফিরে এসে নিরাপদ আশ্রয় পেতেন। অর্থাৎ, দরবারটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি বিশ্বস্ত 'লঞ্চিং প্যাড' এবং তথ্য আদান-প্রদানের কেন্দ্র। এই স্থানটি স্থানীয়ভাবে মুক্তিবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণฐาน বা ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
নৈতিক ও মানসিক শক্তি - আউলিয়াদের সমর্থন
যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে যোদ্ধাদের মনোবল ধরে রাখা অস্ত্রের চেয়েও বেশি জরুরি। পাকিস্তানিরা যখন ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ‘কাফের’ বা ‘ভারতের দালাল’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছিল, তখন মাইজভাণ্ডার দরবার মুক্তিযোদ্ধাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বৈধতা দিয়েছে।
পোস্টার ও প্রকাশ্য সমর্থন
আদর্শিক অবস্থান: যুদ্ধের সময় দরবারে একটি পোস্টার লাগানো ছিল—‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন?’। একবার কুয়াশায় ভিজে পোস্টারটি ছিঁড়ে গেলে, দরবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা নিজে সেটি আবার যত্ন করে লাগিয়ে দেন। এই ছোট ঘটনাটি বুঝিয়ে দেয় যে, পীর বা মুরব্বিরা এই ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে অন্তর থেকে অবস্থান নিচ্ছেন।
ধর্মীয় বৈধতা: এই প্রকাশ্য সমর্থন মুক্তিযোদ্ধাদের মন থেকে ধর্ম নিয়ে সংশয় দূর করে এবং তাঁদের নৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।
শাহানশাহর প্রেরণা
শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যোগাতে বলেছিলেন-
“অধিকার কেউ সহজে দেয় না, কেড়ে নিতে হয়।”
এই বাক্য রণাঙ্গনে হাজারো মুক্তিযোদ্ধার মনে বারুদের মতো কাজ করেছে। এটি যুদ্ধের নৈতিক অনুমোদন হিসেবে গণ্য হয়েছে।
ভবিষ্যদ্বাণী ও মানসিক শক্তি
এছাড়া সুফি মওলানা মতিয়ুর রহমান শাহ (শাহ সাহেব কেবলা) যুদ্ধের অনেক আগেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়ে আধ্যাত্মিক ইঙ্গিত বা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এই **'প্রেডিকশন ন্যারেটিভ'**গুলো যুক্তিবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে ভিন্নভাবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু তৎকালীন সময়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এগুলো ছিল প্রচণ্ড মানসিক শক্তির উৎস। তাঁরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে, আউলিয়াদের সমর্থন তাঁদের সাথে আছে, তাই বিজয় সুনিশ্চিত।
অনালোচিত গৌরব ও স্বীকৃতির প্রয়োজন
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতিবাচক ভূমিকার কথা আমরা প্রায়শই আলোচনা করি। কিন্তু সেই আলোচনার আড়ালে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের মতো সুফি প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিবাচক ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকাটি চাপা পড়ে যায়। অনেক দরবার যখন পাকিস্তানি হানাদারের পক্ষ নিয়েছিল, তখন মাইজভাণ্ডার দরবার প্রমাণ করেছিল যে, প্রকৃত সুফি দর্শন কখনোই শোষকের পক্ষে থাকতে পারে না।
একাত্তরের ৫ এপ্রিলের রক্তক্ষয়ী সময়ে লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানোর সাহস থেকে শুরু করে হাজারো মুক্তিযোদ্ধার মুখে তুলে দেওয়া অন্ন মাইজভাণ্ডারের এইসব অবদানগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এগুলো ছিল একটি সুসংগঠিত তরিকত-নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত জনযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আজ যখন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন করে পাঠ করা হচ্ছে, তখন এই সত্যটি স্বীকার করতেই হবে স্বাধীনতার সংগ্রামে কেবল রাজনৈতিক নেতা বা সশস্ত্র গেরিলারাই নন, সুফি সাধকরাও ছিলেন এক একজন নিভৃতচারী যোদ্ধা। তাঁদের সেই নীরব অথচ শক্তিশালী অবদানকে আমাদের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল একাত্তরের জনযুদ্ধের নৈতিক ও লজিস্টিক দুর্গ, যা একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করেছিল।
Explore Topics
Featured Posts
About
TruthBangla shares impactful stories, national developments, and uplifting content that strengthen unity and inspire positive change.















